অনেক ভালবাসা
গলা ধরে কাদঁতে গিয়ে
ফিক করে হাসা
বন্ধুত্বের সজ্ঞা কি এভাবে দেয়া যায়?
অথবা এভাবে?
বন্ধু মানে মেঘলা আকাশ
মন খারাপে ছাওয়া
কালো মেঘের ছানা কেটে
তোমার আলো পাওয়া
আমি খুব আড্ডাবাজ মানুষ আমার বন্ধুর কোন অভাব নাই সারাদিন আমাকে ঘিরে হাজারো বন্ধু থাকে। কোন হিসাব নাই কে আসলে কোথা থেকে আসল কিভাবে পরিচিত হল ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার বন্ধু বানের পানির মত হুরমুরিয়ে আসে, আমি বাধা দেইও না। আমার মানুষ বড় ভাল লাগে।
বানের মত আসা বন্ধুরা কেউ কেউ ভেসে যায় বানের পানিতেই। কই আমার সেই ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কলেজের বন্ধু দোলা? কি সুন্দর কবিতা লিখত-
"পারছি না পারছি না আটক
এ আমার জীবন নাটক"
আর আইডিয়ালের মিথিলা? যে ঠিক করছিল ওর চাচাতো ভাই অর্ণবের সাথে আমাকে বিয়ে দিবেই দিবে। অর্ণব আমাদের সমাবয়সীই ছিল। নটরডেমে পড়ত। বেচারা কি লজ্জাটাই না পেয়েছিল! হা হা হা......
শাহীন কলেজের তাকিয়ার সাথে অনেকদিন হৃদ্যতা ছিল। ফোন আসত, আমি ফোন করতাম, আস্তে আস্তে সেটাও ফুরিয়ে গেল। হঠাৎ মনে হল আমি তাকিয়ার ফোন নম্বার হারিয়ে ফেলেছি। মুখস্ত ছিল তাই কোথাও লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি নাই, কবে হারিয়ে গেল মনেও নাই। হায় জীবন!!!
সেদিন বাস স্ট্যান্ডে বাবুনিকে দেখলাম। বাবুনি যে কোথা থেকে ভিকারুননিসা কলেজে পড়তে এসেছিল আজ আর তা মনে নেই, তবু ওর সাথে খুব বন্ধুত্ব ছিল। অনেক শুকিয়ে গেছে ওর চেয়েও শুকিয়েছে ওর ভ্রু জোড়া তাও তো চেনা যায়। ওর সাথে আরও ৪/৫টা মেয়ে একজনকে চিনি বাকিরা অচেনা। আমি একটু এড়িয়ে দূরে দাঁড়িয়ে ওকে লক্ষ্য করতে থাকলাম। হঠাৎ বাবুনিরই আমার দিকে নজর পড়ল। চোখ সরু করে কিছুক্ষন তাকিয়ে স্থান কাল পাত্র বিবেচনা না করে আমাকে জড়িয়ে ধরে নাম ধরে চিৎকার। যেন আমি ওর কলেজের বন্ধু নই, ডীপ কোমায় চলে যাওয়া কোন রোগী যার বেঁচে আসারই কথা না (বাবুনি আবার ডাক্তার কিনা! কে জানে যেই আবেগী মেয়ে!! রোগীদেরও মাঝে মাঝে ঝাপ্পি দেয় কি না)
বাবুনি কলেজের শেষ দিনে আমার স্ল্যামবুকে লিখেছিল,
you join WWF competition. I am confident you will win it. mera dua tumhare saath hay....LOVE U Dosth
প্রাথমিক উচ্ছ্বাস শেষে বলে, দোস্ত তুই দেখি একটুও বদলাস নাই! এই পাগল কে ক্যামনে বলি তোর শুধু ভ্রু শুকাইসে তোর চোখ একটুও শুকায় নাই তাই আমিও আগের মতই আছি।
হায় জীবন! তুমি কতই না সুন্দর!
মুনা ক্লাসে এসে খুব ঘুমাতো আর আমরা খুব জ্বলাতাম। মাছি তাড়ানোর মত করে হাত নেড়ে বলত, "যা না, ঘুমাতে দে। প্লীজ!!" সেই মুনা হারিয়ে গেছে। আমিও আর খোঁজ করি নাই।
"তুই যখন ভার্সিটিতে পড়বি তখন হয়ত তোর সাথে দেখা হবে না। তবে তোর একটা চিত্র আমার মনে হয়। তুই কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে হিল জুতা পড়ে সকালে আগে ক্লাসে যাবার জন্য রাস্তার মধ্য দিয়ে হন হন করে হাঁটছিস। কেউ ডাকলে ভাবটা এমন এখন সময় নাই, জরুরী কাজ আছে। তখন তোকে দেখতে পরলে ভাল হত। ভাল থাকিস।"
মুনা আমাকে এখনও দেখতে আসে নাই। কিন্তু আমি সত্যিই এভাবেই চলি! এতদিন পরে লেখাটা পরে খুব অদ্ভুত লাগছে। মনে হচ্ছে মুনা আসে পাশে কোথাও আছে, আমাকে দেখতে পাচ্ছে। আমি হাটার মাঝে মাঝে থামি। তারপর আপনমনে হাসি। কি পাগল আমি!
পরশু ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম একটা কাজে। একটা পাব্লিকেশনের রেফারেন্স দিয়েছেন কোর্স ইন্সট্রাক্টার। যেহেতু ভার্সিটির পাশেই ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এবং সেদিন বৃহস্পতিবার তাই কালক্ষেপন করার কোন মানে হয় না। আমি আর মুনিব ঢুকছি দেখি পোলাপান অলরেডি এসে পরেছে, শোভন আর বস সৌরভ বের হচ্ছে। কিছু জার্নাল ঘাটাঘাটি করে যখন বের হলাম তখন মীম ঢুকছে। মুনিবকে ঘাড় ঘুড়িয়ে বলতেই যাব দেখ মীমও এসে পড়েছে হঠাৎ মনে হল, আরে! মীমের সাথে আমি শেষ ক্লাস আধা ঘন্টা আগে না আট বছর আগে ২০০২ সালে করেছিলাম, হয়তো তারও আগে হয়তো ক্লাস সিক্সে ২০০০সালে আমি আর মীম এক সেকশনে ছিলাম। ক্লাস নাইনে ২০০৩ সালে মীম আর্টসের সেকশনে চলে যায় আর আমি সাইন্সের। মনে হয় এই তো এই মাত্র। মীমকে জড়িয়ে ধরে কান্না এসে পড়ে "আবার দেখা যদি হল সখা প্রাণের মাঝে আয়"
সামুতে নাকি অনেক বন্ধু হয়। আমারও হয়েছে কিন্তু জন্মদিনের পোষ্টে বাংলা সিনেমার নাটকীয়তাকেও হার মানিয়ে আমি আমার বন্ধু নৈশচারী 'কে খুজে পায়েছি। কলেজের সেই বন্ধু। কত প্রাণের সখী!
কত কথা!! কত্ত আলোচলা!! শেষ কি আর হয়?
"ভাল থাকিস! যেখানেই দেখা হোক না কেন, দেখা হলেই এসে আগে hug করবি। (body spray use করিস তো? )" শূচির লেখা উইশ!
body spray use করি কি না করি যেদিনই যার সাথে দেখা হবে খুব জোরে জড়িয়ে ধরব যেন আত্মার কাছে গিয়ে দেখতে পারিস তোদের কোথায় রেখেছি!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



