somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্থিরতা সৃষ্টির নয়া ছক: জামায়াত-শিবিরের টার্গেট ২৫ জেলা, বড় শিক্ষাঙ্গন

২৬ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে জামায়াত-শিবির। এ জন্য ২৫ জেলার পোশাক শিল্প ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। ভিআইপি, যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর গুপ্ত হামলা চালানোরও পরিকল্পনা আছে তাদের। এ ছাড়া নানা ইস্যুতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উসকে দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ব্যয় করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারকে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে থাকছে ইসলামী ছাত্রশিবির। পেছন থেকে মদদ ও অর্থ জোগাচ্ছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং জামায়াতপন্থী কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষক। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে এলাকাভিত্তিক দায়িত্বও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার অভিযানের ফলে দেশের ৩৯ জেলায় জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বাকি ২৫ জেলাকে টার্গেট করে তৎপরতা চালাচ্ছে দলটি। ঢাকাসহ এ ২৫ জেলাকে 'বিপজ্জনক' আখ্যা দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কিছু এলাকায় ছাত্রদলেরও সমর্থন পাচ্ছে শিবির। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাত্রদলের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির কিছু নেতা শিবিরের কর্মসূচি সফল করে দিচ্ছেন।
শিবিরের নীতিনির্ধারকরা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠক করে সমর্থন চেয়েছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দূরত্ব তৈরি হওয়ায় জামায়াত-শিবির সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষায় আছে।
ওই জেলাগুলোতে কারা সরাসরি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে, অর্থ জোগান ও মদদ দিচ্ছে তাদের তালিকা ও জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এতে অর্থ জোগানদার ও মদদদাতাদের গতিবিধি, ব্যাংকে লেনদেন নজরদারির আওতায় আনা; ভিআইপি ও যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ২৫ জেলায় বিশেষ নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার কালের কণ্ঠকে জানান, এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সজাগ আছে। কেউ যাতে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রতিবেদনকে ভুয়া, মিথ্যা বা উদ্দেশ্যমূলক আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না। জামায়াতে ইসলামীর নাশকতামূলক কাজকর্ম করার কোনো রেকর্ড নেই। একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আইনি ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করে না জামায়াত।'
সূত্র মতে, অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্য হিসেবে ২৫ জেলার মধ্যে আছে ঢাকা (সাভার ও কেরানীগঞ্জ), মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কঙ্বাজার, নোয়াখালী (সদর ও সোনাইমুড়ি), রাঙামাটি, বান্দরবান (কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঘিরে), খুলনা (সদর) বাগেরহাট, কুষ্টিয়া (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, সদর ও মিরপুর), রাজবাড়ী, মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, পাবনা, দিনাজপুর, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, বরিশাল ও পিরোজপুর। মদদদাতাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাশেম আলী, মকবুল আহমেদ, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীতে তৎপরতা সীমিত হয়ে পড়ায় জামায়াত-শিবির বেছে নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পরিচয় গোপন করে ভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ঘাপটি মেরে আবাসিক হলগুলোতে আছে একটি অংশ। অন্য অংশটি আছে ক্যাম্পাসের আশপাশে বিভিন্ন মেসে। মদদদাতার তালিকায় আছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষক, স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। ওই মসজিদটিতে ধর্মীয় আলোচনার নামে প্রায়ই গোপন বৈঠক হয়। মদদদাতা ১২ শিক্ষকের মধ্যে আছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চারজন অধ্যাপক ও দুজন সহযোগী অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগের তিনজন অধ্যাপক ও ফার্মেসি বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক। এ ছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালেেয়র উপাচার্য ড. শরীফ এনামুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, 'দুই বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। যে কেউ যেকোনো দলকে সমর্থন করতে পারে। কিন্তু কেউ ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×