somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আজ স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস সামরিক জান্তা লেজেহুমো এরশাদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধটা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যার নেতৃত্বে ছিল ছাত্র সমাজ যেমন ছিল পাকি সামরিক জান্তা আইয়ুবের বিরুদ্ধে '৬২ বা '৬৯এ । ১৯৮৩ সালে মজিদ খানের শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়া শুরু হয় এই প্রতিরোধের। ১৯৮৩ সালের এদিনে মজিদ খানের শিক্ষানীতি প্রত্যাহার, বন্দী মুক্তি ও জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে ছাত্র সমাবেশের ডাক দেয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এই ছাত্র সমাবেশ পরে পরিবর্তিত হয় বিরাট জনতার প্রতিরোধে। স্বৈরাচার বনাম জনতার সংগ্রামে পুলিশের গুলিতে সেইদিন শহীদ হন জাফর, জয়নাল, কাকন, দিপালীসহ আরো ১০জন।



সেই ১৪ ফেব্রুয়ারীর চেতনায় শুরু হয় স্বৈরাচার প্রতিরোধের সংগ্রাম, গলে সামরিক বুট আর বুলেটের আতংকের বরফ, আর সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায়ই ৯০এর গণঅভ্যুত্থান। আসুন আমরা আজকের দিনটিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি।

প্রাসঙ্গিক কিছু লেখার লিঙ্ক:
১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩ - নজরুল ইসলাম
স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস না ভ্যালেন্টাইনস ডে? - দিবস বাণিজ্যে বিবশ তারুণ্য -দিনমজুর
গরুর কোন দুঃখ নাই - পারভেজ আলম
শহীদের রক্তের দাগ যেভাবে মুছে গেল 'ভালোবাসা দিবসের' জোয়ারে-পদাতিক
১৪ ফেব্রুয়ারি : যে ইতিহাস আমরা ভুলতে বসেছি
ফেব্রুয়ারি ১৪: ব্যবসায়িক ভালোবাসা, নাকি চেতনার রক্তাক্ত জমিন?-গৌতম


ফেসবুক ইভেন্টে যোগ দিতে পারেনhttps://www.facebook.com/events/258781627523685]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29540943 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29540943 2012-02-14 09:46:26
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রতাবর্তন , তাজউদ্দীনের প্রস্থান আর দৈনিক গণকণ্ঠের জন্ম : আমার জিজ্ঞাসা পোস্ট দেখতে পারেন)। বরং দুটি তথ্য ও আমার জিজ্ঞাসা তুলে ধরব ।

। যতদুর জানি , বঙ্গবন্ধুর ফেরার দুইদিনের মধ্যে তাজউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয় । কেন ? কিসের ভিত্তিতে ও কাদের পরামর্শে বঙ্গবন্ধু মুজিবনগর সরকারের প্রেসিডেন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী হলেন তাজউদ্দিনকে সরিয়ে ?

২। মুজিব শাসনামলের সবচেয়ে বেশি সমালোচনায় (বানোয়াট প্রচারনাসহ)চ্যাম্পিয়ন মিডিয়া হিসেবে নিঃসন্দেহে প্রথম আসবে দৈনিক গণকণ্ঠের নাম । সে সময়ের জাসদের মুখপাত্র হিসেবে এটি পরিচিত । এ থেকে অনেকে ভূ্লবশত মনে করেন "জাসদ" গঠনের পর তার "মুখপাত্র" হিসেবে " দৈনিক গণকণ্ঠ" প্রকাশিত হয়েছিল ।কিন্তু আসলে দৈনিক গণকণ্ঠ প্রকাশিত হয়েছিল জাসদের গঠনের (৩১ অক্টোবর '৭২) অনেক আগে । তাহলে প্রশ্ন আসে কবে ? আশ্চর্যজনক হলেও সত্য , দৈনিক গণকণ্ঠ প্রকাশিত হয়েছিল সেদিন যেদিন বংবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ঢাকায় পৌছেন অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে !! ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র' সৃষ্ট মুজিববাহিনী অন্যতম অধিনায়ক সিরাজুল আলম খানের পরামর্শে মুজিব বাহিনীর আফতাব আহমদের নির্বাহী পরিচালনায় আর কবি আল মাহমুদের সম্পাদনায় দৈনিক গণকণ্ঠ প্রকাশিত হয় । প্রকাশক ছিলেন মার্শাল মনি । উল্লেখ্য , তারা সবাই ষাটের দশকে গোপনে গড়ে উঠা স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের সদস্য । বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার দিনই (শাসন কাজ শুরুই করেনি , ভাল -মন্দ দুর কি বাত ) তার বিরুদ্ধাচরন করার জন্য সিরাজুল আলম খানরা দৈনিক গণকণ্ঠ প্রকাশ করেছিলেন কার স্বার্থে ? কাদের পরামর্শে ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29519917 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29519917 2012-01-10 16:19:35
তাহের মেলায় আমন্ত্রণ
ফেসবুকে তাহের মেলা Click This Link

কর্নেল তাহেরকে নিয়ে আমার এক পুরনো ব্লগ নিচে তুলে দিলাম -

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় সামরিক বুৎপত্তি অর্জনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি পাকিস্তান থেকে ছুটিতে এসে এদেশকে স্বাধীন করতে লড়াকুদের ট্রেনিং দিতেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি
যিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি
যিনি সর্ববৃহৎ ১১ নং সেক্টর এর অধিনায়কত্ত্ব করেছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি কামালপুর সম্মুখযুদ্ধে তার বাম পা হারিয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি সেনা অফিসারদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্ছার হয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি সেনাবাহিনীকে উৎপাদনমুখী করার পরকল্পনা করেছিলেন ।

হ্যা
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি
যিনি জাসদ’র বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও গণবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি সিপাহি জনতার বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ,
মুক্ত করেছিলেন জিয়াকে ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যাকে জিয়া বলেছিলেন ‘ইউ আর মাই ব্রাদার ,ইউ আর মাই সেভার ’।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি -
যিনি ছিলেন প্রথম মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার যাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল ।

তারিখ ২১ শে জুলাই ১৯৭৬ , ভোর ৪টা ।

জীবন মৃত্যুর মুখে একেছো মোহর
পোষ্টম্যান ফেরী করে এখন তোমাকে;
তুমি আর ব্যক্তি নও , তুমি যে খবর
আমাদের প্রতিপক্ষ সে খবর রাখে ?

অলক্ষ্যে নিজের মৃত্যু যে পায়নি টের
সে জানে না বিপ্লবের পতাকা তাহের ।
-মুহম্মদ নূরুল হুদা

হ্যাঁ, বিপ্লবের পতাকাই যদি হোন স্বয়ং তাহের তবে, তাকে হত্যা করতে পারে কোন শালা ! নিঃসঙ্ক চিত্তের তাহের কি মরতে পারে ? নাকি কেউ পারে তাকে মারতে ? তাহের নিজেও এটা জানতেন আর তাই "সকালে দাড়ি কেটে, পছন্দের নীল শার্ট পরে, আম কেটে খেয়ে, নিজের রচিত বিপ্লবের কবিতা আবৃত্তি করে ফাঁসির মঞ্চে ওঠেন আর ফাঁসির রশি নিজ হাতে গলায় পরেন " ।

আর এভাবেই কাপুরুষেরা যখন নিজ গৃহকেই পৃথিবী ভেবে আত্মপ্রসাদ লাভ করেছিল তখন তাহের সারা পৃথিবীকেই তার আপন ঘর করে নিয়েছিলেন ।

আর এভাবেই বাঙালীর সংগ্রামী প্রেরণায় তিতুমির, ক্ষুদিরাম, সুর্যসেন, আসাদ, লে. ক. মোয়াজ্জেম , সিরাজ শিকদার প্রমুখের নামের পাশে কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম এর নামও যুক্ত হলো ।

হ্যাঁ যা বলছিলাম , এই সব বিপ্লবীদের শারীরিক হত্যাকান্ডে যারা উল্লাসিত হয়েছিল তাদের মত হাদারামরা বোঝেনি তাতে আসলে বেড়ে গেছে বিপ্লবেরই স্পর্ধা ।

একটু খেয়াল করে দেখুন তো, তিতুমির, ক্ষুদিরাম, সুর্যসেন, আসাদ, লে. ক. মোয়াজ্জেম , সিরাজ শিকদার , তাহের - আজও তাদের উপস্থিতি টের পান কিনা ? স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে-কানসাটে -ফুলবাড়ীতে-ভবদহে ।

অবশ্য, পরবর্তীতে তাহেরের সহযাত্রীদের -
কেউ হয়েছেন জিয়ার জাতীয়তাবাদী থিসিস প্রণেতা
কেউ জাসদ থেকে ইস্থফা দিয়ে বর্তমানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রধান সওদাগর
কেউ হয়েছেন এরশাদের সংসদের গৃহপালিত নেতা
কেউ হয়েছেন খালেদা সরকারের থিফ অফ বাগদাদ
আর অধিকাংশই পুজির নষ্ট সংগমের বেশ্যা ।

এখানেই জন্ম নেয় নিরাশার বীজ
কিন্তু তারপরও আমি আশাবাদী কারণ
বিপ্লবের পতাকা তাহের ।

তাহের মরেনি
তাহেররা কখনো মরে না ।

আমার সাথে তাহেরের দেখা হয় কানসাটে -ফুলবাড়িতে- ভবদহে- নারায়ণগঞ্জে-সাভারে-শাহবাগে-পরিবাগে কিংবা অন্য কোথাও ।

(প্রথম প্রকাশ , স্বাধীনতা যুদ্ধের অপর নায়কেরা // নুরুজ্জামান মানিক ,শুদ্ধস্বর ,একুশে বইমেলা ২০০৯ )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29485051 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29485051 2011-11-17 13:34:49
ফিরে দেখা: নভেম্বর ৩ , ১৯৭৫
(১৯৭৫ সালের নভেম্বর ৩-৭ এই অশান্ত পাঁচদিনে ঘটনা ঘটছিলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে । এখানে আমি শুধু ৩ তারিখের ঘটনাগুলি তুলে ধরবো । ঘটনা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবার ভার পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম।)

রাত ১ টার মধ্যে বঙ্গভবনে মোতায়েন মেজর ইকবালের ১ম বেঙ্গলের সব ট্রুপস প্রত্যাহার করার মাধ্যমে সিজিএস ব্রি. খালেদের নেতৃত্বে অভ্যুথান সূ্চনা। [১]

ক্যাপ্টেন হাফিজউল্লাহ রাত ১২ টার সঙ্গে সঙ্গেই জেনারেল জিয়াকে গৃহবন্দী করেন ।[২]

পরে ক্যাপ্টেন তাজ ( বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী ) গিয়ে জিয়ার বাসার টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করেন ।[৩]

অবশ্য এর আগেই জিয়া কর্ণেল (অব) তাহেরের সাথে কথা বলেন । জিয়ার গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূ্মিকা ছিল ব্রিগেড মেজর হাফিজের ।[৪]

রাতের অন্ধকারে ৪৬ ব্রিগেডের ইউনিটগুলো ক্যান্টনমেন্ট ও শহরের বিভিন্নস্থানে কৌশলগত অবস্থান নেয় । ট্যাংক হেডকোয়ার্টার থেকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলায় স্টাফ রোডের রেলক্রসিং রোড ব্লক করেন লেঃ কর্ণেল গাফফারের নেতৃত্বে একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও ২য় বেঙ্গলের দুটি কোম্পানি । বেতার -টিভির নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয় । বেতার কার্যক্রম বন্ধ করা হয় । চতুর্থ বেঙ্গল থেকে অপারেশন পরিচালনা করছেন ব্রি. খালেদ । সাথে আছেন কর্ণেল শাফায়াত জামিল , কর্ণেল মালেক , ব্রি. রউফ, ব্রি. নুরুজ্জামান, মেজর হাফিজ, মেজর ইকবাল, মেজর নাসির প্রমুখ ।[৫]

এভাবেই শুরু হল এক রক্তপাতহীন নিরব অভ্যুথান ।

খুনি মোশতাকের উপদেষ্টা জেনারেল ওসমানী জেনারেল খলিলকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেন বিডিআর-এর দু’টো রেজিমেন্ট বঙ্গভবনে পাঠিয়ে দিতে । ফারুককে বলা হয় রেসকোর্সে তার ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টের কাছে চলে যেতে। ফারুক সাথে সাথে ট্যাঙ্কগুলি সচল করে। রশিদ আর ওসমানী বঙ্গভবনে থেকে টেলিফোন করছেন খালেদকে। জিয়ার সাথে আলাপের চেষ্টা করে ব্যর্থ ।বঙ্গভবন ও রেসকোর্সের সবগুলি ট্যাঙ্ক ফাইটিং এর জন্য তৈরি । এদিকে ২য় ফিল্ড রেজিমেন্টের কামানগুলিও আক্রমনাত্বক পজিশনে । "লড়বো নয় মরবো" । [৬]

এদিকে রিসালদার মোসলেমের নেতৃত্বে একটা ঘাতকদল প্রবেশ করে কারাগারে | দিবাগত রাত ৪টায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি(প্রিজন) ফোন করেন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকেকে।
রাষ্ট্রপতির আদেশ আসে- ওরা যা করতে চায় করতে দিন।[৭]

এরপরে এক সারিতে দাঁড় করিয়ে কারাগারে অন্তরীণ মুক্তিযুদ্ধের চারস্তম্ভ তাজউদ্দিন আহমেদ,আ.হ.ম.কামরুজ্জামান ,সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং মনসুর আলীকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হলো। [৮]

অবশ্য,তাজউদ্দিনকে শুধু ব্রাশফায়ারে মারা যায়নি । মৃত্যুর আগে পানি পান করতে চেয়েছিলেন তিনি। [৯]

পিঁপাসা মেটানো হয়েছিলো তাঁর হৃদপিন্ডে বেয়নেট চার্জ করে যে হৃদয়ে বাংলাদেশ ছিলো। [১০]

এদিকে খালেদের অভ্যুথানের পক্ষে আকাশে দুইটা মিগ জঙ্গী বিমান ও একটি রাশিয়ান হেলিকপ্টার বঙ্গভবন ও রেসকোর্সের উপর দিয়ে বৃত্তাকারে উড়তে থাকে । এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূ্মিকা পালন করেন স্কোয়াড্রন লিডার লিয়াকত ।[১১]

খালেদের সাথে আলাপ ও সমঝোতা করতে ডালিম নুরকে সাথে নিয়ে ফুলার রোডে প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের বাসা থেকে খাকি পোষাক বদলে সাধারণ কাপড় পরে রওনা দিল ক্যান্টনমেন্টে ।[১২]

কিছু পরে আলোচনায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদের প্রতিনিধি কর্ণেল মান্নাফ এবং কর্ণেল মালেক (এরশাদের আমলে মন্ত্রী,ঢাকার মেয়র )কে সাথে করে ডালিম-নুর ফিরে এলো বঙ্গভবনে খালেদের দাবিনামা সমেত। খালেদের দাবিনামা ছিলঃ (ক) ট্যাঙ্ক বহরকে নিরস্ত্র করে সেনানিবাসে ফেরত পাঠাতে হবে । (খ) জেনারেল জিয়ার স্থলে একজন সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে হবে । (গ) মোশতাক প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন তবে,বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে এবং যে সব দেশসমুহ দুঃসময়ে বাঙ্গালী জাতির বন্ধু হিসেবে এগিয়ে এসেছিলো তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে । [১৩]

দাবিনামা শোনার পর মোশতাক-ওসমানি ব্যর্থ পদত্যাগ নাটক করে । ডালিম রাগান্বিত হয়ে ওসমানিকে বলে , আপনি ফারুক-রশিদদের আত্মসমর্পন করতে বলুন । [১৪] এভাবে ঘন্টা তিন ধরে দরকষাকষি চলে । দরকষাকষি চলাকালিন বঙ্গভবন ও রেসকোর্সের উপর দিয়ে মিগ জঙ্গী বিমান ও রাশিয়ান হেলিকপ্টারের টহল অব্যাহত থাকে ।

জেনারেল খলিল আইজি পুলিশ মারফত জানতে পারেন জেলে চারনেতা হত্যার কথা । খলিল জানায় মোশতাকের সচিব চাষীকে । চাষী মোশতাকের রুমে ঢুকে । কয়েক মিনিট পর চাষী বেরিয়ে এসে বলেনঃ "উনি জানেন !" জেনারেল খলিল অজ্ঞাত কারণে এই খবরটি আর কাউকে জানাননি |[১৫]

মেজরদের ব্যারাকে ফেরত পাঠানোর কথা শুনে রশিদ মোশতাককে বলে , স্যার আমরা কিছুতেই ওখানে যাবো না । এর চেয়ে বরং আমাদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিন । খালেদকে মোশতাক অনুরোধ করে মেজরদের নিরাপদে দেশত্যাগ করতে দেয়ার জন্য । খালেদ গ্রুপ তাতে সম্মত হয় । এভাবে উভয়পক্ষের সম্মতিতে মেজরদের দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । বিমান বাহিনী প্রধান তোয়াব আর পররাষ্ট্র দপ্তরকে দায়িত্ব দেয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহনের যেন মেজররা নিরাপদে ব্যাংকক যেতে পারে । [১৬]

বিকেলে সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক সিপাহি, এনসিও, জেসিও নারায়নগঞ্জে কর্ণেল তাহেরের সাথে দেখা করে তাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করে । [১৭]

সন্ধা ৮:৪৫ মিনিটে তেজগাও বিমান বন্দরে অপেক্ষারত ফক্কর বিমানে আরোহন করে ১৭ মেজর তাদের স্ত্রী পরিজনসহ ব্যাককের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে । [১৮] খালেদদের অলক্ষ্যে ক্যান্টনমেন্টেই রয়ে যায় একজন ! [১৯]

এভাবেই সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জেলহত্যার হোতারা নিরাপদে দেশত্যাগ করল । জেল হত্যার ঘটনা খালেদ -শাফায়াতরা জানলেন পরেরদিন সকাল দশটায় !![২০]

রেফারেন্সঃ

১। Bangladesh: A Legacy of Blood, by Anthony Mascarenhas, Hodder and Stoughton, 1986
২।একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য আগষ্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর , কর্নেল শাফায়াত জামিল ।
৩। ভোরের কাগজ, ৪ নভে ২০০৬
৪। তিনটি সেনা অভ্যুথান ও কিছু না বলা কথা , লে কর্নেল এম এ হামিদ ।
৫। Anthony Mascarenhas, ibid;লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
৬।Anthony Mascarenhas, ibid; যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি , লে.কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
৭।প্রাগুক্ত; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
৮। প্রাগুক্ত ; জেল হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ।
৯।Anthony Mascarenhas, ibid ।
১০। Anthony Mascarenhas, ibid ; পিয়াল ভাইয়ের ব্লগ ।
১১। Anthony Mascarenhas, ibid ; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ;কর্ণেল শাফায়াত জামিল, প্রাগুক্ত ।
১২। যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি , লে. কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম ।
১৩।Anthony Mascarenhas, ibid ;মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরূপ , মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি ।
১৪। মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি,প্রাগুক্ত ; Anthony Mascarenhas, ibid
১৫। Anthony Mascarenhas, ibid ; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
১৬। প্রাগুক্ত ।
১৭।ঝন্ঝাবিক্ষুব্ধ সেই দিনগুলো,লুৎফা তাহের ।
১৮। Anthony Mascarenhas, ibid ; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
১৯। ইনি হলেন লে. কর্নেল এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার)।
২০। কর্নেল শাফায়াত জামিল, প্রাগুক্ত।

(রিপোস্ট । ২০০৯ সালের এদিনে প্রকাশিত )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29477527 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29477527 2011-11-03 16:07:21
বঙ্গবন্ধু আসলে নিহত হন ৭ মার্চ ১৯৭১ তারিখে
৭ মার্চের ঐতিহাসিক সেই ভাষণের পর বঙ্গবন্ধু কি মারা যান বা রাজনৈতিক অবসর নেন ?

জানুয়ারী ’৭২ থেকে আগষ্ট’৭৫ পর্যন্ত দেশের সরকার প্রধান কে ছিলেন ? তার ব্যাপারে উপরোক্তদের মূল্যায়ন কি ?

স্তাবকতা ছাড়া শাসক মুজিবের নির্মোহ মুল্যায়ন করার মত সেয়ানা কি আমরা আজো হৈছি ?
আম্বালীগের রাজনীতিকদের কাছে এটা আশা করা বৃথা কারণ ভক্তি ও সামন্তসুলভ আনুগত্য হচ্ছে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি ? তবে বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদী কথিত প্রগতিশীল বুজিদের দায়িত্ব ছিল মুজিবের শাসনকাল নিয়ে কাজ করা কিন্তু এতে তাদের আগ্রহ দেখা যায়না ? অন্ধ ও নিরর্থক ভক্তি ছাড়া আর কিছুই এরা উদগীরন করতে কামিয়াব হননি । শেখ মুজিবকে গুরু মানা বা তার ভক্তিতে আমি আপত্তি করছি না কিন্তু খেয়াল রাখা দরকার ভক্তি যুক্তির হাত ধরে চলে না । বরং যুক্তির কাছ থেকে সে শত শত তফাতে থাকে । নির্মোহ মুল্যায়নের জন্য আশ্রয় নিতে হবে যুক্তির , সহায়তা নিতে হবে বিশ্লেষণের । আম্বালীগের বুজিরা সে পথে যাননি কেন ? মুজিবের ভুল ত্রুটি বা স্বৈরাচারিত্ব প্রকাশ পাবার ভয়ে ? এরা কি শেখ মুজিবকে প্রেরিত নবী রসুল বা ভগবানের অবতার মনে করেন ? ৩৬ বছরে বুদ্ধিজীবিতার ক্ষেত্রে এরম পশ্চাদপদ মানসিকতায় আক্রান্তের জায়গা থেকে মুজিবামলের একটা নির্মোহ মূল্যায়ন অসম্ভব ।

কিন্তু শেখ মুজিবের মুল্যায়ন জরুরি কারণ তিনি সাধারণ রাজনৈতিক নেতা নন । বাংলাদেশের ইতিহাসে তার ভুমিকা অক্ষয় এবং সেটা মুছে ফেলার মতো আত্মপ্রতারণামুলক কাজ আর কিছুই হতে পারে না । পৃথিবীর যে কোনো দেশের বড় মাপের নেতার মতো তিনি দোষ-গুণ মিলিয়ে রক্তমাংসের একজন মানুষই ছিলেন অসাধারণ হলেও ? এই মানুষটিকে চেনা দরকার , জানা দরকার ।

মনে রাখা দরকার, শেখ মুজিব নিয়ে লেখা মানে ইতিহাস নিয়েই লেখা কারণ গোটা বাংলাদেশের ইতিহাসটা তার পটভুমি । তাকে কখনোই ছোট ক্যানভাসে ধরা যাবে না কিন্তু পরিতাপের বিষয় আম্বালীগের রাজনীতিক ও বুজিরা মুজিবকে স্রেফ তাদের দলীয় মুজিব বানাতেই সচেষ্ট , বাংলাদেশের ইতিহাসের মুজিব নন । শাসক হিসেবে মুজিবের সফলতা যেমন ছিল , ব্যর্থতাও ছিল বৈকি। আবার রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতা কিংবা স্বার্থের কারণে মুজিবের (বা যে কোনো শাসকের ) একই কাজ কারো কাছে ভাল , কারো কাছে মন্দ ।

যদি ইতিহাসের মুজিব আমাদের কাম্য হয় তবে শাসক হিসেবে তার সীমাবদ্ধতা ও ভুলত্রুটির পর্যালোচনাও দরকার । তিনি এদেশের ইতিহাসের প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছেন । ব্যক্তি হিসেবে তার ভূমিকা অবশ্যই আছে, ইতিহাসের কোথায় ব্যক্তি নিজেকে অনন্য করে তোলে আর কোথায় তার দুর্বলতা উদোম ধরা পড়ে সেটা ভালভাবে বোঝার দরকার আছে । আমরা আমাদের ইতিহাসই লিখতে সচেস্ট হইনি , মুজিবের ইতিহাস দুর কি বাত । আমরা লিখেছি দলীয় ইতিহাস তাও আবার বিকৃত ও অসত্য । আম্বালীগের খন্ডিত দলীয় ইতিহাসে মুজিবকে অধিষ্টিত করা হৈছে অতি খর্বভাবে । যদি স্থানটি তৈরি হয় বড় মাপে বাংলাদেশের ক্যানভাসে তবে আমরা দেখব সেখানে শেখ মুজিব দাড়িয়ে আমাদের পক্ষ হয়ে ইতিহাসকে ধমকাচ্ছেন -
আর দাবায়ে রাখতে পারবা না ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29437209 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29437209 2011-08-23 13:53:36
ডাক দিয়ে যাই রাজবাড়ীতে বাউল-ফকিরদের ওপর সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে জাতীয় সম্পদ রক্ষা সংস্কৃতি মঞ্চের প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল আগামী ১২ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেল ৪.০০ টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে।
সমাবেশে যোগ দিয়ে সমস্বরে আওয়াজ তুলুন ' রাজবাড়ীতে বাউল-ফকিরদের ওপর সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের তদন্ত ও বিচার কর।']]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29360729 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29360729 2011-04-11 10:15:07
নানা গবেষণায় স্বাধীনতার ঘোষণা : ডা. এমএ হাসান ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়_ চট্টগ্রামে হান্নান সাহেবের ঘোষণাটি শুনেছে শতকরা ৭৫ ভাগ লোক, শোনেনি ২৫ ভাগ। রাজশাহীতে শুনেছে শতকরা ২০ ভাগ, শোনেনি ৮০ ভাগ। বরিশালে শুনেছে শতকরা ৬৭ ভাগ, শোনেনি ৩৩ ভাগ লোক। খুলনা, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কেউই ঘোষণাটি শোনেনি। চট্টগ্রামের প্রাথমিক ঘোষণাটি ভারতের গোপন ট্রান্সমিটার থেকে পুনঃপ্রচার করা হয় বলে ধারণা করা হয়। সামগ্রিকভাবে এসব ঘোষণার কোনোটি না শুনেই যারা দেশের অভ্যন্তরে থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের সংখ্যাই বেশি। প্রতিরোধ যুদ্ধে বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করে পাকিস্তানিদের নিষ্ঠুর আঘাত। সবচেয়ে বড় উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। ৭ মার্চের ভাষণ শুনে দেশের প্রায় ৬০ ভাগ তরুণ যুদ্ধের জন্য কোনো না কোনোভাবে প্রস্তুত হয়েছিল।
পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে যারা ঘোষণা দেন তারা হলেন_ জনাব হান্নান, জিয়াউর রহমান ও শমসের মবিন চৌধুরী। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যিনি সবার আগে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলার জন্য অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন, তিনি হলেন জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী। এটা তিনি করেছিলেন ২৭, মার্চ ১৯৭১। সামরিক বাহিনীর মধ্যে যারা প্রথম থেকে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অর্থাৎ মার্চের শুরুতে সামরিক প্রতিরোধ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ব্রিগেডিয়ার এমআর মজুমদার। কিন্তু নানা কারণে ইতিহাসের পাতায় তিনি স্থান পাননি। অন্য যেসব সামরিক কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে উত্তাল মার্চে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং সেনা বিদ্রোহ সংগঠনে ভূমিকা রাখছিলেন তারা হলেন_ ব্রিগেডিয়ার এমআর মজুমদার, দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলের কর্নেল মাসুদ, মেজর খালেদ মোশাররফ প্রমুখ।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দুপুরে এমএ হান্নান চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ বেতার কেন্দ্র থেকে ২৫ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত লিখিত স্বাধীনতার ভাষণটি পাঠ করেন। তাকে সহযোগিতা করেন প্রকৌশলী আমিনুর রহমান ও রাখাল বণিক। যদিও তখন পর্যন্ত সেটিকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়নি। তবে স্বাধীন বাংলা বিপল্গবী বেতার কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয় ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে। এখানেও ২৫ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত লিখিত স্বাধীনতার ভাষণটি পাঠ করেন বেতারের অনেকে। ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনী নিয়ে পটিয়া থেকে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে আসেন। তিনি ওইদিন সন্ধ্যায় প্রথমে সামরিক বাহিনীর পক্ষে পরে বঙ্গবন্ধুর বরাত দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাটি ইংরেজিতে পাঠ করেন। মেজর জিয়াকে পটিয়া থেকে নিয়ে আসেন বেলাল মোহাম্মদ, আবদুল্লাহ আল ফারুক, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ ও কাজী হাবিব উদ্দিন মনি।
২৮ মার্চ আবার জিয়াউর রহমান পঠিত বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত লিখিত স্বাধীনতার ভাষণটি পাঠ করেন সামরিক বাহিনীর শমসের মবিন চৌধুরী। ২৯ তারিখেও একই ভাষণ পাঠ করেন সামরিক বাহিনীর সুবিদ আলী ভূঁইয়া। প্রতিরোধ যুদ্ধে এই ঘোষণার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। (সূত্র: Click This Link)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29356086 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29356086 2011-04-03 10:51:57
জরিপ ১। জামাতি ছাগু ,
২। বিম্পি বা অন্ধ জিয়াভক্ত,
৩। আম্বা বা অন্ধ মুজিবভক্ত,
৪। উপরের সবাই ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29356054 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29356054 2011-04-03 09:24:44
আমি রাবনের দল সমর্থন করছি ব্রডস্কি গম্ভীর মুখে বললেন -"কাউকেই না , দুটোই হাড়বজ্জাত" ।
পাক-ভারত প্রশ্নে আমার একই মত তাই, হারুক -জিতুক আমি রাবনের দল সমর্থন করছি ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29355595 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29355595 2011-04-02 15:08:20
শামসুর রাহমানের 'স্বাধীনতা তুমি'র আদলে সর্বজনাব উমরের কাব্যপ্রয়াস উপসম্পাদকীয় কলামের শেষের প্যারায় "শাসক শ্রেণীর নানা রঙের দুষ্কৃতির বিষয় নিয়ে লিখে হয়রান হয়েছি। তাই এ মুহূর্তে মনে হচ্ছে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বপ্নে দেখা স্বাধীনতার ওপর শামসুর রাহমানের 'স্বাধীনতা তুমি' নামে এক কবিতার কথা। শামসুর রাহমান বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার চলি্লশ বছর পর স্বাধীনতার স্বপ্নভঙ্গের ওপর তাকে লিখতে বলতাম 'স্বাধীনতা তুমি' নামে আর একটা কবিতা তার কাব্যিক ভাষায় সাজিয়ে-গুছিয়ে, যাতে থাকত "
টুকু ভূমিকার পর তিনি স্বাধীনতা তুমি'র আদলে কাব্য প্রয়াস করেছেন । উমরের কাব্যপ্রয়াস ভালু লাগল তাই কিছুটা সাজিয়ে নিচে তুলে দিলাম -



স্বাধীনতা তুমি রুচির নিধনকারী,
স্বাধীনতা তুমি অপার অশ্লীলতা,
স্বাধীনতা তুমি খিস্তিখেউড় জাতীয় সংসদের,
স্বাধীনতা তুমি অসভ্যতার নাম,
স্বাধীনতা তুমি ব্যবসায়ীদের নোংরা হাতের মোয়া,
স্বাধীনতা তুমি চাল ডাল তেল আলু পেঁয়াজের দাম,
স্বাধীনতা তুমি সামাজিক এক ব্যবসা,
তুমি 'শক্তি দধির' ঠোঙা, তুমি এনজিওদের ক্ষুদ্রঋণের বোঝা।

স্বাধীনতা তুমি চোরের ঘরের মাসি,
তুমি ভূমিদস্যুর পিসি,
স্বাধীনতা তুমি পুলিশের লাঠি র‌্যাবের ক্রসফায়ার,
স্বাধীনতা তুমি শিক্ষার নামে ব্যবসা,
তুমি গরিবের স্বাস্থ্যসেবার হাল।

স্বাধীনতা তুমি টেন্ডারবাজি ছাত্রদের,
স্বাধীনতা তুমি ধর্মের নামে বিধর্মীদের মিছিল,
স্বাধীনতা তুমি ফতোয়াবাজি,
নারীর ওপর হামলা,
স্বাধীনতা তুমি মিথ্যাচারের নাম।

স্বাধীনতা তুমি গরিবের শ্রম হজম করার ফাঁদ,
স্বাধীনতা তুমি কৃষকের জমি কৃষকের ভিটে হরণ করার নাম,
স্বাধীনতা তুমি ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির ফোয়ারা,
তুমি ভোটের সময় কারচুপি,
স্বাধীনতা তুমি ব্যবসায়ীদের নোংরা হাতের মোয়া।

স্বাধীনতা তুমি ইতিহাসের যত মিথ্যা,
স্বাধীনতা তুমি পরাধীনতার বন্দি,
স্বাধীনতা তুমি সাম্রাজ্যবাদের পায়ের তলার মাটি,
স্বাধীনতা তুমি হতাশার এক নাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29353084 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29353084 2011-03-29 11:41:21
লুৎফা তাহেরের চাওয়া তো পূর্ণ হল , সালমা খালেদের প্রত্যাশার কি হবে ? আর কতদিন তাকে অপেক্ষার পালা গুনতে... প্রথম আলো )

লুৎফা তাহেরের চাওয়া তো পূর্ণ হল সালমা খালেদের প্রত্যাশার কি হবে ?সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার যার ললাটে ছিল বীরযোদ্ধার জয়টিকা , মাথায় ছিল মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তমের শিরোপা আর মাথার বাম পাশে ছিলো পাকিস্তানী গোলন্দাজ বাহিনীর কামানের গোলার গভীর ক্ষতচিহ্ন সেই খালেদ মোশাররফের হত্যার বিচার কবে হবে ? খালেদ "ভারতের এজেন্ট " এই অভিযোগটা কি আদৌ সত্য ? যদি সত্য না হয় তবে আমরা কি পারিনা খালেদকে এই মিথ্যা কলঙ্ক থেকে তাকে রেহাই দিতে ? আর কতদিন সালমা খালেদকে কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হবে ? তার অপেক্ষার পালা কবে শেষ হবে ?



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29350249 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29350249 2011-03-24 11:52:09
ভাল ব্রেকিং নিউজ : তাহেরের বিচার ছিলো অবৈধ: হাইকোর্ট
সামরিক আদালতে লে. কর্নেল এম এ তাহেরের গোপন বিচার অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ‘ওই বিচারের জন্য সামরিক আদালত গঠন ও বিচার কার্যক্রম অবৈধ। এ বিচার বাতিল করা হলো।’ বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে একটা ২৭ মিনিট পর্যন্ত রায় দেন। মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজসহ অন্যদের বক্তব্য তুলে ধরে আদালত বলেন, তাহের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন। এ বিষয়টি তদন্ত করতে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ওই বিচারে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছেন আদালত।(প্রথম আলো )



আমরা অনেক দিন ধরে দাবি করছি কর্নেল তাহের বিচার (আসলে প্রহসনমুলক বিচারের নামে হত্যা) এর নথি প্রকাশের । বিচারের প্রহসনে তাহের হত্যার বিচার দাবি করেছি । আজ আমাদের সেই দাবি পূর্নতা পেল । ইটস বেটার লেট দেন নেভার । আমরা একইভাবে আশা করি খালেদ-হায়দার-হুদা-মঞ্জুর ও জিয়া হত্যারও বিচার হবে ।

প্রাসঙ্গিক বিবচনায় কর্নেল তাহেরকে নিয়ে আমার এক পুরনো ব্লগ নিচে তুলে দিলাম ।


হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় সামরিক বুৎপত্তি অর্জনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি পাকিস্তান থেকে ছুটিতে এসে এদেশকে স্বাধীন করতে লড়াকুদের ট্রেনিং দিতেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি
যিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি
যিনি সর্ববৃহৎ ১১ নং সেক্টর এর অধিনায়কত্ত্ব করেছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি কামালপুর সম্মুখযুদ্ধে তার বাম পা হারিয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি সেনা অফিসারদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্ছার হয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি সেনাবাহিনীকে উৎপাদনমুখী করার পরকল্পনা করেছিলেন ।

হ্যা
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি
যিনি জাসদ’র বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও গণবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যিনি সিপাহি জনতার বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ,
মুক্ত করেছিলেন জিয়াকে ।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি-
যাকে জিয়া বলেছিলেন ‘ইউ আর মাই ব্রাদার ,ইউ আর মাই সেভার ’।

হ্যাঁ
আমি কর্ণেল তাহের এর কথাই বলছি -
যিনি ছিলেন প্রথম মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার যাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল ।

তারিখ ২১ শে জুলাই ১৯৭৬ , ভোর ৪টা ।

জীবন মৃত্যুর মুখে একেছো মোহর
পোষ্টম্যান ফেরী করে এখন তোমাকে;
তুমি আর ব্যক্তি নও , তুমি যে খবর
আমাদের প্রতিপক্ষ সে খবর রাখে ?

অলক্ষ্যে নিজের মৃত্যু যে পায়নি টের
সে জানে না বিপ্লবের পতাকা তাহের ।
-মুহম্মদ নূরুল হুদা

হ্যাঁ, বিপ্লবের পতাকাই যদি হোন স্বয়ং তাহের তবে, তাকে হত্যা করতে পারে কোন শালা ! নিঃসঙ্ক চিত্তের তাহের কি মরতে পারে ? নাকি কেউ পারে তাকে মারতে ? তাহের নিজেও এটা জানতেন আর তাই "সকালে দাড়ি কেটে, পছন্দের নীল শার্ট পরে, আম কেটে খেয়ে, নিজের রচিত বিপ্লবের কবিতা আবৃত্তি করে ফাঁসির মঞ্চে ওঠেন আর ফাঁসির রশি নিজ হাতে গলায় পরেন " ।

আর এভাবেই কাপুরুষেরা যখন নিজ গৃহকেই পৃথিবী ভেবে আত্মপ্রসাদ লাভ করেছিল তখন তাহের সারা পৃথিবীকেই তার আপন ঘর করে নিয়েছিলেন ।

আর এভাবেই বাঙালীর সংগ্রামী প্রেরণায় তিতুমির, ক্ষুদিরাম, সুর্যসেন, আসাদ, লে. ক. মোয়াজ্জেম , সিরাজ শিকদার প্রমুখের নামের পাশে কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম এর নামও যুক্ত হলো ।

হ্যাঁ যা বলছিলাম , এই সব বিপ্লবীদের শারীরিক হত্যাকান্ডে যারা উল্লাসিত হয়েছিল তাদের মত হাদারামরা বোঝেনি তাতে আসলে বেড়ে গেছে বিপ্লবেরই স্পর্ধা ।

একটু খেয়াল করে দেখুন তো, তিতুমির, ক্ষুদিরাম, সুর্যসেন, আসাদ, লে. ক. মোয়াজ্জেম , সিরাজ শিকদার , তাহের - আজও তাদের উপস্থিতি টের পান কিনা ? স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে-কানসাটে -ফুলবাড়ীতে-ভবদহে ।

অবশ্য, পরবর্তীতে তাহেরের সহযাত্রীদের -
কেউ হয়েছেন জিয়ার জাতীয়তাবাদী থিসিস প্রণেতা
কেউ জাসদ থেকে ইস্থফা দিয়ে বর্তমানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রধান সওদাগর
কেউ হয়েছেন এরশাদের সংসদের গৃহপালিত নেতা
কেউ হয়েছেন খালেদা সরকারের থিফ অফ বাগদাদ
আর অধিকাংশই পুজির নষ্ট সংগমের বেশ্যা ।

এখানেই জন্ম নেয় নিরাশার বীজ
কিন্তু তারপরও আমি আশাবাদী কারণ
বিপ্লবের পতাকা তাহের ।

তাহের মরেনি
তাহেররা কখনো মরে না ।

আমার সাথে তাহেরের দেখা হয় কানসাটে -ফুলবাড়িতে- ভবদহে- নারায়ণগঞ্জে-সাভারে-শাহবাগে-পরিবাগে কিংবা অন্য কোথাও ।

(প্রথম প্রকাশ , স্বাধীনতা যুদ্ধের অপর নায়কেরা // নুরুজ্জামান মানিক ,শুদ্ধস্বর ,একুশে বইমেলা ২০০৯ )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29349199 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29349199 2011-03-22 15:20:55
মারহাবা !মারহাবা !মারহাবা !মারহাবা ! মারহাবা ! (আপডেটেড) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ) মারহাবা ! বিনোদন প্রদানের জন্য অভিনন্দন !

২। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এম হামিদুল্লাহ খান বলেছেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, এটা ধ্রুব সত্য। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। ......মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম-এর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান জেড ফোর্স গঠন করে দেশে যুদ্ধ করেছেন। দেশের অর্ধেক অংশে একা যুদ্ধ করেছেন জিয়া, আর কেউ করেনি। (সূত্র: প্রথম আলো ) মারহাবা ! বিনোদন প্রদানের জন্য অভিনন্দন !

৩। শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমার নোবেল পাওয়া উচিত ছিল -সাংবাদিকদের অ্যাটর্নি জেনারেল । মারহাবা ! তেল উপচাইয়া পড়া এই মতামতের মাধ্যমে চ্রম বিনোদন প্রদানের জন্য অভিবাদন <img src=" style="border:0;" />

৪। ডঃ ইউনুস নোবেল পাবার পর আগাচৌ আর উমরকে ইউনুস বিরোধীতায় এক লাইনে দেখেছিলাম আর গ্রামীন থেকে অপসারনের পর ছিঃভিল সোসাইটি আর তার বিরোধী মজহারকেও ইউনুসের পক্ষে এক লাইনে দেখছি ! লাইনে জামাত -বিম্পি বুজিদের (যেমন এমাজউদ্দিন )যেমন দেখছি তেমনি দেখছি 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী' ডঃ জাফর ইকবাল ও সুশীল ব্লগারদেরও । মারহাবা ! আমিও "নোবিল পেয়ে এনআর্বি, ছিঃভিল সোসাইটি আর বিদেশীদের প্রিয়পাত্র হতে চাই" (সৌজন্যে হাসিব)

৫। ওয়েষ্ট ইন্ডিজের নিকট বাংলাদেশের শোচনীয় পরাজয়ে মর্মাহত হবার অবকাশ আছে কিন্তু বিস্মিত হবার কিছু নেই কারণ খেলায় হারজিত চিরদিন থাকবেই
কিন্তু পরে দেখা গেল ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বাসে পাথর ছুড়ে মারছে আমাদের ক্রিকেট সমর্থকরা ! সাব্বাস এই নাহলে বাঙালী !

৬। "বিএনপি করার চেয়ে মৃত্যুও ভালো" এবং" এ 'অপরাধে' প্রয়োজন হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন" এসব নানা কথামালা প্রকাশিত হয়েছে সমকালে দেয়া জনাব শাজাহান সিরাজের সাক্ষাতকারে । তিনি দাবি করেছেন-"জিয়াউর রহমান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেউই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। তিনি যে ইশতেহার পাঠ করেছিলেন, সেটিই স্বাধীনতার ঘোষণা" মারহাবা ! স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে মুজিব বনাম জিয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা সংযোজন ও নিরানন্দ জীবনে বিনোদন প্রদানের জন্য অভিনন্দন !




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29339206 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29339206 2011-03-06 13:25:56
৭ নভেম্বর ১৯৭৫ দুঃখিত নতুন কিছু লিখছি না , শুধু আমার পুরনো প্রাসঙ্গিক ব্লগগুলির লিন্ক দিলামঃ

নভেম্বর ৩ , ১৯৭৫

পঁচাত্তরের ঘাতকদলের সেই মেজরের কথা

’৭৫ সালের ঘাত -সংঘাতময় সময়ে গুজব রটনা আর মিথ্যা প্রচারনার প্রধান ভাষ্যকারের কথা

মহাকালের খাড়া

বীরউত্তম লে কর্নেল এ টি এম হায়দার

মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানী খালেদ -হায়দার -হুদা হত্যার বিচার চাই
বীর উত্তম খালেদ কি সত্যি ভারতের দালাল ছিলেন ?

হ্যাঁ আমি কর্নেল তাহের এর কথাই বলছি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29268046 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29268046 2010-11-07 10:23:44
নভেম্বর ৩ , ১৯৭৫
রাত ১ টার মধ্যে বঙ্গভবনে মোতায়েন মেজর ইকবালের ১ম বেঙ্গলের সব ট্রুপস প্রত্যাহার করার মাধ্যমে সিজিএস ব্রি. খালেদের নেতৃত্বে অভ্যুথান সূ্চনা। [১]

ক্যাপ্টেন হাফিজউল্লাহ রাত ১২ টার সঙ্গে সঙ্গেই জেনারেল জিয়াকে গৃহবন্দী করেন ।[২]

পরে ক্যাপ্টেন তাজ ( বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী ) গিয়ে জিয়ার বাসার টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করেন ।[৩]

অবশ্য এর আগেই জিয়া কর্ণেল (অব) তাহেরের সাথে কথা বলেন । জিয়ার গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূ্মিকা ছিল ব্রিগেড মেজর হাফিজের ।[৪]

রাতের অন্ধকারে ৪৬ ব্রিগেডের ইউনিটগুলো ক্যান্টনমেন্ট ও শহরের বিভিন্নস্থানে কৌশলগত অবস্থান নেয় । ট্যাংক হেডকোয়ার্টার থেকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলায় স্টাফ রোডের রেলক্রসিং রোড ব্লক করেন লেঃ কর্ণেল গাফফারের নেতৃত্বে একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও ২য় বেঙ্গলের দুটি কোম্পানি । বেতার -টিভির নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয় । বেতার কার্যক্রম বন্ধ করা হয় । চতুর্থ বেঙ্গল থেকে অপারেশন পরিচালনা করছেন ব্রি. খালেদ । সাথে আছেন কর্ণেল শাফায়াত জামিল , কর্ণেল মালেক , ব্রি. রউফ, ব্রি. নুরুজ্জামান, মেজর হাফিজ, মেজর ইকবাল, মেজর নাসির প্রমুখ ।[৫]

এভাবেই শুরু হল এক রক্তপাতহীন নিরব অভ্যুথান ।

খুনি মোশতাকের উপদেষ্টা জেনারেল ওসমানী জেনারেল খলিলকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেন বিডিআর-এর দু’টো রেজিমেন্ট বঙ্গভবনে পাঠিয়ে দিতে । ফারুককে বলা হয় রেসকোর্সে তার ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টের কাছে চলে যেতে। ফারুক সাথে সাথে ট্যাঙ্কগুলি সচল করে। রশিদ আর ওসমানী বঙ্গভবনে থেকে টেলিফোন করছেন খালেদকে। জিয়ার সাথে আলাপের চেষ্টা করে ব্যর্থ ।বঙ্গভবন ও রেসকোর্সের সবগুলি ট্যাঙ্ক ফাইটিং এর জন্য তৈরি । এদিকে ২য় ফিল্ড রেজিমেন্টের কামানগুলিও আক্রমনাত্বক পজিশনে । "লড়বো নয় মরবো" । [৬]

এদিকে রিসালদার মোসলেমের নেতৃত্বে একটা ঘাতকদল প্রবেশ করে কারাগারে | দিবাগত রাত ৪টায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি(প্রিজন) ফোন করেন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকেকে।
রাষ্ট্রপতির আদেশ আসে- ওরা যা করতে চায় করতে দিন।[৭]

এরপরে এক সারিতে দাঁড় করিয়ে কারাগারে অন্তরীণ মুক্তিযুদ্ধের চারস্তম্ভ তাজউদ্দিন আহমেদ,আ.হ.ম.কামরুজ্জামান ,সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং মনসুর আলীকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হলো। [৮]

অবশ্য,তাজউদ্দিনকে শুধু ব্রাশফায়ারে মারা যায়নি । মৃত্যুর আগে পানি পান করতে চেয়েছিলেন তিনি। [৯]

পিঁপাসা মেটানো হয়েছিলো তাঁর হৃদপিন্ডে বেয়নেট চার্জ করে যে হৃদয়ে বাংলাদেশ ছিলো। [১০]

এদিকে খালেদের অভ্যুথানের পক্ষে আকাশে দুইটা মিগ জঙ্গী বিমান ও একটি রাশিয়ান হেলিকপ্টার বঙ্গভবন ও রেসকোর্সের উপর দিয়ে বৃত্তাকারে উড়তে থাকে । এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূ্মিকা পালন করেন স্কোয়াড্রন লিডার লিয়াকত ।[১১]

খালেদের সাথে আলাপ ও সমঝোতা করতে ডালিম নুরকে সাথে নিয়ে ফুলার রোডে প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের বাসা থেকে খাকি পোষাক বদলে সাধারণ কাপড় পরে রওনা দিল ক্যান্টনমেন্টে ।[১২]

কিছু পরে আলোচনায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদের প্রতিনিধি কর্ণেল মান্নাফ এবং কর্ণেল মালেক (এরশাদের আমলে মন্ত্রী,ঢাকার মেয়র )কে সাথে করে ডালিম-নুর ফিরে এলো বঙ্গভবনে খালেদের দাবিনামা সমেত। খালেদের দাবিনামা ছিলঃ (ক) ট্যাঙ্ক বহরকে নিরস্ত্র করে সেনানিবাসে ফেরত পাঠাতে হবে । (খ) জেনারেল জিয়ার স্থলে একজন সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে হবে । (গ) মোশতাক প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন তবে,বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে এবং যে সব দেশসমুহ দুঃসময়ে বাঙ্গালী জাতির বন্ধু হিসেবে এগিয়ে এসেছিলো তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে । [১৩]

দাবিনামা শোনার পর মোশতাক-ওসমানি ব্যর্থ পদত্যাগ নাটক করে । ডালিম রাগান্বিত হয়ে ওসমানিকে বলে , আপনি ফারুক-রশিদদের আত্মসমর্পন করতে বলুন । [১৪] এভাবে ঘন্টা তিন ধরে দরকষাকষি চলে । দরকষাকষি চলাকালিন বঙ্গভবন ও রেসকোর্সের উপর দিয়ে মিগ জঙ্গী বিমান ও রাশিয়ান হেলিকপ্টারের টহল অব্যাহত থাকে ।

জেনারেল খলিল আইজি পুলিশ মারফত জানতে পারেন জেলে চারনেতা হত্যার কথা । খলিল জানায় মোশতাকের সচিব চাষীকে । চাষী মোশতাকের রুমে ঢুকে । কয়েক মিনিট পর চাষী বেরিয়ে এসে বলেনঃ "উনি জানেন !" জেনারেল খলিল অজ্ঞাত কারণে এই খবরটি আর কাউকে জানাননি |[১৫]

মেজরদের ব্যারাকে ফেরত পাঠানোর কথা শুনে রশিদ মোশতাককে বলে , স্যার আমরা কিছুতেই ওখানে যাবো না । এর চেয়ে বরং আমাদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিন । খালেদকে মোশতাক অনুরোধ করে মেজরদের নিরাপদে দেশত্যাগ করতে দেয়ার জন্য । খালেদ গ্রুপ তাতে সম্মত হয় । এভাবে উভয়পক্ষের সম্মতিতে মেজরদের দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । বিমান বাহিনী প্রধান তোয়াব আর পররাষ্ট্র দপ্তরকে দায়িত্ব দেয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহনের যেন মেজররা নিরাপদে ব্যাংকক যেতে পারে । [১৬]

বিকেলে সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক সিপাহি, এনসিও, জেসিও নারায়নগঞ্জে কর্ণেল তাহেরের সাথে দেখা করে তাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করে । [১৭]

সন্ধা ৮:৪৫ মিনিটে তেজগাও বিমান বন্দরে অপেক্ষারত ফক্কর বিমানে আরোহন করে ১৭ মেজর তাদের স্ত্রী পরিজনসহ ব্যাককের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে । [১৮] খালেদদের অলক্ষ্যে ক্যান্টনমেন্টেই রয়ে যায় একজন ! [১৯]

এভাবেই সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জেলহত্যার হোতারা নিরাপদে দেশত্যাগ করল । জেল হত্যার ঘটনা খালেদ -শাফায়াতরা জানলেন পরেরদিন সকাল দশটায় !![২০]

রেফারেন্সঃ

১। Bangladesh: A Legacy of Blood, by Anthony Mascarenhas, Hodder and Stoughton, 1986
২।একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য আগষ্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর , কর্নেল শাফায়াত জামিল ।
৩। ভোরের কাগজ, ৪ নভে ২০০৬
৪। তিনটি সেনা অভ্যুথান ও কিছু না বলা কথা , লে কর্নেল এম এ হামিদ ।
৫। Anthony Mascarenhas, ibid;লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
৬।Anthony Mascarenhas, ibid; যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি , লে.কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
৭।প্রাগুক্ত; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
৮। প্রাগুক্ত ; জেল হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ।
৯।Anthony Mascarenhas, ibid ।
১০। Anthony Mascarenhas, ibid ; পিয়াল ভাইয়ের ব্লগ ।
১১। Anthony Mascarenhas, ibid ; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ;কর্ণেল শাফায়াত জামিল, প্রাগুক্ত ।
১২। যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি , লে. কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম ।
১৩।Anthony Mascarenhas, ibid ;মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরূপ , মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি ।
১৪। মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি,প্রাগুক্ত ; Anthony Mascarenhas, ibid
১৫। Anthony Mascarenhas, ibid ; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
১৬। প্রাগুক্ত ।
১৭।ঝন্ঝাবিক্ষুব্ধ সেই দিনগুলো,লুৎফা তাহের ।
১৮। Anthony Mascarenhas, ibid ; লে কর্নেল এম এ হামিদ, প্রাগুক্ত ।
১৯। ইনি হলেন লে. কর্নেল এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার)।
২০। কর্নেল শাফায়াত জামিল, প্রাগুক্ত।

(রিপোস্ট । গত বছর এদিনে প্রকাশিত )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29266039 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29266039 2010-11-03 09:44:55
ডাক দিয়ে যাই : ঢাকা-বড়পুকুরিয়া-ফুলবাড়ী লংমার্চ
আজ সকাল ১১টা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকে ঢাকা-বড়পুকুরিয়া-ফুলবাড়ী লংমার্চ। উন্মুক্ত না, বিদেশী না, রপ্তানী না- এই শ্লোগান নিয়ে জনগণের সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ৭ দফা দাবিতে এই লং মার্চ । যে যেখান থেকে পারেন, লংমার্চে যোগ দিন, লংমার্চকে সরব সমর্থন জানান ।

২৪-৩০ অক্টোবর ঢাকা-ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া লং মার্চ-এর রুট

২৪ অক্টোবর : মুক্তাঙ্গন > নাবিস্কো মোড় > কাকলী মোড় > আব্দুল্লাপুর > টঙ্গী (দুপুর) > বোর্ড বাজার > চেরাগআলী > চান্দনা চৌরাস্তা > গাজীপুর (রাত্রি যাপন)

২৫ অক্টোবর : গাজীপুর > কোনাবাড়ি > মৌচাক > চন্দ্রা > কালিয়াকৈর > পাকুল্লা > করটিয়া > টাঙ্গাইল (দুপুর) > এলেঙ্গা > সেতুরপূর্ব পাশ কড্ডা মোড় > সিরাজগঞ্জ (রাত্রিযাপন)

২৬ অক্টোবর : সিরাজগঞ্জ > নলকা > হাটিকুমরুল > ঘুরকা > ভূইয়াগাতি > চান্দাইকোনা > শেরপুর (দুপুর) > বনানী > বগুড়া (রাত্রিযাপন)।

২৭ অক্টোবর: বগুড়া > মাটিরঢালি > মহাস্থানগড় > মোকামতলা > গোবিন্দগঞ্জ (দুপুর) > পলাশবাড়ী > গাইবান্ধা (রাত্রিযাপন)।

২৮ অক্টোবর : পলাশবাড়ি > ধাপেরহাট > পীরগঞ্জ (দুপুর) > ষটিবাড়ি > মিঠাপুকুর > দরগারহাট > মর্ডান মোড় > রংপুর (রাত্রিযাপন)।

২৯ অক্টোবর : রংপুর > মেডিকেল > পাগলাপীর > তারাগঞ্জ > সৈয়দপুর (দুপুর) > রানীর বন্দর > ১০ মাইল > দিনাজপুর (রাত্রিযাপন)।

৩০ অক্টোবর : দিনাজপুর > চিনিরবন্দর > পার্বতীপুর > বড়পুকুরিয়া > ফুলবাড়ী (বিকাল ৩টায় ফুলবাড়ীতে মহাসমাবেশ)।

জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবি"
১। যেহেতু ৫০ বছরের জ্বালানি চাহিদার তুলনায় বাংলাদেশের স্থলভাগে ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস-কয়লা মজুদ অনেক কম, সেহেতু কোনোভাবেই তেল-গ্যাস-কয়লা খনিজদ্রব্য নিয়ে কোনো রপ্তানিমুখী চুক্তি করা যাবে না। কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হয়ে থাকলে তা বাতিল করতে হবে। জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত ‘খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধকরণ আইন’ অবিলম্বে পাশ করতে হবে।

২। রপ্তানিমুখী ‘মডেল পিএসসি ২০০৮' বাতিল করে শতভাগ দেশীয় মালিকানার শর্ত রেখে নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে তেল-গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সমুদ্রে বাংলাদেশের ন্যায্য সীমানা নির্দিষ্টকরণ ও এই এলাকায় সার্বভৌম কর্তৃত্ব নিশ্চিত করবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩। আবাদি জমি-পানি সম্পদ-খাদ্য নিরাপত্তা ও মানুষ বিনাশী কয়লা উত্তোলনের উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি নিষিদ্ধ এবং এই পদ্ধতির পক্ষে দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং প্রতারণামূলক অপতৎপরতার সঙ্গে যুক্ত এশিয়া এনার্জিসহ বিভিন্ন ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীকে অবিলম্বে বহিষ্কারসহ জনগণের সঙ্গে সরকারের স্বাক্ষরিত ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্মুক্ত পদ্ধতি অনুমোদনের চেষ্টায় কয়লানীতি ঝুলিয়ে না রেখে ‘উন্মুক্ত না, রপ্তানি না, বিদেশি না’ নীতিমালার ভিত্তিতে পরিবেশ অনুকূল পদ্ধতি গ্রহণ করে দ্রুত কয়লা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। এই বিষয়ে জাতীয় সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৪। স্থলভাগের ১২টি সমৃদ্ধ গ্যাস ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য চুক্তি করার পর সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কর্তৃক অনুসৃত নীতি তথা বর্তমান তীব্র গ্যাস সঙ্কটের সুযোগে দেশকে জিম্মি করে দীর্ঘসূত্রিতা, প্রতারণা ও অনিয়ম অবলম্বনের নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সকল অসম পিএসসিসহ বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী সব চুক্তি বাতিল করে রাষ্ট্রীয় ও দেশীয় সংস্থার কর্তৃত্বে বা নিয়ন্ত্রণে খনিজ উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে। মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলার দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রাপ্য অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করে বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসনে ব্যয় করতে হবে। স্থলভাগে আর কোনো পিএসসি করা যাবে না, আবিষ্কৃত সকল ক্ষেত্র উন্নয়ন ও উৎপাদন বাপেক্সসহ জাতীয় সংস্থাগুলোর দায়িত্বে হতে হবে।

৫। পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, জিওলজিক্যাল সার্ভে আণবিক শক্তি কমিশন জ্বালানিখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করবার নীতি ত্যাগ করে, এই খাতকে দুর্নীতিবাজ ও বিদেশি কোম্পানির রাহুমুক্ত করতে হবে এবং জাতীয় সক্ষমতা বিকাশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬। জ্বালানি সম্পদ নিয়ে এ যাবতকালে বিভিন্ন সরকারের আমলে যেসব জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো প্রকাশ করতে হবে এবং এগুলোসহ যেসব অপতৎপরতার কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা বিপর্যস্ত ও ভয়াবহ বিদ্যুৎ সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলার জন্য দায়ী দুর্নীতিবাজ জাতীয় স্বার্থবিরোধী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭। ২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সংগঠিত জাতীয় কমিটির শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশি হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

আরো দেখুন:

1. তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি
2. তিন ‘না’ এর মধ্যে একটি ‘হ্যাঁ’ : বাংলাদেশের সম্পদ বাংলাদেশেই থাকবে - মেহেদী হাসান
3. জাতীয় কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও দাবিনামা নিয়ে আনু মুহাম্মদের নোট
4. "বিদ্যুত সংকট, জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের দুষ্টগ্রহ এবং বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন" - শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ'র বক্তৃতা
5. "সরকার বলছে সংকট- আমি বলছি সংকট নেই, সংকট তৈরি করা হচ্ছে ভিন্ন উদ্দেশ্যে" - বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী বি ডি রহমতুল্লাহ
6. নাইল্যাকাডা - দিনমজুর এর বাংলা ব্লগ
7. লংমার্চ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে জাতীয় কমিটির আহ্বায়কের সাক্ষাৎকার

সূত্র: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29260332 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29260332 2010-10-24 09:39:22
জয় "আওয়ামী ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামিক রাষ্ট্র" ‍ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ - বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম বহাল রেখে সংবিধান পুনর্মুদ্রণ
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হচ্ছে না

বিসমিল্লাহ থাকবে !
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে !
আরও থাকবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি !
সেক্যুলারিজম নিয়ে আওয়ামীলীগের বিভ্রান্তি ও ভন্ডামি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই । আমার "ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র হোক সবার " ব্লগে কিছু আলোচনা আছে ।

এরপরও ,এরাই দেশে প্রগতিশীলতা ও সেক্যুলারিজমের সর্দারি করছে ও করবে সবসম্ভবের দেশ বাংলাদেশে এবং এসব কাজকে মহা ধর্মনিরপেক্ষ সনদ ও সমর্থন দেয়ার নিমিত্তে দালাল বুদ্ধিজীবী , অন্ধ সমর্থকদের অভাব আগেও ছিল না , বর্তমানেও নেই । এতে বিস্মিত হবার কিছুই নেই ।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
জয় "আওয়ামী ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামিক রাষ্ট্র" ‍।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29257773 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29257773 2010-10-19 15:51:24
ভারতীয় জেনারেল অরোরার কাছে পাকিদের আত্মসমর্পণ এবং সে অনুষ্ঠানে ওসমানীর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গ জনকণ্ঠ ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সওয়াল জবাব শুরুর আগেই ট্রাইব্যুনালের বাইরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তিকে কেন্দ্র করে একাধিক পোষ্ট এসেছে । অনেকে ওসমানীর অনুপস্থিতি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন । প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় আমার পুরনো এই লেখার লিঙ্ক দিলাম

জেনারেল অরোরার কাছে পাকিদের আত্মসমর্পণ এবং সে অনুষ্ঠানে ওসমানীর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29243875 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29243875 2010-09-23 11:36:44
আমরা কি পলাশির ইতিহাস থেকে আদৌ কিছু শিখছি ? পলাশিতে সিরাজের (বাংলার) পতন হয় ইংরেজের কাছে । রাজাকারের ভুমিকায় ছিলেন সিরাজের আমাত্যবর্গ মীরজাফর, জগৎশেঠ গং । আমরা কি ইতিহাস থেকে আদৌ কিছু শিখছি ? অনুরুপ ঘটনায় আজকে আমাদের ভুমিকা কি হবে ? সাপ খোলস বদলায় কিন্তু তাতে তার দংশন চরিত্র বদলায় না । উপনিবেশবাদও বদলেছে কিন্তু তার লুম্পেন চরিত্র লুপ্ত হয়নি । সেদিন সামনে ছিল ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী , সহযোগিতায় আমত্যবর্গ নেপথ্যে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ , আজকেও তেল গ্যাস বন্দর প্রশ্নে সামনে বহুজাতিক কর্পোরেট , সহযোগিতায় আমলাতন্ত্র নেপথ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ । আজকে যারা বাংলার তেল গ্যাস বন্দর বেনিয়াদের কাছে তুলে দিতে চায় তাদেরকে কি বলা যায় ? মীরজাফরের উত্তরসুরি ? এটা কি ইতিহাসেরই বক্রাঘাত যে, বর্তমান শাসক দলটির জন্ম ও এদিনে ! ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29183237 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29183237 2010-06-23 09:41:58 সরকারের ফ্যাসিষ্ট ও স্বৈরতান্ত্রিক কর্মকান্ডের নিন্দা জানাই ।
পত্রিকায় আমারদেশ বন্ধের কারণ হিসেবে নানা তথ্য এসেছে আর সেই তথ্যের লিঙ্ক দিয়ে আওয়ামী ব্লগাররা বলছেন, এটা স্রেফ প্রকাশক-সম্পাদকের মামলা কিংবা বিধি লংঘনে আইন প্রয়োগ করা হয়েছে , এখানে সরকারের দায় নেই ! কিন্তু প্রকাশক হাসুকে ধরে নিয়ে যাওয়া এবং পরে তার মামলা করা আর সেই মামলায় আমারদেশ বন্ধ ও মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতারে কি বুঝার বাকি থাকি এটি সাজানো নাটক ?

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না ।

সরকারের এই সব ফ্যাসিষ্ট ও স্বৈরতান্ত্রিক কর্মকান্ডের নিন্দা জানাই ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29168498 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29168498 2010-06-02 16:09:59
ব্লগে কি জিয়াপ্রেমীদের আকাল পড়েছে ? ৩০ মে তারিখে ছিল জিয়ার ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী (মতান্তরে শাহাদতবার্ষিকী) । প্রায় সব দৈনিকেই প্রথম পাতায় নিউজ ছিল -কিছু দৈনিক বিশেষ সংখ্যাও প্রকাশ করে । সকালে অফিসে এসে প্রথমে পত্রিকাগুলোতে নজর দিলাম । এরপর ঢু মারলাম বাংলা ব্লগগুলিতে । জিয়া হত্যা নিয়ে ভাল কোনো ব্লগ চোখে পড়ল না ! সামুতে নাকি জিয়ার সৈনিকদের পদচারণা বেশি না এখানেও কোন ব্লগ নজরে পড়ল না ! অবশ্য, ২/৩ লাইনের ‘আজ শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী’ শীর্ষক কিছু কপিপেষ্ট বা অন্তসার শূন্য ব্লগ পোষ্ট এসেছে ।

ব্যক্তিগত ব্যস্ততার জন্য এবার জিয়া হত্যা নিয়ে আমার লেখার প্রস্তুতি ছিল না । কিন্তু কোন পোষ্ট না পেয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম আমিই লিখব । জিয়া হত্যা নিয়ে লিখলে প্রাসঙ্গিকভাবে এসে যায় মঞ্জুরের অভ্যুত্থান, লেজেহুমো এরশাদের ভূমিকা (!) , মতি-মাহবুব-মঞ্জুর হত্যাকান্ড, বিচারের প্রহসনে তড়িঘড়ি করে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের ফাসি ইত্যাদি এসে যায় । আমি নিজেও লিখেছি আগে পত্রিকায় ও ব্লগে । কিন্তু এবার আমার পোষ্টের ফোকাস ছিল -জীবনের শেষদিন কিভাবে কাটালেন জিয়া এবং কিভাবে তিনি নিহত হলেন ?

আমি আগে নানা লেখা ও মন্তব্যে জিয়ার ইতিহাস চর্চা ও মূল্যায়ন করেছি কিন্তু এই পোষ্টে আমি জিয়ার পক্ষে -বিপক্ষে কিছুই বলিনা । এদেশে জিয়াপ্রেমী ও জিয়া বিদ্বেষীর অভাব নেই কিন্তু জিয়ার মর্মান্তিক হত্যাকে সমর্থন করা কোনো শুভবোধের পরিচায়ক নয় ।

আমি ভেবেছিলাম আমার পোষ্টে জিয়ার ভক্ত, প্রেমী ও সৈনিকরা জিয়ার করুন ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ব্যথিত হবে , জিয়ার রুহের শান্তি কামনা করবেন , জিয়ার সফরসঙ্গী ও সরকারি কর্মকর্তারা যারা জিয়ার লাশের উপর কোন সম্মান দেখায়নি তাদের প্রতি খুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাবেন এবং জিয়া হত্যা রহস্য উদ্ধারে তদন্ত ও বিচারের দাবি করবেন । তাইই স্বাভাবিক ছিল । কিন্তু বাস্তবতা হল ভিন্ন । এখানে কোনো জিয়াপ্রেমীর অনুরুপ প্রতিক্রিয়া/মন্তব্য দেখলাম না । সামুতে অফেন্ডিং জিয়া লেখার জন্য পিয়াল ( এ যাবত প্রকাশিত সিরিজগুলি তারই লেখা) আর পোষ্ট করার জন্য মানিককে গালিগালাজ করার মহান দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করলেন তারা (আজ সব মুছলাম) । জিয়ার মৃত্যুদিবসে (তাদের ভাষায় শাহাদত দিবসে) জিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করার সময় /আগ্রহ নেই তাদের ? পিয়াল -মানিক বিরোধী অভিযানে এভাবেই হারিয়ে গেলেন জিয়া ! একাশিতেও মঞ্জুরগ্রুপ আর এরশাদগ্রুপের দ্বন্দ্ব , মারমুখি অবস্থান , ক্ষমতার লড়াই আর বেতারকেন্দ্রিক যুদ্ধে হারিয়ে গিয়েছিলেন জিয়া । জিয়াকে হত্যা করা হয়েছে -কে হত্যা করেছে ? কেন করেছে ? জিয়ার লাশ কোথায়? দাফন কাফনের কি অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে ভাবার অবকাশ পাননি মহান দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদি রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা !

সঙ্গতকারনেই আমার পোষ্টে (সামুতে) রাগ ইমন প্রশ্ন মন্তব্য করেছেন -
"জিয়া হত্যার পরিপূর্ণ তদন্ত ও বিচার চাই । জিয়ার এত ভক্ত এই ব্লগে । কষ্ট লাগে এই বিচারের দাবীটা বজ্রকন্ঠে কেউ করে না দেখে। এরশাদের মত খুনির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবী উঠে না সংসদে । ছিঃ "


অনুরুপ মন্তব্য এসেছে আমুতে হায়রে দুনিয়ার কাছ থেকেও-

এইটা একজন প্রেসিডেন্টের মৃত্যুবিষয়ক ব্লগ। তাঁর অনেক দোষ-ত্রুটি আছে, অনেক কাজই আমার পছন্দ হয় নাই, কিন্তু অন্তত এইটুকু শ্রদ্ধাবোধ আছে যে তার মৃত্যুবিষয়ক ব্লগে অশ্লীল গালাগালি করতে চাই না। আফসোস এইখানে যে তোমরা এই শহীদ জিয়ার সৈনিকদের তার প্রতি এই শ্রদ্ধাবোধটুকু নাই!


তাই মনে প্রশ্ন-ব্লগে কি জিয়াপ্রেমীদের আকাল পড়েছে ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29168406 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29168406 2010-06-02 14:08:22
৩০ মে ’৮১: ষ্টেনগানের ব্রাশ ফায়ারে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন জিয়া
চট্রগ্রামে বিএনপির উপদলীয় কোন্দল নিরসনের লক্ষ্যে ২৯ মে সকালে পতেঙ্গা বিমান বিন্দরে পৌছলেন রাষ্ট্রপতি জিয়া । তার সফরসঙ্গী ছিলেন বি চৌধুরি, মহিবুল হাসান, নাজমুল হুদা, ড আমিনা , নৌ বাহিনীর প্রধান এম এ খান প্রমুখ । চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে হাল্কা নাস্তা সেরে বারান্দায় আলোচনা বসলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে । বেলা সাড়ে বারটার দিকে জুম্মা নামাজের বিরতি । সাদা পাঞ্জাবি -পায়জামা পরে চকবাজারের নন্দনপুরা মসজিদে নামাজ আদায় করেন জিয়া । নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লীদের সাথে কুশল বিনিময় করে ফিরে আসলেন সার্কিট হাউজে । দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দুপুরের খাবার সেরে ঘন্টা দেড়েক বিশ্রাম নেন । বিকালে চবির ভিসি, অধ্যাপকবৃন্দ, আইনজীবি, সাংবাদিক প্রমুখ আগত অতিথীদের সাথে আড়াই ঘন্টা আলাপ করেন । তারপর স্থানীয় বিএনপির দুই উপদলের সাথে আলাদাভাবে রাত ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত আলোচনা করেন । এর মধ্যে চট্রগ্রামের ডিসি ও পুলিশ কমিশনারের সাথে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন । রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক লে কর্নেল মাহতাবুল ইসলাম তার খাবার পরখ করে শেষ করলে রাত ১১টার একটু পরে জিয়াকে রাতের খাবার দেয়া হয় । ডিনার শেষে ঢাকায় তার স্ত্রী খালেদার সঙ্গে টেলিফোনে মিনিট পনেরো কথা বলেন জিয়া । জীবনের আলো নিভে যাবার ৫ঘন্টা আগে ঘরের আলো নিভিয়ে ঘুমুতে গেলেন জিয়া । নিশ্চিন্তে বিছানায় নিদ্রায় গেলেন তিনি । ওদিকে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে এগিয়ে আসছে ঘাতক দল । বাইরে তখন তুমুল ঝড় বৃষ্টি আর বিদ্যুতের ঝলকানি ।

রাত আড়াইটার দিকে কালুরঘাটস্থ রেডিও ট্রানসমিটারের কাছে হাজির হল ঘাতক দল । ঘাতকদলের নেতৃত্ব দেয় লে. কের্নল মতিউর রহমান । ঘাতকদল তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে আক্রমন পরিচালনার পরিকল্পনা নেয় । মতি থাকল দ্বিতীয় দলে যারা প্রথমদলকে পেছন থেকে সহায়তা দিবে । রাত সাড়ে তিনটার সামান্য কিছু পরে দল তিনটি প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে আস্তে আস্তে গাড়ি চালিয়ে এগুতে থাকে । ঘাতকদল বিনাবাঁধায় সার্কিট হাউজে ঢুকে পড়ে । ভীতি সঞ্চার করতে রকেট ল্যান্সার থেকে ফায়ার ও গ্রেনেড চার্জ করা হয় আর মেশিনগানের গুলি চালানো হয় । পাহারারত ৪৪ জন পুলিশের ১ জন নিহত, ১২ জন আহত ও বাকিরা আত্মগোপন করেন । রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের সৈন্যরা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল । যে দুজনের রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনে পাহারা দেবার কথা তাদের আগেই খতম করে দেয়া হয় । রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কর্নেল আহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজ দুতলায় রাষ্ট্রপতির শয়নকক্ষের পেছনের কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন । রকেটের আওয়াজে তারা জেগে উঠে । রাষ্ট্রপতিকে বাচাতে তারা তাদের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পাবার আগেই ঘাতকদের গুলিতে নিহত হন । ঘাতকদলটি ঐ সময় দুতলায় রাষ্ট্রপতির ৯ নম্বর কক্ষ খুজতে শুরু করে । ঘাতকদলের একজন ঐ কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ফেলতেই ঘরে ড. আমিনাকে আবস্কার করেন । ফলে রাষ্ট্রপতির খোজে ওরা এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে । তারা ইতিমধ্যে বুঝতে পারে রাষ্ট্রপতি আছেন ৪ নম্বর রুমে । ঘাতকদলের একজন ঐ কক্ষের বারান্দার দিকে দরজা লাথি দিতে ভাঙ্গতে চেষ্টা করে ।

গোলাগুলি আর চিৎকার চেচামেচিতে উঠে বসলেন চকিতে জিয়া ।

কি ব্যাপার ? ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে বেরিয়ে এলেন দরজা খুলে , পরনে রাতে শয্যার পোষাক । গভীর আত্মপ্রত্যয় আর অগাধ আস্থা নিয়ে বেরিয়ে এলেন ।

কি চাও তোমরা?

কাছে দন্ডায়মান লে. মোসলেহউদ্দিন রীতিমত ঘাবরে যান । সে জিয়াকে আশ্বস্ত করে-‘‘স্যার আপনি ঘাবরাবেন না । এখানে ভয়ের কিছু নেই ।’’ মোসলেহউদ্দিনের ঠোট থেকে জিয়ার প্রতি আশ্বাসবানী মিলিয়ে যাবার আগেই লে. কর্নেল মতিউর রহমান তার এসএমজি থেকে অতি কাছ থেকে ব্রাশ ফায়ার করেন জিয়ার শরীরের ডানদিক একেবারে ঝাঝরা করে ফেলে । দরজার কাছেই মুখ থুবরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন জিয়া । এরপর মতি তার বন্দুকের নল দিয়ে জিয়ার প্রাণহীন দেহ উলটিয়ে নেয় । তারপর ক্ষিপ্তপ্রায় মতি জিয়ার মুখমন্ডল আর বুকের উপর তার এসএমজির ট্রিগার টিপে রেখে ম্যাগাজিন খালি করে তার খুনের নেশা মেটায় । আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চারটায় জিয়ার মর্মান্িতক মৃত্যু ঘটে । জিয়াকে খুন করে ঘাতকদল ঝটপট সার্কিট হাউজ ছেড়ে চলে যায় ।

জিয়ার ব্যক্তিগত ডাক্তার লে. কর্নেল মাহতাব তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে । ঘাতকদলের প্রস্থানের অনেক পরে খরগোশের ন্যায় দুতলায় অবস্থানরত জিয়ার সফরসঙ্গীরা তাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে । সংকটময় মুহুর্তে এরা কেউই জিয়াকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি ! জিয়ার লাশ বারান্দার মেঝেতেই পড়ে থাকে । একটা লোকও তার ধারে কাছে আসেনি ! সফরসঙ্গী নেতারা জিয়ার লাশ ডিঙ্গিয়ে চট্রগ্রামস্থ বিএনপির দুটি উপদলের কারো সাথে যোগাযোগ না করে পরবর্তী দুদিন আত্মগোপন করে থাকে । বিএনপির কেউই জিয়ার লাশ দেখতে আসেনি । জনতাও এগিয়ে আসেনি তাদের নেতাকে দাফন করতে ।

রাষ্ট্রপতি জিয়ার লাশের সদগতির কোন ব্যবস্থাই গ্রহন করা হয়নি । ঐ সময় যারা সার্কিট হাউজ পরিদর্শন করে তারাও এনিয়ে সামান্যতম মাথা ঘামায়নি ! দেশের রাষ্ট্রপতির লাশ একটি খাটের উপর উঠানোর সম্মানটুকুও দেখায়নি কেউ ! নৌবাহিনী প্রধান সাড়ে পাচটায় সার্কিট হাউজে আসেন । নিচে কর্মকর্তাদের সাথে কথাবার্তা বলেন । দুতলায় জিয়ার লাশ দেখার আনুরোধ করা হলেও তিনি রাজি হননি ! সেসময় চট্রগ্রামের ডিসি সাইফুদ্দিন আহমদ সেখানে উপস্থিত থাকলেও রাষ্ট্রপতির লাশের প্রতি সম্মান দেখাতে ও তা’ সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করেননি ! সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে সকল কর্মকর্তা সার্কিট হাউজ ছেড়ে চলে যান । জিয়ার লাশ মেঝেতেই পড়ে থাকে !

সকাল সাড়ে আটটায় ৩ জন বিদ্রোহী মেজর ১২ জন সিপাহি নিয়ে সার্কিট হাউজে আসে । একটি পুরনো সুটকেসে জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ঢুকিয়ে নেয় । তারপর তারা জিয়ার লাশ একটি সাদা বিছানার চাদরে মুড়ে ফেলে । কর্নেল আহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজের লাশও তারা একইভাবে মুড়ে তিনটি লাশ একত্র করে ভ্যানে উঠিয়ে কবর দেয়ার জন্য চলে যায় । ১ জুন বিদ্রোহের অবসান ও পরিস্থিতি শান্ত হলে সামরিক -বেসামরিক কর্তৃপক্ষ জিয়ার লাশ খুজে বের করে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করে । ইদুরের গর্ত থেকে বেরিয়ে আসেন জিয়ার সফরসঙ্গী নেতারা !

রেফারেন্স:
১. Bangladesh: A Legacy of Blood, by Anthony Mascarenhas, Hodder and Stoughton, 1986
২.তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে. কর্নেল এম এ হামিদ, মোহনা প্রকাশনী, ১৯৯৫
৩.কামরুদ্দীন আহমদ, স্বাধীন বাংলার অভ্যুদয় এবং অতঃপর , নওরোজ কিতাবিস্তান ,১৯৮২




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29165859 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29165859 2010-05-30 12:11:36
আমার কৈফিয়ত দুইদিনের ছুটিতে অফলাইনে থেকে বাসায় ঘুমিয়ে কাটিয়েছি । গতকাল পিয়ালের মোবাইল কলের মাধ্যমে জানতে পারলাম জনৈক ব্লগার তার সাম্প্রতিক পোষ্টে ( দৌড়ের উপর থাকায় আসলে পোষ্টটি পড়া হয়নি ,আপাতত আর্কাইভ করে রেখেছিলাম ) করা আমার মন্তব্যের স্ক্রিনশট কপিপেষ্ট করে অর্গাজম লাভ করছে । ভাবছি বিনা পয়াসায় আমার বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য তাকে আরেকটি প্লাস দিয়ে আসব ।আমার মন্তব্যের তাৎপর্য কিভাবে নিল তাতে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই । তবে, আমি লিখছি কেন ? একটা কারণ পিয়ালের অনুরোধে , তিনি আমাকে এর একটা ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন । আমি নিজেও তা’ জরুরি মনে করছি - তার জন্যও নয় , পিয়ালের জন্যও নয় (পিয়াল আমাকে ভালই চেনেন তাই তার ভূল বুঝার অবকাশ নেই ) বরং লিখছি আমার পাঠক, বন্ধু বান্ধবদের জন্য যেন তারা আমায় ভূল না বুঝেন ।

প্রথমে আসি ‘প্রিয় পোষ্ট’ প্রসঙ্গে । সামুতে কোনো পোষ্টকে নিজের ব্লগে আর্কাইভ করার একমাত্র অপশন হল-প্রিয় পোষ্টে রাখা । যদি আর্কাইভ করার অপশন থাকত-১। প্রিয় পোষ্ট ২। অপ্রিয় পোষ্ট তবে আমরা পোষ্টানুযায়ী অপশন দুটো ব্যবহার করতে পারতাম । কিন্তু যেহেতু ‘প্রিয় পোষ্ট’ অপশনের বিকল্প পথ খোলা নেই অগত্যা ‘প্রিয় পোষ্ট’ই ব্যবহার করতে হয় । এ কারণে সামুতে পিয়ালের ব্লগে প্রিয় পোষ্ট হিসেবে ঝুলে থাকে ছাগুচিফের পোষ্ট !

অনুরুপ, বিপত্তি দেখা দেয় ফেসবুকে যেখানে লাইক অপশন আছে কিন্তু ডিসলাইক অপশন নেই । অগত্যা কারো ষ্ট্যাটাস, নোট , লিঙ্ক ইত্যাদি ফলে করার নিমিত্তে লাইক বাটনের বিকল্প পথ খোলা নেই ।

এটা ঠিক ব্যক্তিগত ব্যস্ততার জন্য অনেক জরুরি লেখাও ফলো করা হয় না , আবার হাতে যথেষ্ট অবসর থাকলেও অনেকের লেখাই আমি পড়ি না । সাধারতনভাবে , আমি নিম্নোক্তদের লেখা /মন্তব্য ইগ্নোর করি -
১। চিহ্নিত বা প্রমানিত বা ইতিমধ্যে ল্যাঞ্জা প্রকাশিত হয়েছে বা কেপিটেষ্ট রেজাল্ট পজটিভ এমন ছাগুদের ।
২। অন্ধ দলীয় সমর্থক/ভক্তদের (কিংবা ধর্মান্ধদের) কারণ প্রেম অন্ধ হলে যুক্তি ধুপে টিকে না ।
৩। রামছাগল ও উত্তরাধুনিক ছাগুদের ।
৪। যারা তালগাছ বগলে নিয়ে আলোচনা করতে চান ।

প্লাস /মাইনাস প্রসঙ্গে জানাই আমি কোনো ব্লগেই রেটিং ব্যবহার করি না । প্রতিক্রিয়া মন্তব্যেই প্রকাশ করি । হাতে সময় থাকলে বিশদ মন্তব্য আর সময়াভাব হলে + । ঐ ব্লগার আমার পোষ্টে তার পোষ্টটি পড়ার আমন্ত্রন জানিয়েছিল । প্রথমেই বলেছি দৌড়ের উপর থাকায় পোষ্টটি পড়া হয়নি , আর্কাইভ করে রেখেছিলাম । তবে, প্লাস দিলাম কেন ? দিলাম এজন্য যে, ইগ্নোর করার আর কোনো অপশনের চিন্তা তখন মাথায় আসেনি । বিকল্প পথ আছে কি ? মাইনাস মন্তব্য করলেই তো ব্যাখ্যা দিতে হত মানে তর্কে জড়াতে হত যা করার কোন ইচ্ছা , আগ্রহ বা তাগিদ আমার নাই ।

আশাকরি, আমার এই কৈফিয়ত ভূল বুঝাবুঝির আবসান ঘটাবে । তথাপি , কারো কোনো সংশয় থাকলে মন্তব্যে স্বাগতম ।

পুনশ্চ : অফেন্ডিং মুজিবের লেখক জানিয়েছেন , অফেন্ডিং জিয়া সিরিজের প্রতিক্রিয়ার তার ঐ পোষ্ট । এই ব্যাপারটি বুঝা গেল না । অফেন্ডিং জিয়া পোষ্টের প্রতিক্রিয়া তো হওয়ার কথা ডিফেন্ডিং জিয়া । তাই না ?

অফেন্ডিং জিয়া সিরিজের ভুমিকায় পরিষ্কারভাবে বলা ছিল"আমাদের কাজ কিছু তথ্য প্রমান তুলে ধরা। তথ্য বিশ্লেষন করে বা লজিক অনুযায়ী জিয়ার উপর সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার পাঠকের। " এবং মন্তব্যে বলা হয়েছিল -"আমাদের তথ্যের বিপরীতে যদি কেউ তথ্য প্রমান হাজির করেন বা লজিকাল বক্তব্য তুলে ধরেন তাতে আমরা অখুশি হব না বরং তার জন্য আগাম ধন্যবাদ রইল ।"

কিন্তু প্রতিক্রিয়ায় এলো অফেন্ডিং মুজিব ।

ধরা যাক-মিঃ 'ক' দলিল সাক্ষ্যপ্রমানে খুনি প্রমানিত হলেন । তখন আসামি পক্ষের উকিল বললেন স্যার , এর আগে মিঃ ‘খ’ ও খুন করেছেন । এখন বিচারক কি সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে শাস্তি প্রদান করবেন নাকি এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে তাই আসামিকে বেকসুর খালাস দিবেন ?

অফেন্ডিং জিয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত টানা হয়নি , বিচারের ভার ছিল পাঠকের উপর কিন্তু অফেন্ডিং মুজিবে ব্লগার শুধু তথ্য প্রদান করেন নি সেসাথে তার নিজস্ব ব্যাখ্যা /সিদ্ধান্ত টেনেছেন । ব্যাপারটা এখানেই থেমে থাকেনি, অফেন্ডিং জিয়ায় কোনো সমালোচনাকেই নিরুৎসাহিত করা হয়নি কিন্তু অফেন্ডিং মুজিবে দেখছি ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তিনি গালিগালাজ করছেন এবং ব্লক করছেন ।

আমি মুজিব /জিয়া কেন কাউকেই সমালোচনার ঊর্ধ্বে মনে করি না । ইতিহাস চর্চায় আমার অনাগ্রহ নেই । তার পোষ্টে আমাকে আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন । সেদিন ব্যস্ত থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারিনি কিন্তু আজ ঢুকে দেখলাম সেখানে আলোচনার পরিবেশ ব্লগার নিজেই রাখেননি । আরো মারাত্মক হল-তিনি নিজের উপস্থাপিত তথ্য ও সিদ্ধান্তে চ্রম আস্থা রাখছেন , নিজেকে চ্রম সঠিক মনে করছেন । এমতাবস্থায় আলোচনা করতে যাওয়া পন্ডশ্রম বিবেচনায় জাষ্ট ইগ্নোর । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29164842 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29164842 2010-05-29 12:40:18
ডাক দিয়ে যাই যোগ দিন, আয়োজনে সহযোগিতা করুন এবং বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানান।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29144097 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29144097 2010-04-28 14:46:13 খণ্ডিত নয়, পূর্ণাঙ্গ বিচারই কাম্য ডা. এম এ হা সা ন, কনভেনর, ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি, বাংলাদেশ ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা কেন করছি, সেটা গভীরভাবে ভাবতে হবে। কোনরকম প্রতিহিংসামূলক মনোবৃত্তি থেকে আমরা বিচার করছি না। বিচার করছি মানুষ হিসেবে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, ’৭১ সালে যা ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল তা পুনর্নির্মাণের জন্য। যে বিচারহীনতার আবর্তে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে, নতজানু মনোভাবের উদ্ভব হয়, আপসকামিতা জেগে ওঠে, জাতি হিসেবে অহংকারের পতন হয়, দুর্নীতি-শঠতা-সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটে , সে অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই এ বিচার করা দরকার। সত্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও সমঝোতা সাধন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে দৃশ্যমান ও অনুভবযোগ্য করে তোলাটাও অত্যাবশ্যক।
এক সময় সরকার থেকে বলা হয়েছিল, তারা প্রতীকী বিচার করতে যাচ্ছেন। তাতে মনে হয়েছিল, সরকার বিচারের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে বলেছি, শীর্ষ অপরাধী হচ্ছে পাকিস্তানি সৈনিকরা, যারা একাত্তরে প্রায় ৯৫ ভাগ অপরাধ করেছে। তাদের বাদ দিয়ে বিচার করা হলে সেটা হবে খণ্ডিত বিচার।
তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, ’৭১-এর গণহত্যার পরিকল্পনা হয় বেশ আগে। ’৬৯ সালে আইয়ুবের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র পরিকল্পনা করা হয় ’৭১-এর ফেব্র“য়ারিতে। এমনটা বলা ভুল হবে যে, জামায়াতে ইসলামী এ গণহত্যার পরিকল্পনা করে। জামায়াতের প্রতি আমার কোন দুর্বলতা নেই। কিন্তু এটাই সত্য, ৪ এপ্রিলের আগে এদেশের রাজনীতিবিদদের কেউ টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করতে যাননি। সভা হয় ৬ এপ্রিল। ৭ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রামে তা প্রকাশিত হয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, ২৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল যে অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছিল, তা কি বিচারের আওতায় আসবে না? তাহলে অপারেশন সার্চলাইটের সময় জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন স্থানে যে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তা কি বিচারহীনতার অন্ধকারে থেকে যাবে? এভাবে বিচার হলে নিরপরাধ মানুষ, যেমন ড. জেসি দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, ড. অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য, পরিসংখ্যান বিভাগের রিডার এএনএম মুনীরুজ্জামান হত্যাকাণ্ডও বিচারের বাইরে থেকে যাবে। রাজারবাগে পুলিশ ও নিরস্ত্র ইপিআর বা ইবিআরসির সেনাহত্যাও বিচারের বাইরে থাকবে।
১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিলের আগে ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের কথা হয়নি। কমিটি হয় ১৫ এপ্রিল। দৈনিক সংগ্রামে পরদিন তা প্রকাশিত হয়। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখনই মুখ্য অপরাধীদের বিচার হয় না, তখন পুরো বিচারকার্য কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। ২৫ মার্চ আমি যুদ্ধে যোগ দেই। আমার ভাই ’৭২-এর ৩০ জানুয়ারি অবরুদ্ধ মিরপুর মুক্ত করতে গিয়ে শহীদ হন। ২৭ মার্চ পাকিস্তানিদের হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছি আমি। ২৭ মার্চ ’৭১ থেকেই গণহত্যার প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করি। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ নিয়ে অফিসিয়ালি কাজ করছি প্রায় বিশ বছর ধরে। মাত্র তেরজন নিয়ে ’৯০-এর ১৪ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করি। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও কাজ করেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছি, ২০০১ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনে বাংলাদেশের গণহত্যার ওপর বক্তৃতা দিয়েছি তিনবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। আমি ২০০৮-এর ৩ এপ্রিল থেকে ১৭৭৫ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা প্রকাশ করি। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এনএসআই ও এসবি প্রধানরা আমার কাছ থেকে তা গ্রহণ করেন। আমি অ্যামনেস্টিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক আইনজীবী ও বিচারকÑ যারা অতীতে যুদ্ধাপরাধ নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রফেসর এরিক ডেভিড (যিনি আইসিসি প্রতিষ্ঠাতাদের একজন), ড. আইরিন খানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা সবাই বলেছেন, ‘মুখ্য আসামিকে বাদ দিলে তা আন্তর্জাতিকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়বে।’
যে আইনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, তা হল ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯/৭৩।’ এটি প্রণীত হয় ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে। এটি করা হয়েছিল মূলত পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিচারের জন্য। ফলে আইনমন্ত্রী যখন বললেন, তিনি এ আইন দিয়েই বিচার করবেন তখন আমি আপত্তি তুলেছিলাম। কারণ ওই আইন দিয়ে তিনি সুষ্ঠু বিচার করতে পারবেন না। পাকিস্তানিদের বাদ দিয়ে দেশীয় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করতে গেলে এ আইন কাজে আসবে না। রাজাকার বাহিনী অফিসিয়ালি গঠিত হয় ৭ সেপ্টেম্বর ’৭১-এ পাকিস্তান আর্মির গেজেট অনুসারে। ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্সের অধীনে অক্টোবরের শেষের দিকে গঠিত হয় আলবদর। তারা কাজ শুরু করে নভেম্বরে। এদের সবাইকে ওই আইনের আওতায় ফেলাটা দুরূহ।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) আমার সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ রাখছিল। তাই তারা এই আইনের ব্যাপারে আমার মতামত চেয়ে অফিসিয়াল চিঠি দেয়। পরে তারা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আইনটির কিছু অংশ সংশোধন করে। যেমনÑ তখন রাজনৈতিকভাবে যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের এর আওতায় আনা, আপিলের সুযোগ দেয়া ইত্যাদি। ১৪ জুলাই ২০০৯-এ আইনটি কিছুটা সংশোধিত হয়। কিছু দুর্বলতা সত্ত্বেও এ আইন দিয়ে এখন বিচার করা যেতে পারে। ইইউ এরপরও কিছু ব্যাপারে আপত্তি তুললে তাদের বোঝানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো আইন প্রণয়ন সম্ভব নয়। বিচারে দেরি হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে এ বিচার আর নাও হতে পারে। ফলে তারা আইনটি মোটামুটি মেনে নেন, যদিও আন্তর্জাতিক বার কাউন্সিলের এ ব্যাপারে কিছু আপত্তি আছে। তাদের আপত্তি, মৌলিক অধিকারের আলোকেÑ একে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। সংবিধানের ৪৭/৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এ আইনকে চ্যালেঞ্জ করার কোন অধিকার কারও নেই। একে চ্যালেঞ্জ করা যাকÑ আমি এর পক্ষে নই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে এমন অধিকার কাউকেই কখনও দেয়া হয়নি। কারণ সে রকম অধিকার বিচারকার্য ব্যর্থ করে দিতে পারে। সুখের বিষয়, সংবিধান ৪৭/৩-এর ছত্রছায়াটা কেউ মুছে দেয়নি।
আমরা যদি যুগোস্লাভিয়া, বসনিয়া বা রুয়ান্ডার মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নীতিমালার জন্য অপেক্ষা করতাম, তাহলে প্রথমত দেরি হয়ে যেত। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান ও জাতিসংঘে পাকিস্তানের সমর্থক গোষ্ঠীর বিরোধিতায় তা ভণ্ডুল হতে পারত। আমাদের ভাগ্য, তেমন কোন উদ্যোগ বা জাতিসংঘের ম্যান্ডেট ছাড়াই আমরা বিচার করতে পারছি। কম্বোডিয়ার মতো সাধারণ পরিষদের অনুমতি না নিয়ে এটা যে করছি, তাও এক অর্থে ইতিবাচক। তবে যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ়তার অভাব পীড়াদায়ক।
আমার মনে হয়, আইনটিতে দু-একটি খুঁত রয়েছে। তা সংশোধন সম্ভব। বর্তমান আইনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের স্থানীয় সংস্করণ। ফলে এর সর্বজনীনতা রয়েছে। বেলজিয়ামে এরকম একটি আইন ছিল, যার সাহায্যে দেশের বাইরেও যারা যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড বা গণহত্যায় জড়িত, তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব। আমি তখন চেষ্টা করছিলাম বাংলাদেশের মামলাগুলোকে বেলজিয়ামের আদালতে দাখিলের জন্য। কিন্তু আইনটি চ্যালেঞ্জ করে রিট করে আমেরিকা। রিট চলায় আমি সেটা করতে পারিনি। আন্তর্জাতিক ইমপ্যুইনিটি ও অন্যান্য কারণে হয়তো এখন পাকিস্তানি সৈনিকদের জোরপূর্বক আনা যাবে না। নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট থাকলে তা হয়তো পারা যেত। কিন্তু অপরাধীর অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে সমন পাঠানো বা বিচার করা সম্ভব। এটাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের টহরাবৎংধষ লঁৎরংফরপঃরড়হ.
১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল তাতে বলা হয়েছিল, ওই সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ১৯৫ জন যুদ্ধবন্দির বিচার করা হবে না। আমি বলব, বর্তমান আইন এ চুক্তির শর্তবিরোধী নয়। কারণ চুক্তি অনুযায়ী ভুট্টো সাহেব পাকিস্তানে তাদের আন্তর্জাতিক আইন বা কোন সভ্য আইনেই যথাযথ বিচার করেননি। তিনি কথা দিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনানুযায়ী তাদের বিচার হবে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থারও মতে, কোন দেশ একক সিদ্ধান্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার রহিত করতে পারে না। ২০০৮ সালে ইইউ একটি সমঝোতায় পৌঁছে, যা ‘নুরেমবার্গ ডিক্লারেশন’ নামে পরিচিত। সেখানে আছে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বাধা দেয়া বা কোন দেশকে জবাবদিহিতায় না আনাও অপরাধ। ২০০১-এ দক্ষিণ আফ্রিকার গ্লোবাল কনফারেন্স অন ইমপ্যুইনিটিতে বলা হয়েছে, সব দেশকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বাধ্যবাধকতায় আনতে হবে। জেনোসাইড কনভেনশন ও জেনেভা কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য। আমি বলব, পাকিস্তানসহ তাদের মিত্র আরব রাষ্ট্রগুলো, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিচারে বিঘœ ঘটানোর চেষ্টা করছে, তারা প্রকারান্তরে গণহত্যাকে সমর্থন করছে এবং জাতিসংঘের দৃষ্টিতে এটি বিচারযোগ্য অপরাধ।
বাংলাদেশে আইনটির ভালো দিক হল, এতে বলা আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনেই বিচার করা হবে। ফলে যুদ্ধাপরাধ থেকে সরে এসে মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোরও বিচার করা সম্ভব। সরকারের এ সিদ্ধান্ত আমি শুধু সমর্থনই করি না, সাধুবাদ জানাই। কারণ এতে অনেক বিতর্ক ও সংঘাত এড়ানো যাবে।
বিচারের সময়সীমা হবে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত। আইনে যা নেই, কিন্তু এখনও যোগ করার সুযোগ রয়েছে, তা হল প্রথমেই এক কোটি মানুষকে শরণার্থী হতে বাধ্য করার অপরাধ। নিখোঁজের সংখ্যাও কম ছিল না। এছাড়া বেশ্যাবৃত্তিতে বাধ্য করাসহ নারীকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার এবং নারী অধিকার লংঘনের বিষয়ও আসা দরকার আইনে। এগুলো করা গেলে আমাদের নৈতিক বিজয় হবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। বলতে চাচ্ছি, এখানকার অপরাধীদের সঙ্গে পাকিস্তানিদেরও বিচার করতে হবে। পাকিস্তান যেন পরে না বলতে পারে, আমি ঠিক করেছিলাম বা অপরাধ করিনি। পরামর্শ রইল পর্যায়ক্রমে এগুলো করার।
ক’দিন আগে পত্রিকায় দেখলাম যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় ৩৪, ৩৬ বিভিন্ন সংখ্যা। সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে, কিসের ভিত্তিতে তা করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ আইনে না বিশেষ ক্ষমতা আইনে? কারণ তদন্ত কেবল শুরু হয়েছে বা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ না হলে বিচারের আগেই বিতর্ক শুরু হবে। ভুল পথে যাওয়া থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। এর মধ্যে একজন অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী, যিনি বিদেশে চলে গেলেন, তার বিষয়টিও তদন্ত করা দরকার। তবে ক’জন জামায়াত নেতার প্রতি দৃষ্টি সীমাবদ্ধ না রেখে সারাদেশ থেকে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাপক জনসাধারণকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবেÑ যেন সবার অংশগ্রহণ থাকে, সবাই অবলোকন করতে পারে। তবেই দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। শুধু বিরুদ্ধাচরণ করে মৌলবাদ মোকাবেলা করা যাবে না। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা গেলে মৌলবাদ এমনিতেই দূর হয়ে যাবে। সারাক্ষণ ‘মৌলবাদ’ ‘মৌলবাদ’ করে লাভ নেই। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পাশাপাশি ন্যায়ের শাসন তথা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা গেলে মৌলবাদ এমনিই অকার্যকর হয়ে পড়বে। পাকিস্তান যাদের ভুল বুঝিয়ে ফায়দা লুটতে পারে, তাদেরও বিচারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সবার কাছে ’৭১-এর প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে পারলে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে শক্ত অবস্থানে যেতে পারব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29141733 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29141733 2010-04-25 11:12:39
অফেন্ডিং জিয়া ১ : স্বাধীনতার ঘোষণা পর্ব
( ট্রেলার পোস্ট : অফেন্ডিং জিয়া তে বলা হয়েছিল এই সিরিজটি আমরা মানে আমি আর অমি রহমান পিয়াল যৌথভাবে লিখছি । তবে, আমাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক (আসলে আমি ব্যস্ত থাকায় এই পর্বে ফাঁকি দিয়েছি ) েই পর্ব লিখেছেন পিয়াল ভাই । আমার অংশগ্রহন থাকবে মন্তব্যের ঘরে । যে কারো , যে কোন মতামতের জন্য আমন্ত্রন তবে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য বা গঠনমুলক সমালোচনার জন্য আগাম ধন্যবাদ । অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যেরজবাব দেয়া থেকে বিরত থাকব প্রসঙ্গে থাকার নিমিত্তে এবং সময় -শ্রম বাচাতে । )
এই পর্বের ভূমিকা : জিয়াউর রহমানকে লিখতে বসলেই এসে পরে স্বাধীনতার ঘোষণা। কে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন? মুজিব না জিয়া এই রাজনৈতিক বিতর্কে জেরবার আমাদের ইতিহাস। অনেক ঝামেলার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিয়া ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই দাবী থেকে সরে এসেছে। এটা সম্ভব হয়েছে খোদ জিয়ার লিখিত একটি স্মৃতিকথা ও ভিডিও ফুটেজ দাখিলের পর। কিন্তু ইতিহাস দখলের প্রবণতাটা আগের মতো আছে তাদের। তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছে জিয়াই বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, তার ডাকেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, আমরা স্বাধীন হয়েছি। এই দাবীর পেছনে সেই ঘোষণাই। কোন ঘোষণা! এখানে তাহলে আমলে নিতে হবে কালুরঘাট থেকে জিয়া মোট কয়টি ঘোষণা দিয়েছেন। কবে কবে? প্রথমে বঙ্গবন্ধুর নামে ঘোষণা দেওয়ার পর হঠাৎ নিজেকেই কেনো রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক বাহিনীর প্রধান ঘোষণা করলেন নতুন করে। কেনোই বা সেটা পাল্টে ফেললেন! তথ্য জোড়া দিয়ে যা দাড়িয়েছে সেটা স্পাই থ্রিলারের সঙ্গে পাল্লা দেবে। বেরিয়ে আসে একজন অবাঙালীর (!) প্ররোচনায় কতখানি কনভিন্সড হয়ে জিয়া এমন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। সেদিক থেকে এটা মোটেও স্বাধীনতার ঘোষণা বিতর্ক নিয়ে আরেকটি প্রামান্য পোস্ট নয়। বরং নেপথ্যের চাপা পড়া একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে লাইমলাইটে আনা। পাঠকদের আবারও বলি পোস্টের প্রসঙ্গে থাকার চেষ্টা করুন। আগামীতে যেসব পর্ব আসবে সেগুলো নিয়ে আগবাড়িয়ে প্রেডিকশনে যাবেন না।

অখ্যাত মেজর!

শুরু হোক একটি ভুল সংশোধনের মাধ্যমে। স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে জিয়ার বিরোধিতায় অনেকের মুখে একটা কথা প্রায় শোনা যায়। ‘কোথাকার কোন অখ্যাত মেজর এসে রেডিওতে ঘোষণা দিলো আর হয়ে গেলো...!’ এই অখ্যাত মেজর কথাটি মারাত্মক ভূল সম্বোধন। মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বীরত্বের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন হাতেগোনা বাঙালী অফিসার। মেজর জিয়া তাদেরই একজন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে হিলাল-ই-জুরাত পদক জোটে তার (সূত্র : উইকিপিডিয়া ও পাক ডিফেন্স ফোরাম)। পাক সেনাবাহিনীর এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের পদক (নিশান-ই-হায়দার হচ্ছে সর্বোচ্চ যা জীবিতরা পান না, যেমন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ। ৬ বছর পর নামের পরে সেই ইনিশিয়াল বদলে বীরউত্তম লেখার সৌভাগ্য হয় তার। দুটো আলাদা দেশের সেনাবাহিনীর হয়ে বীরত্বের পদক জেতা অফিসারদের তালিকায় জিয়াও আছেন)। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে জিয়া তাই মোটেও অখ্যাত কেউ নন। বরং এত বিখ্যাত যে একজন বিদেশী তার ছবি পকেটে নিয়ে ঘোরেন!


রহস্যময় আগন্তুক

...কক্সবাজার যাওয়ার পথে কালুরঘাট ব্রীজ পেরুলেই রাস্তাটা একটা ঢালের তীক্ষ্ম বাক নিয়েছে। তারপর এগিয়ে গেছে সোজা পটিয়া, দুলাহাজরা এবং কক্সবাজার হয়ে মূল ভুখন্ডের সর্ব দক্ষিণের প্রান্ত টেকনাফের দিকে। ঢালের শেষ মাথায়, যেখানে রাস্তাটা আবার সোজা হয়েছে একটা পেট্রোলপাম্প আছে। পাম্পটা ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, অন্ধকারে ডুবে ছিল জায়গাটা। একপাশে কিছু গাছের গুড়ি স্তুপাকারে রাখা, কিছু খালি বাসও ছিলও এখানে। পলায়নপর ড্রাইভাররা ফেলে রেখে গিয়েছিল। পাম্প স্টেশনের আশেপাশে গোটাকতক গাড়ী আর পিকআপও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা ছিলো। ক্রমশ রাত ঘনিয়ে এলো। রাত তখন আটটা। একটা গুড়ির উপর বসে কথা বলছিলাম আমি আর অলি। একটা বাসের ভেতর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন জিয়া। হঠাৎ একটা লোককে এগিয়ে আসতে দেখলাম আমরা। মোটামুটি দীর্ঘকায়, চমৎকার চেহারা, মাথায় লম্বা চুল, বয়স মধ্য ত্রিশের মতো হবে। আগন্তুক আমাদের কাছে এসে জানালেন, জিয়ার খোজ করছেন তিনি। মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম আমি আর অলি। কারণ ওই অবস্থায় ব্যাপারটা কেমন যেন রহস্যময় মনে হচ্ছিল। যাহোক, আমরা তার পরিচয় জানতে চাইলাম। জিয়াকে তিনি চেনেন কিভাবে? কিন্তু পরিচয় বা উদ্দেশ্য জানাতে রাজী হলেন না ভদ্রলোক। জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য জোর করলেন। আমি চমৎকার আমেরিকান উচ্চারণ ভঙ্গীতে আলাপরত আগন্তুককে নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক তখন ক্যাপ্টেন অলি গিয়ে জিয়াকে নবাগতের উপস্থিতির কথা জানালেন। একটু বাদেই অলি ফিরে এসে বললেন, ভদ্রলোককে বাসের ভেতর নিয়ে যেতে বলেছেন জিয়া। আগন্তুককে নিয়ে আমরা বাসে অপেক্ষারত জিয়ার কাছে এলাম। জিয়া আমাদের দুইজনকে বেরিয়ে যেতে ইশারা করলেন। আগন্তুককে আগেই তল্লাশী করা হয়েছিল, জিয়ার একখানা ফটোগ্রাফ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি তার কাছে। আগন্তুকের সঙ্গে জিয়াকে একা রেখে বেরিয়ে এলাম আমরা।... (মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় প্রথম প্রতিরোধ : লে.জে মীর শওকত আলী, গোলাম মোস্তফা সম্পাদিত অনন্য জিয়াউর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আগস্ট ২০০৪)

২৭ মার্চের সে রাতের ঘণ্টাখানেক একান্ত আলাপচারিতার পর আগন্তুক যখন বেরিয়ে গেলেন, জিয়া তার পরিচয় দিলেন সঙ্গীদের। লোকটা আমাদের বন্ধু, আমাদের একটা উপকার করতে চায়। কি উপকার, কি তার ধরণ সে আলোচনায় একটু পরেই আসছি। কিন্তু মীর শওকতের লেখায় বা আর কোথাও সেই ফটোগ্রাফের রহস্য মেলে না। কিভাবে একজন বিদেশীর বুকপকেটে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসারের ছবি এলো তা জানা হয় না আমাদের। তার আগেই অবশ্য বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণাটা পড়ে ফেলেছেন।



এবং জিয়াই প্রথম নন

চট্টগ্রাম শহরে প্রতিরোধ লড়াইটা ঢাকার ঘণ্টা কয়েক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিলো। এর নেতৃত্বে ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ক্যাপ্টেন রফিক। ২৫ মার্চ রাতে জিয়া যখন পরিস্থিতি আরো ভালো করে বোঝার জন্য ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের নিয়ে পটিয়ার দিকে সরে গেছেন (চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ), রফিক তার সীমিত লোকবল ও সামর্থ্য নিয়েই জোর লড়াই লড়ছেন। সেদিন রাত দুটোয় রেলওয়ে হিলে রফিকের ট্যাকটিকাল হেডকোয়ার্টারে আমরা একই আগন্তুকের দেখা পাই।

আগন্তুকের নাম বা পরিচয় রফিক দেননি। মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা তার লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বইতে আমরা জানতে পারি একটি বিদেশী রাষ্ট্রের তরফে তাকে সামরিক সাহায্যের প্রস্তাব দেন ব্যক্তিটি। শর্ত তার সঙ্গে কক্সবাজার যেতে হবে। ‘আমি যেতে পারবো না, আমি ছাড়া এখানে আর কোনো অফিসার নেই। রফিকের প্রত্যাখানের পর অপরিচিত লোকটি তাকে বিকল্প প্রস্তাব দেন রেডিওতে ভাষন দেওয়ার। আগের গ্রাউন্ডে এবারও প্রত্যাখ্যান করলেন রফিক। বরং একটি টেপ রেকর্ডার এনে তার ভাষণ রেকর্ড করে নেওয়ার পাল্টা প্রস্তাব দিলেন। রফিক লিখেছেন, এরপরেও অপরিচিত আগন্তুক তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য আমার উপর এত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন যে আমি খুবই সন্দিহান হয়ে পড়লাম। পুরা বিষয়টা পাকিস্তানীদের ফাঁদ হওয়া বিচিত্র নয়- আমি ভাবলাম। আমাকে রাজী করাতে না পেরে তিনি রেকর্ডিং যন্ত্রপাতি নিয়ে আবার আসা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু ভদ্রলোক আর কখনও ফিরে আসেননি। পরে আমি জানতে পেরেছিলাম যে তিনি বাঙালি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অন্য একটি দলের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদেরকে কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেছিলেন। হয়তো কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের স্থান থেকে বাঙালি সৈন্যদেরকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত জনগণ অবশ্য তাকে সন্দেহজনক কার্যকলাপের কারণে মেরে ফেলে। তবে তার এসব কার্যকলাপের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কি ছিল সেটা হয়তো আর কখনোই জানা যাবে না।

পরিচয় এবং বেলাল মোহাম্মদের সত্য গোপন

মাহমুদ হোসেন নামে আমাদের আলোচিত রহস্যপুরুষটির জাতীয়তা এবং পরিচিতি সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী তথ্য রয়েছে। মীর শওকত তার চোস্ত আমেরিকান ইংরেজীতে মুগ্ধ, রফিকের মনেই হয়নি তিনি বাঙালী। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সফল রূপকার বেলাল মোহাম্মদ নিশ্চিত করেছেন তিনি বাঙালী। কিন্তু বেগম মুশতারী শফি তাকে উল্লেখ করেছেন ভারতীয় বলে। বাংলাদেশে কবে থেকে আছেন এবং কি উদ্দেশ্যে এটা নিয়েও দুজনের মন্তব্য দুই ধরণের। এখানে না বললেই নয় সে সময় এনায়েত বাজারে ডাক্তার শফির বাসাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের লোকদের একটি আড্ডা গড়ে উঠেছিলো এবং বেলাল মোহাম্মদ ছিলেন সেখানকার নিয়মিত অতিথি। এটাও বলতে হবে যে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বেলাল মোহাম্মদ যে কটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন তাতে তিনি মিথ্যে না বললেও সত্য গোপন করে গেছেন। কৌশলে আড়াল করেছেন মাহমুদ এপিসোড। কখনও তার লেখায় এসেছে গাড়ী চালাচ্ছিলেন আমার এক বন্ধু, এমনকি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে দেওয়া সাম্প্রতিকতম সাক্ষাতকারটি তেও একবারই মাহমুদের উল্লেখ ছিলো তার মুখে। সেখানে তাকে আগ্রাবাদ হোটেলের প্রোমোটার জাতীয় কিছু বলা হয়েছে। ভিডিওতে তার নাম বলা হলেও যিনি সেটি শুনে শুনে লিখেছেন, তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ঠেকেনি মাহমুদ হোসেনকে, তাই বাদ দিয়েছেন!


আর বেলাল মোহাম্মদের ব্যাপারটা হলো উনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নিয়ে একটি বই লিখেছেন। এরপর স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক নিয়ে বিডিনিউজের আগে ডয়চেভেলে ও তার একটি সাক্ষাতকার রয়েছে সবক্ষেত্রেই তিনি বইয়ের বক্তব্যটি ধরে রেখেছেন। কালুরঘাট ট্রান্সমিশন সেন্টারটি চালু করা, সেটার প্রতিরক্ষার জন্য রফিককে না পেয়ে পটিয়া থেকে জিয়াকে নিয়ে আসা। তারপর কৌতুকছলে বলা এখানে তো সবাই মাইনর, আপনিই একমাত্র মেজর, আপনি আপনার নামে একটি ঘোষণা পড়ুন না। কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই জিয়া তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেছেন। সুস্পষ্টভাবেই এসবের কৃতিত্ব বেলাল নিজের বলেই দাবি করছেন। এমনকি আঙুলে গুনে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠকারী নবম ঘোষক, সম্মানী হিসেবে ১৫ টাকার ভাতা পেতেন তখনকার ঘোষকরা- এজাতীয় রসিকতাও আছে তার বয়ানে।
চারদিনের ওই শব্দ-লড়াইয়ে (প্রোপোগান্ডামূলক প্রচারণা অর্থে) বেলাল মোহাম্মদদের কৃতিত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু একটু ঘাটাঘাটি করলেই ছায়া এবং কায়াকে আলাদা করে ফেলা যাচ্ছে। রফিকের মুখেই আমরা শুনেছি ২৫ মার্চ রাত দুটোয় তার কাছে এসেছিলেন মাহমুদ। রেডিওতে ঘোষণা পাঠের আব্দার নিয়ে। বেলালরা কালুরঘাটের ওই ট্রান্সমিশন সেন্টারটি মূল বেতারের বিকল্প হিসেবে চালু করার পেছনে মূল মন্ত্রণাদাতাটিও ক্ষুরধার মাহমুদ হোসেনের মাথা থেকে বেরিয়েছে ধরলে অনেক হিসেবই দুয়ে দুয়ে চারের মতো মিলে যায়। মিলিয়ে দেন বেলাল নিজেই। ২৬ মার্চ সন্ধ্যার পর তারা ওই বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র চালু করে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেন। রাতে যখন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হান্নান সেখানে গেলেন, তিনি বললেন এই ট্রান্সমিটার দিয়ে তিনি সেদিন দুপুরেই একদফা ঘোষণা পাঠ করে গেছেন (বিডিনিউজে বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাতকার ২য় পর্ব)। বইয়ে মূল বেতারের কথা বলে এড়িয়ে গেলেও সাক্ষাতকারে আর সেটা অস্বীকার করেননি। কথা হচ্ছে হান্নান কিভাবে এই ট্রান্সমিশন সেন্টারটি ব্যবহার করলেন, কে তাকে দিয়ে ঘোষণা পাঠ করাতে সাহায্য করেছে। বেলাল মোহাম্মদ এড়িয়ে গেছেন, আমার ধারণা উত্তরটা তার জানা। এবং মুশতারী শফিই আমাদের জানিয়ে দেন যে ২৭ মার্চ সকালে তার বাসা থেকেই গাড়ী করে বেলালকে নিয়ে পটিয়া রওনা দেন মাহমুদ। অথচ বেলাল স্মৃতিচারণে এই যাত্রাকে এক বন্ধুর গাড়িতে বলে চালিয়ে দিয়ে নিজেকে বসিয়ে রেখেছেন ড্রাইভারের পাশের আসনে।



আসা যাক বেলাল কিভাবে মাহমুদকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। মাহমুদ হোসেন নিজেকে মূখ্য চরিত্রে রেখে ‘অরিজিন অব হিপ্পিজম’ নামে একটা ছবি তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন যার প্রেক্ষাপট ভারতবর্ষ। পাশাপাশি তুলে ধরেছেন তার বিপ্লবী চরিত্র। লন্ডনে আইউব খানের এক সভায় নাকি বোমা হামলা চালিয়েছিলেন ভাইয়ের সঙ্গে মিলে। আর মুশতারী শফির বইয়ে ঠিক উল্টো চিত্র পাই আমরা। এখানেই আমরা জানতে পারি সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের ভাতিজি ভাস্করপ্রভার স্বামী মাহমুদ হাসান। ২৭ মার্চের রোজনামচায় মুশতারী লিখেছেন : ... এ সময় মাহমুদ হোসেন নামে একজন লোক এলো আমার বাসায় বেলাল ভাইকে কোথায় যেন নিয়ে যেতে। মাহমুদ হোসেন ভারতীয় লোক। থাকে কখনও লন্ডন, কখনও আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায়। তার স্ত্রী নাকি ভারতের জনতা পার্টির নেতা মোরারজী দেশাইর ভাইঝি। নাম-ভাস্করপ্রভা। তিনি প্রায় মাসকয়েক হলো বাংলাদেশে এসেছেন। উদ্দেশ্য বাংলাদেশের পল্লীগীতি ও বাউল সংগীতের উপর ধারাবর্ণণা সহকারে লং প্লের রেকর্ড বের করবেন। বেলাল ভাইয়ের সাথে তার চুক্তি সংগ্রহীত গানের ধারাবর্ণনা লিখে দেবার। উঠেছেন আগ্রাবাদ হোটেলে। চট্টগ্রাম রেডিওর সঙ্গীত প্রযোজক রামদুলাল দেবের সাথেও তার সখ্যতা গড়ে উঠেছে। উনি শিল্পীদের সংগ্রহ করে গানের রিহার্সেল করেন, রিহার্সাল হয় আগ্রাবাদ হোটেলেই। বেলাল ভাইও সেখানে যেতেন। প্রায় ৬ ফিটেরও ওপর লম্বা কালো লোক, মাথাভর্তি কোকড়া ঝাকড়া চুল। দেখলে ভয় লাগে। আজ এসেছেন একটা কালো মরিস মাইনর গাড়ী নিয়ে, গাড়ীতে দুজন ইপিআর জোয়ান গাড়ীর দুপাশে বন্দুকের নল বের করে। তার সাথে আরো এসেছেন আগ্রাবাদ হোটেলের সহকারী ম্যানেজার ফারুক চৌধুরী। কেন এসেছেন মাহমুদ হোসেন? কোথায় নিয়ে যেতে চান বেলাল ভাইকে? ডাক্তার শফিকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বেলাল ভাই বললেন, ‘মাহমুদ হোসেন এসেছেন আমাকে নিয়ে যেতে চান সীমান্তের ওপারে অস্ত্র সাহায্যের জন্য।’আমিও কথাটা শুনলাম। শফি আতকে উঠে অনেকটা ধমকের সুরেই বললো, খবরদার বেলাল, এ কাজে তুমি কিছুতেই যাবে না ওর সাথে। বেলাল ভাই বললো, ঠিকাছে সীমান্তের ওপারে যাবো না, তবে পটিয়া পর্যন্ত যাই। শুনেছি বাঙালী সৈন্যরা এখন নাকি ক্যান্টনমেন্ট এবং শহর ছেড়ে পটিয়ার দিকে গেছে। সেখান থেকে কিছু আর্মড গার্ড নিয়ে আসি। কারণ কালুরঘাট ট্রান্সমিটার ভবনটি এখন নিরাপদ নয়। ও আর এই কাজে বাধা দিলো না। বেলাল ভাই চলে গেলো মাহমুদ হোসেনের সাথে। (স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন, পৃষ্টা- ১০৪)


সিআইএর চর!



বেগম মুশতারী শফির ভাষ্যটাই সমর্থন করেছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা লে.কর্ণেল নুরুন্নবী বীরবিক্রম। মাহমুদ হোসেন সম্পর্কে যাবতীয় খোজখবরের সূত্রপাতও তিনিই। জীবনের যুদ্ধ : যুদ্ধের জীবন (কলম্বিয়া প্রকাশনী) নামে একটি বই আছে তার লেখা। সেখানেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রামগড় জেডফোর্স হেডকোয়ার্টারে জিয়ার সঙ্গে মদ্যপানের (রাম) ফাঁকে ফাঁকে নানা আলাপচারিতার উল্লেখেই। সেখানেই আমি প্রথম পাই মাহমুদ হাসানকে। মিসিং লিংকগুলো জোড়া দেওয়ার প্রয়াসও তখন থেকেই। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক অনুষ্ঠান শেষে নুরুন্নবীকে আমরা ধরেছিলাম কথাগুলোর ব্যাখ্যা চেয়ে। সঙ্গী ছিলেন সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা (সামরিক বাহিনীতে গণহত্যা খ্যাত) আনোয়ার কবীর। নুরুন্নবী আমাদের রেকর্ড করতে দেননি, তবে জানিয়েছেন শিগগিরই তার একটি বই বেরোবে যাতে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। তিনি যা বলেছিলেন তাই স্মৃতি থেকে হুবহু তুলে দেয়া হল :
ওই লোকের পুরো নাম মাহমুদ হাসান। '৭০ এর নির্বাচনের পর থেকেই সে চট্টগ্রাম হোটেল আগ্রাবাদে স্থায়ী আবাস নেয়। লন্ডনে পড়াশোনার সুবাদে মোররাজী দেশাইর ভাতিজির সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে। বাংলাদেশের লোক সঙ্গীতের উপর গবেষণা ও তথ্য চিত্র নির্মাণের কথা বলে সে স্থানীয় মহলে বেশ খাতির জমিয়ে তোলে। তার গুনমুগ্ধদের মধ্যে ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র খ্যাত বেলাল মোহাম্মদসহ অনেকেই। বেগম মুশতারী শফির স্মৃতিকথায়ও উল্লেখ আছে মাহমুদের। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে অগ্রগণ্যদের একজন ছিলেন মাহমুদ। জিয়া বেশ কয়েকবারই বিভিন্ন উপলক্ষ্যে এই গল্প করেছেন তার অধীনস্থদের কাছে। নুরুন্নবীর ভাষ্য অনুযায়ী মাহমুদ জিয়াকে হাস্যকর যুক্তিতে কনভিন্স করেন এই বলে যে পূর্ব পাকিস্তানে সিআইএর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি এবং জিয়া যদি একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেন এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেন তাহলে ফিলিপাইন থেকে একদিনের মধ্যে ৭ম নৌবহরকে তার সাহায্যে নিয়ে আসবেন মাহমুদ। ২৭ মার্চ জিয়ার প্রথম ঘোষণাটার এটা অন্যতম রহস্য। যদিও উপস্থিতদের চাপে এরপর তিনি ঘোষণা পাল্টান। মাহমুদ জিয়ার ছাড়পত্র, আগ্রাবাদ হোটেলের পিআরও এবং ক্যাশিয়ার ফারুক ও গনি এবং ইস্ট বেঙ্গলের দুজন সিপাই নিয়ে কক্সবাজার রওয়ানা দেন জনৈক উকিলের সঙ্গে দেখা করতে। এরমধ্যে মীর শওকত এবং খালেকুজ্জামানও রওয়ানা হন। পথে দুলহাজারায় একটি ব্যারিকেডে না থেমে এগিয়ে যায় মাহমুদের মরিস মাইনর। পরের ব্যারিকেডে উত্তেজিত জনতা চড়াও হয় তাদের ওপর। মাহমুদ বাংলা বলতে পারতেন না, তাকে বিহারী বলে হত্যা করে উন্মত্ত স্থানীয়রা। মাত্র একজন সিপাই প্রাণ নিয়ে কোনো মতে পালিয়ে আসে। কিন্তু জিয়ার দেখা পাননি, কারণ ২৮ মার্চ জিয়া অলি আহমেদকে নিয়ে নিজেই কক্সবাজার যান। বাংলা ভালো বলতে পারেন না বলে তারও একই সমস্যা হয়, কিন্তু চট্টগ্রামের স্থানীয় অলি সে যাত্রা পার করিয়ে নেন তাকে। কক্সবাজার পৌছে সপ্তম নৌবহরের কোনো দিশা পাননি জিয়া। খোজ মেলেনি শওকতেরও। যিনি রিপোর্ট করেন ৭ এপ্রিল।



খানিকটা ফাঁক রয়েছে নুরুন্নবীর বক্তব্যে। প্রথমত জিয়া ২৭ মার্চ যে ভাষনটি দেন তাতে নিজেকে সরকার প্রধান দাবী তিনি করেননি। করেছেন ২৮ মার্চের ভাষণে (যা লে. শমসের মুবিন চৌধুরী বেশ কয়েকবার পাঠ করেন), তৃতীয় দফা ভাষনে (মাহমুদের মৃত্যুর পর আবার পাল্টে দেন ভাষা)। আবার মীর শওকতের ভাষ্য অনুযায়ী রাত ৮টার দিকেই জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাত মাহমুদের। তার অর্থ পটিয়ায় তিনি এ বিষয়টি নিয়ে মুখোমুখি হননি জিয়ার। আর জিয়ার প্রথম ভাষণটি প্রচার হয় ৭টা ২০ মিনিটে (বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাতকার)। সেক্ষেত্রে পরদিন জিয়ার ভাষণ এবং মাহমুদের কক্সবাজার যাত্রার যোগসূত্র ওই দ্বিতীয় ভাষণ। জিয়া মাহমুদকে কেনো বিশ্বাস করলেন এটা একটা রহস্যই বটে। কারণ সপ্তম নৌবহর ফুল থ্রটলে চললেও পাঁচ দিনের আগে বঙ্গোপসাগরে ঢোকার কোনো সুযোগ ছিলো না। পাশাপাশি বিকল্প হিসাবে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের অপশনও রেখেছিলেন মাহমুদ। সেক্ষেত্রে হেলিকপ্টার যোগাড়ের একটা ব্যাপার ছিলো। মাহমুদ নিশ্চয়ই সেজন্য কক্সবাজার যাচ্ছিলেন না। ফেরা যাক মাহমুদের সিআইএ পরিচয় দান নিয়ে (যা জিয়া নিজের মুখে বলেছেন নুরুন্নবীকে)। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মোররাজি দেশাই সিআইএর চর হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বাবার হয়ে পাচারকরা তথ্যের পেমেন্ট আনার। কাকতালীয়ভাবে জিয়ার শাসনামলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দ্বিতীয় দফা আসীন হয়েছিলেন মোরারজী দেশাই। উপমহাদেশেও বেশ একটা শান্তি শান্তি ভাব চলে এসেছিলো মার্কিন ছাতার তলে। তবে বেলাল মোহাম্মদ বন্ধু মাহমুদের সম্মাণ রেখেছেন তার মৃত্যুর ব্যাপারটি বিস্তারিত জানিয়ে। ১৯৭৩ সালের মাহমুদের পরিবারকে নিয়ে শঙ্খ নদীর পাশে মৌলবীর ট্যাক নামক জায়গাটায় গিয়েছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার ঘোষণা বিতর্ক

এ বিষয়ে সবচেয়ে চমকপ্রদ কাজটি করেছেন শ্রদ্ধেয় মাহবুবুর রহমান জালাল ভাই ও মাশুকুর রহমান। তাই ওই ব্যাপারটিতে আর নাক না গলাই। তবে অনেকের সঙ্গে আমরাও বিভ্রান্ত হয়েছি এসব ঘোষণার সত্যিকার অনুলিপি কি ছিলো তা নিয়ে। একেক জায়গায় একেক টেক্সট। উদাহরণ দিচ্ছি।

This is Shadhin Bangla Betar Kendro. I, Major Ziaur Rahman, at the direction of Bangobondhu sheikh Mujibur Rahman, hereby declare that the independent People's Republic of Bangladesh has been established. At his direction, I have taken command as the temporary Head of the Republic. In the name of Sheikh Mujibur Rahman, I call upon all Bengalis to rise against the attack by the West Pakistani Army. We shall fight to the last to free our Motherland. By the grace of Allah, victory is ours. Joy Bangla.



The Government of Sovereign State of Bangladesh on behalf of our great national leader, the supreme commander of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman, we hereby proclaim the independence of Bangladesh. It is further proclaimed that Sheikh Mujibur Rahman is the sole leader of the elected representatives of seventy five million people of Bangladesh, I therefore appeal on behalf of our great leader Sheikh Mujibur Rahman to the governments of all the democratic countries of the World, specially the big world powers and the neighbouring countries and to take effective steps to stop immediately the awful genocide that has been carried on by the army of occupation from Pakistan To dub us, the legally elected representatives of the majority of the people as repressionist is a cruel joke and contradiction in terms which should fool none.
The guiding principle of the new state will be first neutrality, second peace and third friendship to all and enmity to none. May Allah help us, Joy Bangla.

আর একলাইনেরও আছে যা তারেক মাসুদ পরিচালিত মুক্তির গান কিংবা নোভার গাওয়া রাজাকারের তালিকা চাই গানটিতে ব্যবহার করা হয়েছে। I major Zia, do hereby declare the independence of Bangladesh, on behalf of our great national leader, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman



পাশাপাশি কথা ওঠে এই ঘোষণার প্রভাব নিয়ে। বেলাল নিজে বলেছেন কালুরঘাট ট্রান্সমিটারের ব্যাপ্তি পঞ্চাশ মাইল। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ তখন (২৭ মার্চ) প্রাণ হাতে নিয়ে পালাচ্ছে, রেডিও শোনার সময় নেই। অন্তত চট্টগ্রামের রেডিও তো নয়ই। খোদ চট্টগ্রামেই প্রতিরোধ লড়াই শুরু হয়েছে ২৫ তারিখে। সেই লড়াইয়ে জিয়া কোনো অবদানই রাখতে পারেননি। বরং রফিককে একা রেখে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন পটিয়ায় (এ ব্যাপারে বিস্তারিত থাকবে আগামী পর্বে)। রাজশাহী, রংপুর, ব্রাক্ষনবাড়িয়া, গাজীপুর, বরিশালসহ বিভিন্নস্থানে নিজেদের মতো করে লড়াইয়ে নেমে গেছেন সামরিক-আধাসামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধারা। তাই এই বেতার ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের একটি অন্যতম মাইলস্টোন হলেও আবশ্যিকতার বিচারে খুব একটা প্রয়োজনীয় কিছু ছিলো না। এটা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ হতো। তবে মার্কিন মেরিনদের এনে যুদ্ধে নাক গলিয়ে পাকিস্তানীদের গণহত্যাকে জায়েজ করার সিআইএর কোনো পরিকল্পনার সঙ্গে যদি এই ঘোষণার যোগসাজস থাকে, তাহলে বলবো জিয়া অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন ভয়ঙ্কর এক ষড়যন্ত্রের গুটি হ্ওয়ার হাত থেকে। তবে ইতিহাস বলে এমন প্রচুর যড়যন্ত্রেরই তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষী। ঘোষণা প্রসঙ্গে এই সিদ্ধান্তে আসার মতো যথেষ্ঠ সবল প্রমাণ আমার হাতে নেই। তবে মাহমুদ হোসেনকে নিয়ে সঠিক অনুসন্ধানে এই জটটা নিশ্চিতভাবেই খুলবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই পর্ব শেষ করছি হাসানুল হক ইনুর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য দিয়ে। বড় ধরণের জামাতে ইমাম সাহেবের তাকবীর সব নামাজীর কানে পৌছানোর জন্য কিছু ভলান্টিয়ারের মতো থাকেন, যাদের বলা হয় মোকাব্বির (?)। তারা ইমাম সাহেবের আওয়াজটাই উচ্চস্বরি প্রতিধ্বনিত করেন। তাই বলে তাদেরকে কেউ ইমাম বলে না।

সূত্র : প্রতিটি সূত্র পোস্টেই উল্লিখিত, লিংকে ক্লিক করলেই পাবেন।

কৃতজ্ঞতা : দূর্লভ কিছু উপাত্ত দিয়ে সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই জালাল ভাই, কুলদা রায় এবং আনোয়ার কবীরকে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29136473 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29136473 2010-04-17 11:36:40
ট্রেলার পোস্ট : অফেন্ডিং জিয়া
তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ও ফোর্স অধিনায়ক ছিলেন । পদক আছে বীরউত্তমের। গত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তার সৃষ্ট রাজনৈতিক দলের দাবী, তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, স্বাধীনতার ঘোষক। তার ঘোষণাতেই বাঙালী যুদ্ধ করেছে। তার মাধ্যমেই আমরা স্বাধীন একটি দেশ পেয়েছি। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

ঠিক কিসের জোরে এই দাবীগুলো এ নিয়ে খানিকটা বিভ্রান্তিতে ছিল। বিভ্রান্তির আরো উপাদান আছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা ঠিক কি কারণে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার রক্তে হাত রাঙালেন ! কিভাবে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিকে আবার এই স্বাধীন দেশে পুনর্বাসিত করতে পারলেন ! যিনি প্রান বাচালেন, সেই তাহেরকেই কেনো ফাসিতে ঝোলালেন, কেনো জাসদকে শিকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলার অভিযানে নামলেন!

শুরু হলো ব্যাকট্র্যাকিং। খেমকারানের সেই যুদ্ধ, লে.কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার স্বপ্নের দল বিএনপি যা ২৮ মার্চ ১৯৭১ সালে ঘোষিত হওয়ার কথা ছিল, রহস্য পুরুষ মাহমুদ হাসান ও কালুরঘাটের ঘোষণা, কামালপুর বিওপি দখলের লড়াই, সুনামগঞ্জ ট্রাজেডি ইত্যাদি ঘটনা ঘাটার পর বেশ চমকপ্রদ কিছু উপাত্ত আমাদের হাতে এখন। আমরা বলতে আমি ও অমি রহমান পিয়াল । এই পোস্টটি একটি যৌথ রচনা ।

আইএসআইর চৌকস অফিসার থেকে সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, তার কমান্ড হারানো, বিজয় দিবসের আগ পর্যন্ত জেডফোর্স হেডকোয়ার্টারে অলস যাপন (সরকারীভাবে তাকে ক্লোজড বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি), বন্দী স্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি তার মনোভাব ইত্যাদি ঘটনাগুলোর পর্যায়ক্রম বর্ণনা দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এই সিরিজটি যা পুরোটা পড়ার পর অনেক জানা ঘটনাই নতুন আলোকে দেখতে হবে আপনাকে। নজর রাখুন। শিগগিরই আসছে প্রথম কিস্তি।

দুষ্প্রাপ্য কিছু দলিল প্রমাণের ভিত্তিতেই লেখাটি লেখা হচ্ছে। এখানে প্রচুর রেফারেন্স ব্যবহার করা হবে। আমাদের কাজ কিছু তথ্য প্রমান তুলে ধরা। তথ্য বিশ্লেষন করে বা লজিক অনুযায়ী জিয়ার উপর সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার পাঠকের। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29129848 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29129848 2010-04-06 09:27:32
আমি একটুও কাঁদতে পারিনি
ডাক্তার আমাকে বললেন, আপনি ভেংগে পড়বেন না । হাসপাতালের অনেক ফর্মালিটি আপনাকে মেইনটেইন করতে হবে নতুবা বডি নিতে পারবেন না ।

আমি রোবট হয়ে গেলাম । ফর্মালিটি মেইনটেইন করে মাইক্রো দিয়ে বডি বাসায় আনলাম । তারপর গোসল করানোর ব্যবস্থা, মসজিদে জানাজার ব্যবস্থা, আত্মীয় স্বজনদের খবর দেয়া , গোরস্থানে নেয়ার জন্য ট্রাক ভাড়া করা , আজিমপুর গোরস্থানে দাফন পর্যন্ত সব দায়িত্বই পালন করেছি সুচারুভাবে ।

সত্যি বলছি ,আমি একটুও কাঁদিনি , কাঁদতে পারিনি ।

আজ আমার ছোট আপা ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী । মৃত্যুকালে বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর ।

২। আমার ডান পাশে শুয়ে ছিল আমার সবচেয়ে ছোট বোন জেবুননেছা জোনাকি (সীমা) । সকালে আবিস্কার করলাম তার নরম শরীর শক্ত হয়ে আছে , মেঝেতে মা আহাজারি করছে , আব্বা নিস্তব্ধ ।

আগামীকাল ওর ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকী । মৃত্যুকালে বয়স ছিল মাত্র এগার মাস ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29116004 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29116004 2010-03-14 10:33:43
উত্তাল ৩ মার্চ ’৭১, এই দিনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন শাজাহান সিরাজ
এই দিন বিকেলে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে পলটন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা। এই সভায় সিরাজপন্থী ছাত্রলীগ তথা স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের পক্ষে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ পাঠ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার । ঘোষণা আকারে প্রস্তাব পাঠ করা হয়েছিল -‘৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগলিক এলাকার সাত কোটি মানুষের জন্য আবাসভুমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাস্ট্রের নাম বাংলাদেশ । এই দেশ গঠন করে নিম্নলিখিত তিনটি লক্ষ্য অর্জন করতে হবেঃ

১) স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে পৃথিবীর বুকে একটি বলিষ্ট বাঙালি জাতি সৃষ্টি ও বাঙালির ভাষা, সাহিত্য , কৃষ্টি , সংস্কৃতির বিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে ।

২) স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে অঞ্চলে অঞ্চলে , ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বৈষম্য নিরসন কল্পে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করে কৃষক শ্রমিক রাজনীতি কায়েম করতে হবে ।

৩) স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে ব্যক্তি , বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সহ নির্ভেজাল গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে ।

একই সাথে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা , আমি তোমায় ভালবাসি ’ গানটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় সেই সভায় ।

প্রচন্ড করতালির মধ্যে প্রস্তাব গৃহীত হলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পলটন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা । মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধু নিজে তখনো এ ধরনের ঘোষণা থেকে বিরত ছিলেন ।

প্রস্তাবটি লিখেছিলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক এম এ রশীদ । দুঃখজনক যে, খবরের কাগজ ছাড়া এই প্রস্তাবটির মূল কপি এখন নেই ।

ঐ একই সভায় শেখ মুজিব ডাক দেন অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের এবং অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য আহ্বান জানান ইয়াহিয়া সরকারের প্রতি । অসহযোগের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে খাজনা ট্যাক্স বন্ধ করে দিতে তিনি আহ্বান জানান । বললেন তাতেও পাকিস্তানী শাসক চক্রের মনোভাব পরিবর্তন না হলে ৭ মার্চ রেসকোর্সের ( বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) জনসভায় পরবর্তী কর্মসুচি দেয়া হবে ।

অবস্থা আয়ত্বে আনার জন্য সরকার জারি করে সান্ধ্য আইন । কিন্তু তা উপেক্ষা করেই অব্যাহত থাকে জনতার বিক্ষোভ ও মিছিল ।

সূত্রঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের অপর নায়কেরা,নুরুজ্জামান মানিক , শুদ্ধস্বর , ২০০৯ ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29109045 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29109045 2010-03-03 10:47:18
উত্তাল মার্চ ‘৭১ , এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলিত হয় প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা
আজ ২ মার্চ। একাত্তরের উত্তাল মার্চের দ্বিতীয় দিন। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় লাখ লাখ ছাত্র-জনতার সামনে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

১৯৭১-এর এই দিনে সারা বাংলাদেশ ছিল আন্দোলনমুখর। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ঢাকায় স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। রাজধানী মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। দলমত, পথ ও পেশা ভুলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সমগ্র ঢাকা এক ও অভিন্ন হয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধিকারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই রাজধানীর সব দোকানপাট, ব্যবসায় কেন্দ্র, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত কোন প্রতিষ্ঠানেই কর্মচারীরা কাজে যোগ দেননি। ট্রেন ও বিমান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। হাজার হাজার মানুষ লাঠি ও রড হাতে রাজপথে নেমে আসেন।সকাল থেকেই দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ঢাকায় সর্বাত্মক হরতালে অংশ নিয়ে চূড়ান্ত অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। ঢাকার রাজপথ জনসমুদ্র হয়ে ওঠে। সভা-সমাবেশে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেওয়া হয়, স্বাধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

আগেরদিন ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিস্টকালের জন্য পরিষদ অধিবেষন স্থগিত ঘোষণা করেন । প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ১ মার্চের ঘোষণার ফলে পুর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারী পার্টির সাথে আলোচনা করে গান্ধীজীর কায়দায় অর্থাৎ অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসন আদায়ে বদ্ধপরিকর হলেন । তিন ৬ দিনব্যাপী এক কর্মসুচি ঘোষণা করলেন । বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরদিন ২ মার্চ ঢাকায় হরতাল আহ্বান করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী , সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব ও জি এস আবদুল কুদ্দুসের মাখনের সমন্নয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং ফলে ১১ দফাভিত্তিক সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পরিষদের কার্যত বিলুপ্তি ঘটে । ছাত্রলীগের রেডিক্যাল অংশ ( যারা ১৯৬৪ সালে জাস্টিস ইব্রাহিম সূচিত এবং সিরাজুল আলম খান প্রমুখের নেতৃত্বাধীন নিউক্লিয়াসের সাথে জড়িত ছিলেন ) শেখ মুজিবের গান্ধীবাদী কর্মসূচিতে সন্তষ্ট হল না। তারা সিদ্ধান্ত নিল ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠানের এবং রব-সিরাজ -ইনু প্রমুখ কর্তৃক পরিকল্পিত ও শিবনারায়ণ দাস কর্তৃক অংকিত গাঢ সবুজের মাঝে উজ্জল সূর্যের প্রতিক লাল রংয়ের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র খঁচিত পতাকা উত্তোলনের ।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক , চারদিক থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিল এসে জমায়েত হয় ঢাবি কলাভবন চত্বরে । নতুন স্লোগান তৈরি হল-জাগো জাগো বাঙালী জাগো , বীর বাঙালী অস্ত্র ধর , বাংলাদেশ স্বাধীন কর এবং তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা । নদীর ঢেউয়ের মতই আন্দোলিত হচ্ছিল কলাভবন চত্বরের কালো মাথাগুলো । হঠাৎ করে একটু চঞ্চল হয়ে উঠে সমবেত সবাই । হ্যা , ধীরে ধীরে বাশের মাথায় স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন করলেন ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব । চারদিক মুখরিত হল ‘জয় বাংলা ’ স্লোগান। রচনা হয়ে গেল ইতিহাসের আরেক অধ্যায় ।


বিকেলে জনসভা হয় বায়তুল মোকাররম ও পল্টন ময়দানে। সন্ধ্যার পর আকস্মিকভাবে পুরো নগরীতে কারফিউ জারির ঘোষণা দেওয়া হয়। রাত ৯টা থেকে পরদিন ৩ মার্চ সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে সামরিক কর্তৃপক্ষ। অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এই কারফিউ বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়। বেতারে কারফিউ জারির এ ঘোষণা প্রচারের পরপর বিভিন্ন এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনতা রাস্তায় নেমে ব্যারিকেড রচনা করে। গভীর রাত পর্যন্ত কারফিউ ভঙ্গ করে মিছিল বের করে তারা। 'জয়বাংলা', 'জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগানে রাতের ঢাকার নিস্তবদ্ধতা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। স্লোগানের পাশাপাশি গুলিবর্ষণের আওয়াজ শোনা যায়। রাতেই বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে সেনারা। এতে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি হতাহত হন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর হাসপাতালগুলোয় বুলেটবিদ্ধ লোকের ভিড় জমতে থাকে।

এই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে ঢাকায় নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণের কঠোর নিন্দা করে বলেন, 'বাংলাদেশে আগুন জ্বালাবেন না। যদি জ্বালান, সে দাবানল হতে আপনারাও রেহাই পাবেন না।' বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বাধিকার অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানান। ৩ মার্চ 'জাতীয় শোক দিবস' পালনের ডাক দেন।

এদিকে করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত রাখায় নিশ্চিতভাবে কিছুই ক্ষতি হয়নি। পরিষদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়নি। দেশের দুটি প্রধান দল শাসনতান্ত্রিক ব্যাপারে কিছুটা সমঝোতায় পেঁৗছা মাত্রই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে।এছাড়া সন্ধ্যায় করাচিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনার জন্য পিপলস পার্টি বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভুট্টোর ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। আগামী ৫ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানানো হয়।

সূত্রঃ
১। স্বাধীনতা যুদ্ধের অপর নায়কেরা,নুরুজ্জামান মানিক,শুদ্ধস্বর , ২০০৯ ।
২। সংবাদ ২ মার্চ ২০১০
৩। সমকাল ২ মার্চ ২০১০ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29108362 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/29108362 2010-03-02 10:21:37