এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল আমার পিচ্চিকালে মানে ছোটবেলায়। যখন কিন্টারগার্ডেনে প্লে-গ্রুপে পড়তাম, তখন সবসময় আমি ক্লাসে কেঁদেই চলতাম। কাঁদার সময় উক্তি গুলো ছিল এ ধরনের-
বাসায় যাব। আম্মুকে দেখবো, ভাইয়া তুমি কোথায়? এ..এই...এইসব আর কি!
তবে আমার ছোট ভাই মানে আমার সেজ ভাই সবসময় স্কুলের আশেপাশেই থাকতো। আমি পরিবারের ছোট ছেলে বলে, খুব বেশেই নাদুস নুদুস ছিলাম, তাই স্কুলে ও আদরের কোন কমতি ছিল না।
আমার কান্নার জন্য একটি মেয়ে প্রায়ই বিরক্ত হতো, ওর নাম ছিল অনন্দিতা। মাঝে মধ্যে আমাকে ওর ছোট মগজে বোঝাবার চেষ্টা করতো।
কাঁদতে কাঁদতেই কিভাবে যেন ক্লাস ওয়ানে উঠে গেলাম। অনন্দিতার সাথে তখন আমার চমত্কার প্রতিযোগীতার সম্পর্ক, সবার মুখেই তখন আমার আর ওর প্রশংসা, আর পিচ্চিকালের সম্পর্ক যেমন হয় অনেকটা ছোঁয়াছুয়ি খেলার মতো।
একদিনের ঘটনা আমি, উজ্জল এবং সোহাগ টেনিস বল দিয়ে কিছু একটা খেলছিলাম। দূরে দাড়িয়ে অনন্দিতা এবং তাম্মানা আমাদের খেলা দেখছিল। খেলতে খেলতে বলটা চলে গেল স্কুলের বাউন্ডারীর সীমানায়। যেখানে বলটি পড়েছে সেই জায়গাটি খেলার মাঠ থেকে দেখা যায় না। আমি বল খুঁজছি, ঠিক সেই সময় সেখানে অনন্দিতা উপস্থিত, সে আমার শার্ট ধরে বললো,
- আমি তোমাকে ভালবাসি। এবং সাথে একটি গোলাপও ধরিয়ে দিল।
ভালবাসার সেই অর্থটা আমি তখন যতটা বুঝতাম তার চেয়ে নিশ্চয়ই বেশী বুঝতো অনন্দিতা। আর তাইতো সেই ঘটনাটি আমি উজ্জলকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে বলে দিয়েছিলাম।
আমাদের প্রিন্সিপাল ছিলেন রাগী মানুষ, বড় ভাইয়েরা তার ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকতো। এই ঘটনাটি তাকে বলার পর আমরা স্যারের মুখে প্রথম হাসি দেখেছিলাম। স্যার ক্লাসে আসলেন, এসে যা বলেছিলেন তা এখন সব মনে নেই, তবে একটা কথা মনে আছে তা হলো,
- মানুষইতো মানুষকে ভালবাসে। তোমরা তোমাদের বন্ধুকে ভালবাস না?
আস্তে আস্তে যখন আরেকটু বড় হলাম বন্ধুরা আমাকে সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষেপাতে চেষ্টা করতো, তখন আমার শুধুই হাসি পেত, আমি হাসতাম অনন্দিতার দিকে তাকিয়ে আর অনন্দিতা খুবই লজ্জা পেত।
আমরা দুজনই পরবর্তীতে স্কুল পরিবর্তন করি, এখন সে কোথায় আছে আমি জানি না। তবে জানি, এখনও এই ঘটনা মনে করলে সে লজ্জা পাবে, কিন্তু আমার সবসময়ই হাসি পায়;
হা! হা! হা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

