বউ ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেছেন ইতালি প্রবাসী এক যুবক। তার নাম মো. রুহুল আমিন খান (৩০)। তার দাবি- কন্ঠ শিল্পী
মৌসুমি সুলতানা দিপা (২৩) কে তিনি বিয়ে করেছেন। দিপা ২০১০ সালের চ্যানেল আই সেরাকন্ঠের টপ টেনের কণ্ঠ শিল্পী। বিয়ের পর থেকেই দিপার পরিবার তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এ অভিযোগে মামলার পর
রাজধানীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাদীর বউ তালাশের জন্য একটি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করেছেন। গত ২২শে সেপ্টেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ইতালিতে অনুষ্ঠিত একটি গানের প্রোগ্রামে বাংলাদেশের কণ্ঠ শিল্পী মৌসুমী সুলতানা দিপার সঙ্গে পরিচয় হয়। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে ভালবাসার ভাব বিনিময় হয়। দুজনেই দুজনার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি। একপর্যায়ে সম্পর্ক গভীর হলে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেই। সে মোতাবেক ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসি। গত ২৪শে আগস্ট রাজশাহী নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হলফান্তে কাজীর মাধ্যমে দিপার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। বিবাহে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। বিয়ের পর রাজশাহী থেকে দুজনে রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন নূরে চালা সমতা সড়কের ১ নম্বর বাড়িতে উঠি। সেখানেই বসবাস শুরু করি। এভাবে এক সঙ্গে প্রায় তিন সপ্তাহ কাটানোর পর গত ১৩ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে হঠাৎ আমার শ্বশুড় মনিরুল ইসলাম(৫০) ও শাশুড়ি নাজমা মনির(৪৫) আমার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। খাওয়া দাওয়া করে নতুন দম্পতির জন্য কেনাকাটা করার কথা বলেন। পরে স্ত্রীকে নিয়ে মার্কেটের উদ্দেশ্যে বের হন। রাত ৯টা পর্যন্ত ফিরে না আসায় মোবাইল ফোনে কল করলে শাশুড়ি জানান, জরুরী প্রয়োজনে তারা রাজশাহীতে রওনা দিয়েছেন। পরের দিন আামকেও যেতে বলেন। এসময় স্ত্রীকে ফোন দিলে সে জানায়, তুমি আমাকে এসে নিয়ে যাও। ওরা সম্ভবত আমাকে বন্দি করে রাখবে। পরের দিন আমি রাজশাহীতে যাই। কিন্তু আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা কিংবা ফোনে যোগাযোগ করতে দেননি তারা। এসময় অজ্ঞাত দু ব্যক্তি আমার স্ত্রীর মামা পরিচয় দিয়ে স্ত্রীকে ফেরত দেয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর রাজশাহী থেকে ফিরে এসে আমি গত ১৭ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাড্ডা থানায় একটি জিডি করি(জিডি নম্বর-১১৬৬)। বউ উদ্ধারের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করি। কিন্তু পুলিশ আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে উদ্ধারে কোন তৎপরতা চালায়নি। এতে বাধ্য হয়ে গত ২২ শে সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেছি। এ প্রসঙ্গে দিপার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দিপার মা নাজমা মনির বলেন, রুহুল আমিন একজন বড় মাপের প্রতারক। সে প্রতারণা করে আমার মেয়ের সর্বনাশের চেষ্টা করেছিল। রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেলে মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করেছিল। এমন খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে দিপাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসি। পরের দিনই মেয়েকে দিয়ে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সে গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, রুহুল আমিনকে তখনই পুলিশের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মেয়ের নামে কলঙ্ক রটবে-এমন আশঙ্কায় ওই প্রতারণার কথা ফাঁস করিনি। ওই প্রতারক যে আদালতে মামলা করবে ভাবিনি। এ প্রসঙ্গে দিপার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে মামলার খবর শুনেই মেয়েকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছি। আগামী ৩০শে অক্টোবরের আগে তার সঙ্গে কথা বলা যাবেনা। নাজমা মনির বলেন, ইতালির মিউজিক ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে আমার মেয়ে গান গাইতে সেখানে গিয়েছিল। গানের অনুষ্ঠানের সংগঠক ছিল রুহুল আমিন। তার তত্বাবধানেই ২রা এপ্রিল থেকে ১৭ই এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ দিন সেখানে ছিলো। অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য দুলাখ টাকার চুক্তি হলেও প্রতারক রুহুল আমিন সে টাকা মেরে দিয়েছে। পরবর্তীতে মিউজিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। কয়েক দফায় প্রায় ৫লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল তাকে। মিউজিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির কাগজ পত্রে সই করার কথা বলে সে বিভিন্ন কাগজ পত্রে দিপার স্বাক্ষর নিয়েছিল। হয়তো ওই কাগজ পত্রের মধ্যেই নিকাহ নামার কাগজ পত্রে কৌশলে সই নিয়েছে সে। দিপার স্বজনরা বলেন, দিপা ২০০০ সালে সঙ্গীতে জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিল। ২০১০ সালের চ্যানেল আই সেরা কন্ঠের ১০ জনের তালিকায় ছিলো। সে ইংরেজি বিভাগে অনার্স করছে। দিপার কণ্ঠ ওয়েস্টার্ন মিউজিকের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতো। এজন্য মিউজিক ইউনিভাসিটিতে ফেলোশিপ করার অফার পেয়েছিল। এরই মধ্যে গত ২৪শে আগস্ট রুহুল আমিন রাজশাহীতে আসে। মেয়ের সঙ্গে দেখা করে। বাইরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের লক্ষে কিছু কাগজ পত্রে সই করতে বলে। এসময় কয়েকটি ফর্মে সই নেয়ার মাধ্যমে দিপাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে।দিপার বাড়ি রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার বাগান পাড়া এলাকার প্যারামেডিকেল রোডে। তার বাবা মনিরুল ইসলাম কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



