মুক্তিযুদ্ধকালীন সেনা অফিসার সঙ্কট ছিল প্রকট। সেই সময় অধিকাংশের পোস্টিং ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে নজরবন্দি অবস্থায় । তবে, সবাই নয়। যুদ্ধকালীন পাকিস্তান থেকে ছুটিতে বা বিভিন্ন উপলক্ষে এদেশে এসেছেন ,আবার চলে গেছেন এমন অফিসারের সংখ্যা দেড়শতের মতো ।অর্থাত্ ১৫০ অফিসারেরই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবার সুযোগ ছিল কিন্তু যুদ্ধে যোগ দেন মাত্র ৩০/৩৫ জন অফিসার।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া অফিসারদের আমরা দু‘ভাগে ভাগ করতে পারি :
১) এদেশে কর্মরত যারা প্রতিরোধ পর্বে যোগ দিয়েছিলেন যথা লে কনেল সালাউদ্দিন , মেজর বাহার , মেজর সফিউল্লাহ , মেজর খালেদ, মেজর শাফায়াত জামিল, মেজর আবু ওসমান, ক্যাপ্টেন হাফিজ , ক্যাপ্টেন ভুঁইয়া , প্রমুখ । দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য , অনেক সিনিয়র বাঙ্গালী অফিসার যুদ্ধে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিলেন (?) আবার অনেকে যথার্থ চেতনা ও দুরদর্শিতার অভাবে প্রাত্থমিক পর্যায়ে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র খালাস কার্যে নিয়োজিত থাকলেও পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করেন যেমন মেজর জিয়া।
২) যারা পশ্চিম পাকিস্তান ( নজরবন্দি অবস্থা ) থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন যেমন ডালিম ,নুর, মতি , জিয়াউদ্দিন, তাহের , মঞ্জুর প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধে বীরোত্বপুর্ন ভুমিকার জন্য উপরোক্ত সুর্যসন্তানদের সরকার স্বীকৃতি দেন বীর উত্তম , বীর বিক্রম , বীর প্রতীক প্রভৃতি খেতাব ।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য , এই স্বাধী্ন বাংলাদেশেই তাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার খালেদ বীর উত্তম -কর্নেল হায়দার বীর উত্তম -কর্নেল তাহের বীর উত্তম -জেনারেল জিয়া বীর উত্তম -জেনারেল মঞ্জুর বীর উত্তম প্রমুখ সেক্টর অধিনায়কসহ বী উ, বীবি , বীপ্র প্রভৃতি খেতাবধারী অধিকাংশ মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানি কে ব্রাশ ফাঁয়ার ও ফাঁসি দ্বারা মরতে হয়েছে তথাকথিত ক্যূর অভিযোগে কিংবা নিছক বিপ্লবী উন্মাদনায় (যেমন ৭ নভে৭৫ তারিখে হায়দার ও হুদাকে হত্যা ) ।
যথা সম্ভব নির্মোহ ও বিহগদৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তিতে তাদের ভুমিকা ও পরিনতি বলার জন্য এই অধমের ক্ষুদ্রতম এই প্রয়াস।
চলবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

