somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষেপনাস্ত্রের সাতকাহন - ১

২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পারমানবিক অস্ত্র কিভাবে কাজ করে? - ১
পারমানবিক অস্ত্র কিভাবে কাজ করে? - ২


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত জার্মান ভি-২ রকেটের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন (সুত্রঃ উইকি)

সত্যি কথা বলতে কি, ক্ষেপনাস্ত্র বা মিসাইল নামটি ভয়ঙ্কর শোনালেও বস্তুত মিসাইল আর রকেটের মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্যই। রকেট কি কাজে লাগে তা আমরা মোটামুটি ভাবে অনেকেই জানি, রকেটকে বলা যায় মিসাইলের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাশুন্যে মানুষ, যন্ত্রাংশ বা কৃত্তিম উপগ্রহ পাঠাতে রকেট ব্যবহৃত হয়। তবে এবার মিসাইল বা ক্ষেপনাস্ত্র সম্পর্কে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
মিসাইল হলো, স্ব-জ্বালানী নির্ভর নিক্ষেপিত রকেট যাতে নিউক্লিয়ার বা প্রচলিত ওয়ারহেড থাকে। হাউই-বাজির সাথে আমরা পরিচিত (বানান ঠিক আছে কিনা জানিনা, ইংরেজিতে বলি ফায়ার ওয়র্কস), সেগুলোর একটি পরিমার্জিত ও আধুনিক রূপ হলো মিসাইল। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এই মিসাইল টেকনলজি সর্বপ্রথম আমাদের উপমহাদেশেই প্রথম যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যাবহৃত হয়, মহিসুরের টিপু সুলতান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যাবহার করেন। এরপর কালের বিবর্তনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা ভি-২ নামের মিসাইল উদ্ভব করে যা কিনা প্রথম আধুনিক মিসাইল হিসেবে স্বীকৃত। আধুনিক বলতে বুঝানো হচ্ছে মিসাইলের যথাযথ ও নির্ভূল ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের কৌশল। তাই এ ক্ষেত্রে এ্যারোডিনামিক্স বা বায়ুবিদ্যা ও কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং বা নিয়ন্ত্রন কৌশল অত্যন্ত জরুরী। তার সাথে আবার জুড়ি আছে মিসাইলের লক্ষ্যভেদের সীমানা বা রেঞ্জ ও ভারবাহন ক্ষমতা বা পে-লোড এর ব্যপার-স্যপার।
এই আলোচনাকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি যেমন, মিসাইল গাইডেন্স বা পরিচালনা, বায়ুবিদ্যা, মিসাইলের ইঞ্জিন ও ওয়ারহেড নিয়ে।
প্রথমেই আসি গাইডেন্স বলতে কি বুঝি, খুব সহজ ভাবে চিন্তা করি, গুলতি দিয়ে পাখি শিকারে আমরা প্রথমে লক্ষ্যবস্তুকে স্থির করে নেই। এরপর ঢিল ছুড়ি, ঠিক সেরকম-ই হলো গাইডেন্স, অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুকে স্থির করা। আগে পদার্থবিদ্যার পরাবৃত্তের জটিল সমীকরন দিয়ে মিসাইল গাইড করা হতো, কিন্তু এখন মূল ভিত্তি ঠিক রেখে আরও নির্ভূল ভাবে মিসাইল গাইডের জন্য স্বল্প পাল্লার মিসাইল লেসার বা হিট সিকিং ডিভাইস দিয়ে ও দূর পাল্লার মিসাইল স্যাটেলাইট ও জিপিএস দিয়ে গাইড করা হয়। মূলত, হিট সিকিং গাইডেন্স বিমান থেকে বিমানে (Air-to-Air) নিক্ষিপ্ত মিসাইলে ব্যাবহার করা হয়।
এরপর আসি বায়ুবিদ্যায়, একটি মিসাইলকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বায়ুবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। মিসাইলের আকার, আকৃতি, রেঞ্জ অনেক কিছুই নির্ভর করে এই অ্যা্রোডিনামিক্সের ওপর। বার্নলির সুত্রের ওপর ভিত্তি করে মিসাইল বা বিমান আকাশে এগিয়ে চলে। ভূপৃষ্ঠের নিম্নাংশের বায়ুর ঘনত্বে তুলনায় ওপরের পৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব কম আর তাই টার্বুলেন্স বা উত্তাল বেশি। আর তাই ক্ষেপনাস্ত্রের নির্দিষ্ট গতিপথ থেকে বিচ্যুতির সম্ভাবনাও তত-ই প্রবল। এসব দিক বিবেচনা করে মিসাইল ডিজাইন করা হয়।
মিসাইলের ইঞ্জিনের সাথে রকেট ইঞ্জিনের তেমন কোন পার্থক্য নেই। রকেট ইঞ্জিনে সলিড ফুয়েল বা লিকুইড ফুয়েল ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। সলিড ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানী বহু আগে থেকেই চায়নিজ ও আরবরা ব্যাবহার করে আসছে, এতে বারুদ, জিংক-সালফার ও এমোনিয়াম নাইট্রেটের মিশ্রন থাকে যা কিনা নিয়ন্ত্রন করে তরল জ্বালানী থেকে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক। রকেটের তরল জ্বালানীতে তরল হাইড্রোজেন, হাইড্রাজিন, ইথানল বা পারঅক্সাইডের সাথে তরল অক্সিজেন মিশ্রন ঘটিয়ে দাহ্য পদার্থে পরিনত করে ইঞ্জিন ইগনাইট করা হয়।
ওয়ারহেড হলো মিসাইলের এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। ওয়ারহেড বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন, প্রচলিত কনভেনশনাল ওয়ারহেড বা বারুদে ঠাসা, ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড যাতে ধাতদ টুকরা থাকে, কেমিক্যাল ওয়ারহেড যাতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ – বিষাক্ত গ্যাস বা তরল থাকতে পারে যেমন মাস্টার্ড গ্যাস, বায়োলজিক্যাল ওয়ারহেড যাতে কিনা বায়োলজিক্যাল বিষাক্ত পদার্থ থাকে যেমন অ্যান্থ্রাক্স, আর বহুল আলোচিতো নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডে কি থাকে সেটা তো আন্দাজ-ই করা যায়।

(চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫৩
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×