(১১)
শ্রমদিবসের প্যারেডে হাজিরা দেওয়ার জন্য রাবিনোভিচকে ডাকা হয়েছে কারখানার পার্টি শাখায়। তাঁকে বলা হলঃ
-- এই কারখানার সবচেয়ে প্রবীণ শ্রমিক হিসেবে আপনাকে কমরেড চেরনেনকোর প্রতিকৃতি বহনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবাদ জানিয়ে রাবিনোভিচ বললেনঃ
-- না কমরেড আমাকে এই দায়িত্ব দেবেন না। লেনিনের প্রতিকৃতি নিয়ে প্যারেডে গিয়েছি, লেনিন মারা গেছেন। গিয়েছি স্তালিনের ছবি নিয়ে, মারা গেছেন স্তালিনও। ক্রুশ্চেভের প্রতিকৃতি নিয়ে গিয়েছি, তিনিও গেছেন পরলোক। ব্রেঝনেভের ছবি নিয়েছি, তিনিও বিদায় নিয়েছেন পৃথিবী থেকে। আর এই তো ক’দিন আগে বহন করেছি আন্দ্রোপভের প্রতিকৃতি। তিনিও আজ আর এই ধরাধামে নেই।
পাশ থেকে এক শ্রমিক খুশি হয়ে প্রস্তাব দিলঃ
-- শুধু চেরনেনকোর প্রতিকৃতিই নয়, কমিউনিজমের লাল পতাকাও তাকে বহন করতে দেওয়া হোক।
(১২)
এক রাশিয়ান গেছেন ইতালি ভ্রমনে। সেখানে কোদাল কাঁধে এক শ্রমিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হল। রুশ পর্যটক কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলেন,
-- সপ্তাহে ক’দিনের কাজ পাও তুমি?
-- মাত্র দু’দিনের, সিনর!
-- খুবই খারাপ। আচ্ছা কমিউনিস্টরা যদি ইতালির ক্ষমতায় আসে, তাহলে সপ্তাহে ক’দিন কাজ পাবে বলে আশা কর?
-- ওহ সিনর, তাহলে তো আমাকে সাতদিনই কাজ করতে হবে - দিবারাত্র।
-- বাঃ এই জন্যই ইতালিতেও কমিউনিজম দরকার। তা কী কাজ কর তুমি?
-- কবর খোঁড়াই আমার কাজ সিনর!
(১৩)
কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য নেওয়া হচ্ছে। তার জন্য চলছে ইন্টারভিউ।
এমনই এক সাক্ষাৎকারের বিবরনঃ
প্রশ্ন : তোমার মা কে?
উত্তর : সোভিয়েত ইউনিয়ন।
প্রশ্ন : তোমার বাবা কে?
উত্তর : আমাদের মহান নেতা কমরেড স্তালিন।
প্রশ্ন : তোমার সবচেয়ে কাঙ্খিত স্বপ্ন কী?
উত্তর : অচিরেই পুরোপুরি অনাথ হয়ে যাওয়া।
(১৪)
ইতিহাস প্রসিদ্ধ আলেকজান্ডার, জুলিয়াস সিজার এবং নেপোলিয়ন মস্কোর রেড স্কোয়ারে বসে সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনীর শোভাযাত্রা দেখছেন।
আলেকজান্ডার বললেনঃ
-- এরকম সোভিয়েত ট্যাঙ্ক আমার থাকলে কেউ দাঁড়াতেই পারত না গ্রিক বাহিনীর সামনে।
জুলিয়াস সিজার বললেনঃ
--আমার কাছে সোভিয়েত বোমারু বিমান থাকলে গোটা দুনিয়া জয় করে নিতাম আমি।
-- আর আমার কাছে যদি একটি পত্রিকা থাকত প্রাভদার মতো , বললেন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, তাহলে ওয়াটারলুতে আমার পরাজয়ের কথা বিশ্ব আজও জানতে পারত না।
(১৫)
যৌথ খামার পরিদর্শনে বেরিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ক্রুশ্চেভ। ইচ্ছে খামারের অন্দরমহলটা নিজের চোখে দেখবেন। তাই বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীকে বাইরে রেখে খামরের এক কর্মীর সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দেখছেন। হঠাৎ ম্যানহোলের মুখ খোলা এক সার পচানোর গর্তে পড়ে গেলেন তিনি। খামারের কর্মী কোনও রকমে তাঁকে টেনে তুললেন। মোটামুটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ক্রুশ্চেভ সেই কর্মীকে চুপিচুপি বললেনঃ
-- দ্যাখো, আমি যে গর্তে পড়ে গিয়েছিলাম, সেটা কাউকে বোলো না। দারুন লজ্জার ব্যাপার হবে সেটা।
-- তা বলব না কমরেড ক্রুশ্চেভ। কিন্তু আপনিও ভুলেও কাউকে বলবেন না যে আমিই আপনাকে গর্ত থেকে তুলে বাঁচিয়েছি।
'তাহলে, আমাকে আর আস্ত রাখবে না কেউ!' (মনে মনে বললো কর্মী টি)
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



