somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকার আশে পাশে ময়লার মহা মেলা ।

২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




রাজধানী ঢাকা শহরে সায়েন্সল্যাব বাস স্ট্যান্ড খুব পরিচিত একটা নাম । কিন্তু অনেক সাধারন জনগনই জানে না কেন এই রাস্তার নাম সায়েন্সল্যাব মোড় । বাটা সিগন্যাল থেকে একটু সামনে গেলেই চারটা রাস্তা চারদিকে গেছে । দুটো রাস্তা একই দিকে শাহবাগ এবং এলিফেন্ট রোডের দিকে । আর বিপরীত মুখে থাকা এই রাস্তা দুটো নিউ মার্কেট এবং মিরপুর রোডের দিকে । প্রতিদিন এই রাস্তায় হাজারও মানুষের আনাগোনা । নিউমার্কেট , ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় , পপুলার হাসপাতাল , সিটি কলেজ , ঢাকা কলেজ , আলিয়স ফ্রসেস ,আড়ং শপিং সেন্টার , বাটা সিগন্যালের মার্কেট , ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মল , গাউছিয়া ,সায়েন্সল্যাব মোড়ের পাঞ্জাবি মার্কেট অনেক অনেক ব্যস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাছাকাছি হওয়াতে নিয়মিতই এই পথে মানুষ থাকে । কিন্তু মানুষের জন্য এই পথ কতো টুকু নিরাপদ । কতোটুকুই স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ । সেটা নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক । তার চেয়ে বড় বিষয় হল যে কারনে এই রাস্তার নাম সায়েন্সল্যাব হয়েছে । বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরিচালিত বিসিএস আই আর গবেষণাগার এখানেই অবস্থিত । এই গবেষণাগারের নামের সাথে মিল রেখেই এই রোডের নাম সায়েন্সল্যাব । বর্তমান প্রজন্ম এবং আগের প্রজন্মের অনেকেই এই সায়েন্সল্যাব সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানে না । এখানে অনেক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয় । দেশি বিদেশী অনেক গবেষক এবং সরকারী দফতরের অনেক উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন গুণী ব্যক্তি বর্গ এই গবেষণাগারে নিয়মিত যাতায়াত করেন । কিন্তু খুব দুঃখের বিষয় এই গবেষণাগারের ভিতরটা অসাধারন সুন্দর হলেও বাইরের চারপাশে দুর্গন্ধ আর ময়লার স্তুপ ঘিরে আছে ।





কিন্তু কারও কোন দেখ ভাল নেই । জানিনা এই শহরে বসবাস করে এই শহরের মানুষের কতোটুকু ভালোবাসা আছে । যখন আমরা এই দেশ কে সত্যি ভালোবাসবো তখন সব কিছুকে সুন্দর রাখার চেষ্টা করবো । এই দেশের রাস্তা ঘাট আলো বাতাস সব তো আমার আর আমাদের জন্য । জানি না কেন কেন সবাই দেখেও না দেখার ভান করে । এই গবেষণাগারের মেইন গেট থেকে একটু সামনে এলেই উড়াল সেতু । অপর পাশে আড়ং শপিং সেন্টার । বিপরীত পাশে উড়াল সেতু থেকে নামার পর যে কি পরিমান ভয়াবহ দুর্গন্ধ আর বাজে ময়লার স্তুপ তা দেখলে যে কোন সুস্থ্য মানুষ বমি করে ফেলবে । তারপর ও চোখ অর্ধেক বন্ধ করে আর নাকে হাত চেপে পথচারিরা পার হচ্ছে প্রতিদিন । জীবনের প্রয়োজনে সবাইকে ঘর থেকে বের হতে হয় । ঘরের বাইরের পরিবেশ অনেক ভাবেই আমাদের ঘর কেও প্রভাবিত করে । আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে এবং চলার পথ কে সুন্দর করা আমাদের দায়িত্ব । শুধু তা নয় এই রাস্তাটায় অনেক ধরনের ভিক্ষুক এবং প্রতিবন্ধী নানা ভাবে ভয় দেখায় । ভিক্ষা চেয়ে পথচারিদের বিবেচনাহীন বিরক্ত করে । অথচ সাথেই পূবালী ব্যাংক । এই রাস্তা থেকে আরও একটু কাছে গেলে ময়লার ড্রেন । সেই ড্রেনের উপর ছোট ছোট খাবারের দোকান । সেই দুর্গন্ধের মধ্যেই দাড়িয়ে মানুষ সিঙ্গারা ,পুড়ি আর নানা রকম খাবার খাচ্ছে । এখান থেকে একটু সামনে গেলে গবেষণাগারের পিছনের দিকে ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজ । সেই কলেজের সামনে এবং গবেষণাগারের দেয়াল ঘেঁষে আরও একটা ময়লার স্তুপ । যদিও সেখানে ময়লা না ফেলার একটা সাইন বোর্ড দেওয়া আছে এবং নিয়মিত পুলিশ পাহাড়া দেয় । সবার সামনেই আইন অমান্য হচ্ছে । সবার সম্মুখেই প্রস্রাব করে দেয়াল আর ড্রেনে নিজেদের ভদ্রতার অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে ।





গবেষণাগারের মেইন গেট থেকে বাটা সিগন্যালের দিকে যে পথটা গেছে সেদিকেই আবাসিক এলাকা । কয়েকশ পরিবার বসবাস করে এই আবাসিক এলাকায় । এই দিকেও আছে আরও কয়েকটি ময়লার স্তুপ । এই পথ দিয়ে স্কুলের বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ সবাই যাতায়াত করে । কিন্তু কারও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই । বলা যায় এই সায়েন্সল্যাবের চারদিকেই ময়লার মেলা । দুর্গন্ধ এবং ময়লার মধ্যেই আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান গুলো পরিচালিত হচ্ছে । একটু কি চিন্তা করলেই বলা যায় সেখান থেকে কতো টুকু ভাল কিছু আশা করা যায় । সায়েন্সল্যাবের চারপাশের এই দুর্গন্ধ আর ময়লার স্তুপ গুলো নিয়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ।

আমাদের জীবন মানে দামি জামা কাপড় , বিউটি পার্লার ,দামি রেস্তরাঁ , গাড়ি বাড়ি সবই যোগ হচ্ছে কিন্তু আমাদের বোধ বুদ্ধি আর সচেতনতা সে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না । একটি দেশ কে সবার কাছে উপস্থাপনই নয় । নিজেদের স্বাস্থ্যসম্মত জীবন মানের জন্য আসুন আমাদের চারপাশের ময়লার স্তুপ গুলো যথাযথ জায়গায় সরিয়ে দেই । আমাদের জীবন কে আরও সুন্দর করি । নিজেদের উন্নত করি । নিজের দেশকে আরও বেশি ভালবাসতে উজ্জীবিত হই ।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:০৯
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কানাডার স্কুলে একেকটি দিন পর্ব (৭) - টিপিক্যাল বাংলাদেশী আচরণ, জীবনধারণ এবং বৈদেশী চোখে "উইয়ার্ড" স্বদেশ দর্শন!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৫

পূর্বের পর্বগুলোর লিংক:

আগের সিরিজ: কানাডার স্কুলে একদিন (এক থেকে বাইশ): পর্ব বাইশ । পর্ব বাইশে অন্য সকল পর্বের লিংক রয়েছে!
আগের পর্ব: [link|http://www.somewhereinblog.net/blog/samupagla007/30195424|কানাডার স্কুলে একেকটি দিন (পর্ব ১) - বাংলাদেশীদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতের সামরিক বাহিনী কি আসলেই চীনের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত?

লিখেছেন চেংকু প্যাঁক, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ৯:০৫

দোকলাম ভ্যালির অনড় অবস্থা যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে - এমন খবর ইদানিং পশ্চিমা মিডিয়ায় আলোচনা হচ্ছে। গত ১০ আগষ্ট ডিপ্লোম্যাটের অনলাইন পোর্টালে নীচের আর্টিকেল ছাপা হয়েছে।

[link|http://thediplomat.com/2017/08/is-indias-military-actually-ready-for-war-with-china/|Is India's Military Actually Ready... ...বাকিটুকু পড়ুন

বানভাসি মানুষ :: ঘুড়ি ত্রাণ সহায়তা ২০১৭

লিখেছেন নীলসাধু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:১৩



যত সময় যাচ্ছে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্রতি ক্ষণে ক্ষণে বিপদ দুর্ভোগ কষ্ট ভোগান্তি বাড়ছে।
স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন 'এক রঙ্গা এক ঘুড়ি'র একটি টিম আগামী ২৫ তারিখ উপদ্রুত কিছু স্থানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যার ইন ব্লগের সহ ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লিখেছেন নাগরিক কবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১২:৩১


বিষয় : বন্যা ও সাহায্য

আমাদের দেশে বন্যার কারনে অনেক মানুষ এখন প্রচন্ড বিপদের সম্মুখীন। এখন অব্দি অনেক মানুষ মারা গিয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু ইভেন্ট এর সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাণবিকতা

লিখেছেন প্রামানিক, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:২৯


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

(উৎসর্গঃ আলপনা তালুকদার।)

মানুষ হলো সৃষ্টির সেরা
কাজ কর্মেতে পাই
মানব গুনের ছিটেফোটাও
পশুর মাঝে নাই।

পশুরা সব হরহামেশা
নিজের স্বার্থেই ন্যাস্ত
মানব দুখে দুখি হয়ে
থাকে না তো ব্যাস্ত?


কিন্তু মোরা মানব সমাজ
মোটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×