তার রাতের আঁধার আমার দেখা হয়নি কখনো। না, সকালটাও যে দেখেছি তাও দাবি করব না। কি করে সাহস করি তার মত হবার? শীতের রাতে থাই-গ্লাসের জানালার ছ'ইঞ্চিরো কম ফাঁক দিয়ে আসা বাতাস যখন আমার কম্বল ভেদ করে হাড়ের ভেতর ঢুকতে চায়, মাটিতে বিছানো দু'ইঞ্চি পুরু গদির বিছানা বেয়ে উঠে আসা তরল শীতলতা যখন আমার ফুসফুসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বন্ধের ডাক দেয়, তখন আমি কি করে বলি আমি ওদের লোক? তবে ওরা আমাকে ওদের লোক ভাবে না কখনই! এটুকুই শান্তি! অন্তত প্রতারণাতো করছি না!
স্তূপীকৃত পাঁচটনী বাঙলাদেশের পেটচিরে আঁতিপাঁতি করে খুজে আনা একটা ছেঁড়া সোয়েটার, একটা ছেঁড়া প্যান্ট আর একটা ছেঁড়া কাঁথা। একেবারে স্বর্গ না হলেও, উত্তরে দেয়াল সহ একটা ফুটপাথের চাহিদা, একটা মশারি আর হয়তো একটা অন্যকিছুর চাহিদা ভুলে থাকা যায়! সরকারী খাতায় কোন বরাদ্দ, ক্যামেরার সামনে পড়তে পারলে পাওয়া যায় বটে! কিন্তু পরের শীতের জন্য একটা আলমারী কে দেবে তাকে? আলমারী রাখার জন্য একটা ঘর কে দেবে তাকে? ঘর রাখার জন্য একটা কাজ কে দেবে তাকে? কাজ ধরে রাখার জন্য একটা স্বপ্ন কে দেবে তাকে? তার রাতের আঁধার আমার দেখা হয়নি কখনো। তাই তার স্বপ্নের খবরও রাখিনি কোনদিন!
চাহিদা! সে বড় বায়বীয় জিনিস! টাকার মত তরলও বলা যায়! সবসময়ই পকেটের আকার ধারন করতে ভালবাসে। পকেট না ছিঁড়ে কোন প্যান্ট খুঁজে পাওয়া কি এত সহজ? চাহিদাগুলোও তাই ছেঁড়া পকেটের ফাঁক গলে ঝরে যায়। ঠিক যেন ক্রমাগত উত্তরের দেয়ালের ইঁটের ফাঁকে জমেথাকা আধখাঁচড়া সিমেন্টের ফাঁকগলে বেরিয়ে আসা উত্তরা বাতাস! কোনটা ধরে রাখা যায় না, কোনটা ঠেকিয়ে। তবে অনেক কিছুই ঠেকে থাকে। এই যেমন সূর্য, নেতার প্রতিশ্রুতি, আধপোড়া জীবন, গাড়ির ধোয়া, সামান্য ধূলোবালি এই সব আরকি!
বেনিয়ারা ফিরে ফিরে আসে। ইঁটের আর কংক্রিটের সুবিশাল চাঙড়ের ভেতরে, সুবিশাল অট্রিয়াম দিয়ে কিনে নেয়া আকাশটা দেখা যায়। আমরা ভাবি, আকাশটা কি সুন্দর! সূক্ষ্ণ সূঁচের ভেতরদিয়ে পরানো সুতায় বোনা কাপড়ের পরিধানকারী সূঁচের কথাও মাথায় আনে না, সুতার কথাও না! তেমনি, বিশাল আকাশের নিচে পড়ে থাকা মানুষ আকাশের বিশালতাকে চেনে না, চেনে উত্তরের দেয়ালের সামনে ফুটপাথের একটুকরো ঘুমোবার জায়গাকে। আর আমি শুধু চিনে চলি মৃত্যুর মত সত্যি শীতকে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



