কগনিটিভ সায়েন্স এবং মাত্র ২০ টি এসাইনমেন্ট !!!
২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬
আমার ইউনির রোবোটিক্সের কারিকোলামে অন্তর্ভুক্ত নয় বলেই নতুন কিছু জানার জন্য লুলিয়া ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে কগনিটিভ সায়েন্স কোর্ষটা নিয়েছি । কোন পরীক্ষা নেই । মাত্র ২০ টি এসাইনমেন্ট শেষ করতে পারলেই ১৫ ECTS ক্রেডিট পেয়ে যাব !!!
কিন্তু ২ টা বইসহ বেশ কিছু আর্টিকেল পড়ে এত্তোগুলো এসাইনমেন্ট শেষ করতে পারাটাই কঠিন ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবোটিক্সে AI জানার পাশাপাশি মন ও ব্রেইন কিভাবে কাজ করে সেটা জানাটাও জরুরী । দর্শন, মনোবিদ্যা, নিউরোসায়েন্স, ভাষাতত্ব, AI, এনথ্রোপোলজির বিভিন্ন মতোবাদ কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রকাশ করানোই মূলত কগনিটিভ সায়েন্সের কাজ । সায়েন্সের বেশিরভাগ বিভাগই পর্যবেক্ষণ উপযুক্ত ঘটনার উপর দৃষ্টিপাত করে, অন্যদিকে কগনিটিভ সায়েন্স কিন্তু আভ্যন্তরিক ও মানসিক ঘটনার কারন আবিস্কার করে থাকে ।
রিপ্রেজেনটেশন বা প্রতিরুপই হলো কগনিটিভ সায়েন্সের মূল । ধারণা (concept), প্রস্তাব (proposition), নিয়ম (rule) ও ঔপম্য (analogy) হলো চার শ্রেণীর প্রতিরুপ । যেখানে ধারণা একটা সত্তা নিয়ে কাজ করে, প্রস্তাব মূলত বিবৃতি, নিয়ম বিভিন্ন প্রস্তাবের মাঝের সম্পর্ক বিশ্লেষন করে এবং ঔপম্য একই ধরণের বিভিন্ন কাজের তুলনা করে থাকে ।
মন রিপ্রেজেনটেশনের অনেক ধরণের কম্পিউটেশন করে থাকে । বিভিন্ন ধরণের কাজে (অপারেশান) বা তথ্যের উপর ভিত্তি করে এদের শ্রেণীবিভাগ করা যায়, যেমন : ভাব (সেনসেশান), উপলব্ধি (পারসেপশান), মনোযোগ (এটেনশান), স্মৃতি (মেমরি), ভাষা, যুক্তিতর্ক, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি ।
সমালোচকরা কগনিটিভ সায়েন্সকে অনেকগুলো চ্যালেন্জ ছুড়ে দিয়েছে যার মাঝে আবেগ, সচেতনতা, সামাজিক ও গণিত বিষয়ক উল্লেখযোগ্য ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নাফিস ইফতেখার বলেছেন:
এ পোস্টটির জন্যই অধীর আগ্রহ নিয়ে সারাদিন মনিটর সম্মুখে উতলা হয়ে বসে ছিলাম..........
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নাফিস । এতো অল্পে কগনিটিভ সায়েন্সের মতো বিশাল সাবজেক্টের বলতে গেলে কিছু লিখতে পারিনি, শুধুমাত্র সবাইকে একটা ধারণা দেয়ার চেষ্ঠা করেছি মাত্র ।
তারপরেও আমার ধারণা ছিল লিখাটা অনেক বোরিং লাগবে সবার কাছে । আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো ।
হাসিব বলেছেন:
আম্রা জানলাম ও বুঝলাম যে আপনে অনেক বড় কেলাসের পড়লেখা করতেছেন ও সেইটা করতে গিয়া ফাটায়া ফেলতেছেন ।
লেখক বলেছেন: বড় কেলাশের পড়ালেখার কিছুই নারে ভাই । বিষয়টি নিয়ে কেন পড়ছি তা বুঝানোর জন্যেই ঔটা বলা । তাছাড়া এত্তোগুলো এসাইনমেন্ট শেষ করাটা বেশ কঠিন কাজই বটে ।
ঘুম নাই বলেছেন:
আরো বিস্তারিত লিখুন, প্লীজ। আর একটু সহজ করে লিখলে ভাল হয়।
লেখক বলেছেন: আরও বিস্তারিত লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু পাঠকদের কাছে কতটুকু গ্রহনযোগ্যতা পাবে তা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম বলেই ছোট আকারে একটা প্রাথমিক ধারণা দিলাম । পরবর্তি ব্লগে বিস্তারিত লিখবো ভাবছি ।
সহজ করে লেখার চেষ্ঠা করেছিলাম কিন্তু ইংলিশ শব্দগুলোর বাংলা করতে গিয়ে একটু কঠিন হয়ে গিয়েছ ।
হাসিব বলেছেন:
হমমম ... কত্ত কঠিন সেইটা আমি আমার কলেজের পড়ালেখা দিয়েই বুঝি । বহুত পেরেশানি এইসব এ্যাসাইনমেন্ট করাতে । ইনভার্সিটিতে উঠলে কি যে হবে আমার লেখক বলেছেন: কলেজে পড়ছো জেনে তুমি করে বলছি । পড়ালেখা অবশ্যই একটা কঠিন কাজ । আমার কিন্তু কোর্ষটা না করলেও হতো কিন্তু নতুন কিছু শেখার মজার জন্যেই করছি । আর সেজন্য একটু কষ্ঠতো করতেই হবে ।
তুমিও ভার্সিটিতে উঠলে দেখবে তোমার মেজর সাবজেক্টে হয়তো তোমার কাছে ইন্টারেসটিং লাগে এমন কিছু সবজক্ট পড়ানো হচ্ছে না । তখন ওগুলো শিখে নিলে অনেক প্রশান্তি পাবে মনে ।
লেখক বলেছেন: হাসিব ভাই আমি মনে হচ্ছে আপনার কথার ভুল বুঝে ভেবেছি আপনি এখন কলেজে পড়ছেন । সরি বস, কিছু মনে করবেন না প্লীজ।
ঘুম নাই বলেছেন:
সহজবোধ্য করতে উদাহরণের সাহায্য নিন এ্যাসাইনমেন্টের সরাসরি বাংলা অনুবাদ না করে। ধারণা, প্রস্তাব, নিয়ম, ঔপম্য-প্রতিটিই ব্যাখ্যার দাবি রাখে। ধন্যবাদ। +দিলাম চেষ্টার জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার সাজেশানের জন্য । আমার এসাইনমেন্টে বেশ কিছু উদাহারণ ব্যবহার করেছি । সেগুলো বলতে গেলে অনেক বড়ো হয়ে যেত । তবে পরবর্তী ব্লগে অবশ্যই বিস্তারিত লিখবো ।
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
সময় নিয়েই না হয় লিখুন। আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু হলে লোকে পড়বে না কেন?
লেখক বলেছেন: ব্লগে সাধারণত লিনাক্স, ভাইরাসজনিত সমস্যা, কম্পিউটার ব্যবহারের টিপস, কিছু জীব বিজ্ঞান সম্পর্কিত লেখা ছাড়া খুব একটা সায়েন্স বিশয়ক লেখা দেখিনা বলেই আমার ধারণা হয়েছিল সবার কাছে বোরিং লাগবে লেখাটা । কিন্তু আপনাদের কমেন্ট পেয়ে বুঝলাম আমার লজিকাল রিজনিং ভুল ছিল ।
আপনার যুক্তি একদম সঠিক । একটু আগে পড়ছিলাম কগনিটিভ সাইকোলজির মাইন্ড বডি ডিবেট, এটা নিয়েও একটা সুন্দর ব্লগ লিখা যায় ।
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
হাসিব ভাইয়ের রিপ্লায়ের জন্য তীর্থের কাকের মত বসে আছি লেখক বলেছেন: হাসিব ভাই কি কলেজে পড়েন না ? আমিতো ভেবেছি উনি কলেজে পড়ছেন এখন । ভুল করে ফেল্লাম নাকি ভাই ?
ঘুম নাই বলেছেন:
মাইন্ড-বডি ডিবেট ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। শব্দের বাংলা করতে গিয়ে যে সমস্যা হয়, সেটার জন্য সম্ভবত প্রযুক্তিবিষয়ক লেখার চর্চা সীমাবদ্ধ হওয়ায়। ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'একটুখানি বিজ্ঞান' বইটি দেখতে পারেন। কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়েও সেখানে বেশ স্কুলছাত্রদের বোঝার মত করে লেখা হয়েছে। হয়তো বিষয়ের খুব গভীরে যাওয়া কঠিন হবে, কিন্তু একটা প্রাথমিক ধারণা দেয়া যাবে। প্রাথমিল ধারণা হয়তো আরো অনেককে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানতে কৌতুহলি করে তুলবে। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনার সাথে একদম সহমত । বই, গবেষনা প্রবন্ধগুলো যখন ইংলিশেই পরি তখন বাংলায় তা প্রকাশের সময়েই কিন্চিত সন্দেহ থাকে মনে, সঠিক বাংলা হচ্ছে তো ?
জাফর স্যারের বইটির কোন ইলেকট্রনিক ভার্সন থাকলে কাইন্ডলি লিংকটা দিয়েন । বইটি পেলে অবশ্যই এক বসাতেই পড়ে ফেলব ।
ঘুম নাই বলেছেন:
**শব্দের বাংলা করতে গিয়ে যে সমস্যা হয়, সেটার কারণ সম্ভবত প্রযুক্তিবিষয়ক লেখার চর্চা কম হওয়ায়।****প্রাথমিক**
ঘুম নাই বলেছেন:
**শব্দের বাংলা করতে গিয়ে যে সমস্যা হয়, সেটার কারণ সম্ভবত প্রযুক্তিবিষয়ক লেখার সীমিত চর্চা। ****প্রাথমিক**
ঘুম নাই বলেছেন:
বইটির ইলেক্ট্রনিক ভার্সন পেলাম না। ভাবছি বইটির কিছু কিছু আর্টিক্যাল স্ক্যানিং করে শেয়ার করার কথা। কপিরাইট আইন কি বলে?
লেখক বলেছেন: স্যারের অনুমতি ছাড়া স্ক্যান করাটা মনে হয় উচিৎ হবেনা । আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে খুঁজে দেখার জন্য ।
ভাল থাকবেন সবসময় ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য । পরের লিখাটা বিস্তারিত লিখবো ।
লেখক বলেছেন: উনার মন্তব্য পেয়ে আমি সত্যিই কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম ।
অ্যামাটার বলেছেন:
কোর্সে কি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উপর কোনও টপিক অন্তর্ভূক্ত? থাকলে বিস্তারিত জানাবেন?
লেখক বলেছেন: কোর্সটার পুরো টাইটেল হলো ইন্টিলিজেন্ট টেকনোলজি অফ দি ফিউচার - কগনিটিভ সায়েন্স । 7.5 ECTS ক্রেডিট হলো কগনিটিভ সায়েন্স আর বাকি 7.5 ECTS ক্রেডিট ইন্টিলিজেন্ট টেকনোলজি ।
ইন্টিলিজেন্ট টেকনোলজিতে মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের রুল বেইজড সিস্টেম, ফাজি লজিক, আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক, ইভলুশনারি এলগরিদম, হাইব্রিড ইন্টিলিজেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি পড়ানো হয় ।
Artificial Intelligence: A Guide to Intelligent Systems By Negnevitsky বইটার চ্যাপটার ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ পড়তে হবে ।
আরও কিছু জানতে চাইলে অব্যশই জানাবেন ।
লেখক বলেছেন: অব্যশই = অবশ্যই
রাজর্ষী বলেছেন:
খুবই ভালো লাগলো। লিখতে থাকেন। কগনিটিভ সাইন্স সম্পর্কে যা জানা আছে সব লিখুন। আমরা পর্তে চাই এসব।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাললাগার জন্য ।
আপনার আগ্রহের কথা জেনে ভাল লাগল । খুব শীঘ্রই আবার লিখব একটু বিস্তারিতভাবে । পড়বেন কিন্তু ।
এইচ আহমেদ বলেছেন:
Sorry for of topic Discussionধন্যবাদ রোমেল ভাই, আমার ব্লগে সুন্দর পরামর্শ দেওয়ার জন্য
Click This Link
আমি কিন্তু সি জানিনা , আপনি যে বইগুলির উল্লেখ করেছেন তা কি আমার জন্য অর্থাৎ শুধুমাত্র সি ++ জানাদের জন্য প্রযোজ্য কিনা তা যদি উপরের লিংকে গিয়ে জানিয়ে দেন তবে উপকৃত হব।
অনেকদিন থেকেই পোষ্টটা প্রিয়তে এ্যাড করে বসে আছি।
লেখক বলেছেন: আপনাকে অপেক্ষায় রাখার জন্য অনেক সরি । আজ দ্বিতীয় পার্টটা সম্পূর্ণ করলাম, আশা করি আপনার ভাল লাগবে ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার কাছে পোষ্টিটি ভাল লাগার জন্য।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার কাছে পোষ্টিটি ভাল লাগার জন্য।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
সেদিন লুলিয়া স্পেস মাস্টার্স সম্পর্কে ঘাটছিলাম, খুব সম্ভবত কিরুনায় ওদের কোর্সটা করানো হয়। একটা ব্যাপার জানার জন্য অনুরোধ করবো আপনাকে। ২০১০ সালে কি টিউশন ফী ফ্রী থাকবে ওদের?তাহলে এই সাবজেক্ট টার জন্য এ্যাপ্লাই করার ইচ্ছে আছে আমার।
একটু জানাবেন কোনো ডিসিশন হয় কি না! আরো একটা ব্যাপার লুলিয়ার চেয়ে চালমার্স বা কেটিএইচ ভালো হবে নাকি লুলিয়াই যথেস্ট এর জন্য? আমি অবশ্য এটার নাম দেখেছিলাম ইরাসমাস মুন্ডাসে এই ইউনিভার্সিটি এনলিস্টেড!
লেখক বলেছেন: ১। ২০১০ এ টিউশন ফি থাকছে না সুইডেনে
http://www.thelocal.se/19410/20090512/
২। র্যান্কিং অনুযায়ী KTH এবং Chalmers এর অবস্থান লুলিয়া থেকে উপরে । তবে লুলিয়া অবশ্যই একটা ভাল টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি ।
৩। KTH এবং Chalmers বড় দুটি শহর স্টকহোম ও গোথেনবার্গে অবস্থিত বলে পার্টটাইম কাজের সম্ভাবনা বেশী (যদি আপনি করতে চান) ।
৪ । লুলিয়ার Master in Space Science and Technology প্রোগ্রামটা অনেকগুলো ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট প্রোগ্রাম বলে অনেক ভাল । তাছাড়া দ্বিতীয় বছরে স্ট্যানফোর্ডে পড়ার একটা চান্স আছে
।
শুভকামনা রইল আপনার এপ্লিকেশনের জন্য ।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
হাসিব ভাই জার্মানীর উলম থিমা ইকোনমিক্সে মাস্টার্স করছেন। উনি আসলেই বিজ্ঞানের শাখা প্রশাখা মগডালে বসিয়া জ্ঞান আহরন করিয়া বসিয়াছেন!
লেখক বলেছেন: আমিও তো ভাই জার্মানীতেই পড়ছি ।
নো ব ডি বলেছেন:
বুঝতে পরছি না! একটা পান খেয়ে আঁটঘাট বেঁধে বসতে হবে। দয়া করে লিখে যন, থামবেন না। ব্লগে কত্তো আজেবাজে লেখা আসে, আর এতো জরুরি বিষয় না লিখে আপনারা তো দণ্ডনীয় অপরাধ করে যাচ্ছেন!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















