জীবনে কোনদিনও গুডি বয় ছিলাম না। আমরা ছয় জন জীগরি দোস্ত স্কুলের শেষ দুইটা বেন্চ স্থায়ী বন্দোবস্ত সূত্রে বসতাম। একসাথে চলা ফেরা ছিলো। একটা ছেলে সিক্স মাস্কেটিয়ার ডাকতো। বন্ধুগো লাইগা জীবন দিতে পারতাম।
ক্লাস নাইনে থাকতে আমি একবার একমাইয়ার সাথে ফাইজলামী করছিলাম। ঐ ছেড়ীর দামড়া ভাই পড়তো টেনে। পরেরদিন ঐ দামড়া পুলাপাইন নিয়া আমারে না পায়া মইনূলরে ধইরা ধোলাই দিতেছিলো। আমরা দূর থাইকা দেইখাই চেলা কাঠ নিয়া হাজির আর একশন। শুধু মাইরই দেইনাই। সমান তালে খাইছিও।
একবার পরীক্ষা চলতাছে। মইনূল আর আমি খারাপ ছাত্র হওয়ায় তারাতারি খাতা জমা দিয়া রুমের বাইরে দাড়ায়া আছিলাম। হটাৎ দেখি একবার শফিক নকলসহ ধরা খাইছে। স্যার ওরে দাড়া করায়া মাইর শুরু করবো এমন সময় মইনূল দৌড়ায়া রুমে ঢুইকা স্যাররে কইলো "হেডস্যার আপনাকে এখনই যাইতে কইছে, খুব জরুরী"। স্যার তড়িঘরি কইরা বাইরাইতেই আমরা দে ছুট।
সেই শফিক আজ মইনূলের সাথে কথা কয় না। মইনূল আমার সাথে কয় না। আমি নাকি ওর সাথে ভাল বিহেইব করি না। আমি হাফিজের সাথে আর চলি না। ও আমারে টাকা ধার দেয় নাই। হাফিজ হারুনের শত্রু। হেয় হারুনের বইনরে পছন্দ কইরা ফালাইছিলো। আর শান্ত তো বিদেশ। ফোন করতে অনেক টাকা লাগে। তাই ইচ্ছা থাকলেও কথা কই না।
অবশ্য এর মাঝে আরও ফ্রেন্ড হইছে। আড্ডাও চলে। কিন্তু প্রানের কথা কইতে পারি না। আসলে কি একটা বয়স পর আর মনের মিল হয় না। অনেকদিন প্রেমের ঠেলায় বন্ধুর প্রয়োজনীতা অনুভব করি নাই। তবে এখন যে খুব একটা প্রয়োজন মনে করি তাও না। শুধু মাঝ রাইতে ঘুমাইতে যাওয়ার আগে গরুর মত স্মৃতিগুলা চাবানীর সময় বুকের মাঝে একটু খালি খালি লাগে। মনে হয় গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


