[গতবার ডিপার্টমেন্টে অনেক চেষ্টা-প্রচেষ্টার পর ক্লাস এর পক্ষ থেকে একটা ম্যাগাজিন বের করি আমরা, নাম তার ‘অনুরণন’। সেখানে আমার এক ক্লাসমেইট ‘সেলিম’ এই গল্পটি লেখে।]
খোকন যেদিন জন্ম নিল; বাবার মুখে সেকি আনন্দ!
চারপাশটা তার স্বপ্নিল মনে হত। ছোট্ট খোকাকে নিয়ে দোলাতে দোলাতে বাবা বলতেন, ‘ছেলে আমার অনেক বড় হবে’। দিনে দিনে খোকা বড় হয়ে ওঠে - বাবার হাত ধরে স্কুলে যায়- পড়ালেখাতে-ও খুব ভাল সে। বাবার স্বপ্ন আরও গাঢ় হয়, বেশ গর্ব করেই বাবা বলেন, ‘ছেলে আমার একদিন অনেক বড় হবে, হবে মানুষের মত মানুষ’।
স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে খোকা একদিন দেশের সেরা বিশ্ববিদ্য|লয়ে পড়ার সুযোগ পায়। দিন যায় - বাবার বুকের প্রশান্তি বাড়তে থাকে। একদিন বিশ্ববিদ্য|লয়ের পাট চুকিয়ে বাড়ি ফিরে খোকা বাবাকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছাসিত কন্ঠে বলে ওঠে, ‘তোমার ছেলে বড় হয়েছে বাবা- সে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যাবার সুযোগ পেয়েছে, এই তৃতীয় বিশ্বের দেশে আর থাকবনা বাবা’।
ছেলের এই উচ্ছাস দেখে বাবা চুপ হয়ে গেলেন- একটা বিষন্নতার ছাপ পড়ে গেল বাবার মুখে। খোকা সাগ্রহে বাবাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি খুশি হওনি বাবা?’
কি যেন ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাবা অসীমের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বললেন, ‘আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলে মেধাবী হবে’।
------------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


