somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রিয় কিছু নন হলিউডি ম্যুভি-লিঙ্ক সহ (তৃতীয় পর্ব)

০৯ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আবারও এলাম প্রিয় কিছু নন-হলিউডি ম্যুভির লিঙ্ক ও রিভিউ নিয়ে...


১। ম্যাটাডোর (Matador ১৯৮৬) ম্যুভিটার নাম পেদ্রো আলমোদোভার ম্যাটাডোর না দিয়ে লাভ এন্ড ডেথ দিলেই বুঝি ভালো করতেন। এক প্রখ্যাত সাবেক ম্যাটাডোর আর মহিলা আইনজীবিকে ঘিরে গড়ে ওঠা পটভূমি। তারা দুজনেই হত্যার মাঝে নিজেদের কামার্ততা চরিতার্থ করে। ম্যাটাডোর ম্যুভিটা সম্পর্কে খোদ আলমোদাভোরের-ই বক্তব্য অনেকটা এরকম, আপনি যদি চিরায়ত মন-মানসিকতার লোক হন, তবে ম্যাটাডোর ম্যুভিটি আপনার জন্য নয়, আপনার কাছে শ্রেফ এটা হত্যোৎসবের সমারোহ বলে মনে হবে। কিন্তু বাস্তববাদীতা কিছুক্ষনের জন্য ছেড়ে যদি ভাবার্থ নিয়ে চিন্তা করেন, তবে চিন্তার অনেক খোরাক জুটে যেতে পারে।
টরেন্ট লিঙ্ক


২। পেদ্রো আলমোদোভারের কথা যখন এল তখন তার আরও দুটি ম্যুভির কথা না বললেই নয়, একটি হচ্ছে ভোলভার (Volver ২০০৬) জীবনে চলার পথে একটা মহিলার সংগ্রাম নিয়ে গড়ে ওঠা কাহিনী।আর অপরটি কার্নে ত্রেমুলা (Live Flesh ১৯৯৭) এক মেয়েকে কেন্দ্র করে দুজন অধিবক্তার ত্রিমুখী প্রেম নিয়ে কাহিনী। দুটি ম্যুভিই ভালো লেগেছে। ভোলভার ম্যুভিতে পেনিলোপ ক্রুজের অভিনয় আর ভোলভার গানটি এখনোও মনে লেগে আছে।
ভোলভারের টরেন্ট লিঙ্ক
কার্নে ত্রেমুলার টরেন্ট লিঙ্ক


৩। ডিসপারা (Outrage! ১৯৯৩) ফ্র্যান্সেসা নেরি ও এন্টোনিও ব্যান্ডেরাসের ফিল্ম,প্রতিশোধ ও ট্র্যাজেডির এক অপূর্ব সমন্বয় লেগেছে ফিল্মটিকে। ব্যান্ডেরাস পেশায় সাংবাদিক এক সার্কাসের ওপর রিপোর্ট করতে গিয়ে পরিচইয় আনা-র সাথে, শ্যুটার। মেয়েটিকে ৩ জন যুবক ধর্ষন ও আনার নেয়া প্রতিশোধ এর ওপর ভিত্তি করে ম্যুভিটি। শেষ দৃশ্যে আনার মৃত্যু বেশ শোকবহ। আর সাথে রইয়েছে আলিদা শেলী-র সেই অপূর্ব গানটি ‘সিন্নো মে মোরো ’।
শেয়ার লিঙ্ক


৪। সিদাদে দে দেউস (City of God ২০০২) ব্রাজিলিয়ান ম্যুভি। অনেকেই হয়তো দেখেছেন ফিল্মটি বা নাম শুনেছেন। ব্রাজিলের শহরতলীর এলাকায় গড়ে ওঠা দুটি ছেলে ও তার পারিপার্শ্বিক পটভূমি ড্রাগস, গ্যাংস্টার, জোচ্চুরি, ছলনা, বন্ধুত্ব, প্রেম সবকিছু নিয়ে গড়ে উঠেছে। দুজনের একজনের পরিনতি হয় মাদক সম্রাট ও আরেকজন ফটোগ্রাফার হিসেবে পরিচিতি পায়। ম্যুভিটি ভালো লাগবে আশা করি।
টরেন্ট লিঙ্ক


৫। ৪ লুনি,৩ সাপ্তামানি সি ২ যিলে (4 days, 3 weeks and 2 days ২০০৭) রোমানিয়ান ম্যুভি গড়ে উঠেছে চসেস্কুর শাসনামলে ২ জন ভার্সিটি পড়ুয়া বান্ধবীকে নিয়ে আর তাদের একজনের অবৈধ গর্ভপাত, চলারপথের জটিলতা আর প্রেম নিয়ে।
টরেন্ট লিঙ্ক


৬। আন্ডারগ্রাউন্ড (Underground ১৯৯৫) এমির কুস্তুরিকার আরেকটি স্যুরিয়ালিস্টিক সৃষ্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তরকালে যুগোশ্লোভাকিয়া যখন স্নায়ু যুদ্ধের সময় রাশান ব্লকে জয়েন করে, তখন এক যুদ্ধব্যাবসায়ীকে নিয়ে গড়ে ওঠা ব্ল্যাক কমেডি। কুস্তুরিকার সবগুলো ম্যুভিতেই কেমন যেন একটা পাগলামো থাকে, এটিও তার ব্যাতিক্রম নয়।
টরেন্ট লিঙ্ক


৭। সিটি অফ লাইফ এন্ড ডেথ (Nanjing! Nanjing! ২০০৯) আচ্ছা, আমি যদি বলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা একটিই ভালো কাজ করেছিলো, আর তা হল জাপানে পারমানবিক বোমা বর্ষন, আপনারা সবাই আমাকে পাগল ঠাউরাবেন তাই না? আরেকটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, সেই যুদ্ধে হিটলার কর্তৃক ইহুদী নিধন যতটা প্রচায় পেয়েছে যুদ্ধ পরবর্তি কালে, কিন্তু জাপানিজ আর্মি দ্বারা নিরীহ চায়নিজদের নিধন কি জনসম্মুখে এসেছে? না আসেনি! আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চায়নার নানজিং শহরের এথনিক ক্লিনজিং, হত্যা, গনধর্ষন, আর জাপানি সেনা নায়কদের উন্মাদনা সব মিলে গড়ে উঠেছে ম্যুভিটি নানজিং! নানজিং! জাপানিজদের হত্যা আর উন্মাদনা এমন পর্যায়ে পৌছেছিলো, হয়তো হিটলার আত্মসমর্পন করলেও পূবের জাপান আত্মসমর্পন করতো না।
আমাদের মহান নেতা সুভাষ বোস কিন্তু ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরেছিলেন, আর সেজন্যই তাকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত করে, মাঝ দিয়ে জাপানিজরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে চলে যায়।
ম্যুভিটি অবশ্যই দেখবেন।
টরেন্ট লিঙ্ক

আগের দুটি পর্বঃ
১। আমার প্রিয় কিছু নন-হলিউডি মুভি (প্রথম পর্ব)
২। আমার প্রিয় কিছু নন-হলিউডি মুভি (দ্বিতীয় পর্ব)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:১৫
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×