(১৬)
রাবিনোভিচ মারা যাওয়ার পর তাকে নরকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হল। যমদূতদের কাছে সে তীব্র প্রতিবাদ জানালো, বললোঃ
-- সোভিয়েত দেশে এত বছর কাটানোর পরেও কি আমার স্বর্গে যাওয়ার সৌভাগ্য হতে পারে না?
-- যে জীবন তুমি সোভিয়েত দেশে কাটিয়ে এসেছো, হে রাবিনোভিচ, যমদূত বলল, তারপর নরকই তোমার কাছে মনে হবে স্বর্গের মতো!
(১৭)
কেজিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে রাবিনোভিচকে।
-- আমাদের কাছে খবর এসেছে, আপনি হিব্রু ভাষা শিখছেন। তার মানে ইজরায়েল যাওয়ার প্ল্যান আছে আপনার।
-- মোটেও না। আমি ধর্মীয় গ্রন্থে পড়েছি, স্বর্গে হিব্রু ভাষায় কথা বলতে হবে ঈশ্বরের সঙ্গে। তাই হিব্রু ভাষাটা শিখে রাখছি।
-- মৃত্যুর পর আপনি স্বর্গে যাবেন, এই ধারনা আপনার হল কোথা থেকে?
-- তা নিশ্চিত করে বলতে পারি না ঠিকই। তবে নরকে যদি যেতেই হয়, তার জন্য রুশ ভাষাটা তো শেখাই আছে!
(১৮)
এক বস্তা রুবল নিয়ে গ্রাম থেকে এক কৃষক এল মস্কো শহরে। শহরে পৌঁছে সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। পুরনো রুবলের বদলে নতুন রুবল কোথায় দিচ্ছে, তার হদিশ অনেক জিজ্ঞাসা করেও কারও কাছ থেকে পেল না। ঘাড়ে ওই ভারি বস্তা নিয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই সে ফুটপাতে তার বস্তাটা রেখে নিজেই খোঁজ নিতে গেল কোথায় মুদ্রা বদলের কাউন্টার খোলা হয়েছে। সব জেনে ফিরে এসে দেখে তার রুবলগুলি সব ফুটপাতে গড়াগড়ি যাচ্ছে, আর বস্তাটা হাওয়া!
(১৯)
যৌথ খামারে জুতোর সরবরাহ এসেছে মাত্র একজোড়া। সেই জুতো জোড়া কাকে দেওয়া হবে তা নিয়ে মিটিং চলছে। অনেকে দীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন। সবার শেষে উঠলেন যৌথ খামারের ডিরেক্টর। তিনি বললেনঃ
--আমি প্রস্তাব করছি, জুতোজোড়া আমাকে দিয়ে দেওয়া হোক। এই প্রস্তাবের পক্ষে যারা, তাঁরা চুপ করে বসে থাকুন। আর সোভিয়েত শাসনব্যবস্থার বিপক্ষে যাঁরা, তাঁরা হাত তুলুন!
(২০)
রাবিনোভিচকে প্রশ্ন করা হলঃ
-- জাতি হিসাবে ইহুদিরা এত আশাবাদী কেন?
-- ইতিহাস আমাদের বাধ্য করেছে আশাবাদী হতে।
-- কি রকম?
-- যেমন ধরুন, মিশরের ফারাওরা যখন ছিল, ইহুদিরাও তখন ছিল। আজ ফারাওরা নেই, কিন্তু ইহুদিরা আছে। ছিল প্রাচীন গ্রীকরা, তখন ইহুদিরাও ছিল। প্রাচীন গ্রিকরা আজ নেই, কিন্তু ইহুদিরা আছে। ছিল রাশিয়ার জার, ছিল ইহুদিরা। আজ জার নেই, কিন্তু ইহুদিরা আছে। স্তালিন ছিল, ইহুদিরা ছিল। স্তালিন নেই, ইহুদিরা আছে। নাসের ছিল, ইহুদিরা ছিল। নাসের নেই, ইহুদিরা আছে। এখন আছে কমিউনিস্টরা, আছে ইহুদিরা।
-- আপনি কি কিছু ইঙ্গিত করতে চাইছেন?
-- মোটেও না। আমি শুধু বলতে চাই, আমরা ফাইনালে উঠেছি।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৮ সকাল ১০:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



