somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশে কতটা জরুরী? প্রযুক্তিকে সঠিক সময় গ্রহন না করে পিছিয়ে পড়াটা বর্তমানে আত্মহত্যার-ই সামিল। তুরস্কের এত বৃহৎ অটোম্যান সম্রাজ্য ভেঙ্গে খান-খান হওয়ার পেছনের অন্যতম কারন ছিল তৎকালীন নব্য প্রযুক্তি গ্রহনের উন্ন্যাসিকতা। যা হোক,বিদ্যুৎ শক্তির অভাব বর্তমানে প্রকট আকার ধারন করেছে। আমাদের বিদ্যুৎ শক্তির প্রধান উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস, যার অধিকাংশই নব্য সম্রাজ্যবাদী কিছু কম্পানীর কাছে দায়বদ্ধ (কারন বাপেক্সকে সুপরিকল্পিত ভাবে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে)। গ্যাসের হিটিং ভ্যালু কম হওয়ায় এটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গ্যাসের সবচেয়ে ইনএফিসিয়েন্ট কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। আর গ্যাস বিভিন্ন সার প্রস্তুতির কাঁচামাল, গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়া মানেই সারের দাম তথা চাউল সহ শস্যের দাম আরও কি পরিমান বাড়বে, সেটা কল্পনা করতেও ভয় হচ্ছে। তাই আমাদের বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য বিকল্প ব্যাবস্থা নেয়া উচিত। বায়োডিজেল সম্পুর্ণ সমাধান নয়, কারন এতে বর্ধনশীল ফসল বা ডিজেলের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বীজ বা জেনম ব্যবহৃত করা হয় যা উক্ত জমিকে সম্পুর্ণরূপে উর্বরতাশুণ্য করে দেবে যা হবে এই ধরিত্রী ও মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জিঘাংসামূলক কাজের মধ্যে একটি, যার কাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ব্রাজিলে শুরু করে দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খুবই ব্যয়বহুল ও আমাদের মতন বর্ধিষ্ণু কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অপর্যাপ্ত। তাই এখন সবদিক বিবেচনা করে একটি এফিসিয়েন্ট পথ খোলা আছে আর তা হল পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন। প্রশ্ন উঠতে পারে এটাতো অনেক ব্যয়বহুল, একদম ঠিক; কিন্তু বাজারে গিয়ে একটু বেশী খরচ করেও কেন ভালো জিনিসটা কিনি? কেন সস্তায় সেলেরন না কিনে একটু বেশী খরচ করে হলেও ইন্টেলের প্রসেসর কিনি? উত্তরটা আমরা সবাই জানি, তাই না। সরকার বায়ুসেনা গণের জন্য শত হাজার কোটি টাকা খরচ করে জাতীয় দিবসের প্যারেড গ্রাউন্ডের ওপর দিয়ে বিমানের ডগ-ফাইট দেখার জন্য যদি মিগ-২৯ বিমান কিনতে পারেন তবে একটি প্রয়োজনীয় সেক্টরে টাকা বিনিয়োগে সমস্যা কোথায়? তাই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠির কাছে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত গ্রহন করা অতি জরুরী, কারন ডিসিশান নেবার পর থেকে প্ল্যান্টের ফিজিবিলিটি টেস্ট, প্রসেস লাইসেন্সিং, ভ্যান্ডরদের মেশিনারীজ সাপ্লাই ও কমিশনিং-স্টার্টআপ করতেই ৩-৪ বছর লেগে যায়। এছাড়া দেশের ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশানের জন্য কোন ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশান ছাড়া আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুতের সরবরাহ করার জন্য পারমানবিক শক্তি অপরিহার্য। এপ্রসঙ্গে বলা যেতে পারে উন্নত বিশ্বের কিছু দেশ যাদের জনসংখ্যা খুবই কম, তাদের বৈভব আমাদের দেশের মতন নয়। তাদের দেশে জনসংখ্যার তুলনায় প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত। তাই আমাদের এই সম্পদকে অপ্টিমাইজ ওয়েতে কাজে লাগাতে হবে। তাই তাদের পারমানবিক প্রযুক্তি গ্রহন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অত্যাবশ্যকীয় নয়, যতটা না আমাদের।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, আমরা কি এত বৃহৎ ও রিস্কি প্ল্যান্ট চালাতে পারব? আমি স্বরণ করিয়ে দিতে চাই আমাদের ছেলেরাই বিদেশে গিয়ে রিসার্চ ও ইঞ্জিনিয়ারিং-এ যে সাফল্য দেখায় তা কি আমরা জানিনা? জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতি এতটাই অনাস্থাপূর্ণ আমরা? ইন্টেলের বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত প্রসেসর নিজের পিসিতে ব্যবহার করেও আমরা নিজেদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি? দুঃখজনক। আমাদের দেশে প্রচুর ভালো ভালো প্রকৌশলী আছে আমাদের দৃষ্টির আবডালে (যেমনঃ জামিলুর রেজা স্যার -যমুনা সেতুর ডিজাইনে ওনার অবদানের কথা প্রায় সবাই জানি)। কেউ যদি দেশের কোন সার কারখানা ভ্রমন করেন তাহলে আমাদের প্রকৌশলীদের দক্ষতা সম্পর্কে কোন সন্দেহ থাকবেনা, কিন্তু সরকারের উচিত হবে তাদের দেশের জন্য কাজ করার উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরী করে দেয়া যাতে তারা বিদেশমুখী না হয়।
তৃতীয় প্রশ্ন, পারমানবিক বর্জ্যের কি হবে? সেটার জন্য কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে যারা পারমানবিক বর্জ্য ট্রিটমেন্ট করে। আবার এটাও আশঙ্কা করা স্বাভাবিক, চেরনবিলের মতন দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু? আসলে, প্রযুক্তি এই গত দু'দশকে অনেক এগিয়েছে, এখন ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের ফুয়েল রডের স্থলে পিবল বেড রিয়াক্টর ব্যবহার করা হয় যা একশত ভাগ নিরাপদ। আমরা তো আর নিউক্লিয় জ্বালানী পরিশোধন বা উৎপাদনের কোন কৌশল হস্তগত করতে চাচ্ছিনা, আর বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানী ব্যবহৃত হয় তা দিয়ে কোন ভাবেই উইপনস গ্রেডের জ্বালানী প্রস্তুত সম্ভব নয়, তাই এদিক থেকে আমরা সম্পুর্ণ নিরাপদ।
তর্ক-বিতর্ক থাকবেই, কিন্তু এর মধ্যে থেকেই এগিয়ে যেতে হবে, কারন সামনেই আছে সোনালী ভবিষ্যত। কিন্তু রূপপুরের পরমাণু প্রকল্পের মতন কোন অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে যেন এ উদ্যোগ -ও যেন ব্যর্থ হয়ে না যায় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28752960 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28752960 2007-12-20 23:05:19
ছুঁচো ও রসায়নের মোল ভাবনা যা হোক, মোল শব্দটি জার্মান Molekul শব্দটির সংক্ষেপিত রূপ,উইলহেম অসওয়াল্ড সর্ব প্রথম এর ধারনা দেন। মোলের সাধারন সঙ্গা হিসেবে বলা যায়, কোন আইসোটোপে তার আনবিক/পারমাণবিক ভরের সমান পদার্থ থাকলে অথবা অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক (6.023x10^23), যৌগের ক্ষেত্রে অনু ও মৌলের ক্ষেত্রে পরমানু থাকলে তাকে উক্ত পদার্থের এক মোল বলা হয়। সাধারন কথায়, মোল হচ্ছে শুধুই একটা পরিমান। যে পরিমান পদার্থে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক (6.023x10^23) অনু, পরমানু, আয়ন ইত্যাদি আছে তাকেই এক মোল বলে। এখানে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন, ফরাসী বিজ্ঞানী জ্যাঁ বাপ্তিস্ত প্রথম আবিস্কার করেন পদার্থের আনবিক বা পারমাণবিক ভরে 6.023x10^23 টি কণিকা থাকে। বিজ্ঞানী অ্যাভোগেড্রোর নামানুসারে তিনি এ সংখ্যার নাম দেন অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যা। ধরা যাক, কোন যৌগের আনবিক ভর ১৮ (পানির)। এটা মানে বুঝায় পানির ১৮ গ্রামে বা ০.০১৮ কেজিতে (Kg) অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক (6.023x10^23 টি) অনু আছে। আবার অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অনু থাকা মানেই ১ মোল। অর্থাৎ পানির আনবিক ভর মানেই ১ মোল। শুধু পানি নয়, পৃথিবীর তাবৎ অনুর আনবিক ভর সংখ্যার সমপরিমান ভর মানেই ১ মোল। অনুরূপ সোডিয়াম মৌলের পারমানবিক ভর সংখ্যা ২৩ মানে সেখানে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক (6.023x10^23 টি) পরমানু আছে ও তার পারমানবিক ভর ২৩ গ্রাম-ই হল সোডিয়ামের ১ মোল।
বর্তমানে আয়ন, ইলেক্ট্রন, ফোটন প্রভৃতির ক্ষেত্রেও মোলের প্রয়োগ লক্ষ্যনীয়। যেমন ১ মোল ইলেক্ট্রন বলতে 6.023x10^23 টি ইলেক্ট্রন বুঝায়। লিথিয়ামের যোজনী ১, তার মানে ১ মোল লিথিয়াম থেকে ১ মোল ইলেক্ট্রন অপসারন করলে ১ মোল তথা 6.023x10^23 টি লিথিয়াম আয়ন(Li+) পাব। এই এক মোল ইলেক্ট্রন মানেই হল এক ফ্যারাডে বিদ্যুৎ। এখন অনেক ক্ষেত্রে রাসায়নিক বন্ধনের ক্ষেত্রেও মোল ব্যবহার করা হয়, যেমন ১ মোল বন্ধন বলতে 6.023x10^23 টি বন্ধন বুঝায়।
হয়ত অদুর ভবিষ্যতে দেখা যাবে প্রেমিক তার প্রেমিকার হাত ধরে বলছে, ওগো জান সখিনা, তোমাকে আমি ১ মোল পরিমান ভালবাসি। তখন সখিনা কপট রাগ দেখিয়ে বলবে, যাও পাশের বাড়ির কুদ্দুস তো আমাকে দেড় মোল ভালবাসে। ওর পারমানবিক ভর-ও বেশি, তোমার মত হাইড্রোজেন হিলিয়াম হয়ে উড়ে বেড়ায় না। গাড়ি-বাড়ি করার চেষ্টা কর, নইলে এসব শুকনো মোলার ভালবাসায় কাজ হবেনা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28752063 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28752063 2007-12-16 22:38:50
আমার প্রেম
ক্লাস ৮-এ থাকতে আর একটি মেয়েকে পছন্দ করে ফেলি। মেয়েটি ছিল খুব মেধাবী, আমি আবার গবেট-মার্কা ছাত্র ছিলাম। তাই মেধাবী মেয়েদের খুব ভাল লাগত, ইংরেজি স্যারের কোচিং-এ তার সাথে দেখা। কোচিং-ও শেষ, আমার কাঁচা ভালবাসা অঙ্কুরেই ঝরে পড়ে গেল।

প্রথম প্রেমে(!)পড়ি ক্লাস ৯ থেকে ১০-এ উঠবার সময়। আমি আবার স্কুলের আতেঁল-বেতাল ধরণের ছাত্র ছিলাম, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আর কি! বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগীতা, বিটিভির তুখোড়, শিশু-একাডেমি...এ রকম আরও সব প্রতিযোগীতায় অংশ নিতাম আর, হাওয়াইন গিটার বাজাতাম স্কুলের অনুষ্ঠান গুলোতে। সেই মেয়েটিও এসব দিক দিয়ে খুব পাকা ছিল। তাই দুজনের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব (নাকি প্রেম)হয়েছিল। আমি তার প্রতি কিছু একটা অনুভব করতাম, যা অন্য মেয়েদের প্রতি অনুভব করিনি। সেটাই বুঝি প্রেম! কিন্তূ কখনো তাকে বলা হয়নি, আমি তাকে ভালবাসি। ক্লাস ১০ এর শেষের দিকে ঘটল দুর্ঘটনা। ওর পাঠানো একটি ও একমাত্র চিঠি আম্মুর হাতে ধরা পড়ে। ব্যস শুরু হল ঝাড়ি। সামনে এস.এস.সি, তাই আমিও ব্যাপারটি ভুলে থাকার চেষ্টা করলাম। অনেকদিন পর খবর পেয়েছিলাম, এখন সে অন্যর ঘরণী, সুখের সংসার।

কলেজে উঠে হল আজব এক সমস্যা। এতদিন যাদের প্রেমে পড়েছি, তাদের সাধনা করলে হয়ত পাওয়া যেত। কিন্তূ এ সমস্যার তো কোনো সমাধান নেই। আমি ‘আনা কুর্নিকোভা’-র প্রেমে পড়েছি। তাকে নিয়ে কত দিবা-স্বপ্ন, কবিতা...আরও কত কি! অবশ্য এই ভূত মাথা থেকে চলে যেতেও দেরি করেনি, কারণ ‘এস্কেইপ’ এর মিউজিক ভিডিও দেখে সেই সাধের প্রেম কর্পূরের মতন ঊবে যায়। এখনো মাঝে মাঝে হাসি পায়। ম্যাচ্যুরিটি-র একটি পর্যায়ে এসে এমন ছেলেমানুষি যে কেন করেছিলাম, তা মনে হলেই অবাক লাগে। আরেকটি কথা মনে পড়ে, আপেক্ষিক তত্ত্ব সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাই। জিনিসটা খুব-ই মজার লেগেছিল। কলেজের শেষের দিকে এসে ভাললাগল আরেকজনকে, কিন্তূ ইন্টারের জন্য পড়ার চাপ ও বিশ্বঃবিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষার চাপে পড়ে, কিসের প্রেম, কিসের ভালবাসা- গোল্লায় যাক সবকিছু। অবশ্য ততদিনে বেশ কিছু মেয়ে বন্ধু হয়েছে, কিন্তূ তারা শুধু বন্ধুই ছিল। অনেকে আবার বলেন ছেলে-মেয়ে নাকি কখনো বন্ধুত্ব হয়না, সুক্ষ্ণ হলেও নাকি একটা কামার্ত ভাব থাকে। কারন ফ্রয়েড নাকি বলেছেন পুরুষ মানেই ধর্ষকামী, কিন্তূ আমার তো তা মনে হয়নি, নাকি বন্ধুত্বের এই দিকটা কখনো ভেবে দেখিনি আমি!!!

ইন্টারনেটের সাথে পরিচয় অনেক আগ থেকে হলেও চ্যাটরুমের সাথে পরিচয় বুয়েটে পড়ার সময়, ১ম বর্ষে। কি জানি, কোন এক দিন, একটি চ্যাটরুমে পরিচয় হয় একটি মেয়ের সাথে। ভালবাসা এর আগেও জীবনে এসেছে, কিন্তূ এত তীব্র আক্রমনাত্নক ভঙ্গিতে আসেনি। জীবনের সবচেয়ে বড় ভূলটি করলাম, অন্তর্নিহিত কথাগুলো না হয় উহ্য-ই থাক। কিছু বিষয় আছে যা প্রত্যেকের একান্তই ব্যক্তিগত, কারুর অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই হেথায়, অনেকটা একা একা ব্যাক্তিগত কামরায় রাত কাটানোর মতন। কিন্তূ সবই শুভাঙ্করের ফাঁকি। যাকে কখনও চোখেও দেখিনি(বিশ্বাস হয়?আমি কি বোকা তাইনা!) তার সাথে আবার ভালবাসা! আসলে কি সেটা ভালবাসা নাকি মোহ? ভালবাসা কখনো চট করে হয়না, এটা অনেক সাধনার বিষয়। কিন্তূ মানুষ চট করে মোহে পড়ে, এবং অনেক সময় পরিনাম হয় ভয়াবহ- ট্রয় নগরী ধ্বংশের মতন। একবছরেরও বেশি সময় ধরে এই মোহে ছিলাম, জীবনের এই স্বর্ণালী মুহুর্তে হঠাৎ করেই যেন ভরে গেল সীসার বিষবাষ্পে। মনের জোর ছিল, তাই হয়ত একেবারেই ভেঙ্গে পড়িনি, কিন্তূ যা ক্ষতি হয়েছে তার মাশুল আমি আজো গুণে যাচ্ছি। আমার বিধ্বস্ত প্রায় এই জীবনে নতুন দিনের আলো দেখাতে এল একটি মেয়ে, আমি তাকে কক্ষনোই ভুলবোনা। জীবনের সায়াহ্নকাল পর্যন্ত মনের অন্তরালে লুকিয়ে রাখব তাকে। সে যেন তপ্ত মরুর বুকে ছোট্ট একটি মরুদ্যান। তার সাথেও আমার নেটে পরিচয়, কিন্তূ কখনো দেখিনি বা ফোনে যোগাযোগ করিনি তার সাথে, শুধু নেটে আসলে কথা হত, একদিন ও বলল ওর নাকি ব্রেইন টিউমার হয়েছে, চিকিৎসার জন্য থাইল্যন্ড যাবে। এরপর থেকে ওকে আর নেটে দেখিনি, আমি ওর পরিবারের সাথে যোগাযোগ-ও করিনি। ভয় হয়, যদি কোন দুঃসংবাদ পাই তবে তো আমি সইতে পারবনা। আমিও তো মানুষ, কতটা আঘাত সহ্য করতে পারে একটা বেদনায় ভারাক্রান্ত হূদয়। তবুও আশায় বুক বাঁধি, হয়ত দেখা পাব তারে, এ জীবনে না হোক-অন্য জীবনে।

এখন আমি প্রেমের জন্য কাঁদিনা, ভালবাসার জন্য পিছুডাকি না। এখন আমার এগিয়ে যাবার সময়। কোন মেয়ের সস্তা প্রেম বা মুল্যবান ভালবাসার জন্য আমি আমার পরিবার ও বন্ধুদের মহামুল্যবান ভালবাসা, স্নেহ হারাতে চাইনা। বহুদিন পর নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাঘের এই কনকনে ঠান্ডায় স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আজ কত কথাইনা মনে পড়ল! ‘মহিনের ঘোড়াগুলির’ একটি গানের কথাও মনে পড়ে যায়,

“আমার দক্ষিন খোলা জানালায়

মাঘের এই অন্তরঙ্গ দুপুর বেলায়

না শোনান গল্প পুরোনো, মনে পড়ে যায়.....।।”


[ গল্প তো গল্প-ই, বাস্তব জীবনের সাথে এর মিল খুজতে যাওয়াটা অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয়।]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28751385 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28751385 2007-12-13 20:59:39
বনলতা সেন
-জীবনানন্দ দাশ


হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে

সিংহল সমুদ্র থেকে অন্ধকার নিশীথের মালয় সাগড়ে

অনেক ঘুরেছি আমি বিম্বিসার অশোকের ধুসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি আরও দূর আন্ধকার বিদর্ভ নগরে

আমি ক্লান্ত প্রান এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন

আমাকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন ।।


চুল তার কবেকার আন্ধকার বিদিশার নিশা

মুখ তার শ্রাবস্তীর কারূকার্য, অতি দূর পরে

হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা ।।


সবুজ ঘাসের দেশে যখন সে চোখে দেখে, দারুচিনি দ্বীপের ভেতর

তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে-

‘এতদিন কোথায় ছিলেন’?

পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন ।।


সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন

সন্ধ্যা নামে, ডানায় রোদের গন্ধ মুছে ফেলে চিল

পৃথিবীর সব রং মুছে গেলে, পান্ডুলিপি করে আয়োজন

তখন গল্পের তরে জোনাকির আলো ঝিলমিল

থাকে শুধু আন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার; বনলতা সেন ।।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28751384 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28751384 2007-12-13 20:53:19
ধ্রুব
দিন যায়, কালের পরিক্রমায় বড় হয়ে ওঠে ধ্রুব। খুব চঞ্চল, পুরো বাড়ি সে মাতিয়ে রাখত। কিন্তূ কোন বাড়ি? বাবা বিদেশে থাকায় আত্মীয় স্বজনের বাড়ি থাকতে হয় ধ্রুব ও তার মাকে। ধ্রুবর বাবার কাছ থেকে ঠিক-ই খরচাপাতি নেন ধ্রুবর চাচা, কিন্তূ মাকে বাঁকা বাঁকা কথা শোনাতেও ছাড়েননা চাচী। অতঃপর ধ্রুবর গন্তব্য মামাবাড়ি। ছোটবেলার উন্মেষ হয় তার সেখানেই, ঢাকায় চাচার বাসা ছিল আবদ্ধ কারাগারের মত, কিন্তূ মামা বাড়ির খোলা-মুক্ত পরিবেশ করেদিল তাকে অসীম হূদয়বান ও আত্মীয় স্বজন-ভাইবোনদের স্নেহ ও অপার ভালবাসা করেদিল তাকে কিছুটা আবেগপ্রবন।

দূর আকাশে শব্দ করে যখন উড়ে যায় উড়োজাহাজ, ভাবে তার বাবা কবে আসবে, বুকে জড়িয়ে ধরবে তাকে! সেতো কখনো তার বাবাকে দেখেনি, সেকি খুব রাগী? যে তাকে দেখে সেই বলে, ‘আরে দেখ-ধ্রুব একদম দেখতে ওর বাবার মতন হয়েছে, তাই না?’ ইসস যদি পাইলট হতে পারতাম! তাহলে উড়ে চলে যেতাম বাবার কাছে। ছোটবেলায় বোধকরি সবারই পাইলট হবার ইচ্ছে জাগে মনে।

একদিন ধ্রুবর স্বপ্ন পুরণ হয়, বাবা দেশে ফেরেন, কিন্তূ আসার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্নক আহত হন তিনি। ধ্রুবদের এতদিনের গোছানো স্বপ্ন ভেংগে চুরমার হয়ে যায়। অর্জিত সমস্ত ধন গেল বাবার চিকিৎসার পেছনে। ভেংগে পড়া সংসারের দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিলেন ধ্রুবর মা। সেলাই করে সংসার চালান, ধ্রুবর বাবা ঘরে বসা; ডাক্তার ভারী কাজ করতে নিষেধ করেছে। প্রাচুর্য হয়ত নেই কিন্তূ সুখ শান্তির অভাব নেই সংসারে। ধ্রুবর মা শক্ত হাতে হাল না ধরলে হয়ত বালির বাধেঁর মত ভেংগে যেত এই সুখের সংসার। এমনও দিন গিয়েছে, বাজার না নিয়ে এসে ছেলের জন্য বই-খাতা নিয়ে আসত ধ্রুবর বাবা। খালাদের কাছ থেকে উপহার পাওয়া শাড়ি বিক্রি করে প্রাইভেট টিচারের পাওনা পরিশোধ করত ধ্রুবর মা। খুব কষ্টের ও আদরের ধন তাদের এই সন্তান।

বড় হয় ধ্রুব, প্রেম সবার জীবনেই হাতছানি দিয়ে ডাকে। অনেক চোখা-চোখি, ভাললাগা-ভালোবাসার পর ডি.এম.সি-র সহপাঠীকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সে। মা কে গিয়ে বলে, কিন্তূ মা রাজি নয় ধ্রুবর এই প্রস্তাবে। এক অজানা আশঙ্কায় বিষিয়ে যায় মায়ের মন। সে ভাবতেই পারেনি তার ছেলে এতটা বড় হয়ে গিয়েছে। তার অনেক দিনের স্বপ্ন নিজে পাত্রী পছন্দ করে ছেলের বিয়ে দেবে, এখন একী কথা বলছে ধ্রুব? একুশটি বছর ধরে কি অবিরাম সংগ্রামের মধ্যে থেকে নিজের হাতে তিলে তিলে গড়ে ওঠা এই সংসারে প্রবেশ করবে এক অজানা অচেনা মেয়ে! সেই মেয়ে কিনা খর্ব করবে তার অধিকার! ধ্রুবর বড় খালার সংসারে দুই ছেলে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে করল, এখন সকালের নাস্তা সহ সব কিছু রেধেঁ খাওয়াতে হয় সেই নবাবজাদীদের। ধ্রুবর খালা যেন বাড়ির অচ্ছ্যুত একজন মানুষ। আমার তো ধ্রুব ছাড়া আর কেউ নেই, আমার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হবে নাতো? তাহলে কি আমি একজন ব্যার্থ মা, যে নিজের সন্তানকে নিজের মত করে গড়ে তুলতে পারিনি? ধ্রুব যখন খুব ছোট, তখন ভালো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। অসহায়ত্বের সুযোগে পাড়ার ভাবিরা এসে বলত, ধ্রুবরতো ব্রেনতো ভালনা, তাই ভাল কোথাও চান্স পায়নি। সেই থেকে জিদ চাপে তার, স্বামীর অসুস্থতার কথা ভেবেই বোধয় ছেলেকে ডাক্তার বানান তিনি। এখন সেই পাড়ার ভাবিরাই ধ্রুবর প্রসংশায় পঞ্চমুখ। গর্বে বুক ভরে যায় ধ্রুবর মায়ের, ভেবেহিলেন ছেলেকে নিজের মনের মত করে গড়ে তুলতে পেড়েছেন। কিন্তূ হায়! ছেলের জিদের কাছে মা আজ অসহায়।

অনেক বসন্ত পর, ধ্রুব এখন শহরের অন্যতম নাম করা সেরা ডাক্তার। তার ছোট্ট মিষ্টি ছেলে অনন্ত একদিন তার চেম্বারে কাজের সময় আসে, ধ্রুব বিরক্ত হয়ে আসার কারন জিজ্ঞাস করে। ছেলেটি বাবার কাছে তিনশত টাকা চায়, ধ্রুব ব্যস্ত হাতে ছেলেকে টাকা দিয়ে জানতে চায়, টাকা দিয়ে সে কি করবে? অনন্ত বলে, ‘বাবা আমি টিফিনের টাকা জমিয়ে ২০০ টাকা জমিয়েছি আর তোমার কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিয়ে এই পাঁচশ’ টাকা হল বাবা। তোমার একজন রোগীর ভিজিটের টাকার সমান। মনে আছে বাবা, আমরা কতদিন একসাথে থাকিনা, একসাথে ভাত খাইনা! এই নাও পাঁচশ’ টাকা বাবা, তুমি শুধু আমাকে আধঘন্টা সময় দাও, আজ আমি তোমার সাথে ভাত খাব’। ধ্রুবর মুখ থেকে কোন কথা বের হয়না, দীর্ঘ আটত্রিশটি বছর ধরে যে সত্য সে অস্বীকার করে আসছে, আজ তার আট বছরের এই শিশু বাচ্চা চোখে আঙ্গুল দিয়ে তা দেখিয়ে দিল। আজ তার খুব মায়ের কথা মনে পড়ল, ছেলের প্রতি মানসিক বিতৃষ্ণা নিয়ে তিনি মারা গিয়েছেন। মনে হল যেন চিৎকার দিয়ে ডুকরে ডুকরে সে কাঁদে। কিন্তূ তার অক্ষিকোটর জল বিহীন। কাঁদবার মত আবেগই তার এতদিনে মরে গেছে।।

------------------------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28750716 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28750716 2007-12-10 19:37:35
স্বপ্ন ভাঙ্গার স্বপ্ন
খোকন যেদিন জন্ম নিল; বাবার মুখে সেকি আনন্দ!
চারপাশটা তার স্বপ্নিল মনে হত। ছোট্ট খোকাকে নিয়ে দোলাতে দোলাতে বাবা বলতেন, ‘ছেলে আমার অনেক বড় হবে’। দিনে দিনে খোকা বড় হয়ে ওঠে - বাবার হাত ধরে স্কুলে যায়- পড়ালেখাতে-ও খুব ভাল সে। বাবার স্বপ্ন আরও গাঢ় হয়, বেশ গর্ব করেই বাবা বলেন, ‘ছেলে আমার একদিন অনেক বড় হবে, হবে মানুষের মত মানুষ’।

স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে খোকা একদিন দেশের সেরা বিশ্ববিদ্য|লয়ে পড়ার সুযোগ পায়। দিন যায় - বাবার বুকের প্রশান্তি বাড়তে থাকে। একদিন বিশ্ববিদ্য|লয়ের পাট চুকিয়ে বাড়ি ফিরে খোকা বাবাকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছাসিত কন্ঠে বলে ওঠে, ‘তোমার ছেলে বড় হয়েছে বাবা- সে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যাবার সুযোগ পেয়েছে, এই তৃতীয় বিশ্বের দেশে আর থাকবনা বাবা’।

ছেলের এই উচ্ছাস দেখে বাবা চুপ হয়ে গেলেন- একটা বিষন্নতার ছাপ পড়ে গেল বাবার মুখে। খোকা সাগ্রহে বাবাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি খুশি হওনি বাবা?’

কি যেন ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাবা অসীমের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বললেন, ‘আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলে মেধাবী হবে’।

------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28750709 http://www.somewhereinblog.net/blog/nuvanbuetblog/28750709 2007-12-10 19:15:03