
৩০ শে মে ১৯৮১ , রোজ শনিবার , ভোর সাড়ে চারটা , চিটাগাং সার্কিট হাউজ । বর্ষন শ্রান্ত রজনীর শেষ প্রহর , চট্রগ্রামবাসীদের চকিত শংকিত করে জেগে উঠল নৈশ স্তব্ধতা ভঙ্গকারী গোলাগুলির শব্দ । সার্কিট হাউজ চত্বর ভরে গেল ধোয়া আর বারুদের গন্ধে । সার্কিট হাউজে ঘুমিয়েছিলেন তিনি ।গোলাগুলির শব্দে উঠে বসলেন ।
কি ব্যাপার ? ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে বেরিয়ে এলেন দরজা খুলে , পরনে রাতে শয্যার পোশাক । গভীর আত্মপ্রত্যয় আর অগাধ আস্থা নিয়ে বেরিয়ে এলেন ।
কি চাও তোমরা?
প্রত্যুত্তরে অতি কাছ থেকে তার উপর সরাসরি গর্জে উঠল স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ার , ঝাঝরা হয়ে গেল দেহ । গড়িয়ে পড়লেন নিষ্প্রাণ (?) দেহে মুক্তযুদ্ধকালীন প্রথমে ১ নং সেক্টর ,পরে জেড ফোর্স কমান্ডার তৎকালীন রাস্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ।
২। প্রচার করা হল , লে. কর্নেল মতিউর রহমান বীর উত্তম রাস্ট্রপতিকে গুলি করেছেন । স্মর্তব্য লে. মতি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া প্রথম দলের একজন জেনারেল ওসমানি’র নির্দেশে যিনি সেক্টর ১০ ও ১১ তে গেরিলা এডভাইজার ছিলেন ।
৩। আরো জানানো হল , চট্রগ্রাম সেনা অভ্যুথান এর কথা যার নেতা হিসেবে এলো চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তৎকালীন এরিয়া কমান্ডার ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুর বীর উত্তম এর নাম । স্মর্তব্য, একাত্তরে ১৬ ডিসে ঢাকায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তার ৯ দিন আগেই যশোর সেনানিবাসের পতন হয়েছিল ৭ তারিখে যশোর সেনানিবাসের পাকিস্তান ট্যাংক রেজিমেন্টের একটি দল আত্মসমর্পণ না করে খুলনার শিরোমনিতে পজিশন নেয়। কথিত আছে যে, তারা ৭ম নৌবহরের আশায় খুলনা হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণের মুখে পাকবাহিনীর ট্যাংক রেজিমেন্টের ওই দলটি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। ওই অপারেশনটির নাম ‘ব্যাটল অব শিরোমনি’ এবং অপারেশনের কমান্ডার যিনি দুই হাতে দুই এসএলআর উঁচিয়ে ফায়ার করতে করতে ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন ৮ নং সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল) এমএ মঞ্জুর, বীরউত্তম।
৪। জুন ২,১৯৮১ সকালে বেতার -টেলিভিশনে সরকারিভাবে জানানো হল , “আমাদের বিক্ষুব্দ সৈন্যরা মঞ্জুরকে হত্যা করেছে “। কিন্তু রাতের খবরে জানানো হয় , “তাকে গ্রেফতার করে চট্রগ্রাম সেনানিবাসে আনার সময় (১ লা জুন ৮১) পথে একদল সশত্র লোক বন্দীদের ছিনিয়ে নেবার চেস্টা করে এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের সাথে গুলি বিনিময় হয় । এতে জেনারেল মঞ্জুর গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন ও হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মৃত্যুবরন করেন । তার অন্য দু’জন সহযো্গী লে. কর্নেল মতিউর রহমান বীর উত্তম , লে কর্নেল মাহবুবুর রহমান বীর উত্তম ঘটনা স্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করেন ।”
এভাবে জিয়া হত্যার কলন্ক মাথায় নিয়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হলেন এই দুনিয়া থেকে । যে দেশের স্বাধীনতার জন্য তারা জীবন বাজি রেখে সেই দেশের জনগন আজও জানে না তাদের কপালে সাড়ে তিন হাত মাটি জুটেছিল কিনা , কোথায় তাদের কবর ?
৫। ব্রিগেডিয়ার মহসিন , লে. ক. মাহফুজুর রহমান , লে. ক. দেলোয়ার হোসেন , কর্নেল নওয়াজেস, কর্নেল এম রশিদ সহ ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেয়া হল ফাঁসি ।
তারা কি সত্যি জিয়া হত্যায় জড়িত ছিলেন ? নাকি হত্যাকারিদের আড়াল করতেই তাদের মারা হল? নাকি মুক্তিযোদ্ধা আর্মি অফিসার নির্মুল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হল ? মেজর মনজুর বা মতিয়ুর কে কেন বিচারের সম্মূখিন করা হল না ? কারা ছিল খলনায়কের ভুমিকায় ? জিয়ার সফর সাথীরা বেচে গেলেন কিভাবে ? নেপথ্যে ছিল কারা ? কোন বিদেশি শক্তি ছিল কি ? আজও কি রহস্যাবৃত হয়ে থাকবে জিয়া , মনজুর বা মতিয়ুর হত্যার মুল ঘটনা? ভাসুরের নাম নেয়ার কি সময় হয়নি এখনো ?
৩০ শে মে ১৯৮১ , রোজ শনিবার , ভোর সাড়ে চারটা , চিটাগাং সার্কিট হাউজ । বর্ষন শ্রান্ত রজনীর শেষ প্রহর , চট্রগ্রামবাসীদের চকিত শংকিত করে জেগে উঠল নৈশ স্তব্ধতা ভঙ্গকারী গোলাগুলির শব্দ । সার্কিট হাউজ চত্বর ভরে গেল ধোয়া আর বারুদের গন্ধে । সার্কিট হাউজে ঘুমিয়েছিলেন তিনি ।গোলাগুলির শব্দে উঠে বসলেন ।
কি ব্যাপার ? ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে বেরিয়ে এলেন দরজা খুলে , পরনে রাতে শয্যার পোশাক । গভীর আত্মপ্রত্যয় আর অগাধ আস্থা নিয়ে বেরিয়ে এলেন ।
কি চাও তোমরা?
প্রত্যুত্তরে অতি কাছ থেকে তার উপর সরাসরি গর্জে উঠল স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ার , ঝাঝরা হয়ে গেল দেহ । গড়িয়ে পড়লেন নিষ্প্রাণ (?) দেহে মুক্তযুদ্ধকালীন প্রথমে ১ নং সেক্টর ,পরে জেড ফোর্স কমান্ডার তৎকালীন রাস্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ।
২। প্রচার করা হল , লে. কর্নেল মতিউর রহমান বীর উত্তম রাস্ট্রপতিকে গুলি করেছেন । স্মর্তব্য লে. মতি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া প্রথম দলের একজন জেনারেল ওসমানি’র নির্দেশে যিনি সেক্টর ১০ ও ১১ তে গেরিলা এডভাইজার ছিলেন ।
৩। আরো জানানো হল , চট্রগ্রাম সেনা অভ্যুথান এর কথা যার নেতা হিসেবে এলো চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তৎকালীন এরিয়া কমান্ডার ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুর বীর উত্তম এর নাম । স্মর্তব্য, একাত্তরে ১৬ ডিসে ঢাকায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তার ৯ দিন আগেই যশোর সেনানিবাসের পতন হয়েছিল ৭ তারিখে যশোর সেনানিবাসের পাকিস্তান ট্যাংক রেজিমেন্টের একটি দল আত্মসমর্পণ না করে খুলনার শিরোমনিতে পজিশন নেয়। কথিত আছে যে, তারা ৭ম নৌবহরের আশায় খুলনা হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণের মুখে পাকবাহিনীর ট্যাংক রেজিমেন্টের ওই দলটি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। ওই অপারেশনটির নাম ‘ব্যাটল অব শিরোমনি’ এবং অপারেশনের কমান্ডার যিনি দুই হাতে দুই এসএলআর উঁচিয়ে ফায়ার করতে করতে ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন ৮ নং সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল) এমএ মঞ্জুর, বীরউত্তম।
৪। জুন ২,১৯৮১ সকালে বেতার -টেলিভিশনে সরকারিভাবে জানানো হল , “আমাদের বিক্ষুব্দ সৈন্যরা মঞ্জুরকে হত্যা করেছে “। কিন্তু রাতের খবরে জানানো হয় , “তাকে গ্রেফতার করে চট্রগ্রাম সেনানিবাসে আনার সময় (১ লা জুন ৮১) পথে একদল সশত্র লোক বন্দীদের ছিনিয়ে নেবার চেস্টা করে এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের সাথে গুলি বিনিময় হয় । এতে জেনারেল মঞ্জুর গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন ও হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মৃত্যুবরন করেন । তার অন্য দু’জন সহযো্গী লে. কর্নেল মতিউর রহমান বীর উত্তম , লে কর্নেল মাহবুবুর রহমান বীর উত্তম ঘটনা স্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করেন ।”
এভাবে জিয়া হত্যার কলন্ক মাথায় নিয়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হলেন এই দুনিয়া থেকে । যে দেশের স্বাধীনতার জন্য তারা জীবন বাজি রেখে সেই দেশের জনগন আজও জানে না তাদের কপালে সাড়ে তিন হাত মাটি জুটেছিল কিনা , কোথায় তাদের কবর ?
৫। ব্রিগেডিয়ার মহসিন , লে. ক. মাহফুজুর রহমান , লে. ক. দেলোয়ার হোসেন , কর্নেল নওয়াজেস, কর্নেল এম রশিদ সহ ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেয়া হল ফাঁসি ।
তারা কি সত্যি জিয়া হত্যায় জড়িত ছিলেন ? নাকি হত্যাকারিদের আড়াল করতেই তাদের মারা হল? নাকি মুক্তিযোদ্ধা আর্মি অফিসার নির্মুল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হল ? মেজর মনজুর বা মতিয়ুর কে কেন বিচারের সম্মূখিন করা হল না ? কারা ছিল খলনায়কের ভুমিকায় ? জিয়ার সফর সাথীরা বেচে গেলেন কিভাবে ? নেপথ্যে ছিল কারা ? কোন বিদেশি শক্তি ছিল কি ? আজও কি রহস্যাবৃত হয়ে থাকবে জিয়া , মনজুর বা মতিয়ুর হত্যার মুল ঘটনা? ভাসুরের নাম নেয়ার কি সময় হয়নি এখনো ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৫:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



