(৬)
একবার শুয়োরের ফার্ম পরিদর্শনে গেছেন ক্রুশ্চেভ। প্রাভদা ইজভেস্তিয়া প্রভৃতি প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকরা গেছেন ওই ঘটনা ‘কভার’ করতে। নানান ভঙ্গিমায় ক্রুশ্চেভের প্রচুর ছবি তোলা হয়েছে। তাঁর বাঁ দিকে শুয়োর, ডান দিকে শুয়োর।
যথারীতি রাতে সংবাদপত্রের এডিটর, নিউজ এডিটরের টেবিলে জমা পড়েছে সেই সব ছবি। কিন্তু ছবির ক্যাপশন কী হবে? কেউ পরামর্শ দিলেন, ‘শুয়োরদের মাঝখানে কমরেড ক্রুশ্চেভ’
-- এ ক্যাপশন কেমন হয়?
-- চলবে না। এডিটর তৎক্ষনাৎ খারিজ করে দিলেন।
-- ‘তাহলে শুয়োর পরিবেষ্টিত কমরেড ক্রুশ্চেভ?’
-- না তাও চলবে না। বললেন নিউজ এডিটর। ক্যাপসানে শুয়োর কথাটা থাকলে চলবে না।
পরের দিন পত্রিকা প্রকাশিত হল। প্রথম পাতায় সেই ছবি। ছবির নিচে ক্যাপসন।
‘কমরেড ক্রুশ্চেভ -- বাঁ দিক থেকে চতুর্থ।’
(৭)
রাজনীতি শিক্ষার ক্লাস চলছে। তরুন শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছেন প্রবীন কমিউনিস্ট নেতাঃ
-- সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে ব্যবসা করে বেশ লাভবান হচ্ছে। যেমন ধর,রুমানিয়া মাটি পাঠায় আমাদের। সেই মাটি দিয়ে খেলনা হুইসল বানিয়ে আমরা পাঠাই মঙ্গোলিয়া। সেখানকার রাখালেরা ভেড়া চড়ায় ওই হুইসল বাজিয়ে।
-- তারপর মঙ্গোলিয়া কি আমাদের ভেড়ার মাংস আর চামড়া পাঠায়?
-- না, মাংস তারা নিজের খায়, আর চামড়া পাঠায় বুলগেরিয়ায়। সেই চামড়া দিয়ে বুলগেরিয়া বানায় গরম কোট।
-- ওই কোটগুলো বুলগেরিয়া নিশ্চই আমাদের পাঠায়?
-- না, রুমানিয়ায় পাঠায়।
-- আর রুমানিয়া থেকে আমরা কি পাই?
-- ওই যে, শুরুতে বললাম, মাটি!
(৮)
নৌবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চেকোস্লোভাকিয়া। সোভিয়েত উপদেষ্টার কাছে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইতেই তিনি প্রশ্ন করলেনঃ
-- নৌ-বাহিনীর কি দরকার আপনাদের? আপনাদের তো সমুদ্রই নেই।
-- তাতে কি? চেক কতৃপক্ষের তুখোড় জবাব, আপনাদের দেশে আইন ও বিচার মন্ত্রনালয় কেন আছে তা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলেছি কখনও?
(৯)
স্থানীয় সংবাদপত্রের এক সম্পাদক তাঁর সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করেছিলেন, সুপ্রিম সোভিয়েতের নেতারা বদ্ধ পাগল। স্তালিনের হুকুমে কেজিবির লোকেরা সম্পাদককে ধরে নিয়ে যায় এবং অবিলম্বে তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছিল।
আমেরিকায় বেড়াতে গিয়ে এক সোভিয়েত নাগরিক তাঁর মার্কিন বন্ধুকে এই কাহিনীটি বলেছিলেন। তাজ্জব হয়ে মার্কিন বন্ধু বললেনঃ
-- এ তো ভয়ঙ্কর ব্যাপার! এত তুচ্ছ কারনে মৃত্যুদন্ড?
সোভিয়েত দেশের মানুষটি উত্তেজিত হয়ে বললেনঃ
-- তুচ্ছ কারন বলছেন এটাকে? জানেন ওই সম্পাদক আসলে রাষ্ট্রের গুপ্তকথা ফাঁস করে দিয়েছিলেন।
স্টেট সিক্রেট ফাঁসের এই অভিনব আখ্যান শুনে মার্কিন বন্ধু গভীর দুঃখের সাথে মাথা নেড়ে বলেছিলেনঃ
-- যাই বলুন, আমাদের দেশে সকলেরই সব কিছু বলার স্বাধীনতা আছে। নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার এতটুকু খর্ব করা হয় নি আমেরিকায়। ইচ্ছে করলেই আমি হোয়াইট হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে পারি - আইজেন হাওয়ার নিপাত যাক।
সোভিয়েত নাগরিক অবাক হয়ে বললেনঃ
এতে এত গর্ব করার কি আছে? আমিও তো যখন তখন মস্কোর রেড স্কোয়ারে দাঁড়িয়ে বলতে পারি - আইজেন হাওয়ার নিপাত যাক।
(১০)
মানুষের সুখের রকমফের-
কাজের শেষে ঘরে ফির এল জার্মান। বউ তাকে খেতে দিল ঝলসানো মাংস আর বিয়ার । ডিনার করে সে শুয়ে পড়ল বউকে জড়িয়ে ধরে। তারা সুখী।
কাজকর্ম সেরে ইংরেজ ফিরে এল সন্ধ্যাবেলায়। স্ত্রীর সঙ্গে ডিনার করে কুকুরকে নিয়ে একটু বেড়াতে বেরোল সে। তারপর ফিরে এসে বউকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল সে। তারা সুখী।
হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে বাড়ি ফিরল ফরাসি। বউকে ঘরে পেল না। এক বোতল শ্যাম্পেন নিয়ে সে চলল প্রেমিকার কাছে। তারা সুখী।
কাজের শেষে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার মিটিঙে বাধ্যতামূলক হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরল রুশ দম্পতি-- ইভানভ আর ইভানভা। বেশ একচোট ঝগড়া হল দু’জনের মধ্যে। ডিনারের প্রশ্নই ওঠে না। কারণ ঘরে খাওয়ার মতো কিছু নেই। তাই পরস্পরের দিকে পিঠ ফিরিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল তারা। মাঝরাতে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।
-- কে ?
-- আমরা কেজিবি থেকে আসছি। দরজা খুলুন।
দরজা খুলতে জনাদশেক লোক ঢুকল। নেতা গোছের একজন প্রশ্ন করলঃ
-- আপনারা পেত্রোভ আর পেত্রোভা তো? গ্রেপ্তার করা হল আপনাদের।
-- ভুল করছেন। আমরা পেত্রোভ আর পেত্রোভা নই, আমরা ইভানভ আর ইভানভা। পেত্রোভরা থাকেন উপরের ফ্ল্যাটে।
দুঃখিত বলে কেজিবির লোকজন চলে গেল। একটু পরে ইভানভ আর ইভানভা জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখল পেত্রোভ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে কেজিবি। গাড়ির দরজা বন্ধ হতেই শুয়ে পড়ল ইভানভ আর ইভানভা।
তারা সুখী !
চলবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



