রাশিয়ার কমিউনিস্টদের নিয়ে অনেক কৌতুক প্রচলিত আছে। এরকম মজার মজার কিছু কৌতুক, সময় কাটানোর জন্য।
(১)
সোভিয়েত ইউনিয়নের একদল শ্রমিক প্রতিনিধি গেছে আমেরিকায়।
উদ্দেশ্য, মোটরগাড়ি কারখানা পরিদর্শন করা, সেখানকার ওয়ার্ক কালচারের হাল হকিকত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া। মার্কিন গাইডকে প্রশ্ন করলেন এক শ্রমিকঃ
-- এই কারখানার মালিক কে?
-- ফোর্ড।
-- আর এই কারখানার সামনে পার্ক করা অতগুলো দামী গাড়ি কার?
-- কারখানার শ্রমিকদের।
এবার আমেরিকার শ্রমিক প্রতিনিধিদল ফিরতি সফরে গিয়েছে সোভিয়েত দেশের গাড়ি তৈরির কারখানা দেখতে। রুশ গাইডকে এক কারখানার শ্রমিকের প্রশ্নঃ
-- এই কারখানার মালিক কে ?
-- কারখানার শ্রমিকরা।
-- আর কারখানার সামনে দাঁড় করানো ওই দামী গাড়িটা কার?
-- কারখানার ডিরেক্টরের।
(২)
বাবা, মোরগ কেন ডাকে? - শিশু পুত্রের সরল জিজ্ঞাসা।
“কেউ মিথ্যা কথা বললেই মোরগ ডেকে ওঠে”, রাশিয়ান পিতা উত্তরের ছলে ছেলেকে নীতিশিক্ষা দেবার চেষ্টা করেন।
“তাহলে খুব ভোরে সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন এক সঙ্গে এত মোরগ ডাকে কেন?”
“কারন তখন প্রাভদা, ইজভেস্তিয়া এরকম অনেক পত্রিকা ছাপা হয়, এজন্য!”
(৩)
স্থানঃ পেত্রোগ্রাদ। কালঃ ১৯১৭ সাল। পাত্র-পাত্রীঃ এক দঙ্গল বিপ্লবী ও সাধারন নাগরিক।
রাস্তাঘাটে বিপুল হইচই শুনে এক বৃদ্ধ তাঁর দাসীকে পাঠালেন ব্যাপার কি জেনে আসতে। - সে ফিরে এসে খবর দিল বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে!
-- বিপ্লব, আহা কি দারুন ব্যাপার! আমার বাবাও বিপ্লবী ছিলেন। কী ভালোই না লাগছে শুনতে। তা, এই বিপ্লবীরা কি চাইছে?
-- চাইছে দেশে যেন কোন ধনী না থাকে।
-- আর আমার বাবা চাইতেন, দেশে যেন কোন গরীব না থাকে।
(৪)
স্তালিনের চুরুট গেছে হারিয়ে। ঘটনা ঘটেছে সকালবেলায় । সন্ধ্যের মধ্যেই মিলিশিয়া গ্রেপ্তার করছে শ-খানেক লোককে। ইতোমধ্যেই ক্রেমলিনের ঝাড়ুদার চুরুট খুঁজে পেয়েছে ডিভানের তলায় এবং স্তালিনের হাতে সেটা তুলেও দিয়েছে। স্তালিন তখন ফোন করলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেঃ
-- আর কষ্ট করতে হবে না । চুরুট খুঁজে পাওয়া গেছে ।
-- কিন্তু স্যার আমরা কি করি এখন? যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই স্বীকার করেছে যে তারাই চুরুট চুরি করেছে ।
-- কী? এখনও একজন স্বীকার করে নি? তবে চালিয়ে যান তদন্ত!
(৫)
নিক্সন জানতে চাইলেন ঈশ্বরের কাছেঃ
-- আমেরিকানরা কবে পুরোপুরি সুখী হবে?
ঈশ্বর জানালেন আরও ৫০ বছর বাদে।
-- ততদিন কি আর বেঁচে থাকব, আক্ষেপ করে বললেন নিক্সন।
পম্পিদু জিজ্ঞেস করলেন ঈশ্বরকেঃ
-- কবে পুরোপুরি সুখী হবে ফরাসীরা?
ঈশ্বর জবাব দিলেন আরও ৮০ বছর লাগবে।
ততদিন কি আর বেঁচে থাকব? পম্পিদুর গলাতেও আক্ষেপের সুর।
ব্রেঝনেভ প্রশ্ন করলেন ঈশ্বরকেঃ
-- সোভিয়েত দেশের মানুষ কবে সুখে শান্তিতে থাকবে ?
-- ততদিন কি আর বেঁচে থাকব? আক্ষেপের সুরে বললেন স্বয়ং ঈশ্বর!
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



