আমার প্রিয় পোস্ট

ধর্মনিরপেক্ষতা !!!

০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪২

শেয়ার করুন:                   Facebook

ইংরেজি Secular শব্দের বাংলা অনুবাদ হলো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। বিশ্বের প্রধান প্রধান ডিকশনারীগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ করা হয়েছে ধর্মহীনতা কিংবা নাস্তিকতা।

ক) বিশ্বখ্যাত Random house dictionary of English language এ - Secularism এর তিনটি সংজ্ঞা উল্লেখ করা হয়েছে।

No. 1- regarded as religious or spiritually sacred. যা ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিকভাবে পবিত্র বলে বিবেচিত নয়।

No. 2- partaining to or connected with aû religion. যা কোনো ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয়।

No. 3- belonging to a religious order. যা কোনো ধর্ম বিশ্বাসের অন্তর্গত নয়।

খ) Webster অভিধানে 'secular' শব্দটির অর্থ: ধর্ম বা ধর্ম-বিশ্বাস বর্জন বা এই বিষয়ে উদাসীন থাকা।

গ) Short Oxford Dictionary 'secular' শব্দটির সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে-এমন একটি তত্ত্ব যার মূলনীতি হল, নৈতিকতার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ইহজগতে মানুষের ভাল থাকা, এতে পরলোক বা ঈশ্বরে বিশ্বাসের কোন স্থান নেই। এই শব্দটির সাথে ধর্মহীনতা, ইহজগৎ-বাদ, রাষ্ট্র-ধর্ম-পৃথকীকরণ, দৈব-শক্তির পরিবর্তে মানবিক ক্ষমতায় বিশ্বাস, বি-ধর্মীকরণ ও যুক্তিবাদী বিশ্বাস ইত্যাদি ধারণার একটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে।

উল্লিখিত তিনটি ডিকশনারীর বক্তব্য অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মনিরপেক্ষতা । এখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা প্রমাণ করুন যে, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।

ধর্মে বিশ্বাসীরা কি ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারেন?

বর্তমান বিশ্বে যারাই ধর্মনিরপেক্ষবাদে বিশ্বাসী তারাই কোন না কোন ধর্মের অনুসারী। তাই মুসলমানরা তো দূরের কথা- অন্য কোনো ধর্মের অনুসারীও ধর্মনিপেক্ষ হতে পারবে না। নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করার অর্থ নিজের সাথেই নিজেই প্রতারণা করার শামিল।
আমার এ দাবীর স্বপক্ষে বাস্তব কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করুনbr />

ক ) একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী যখন পরনে ধুতী, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, গায়ে নামাবলী ও পৈতা জড়িয়ে, মাথায় টিকি, সিঁথিতে সিঁদুর ও হাতে শাখা পরেন, বার মাসে তের পূজা এবং তেত্রিশ কোটি দেবতায় বিশ্বাস করে প্রত্যেহ মন্দিরে গিয়ে দেবতার পদপাদ্যে অর্ঘ-নৈবদ্য নিবেদন করেন, তখন তিনি কি তার পক্ষে ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব ? তিনি তো ধর্মের পক্ষেই চলে গেলেন।

খ) একজন মুসলিম পুরুষ যখন মাথায় টুপি, মুখে দাড়ি এবং লম্বা জামা পরেন, নামায-রোযা, হজ্জ ও উমরাহ পালন করেন, মুসলিম নারী যখন শালীন পোশাক তথা হিজাব পরেন, আল্লাহ-রাসূল, কুরআন-হাদীস, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নামে বিশ্বাস করেন, তিনিও তো ধর্মের পক্ষেই অবস্খান নিলেন।

গ) একজন শিখ যখন গুরু নানকের অনুসারী হয়ে দাঁড়ি না কেটে মাথায় পাগড়ী পরেন এবং হাতে বালা ও কৃপাণ ধারণ করেন, গুরুদুয়ারায় গিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন তখন তো তিনি ধর্মের পক্ষেই থাকলেন। ( ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-ও তার চেহারায় স্বধর্মের পরিচয় তুলে ধরেছেন।)

ঘ) একজন বৌদ্ধ যখন গৌতম বুদ্ধের অহিংসা পরমধর্ম ও জীব হত্যা মহাপাপ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে গেরুয়া বসন পরিধান করে আত্মার মহানির্বাণ লাভের জন্যে কৃচ্ছ্র-সাধন করেন, বোধিবৃক্ষকে পবিত্র জ্ঞান করে প্যাগোডায় যান তিনিও তো ধর্মের পক্ষই অবলম্বন করলেন।

ঙ) একজন খৃস্টান যখন যিশুখৃস্টকে তাদের ত্রাণকর্তা প্রভু বলে বিশ্বাস করেন, গলায় ক্রুশ ঝুলান, ত্রিত্ববাদ ও বাইবেলে বিশ্বাস করেন, মুখে যিশুর নাম উচ্চারণ করে প্রতি রোববার গির্জায় প্রার্থনা করেন, আমেরিকার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট যখন বাইবেল স্পর্শ করে প্রেসিডেন্টের শপথ নেন এবং তাদের প্রতিটি ডলারে যখন ছাপার অক্ষরে লেখা থাকে 'IN GOD WE TRUST' তখন তারাও তো আর ধর্মনিরপেক্ষ থাকলেন না, ধর্মের পক্ষেই এলেন।

এটাই যখন প্রকৃত বাস্তবতা, তখন কতিপয় নাস্তিক ছাড়া আর ধর্মনিরপেক্ষ' রইলো কারা? প্রকৃত বিষয় হচ্ছে ধর্মে বিশ্বাসী কোনো মানুষই ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারে না।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ধর্মনিরপেক্ষ ;

 

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ১৪১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ৭ জনের ভাল লাগেনি
১. ০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৫
comment by: ওবায়েদ বলেছেন: আগেই বলে রাখি, লেখাটা ব্লগার আশরাফ ভাইয়ের সিরিজ পোষ্টের অংশ বিশেষ।
২. ০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৫৭
comment by: অশোক দেব বলেছেন: ব্যক্তি না হয় ঠিক আছে। কিন্তু রাষ্ট্র? রাষ্ট্রের ধর্ম কি হবে? যখন তার নাগরিকেরা নানা ধর্মের?
০২ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ১:০৮

লেখক বলেছেন: পৃথিবীর প্রতিটা রাষ্ট্রে ই সংখ্যা গরিষ্ঠ জন গুষ্ঠির ধর্মী মূল্য বোধ রাষ্ট্রিয় অনুষ্টানাদিতে ব্যবহৃত হয়। আর তা দূষণীয় কিছু নয়। গণতন্ত্রের মূল বিষয় হলো মেজরিটি মানুষের মতামত।
তবে তা অন্য ধর্মাবলম্বীদের আঘাত করে নয়। যা ইসলাম মানুষকে শিখিয়েছে।

৩. ০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ১:০৭
comment by: আরিফুর রহমান বলেছেন: 'IN GOD WE TRUST'.. দিয়ে সর্বজনাব ইশ্বর বোঝানো হয়.. খ্রীষ্টানদের গড নয়!

যুক্তরাষ্ট্রের কোন সরকারী অফিসে কোন প্রকার ধর্মীয় চিহ্ন ব্যাবহার বা পরিধান সম্পূর্নরূপে নিষিদ্ধ!
৪. ০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ১:২৯
comment by: মাসুদ যা বলেছেন ঠিকই বলেছেন: Securarism মানে ধর্মনিরপেক্ষতা নয়।

secularism = the belief that religion should not be involved in the organization of society, education, etc.
Oxford Advanced Learners Dictionary, 8th Edition.

Secularism = A doctrine that rejects religion and religious considerations
WordNet. Click This Link


Secularism মানে ধর্মবিরোধিতা (ইসলাম, খ্রিশ্চিয়ান, হিন্দু যা-ই হোক)।
ধর্মনিরপেক্ষতার ইংরেজি হতে পারে Rationalism.

ধর্মনিরপেক্ষতা শিক্ষা দেয় একজন মানুষকে (মুসলিম, খ্রিশ্চিয়ান, হিন্দু যা-ই হোক) তার ধর্ম পালন করতে না দেয়া অন্যায়। একজন মানুষ জন্মগত সুত্রেই অধিকার লাভ করে সে তার জীবন কিভাবে যাপন করবে।

আর ধর্মবিরোধিতা শিক্ষা দেয় একজন মানুষ তার ধর্ম পালন করতে পারবেনা। তুরস্কে যেমন স্কার্ফ পড়তে দেয়া হচ্ছে না। আবার আমাদের কতিপয় Secularist সেটা আনন্দের সাথে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
৫. ০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ১:৩১
comment by: মাসুদ যা বলেছেন ঠিকই বলেছেন: Wordnet এর লিঙ্ক Click This Link
৬. ০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ২:২৯
comment by: মুনিম সিদ্দিকী বলেছেন: রাষ্ট্র ধর্ম এটা একটা ভাঁওতা। এটা একটা নোংরা রাজনীতি। এরশাদ এটা করে ধর্মের অপমান করে গেছেন। বোতলে সাধারণ পানি ভর্তি থাকে আর ব্যবসা করার জন্য মিনারেল ওয়াটারের লেবেল লাগানোর মতো। এরশাদ ভাবলেন রাষ্ট্রের জাতীয় কবি, মাছ, ফুল,ফল আছে তাই
জাতীয় ধর্ম থাকা চাই, আর তাই হলো।

তবে পৃথিবীর প্রতিটা রাষ্ট্রে ই সংখ্যা গরিষ্ঠ জন গুষ্ঠির ধর্মী মূল্য বোধ রাষ্ট্রিয় অনুষ্টানাদিতে ব্যবহৃত হয়। আর তা দূষণীয় কিছু নয়। গণতন্ত্রের মূল বিষয় হলো মেজরিটি মানুষের মতামত।

ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মীয় সহনশীলতা নামের আড়ালে ধর্মহীনতাকে উত্সাহিত করা হয়, ধর্মহীনতা নাস্তিকতায় পর্যবসিত হয়। আর বর্তমানের নাস্তিকতা প্রাচীন কালের পৌত্তলিকতা আধুনিক সংস্করণ।

প্রাচীন কালের পৌত্তলিকতা কাঠ বা পাথরের খোদিত খুঁটিকে ঈশ্বর মনে করে উপাসনা করত। এখন কার নাস্তিকরা বস্তুবাদী আর বস্তুবাদীদের বিশ্বাস এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সব কিছু বস্তু দ্বারা মানে অণু-পরমাণু দ্বারা গঠিত। এই অন্ধবিশ্বাসিরা মনে করে যে জড় পরমাণু সমূহ আপনা-আপনি কোন রকমে সংগঠিত হয়ে কালের বিবর্তনে জীবন ও চেতনা পায়। পরিশেষে পরিণত হয় মানব সত্তায়।

মানবতার ইতিহাসে আজ এক নবদিগন্ত সূচিত হয়েছে। নাস্তিকতা বাদি দর্শন আজ নিদারুণ পরাজিত বিজ্ঞানের কাছে; সেই বিজ্ঞান যার হাত ধরে মানবতার বুকে জেঁকে বসেছিল এই দর্শন। সে আরেক লম্বা ইতিহাস যা এখানে স্বল্প সময়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ধন্যবাদ।
৭. ০১ লা জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৫৬
comment by: রুপার পালকি বলেছেন: কইস্যা মাইনাচ । ধুর আমার একাউন্টে একটাই আছে দুঃখিত।

 



 


আমি এক বাংলাদেশী।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৯৯৮০