মাহবুব সুমনের এক পোস্টে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মদন। প্রশ্নটা আগে তুলেছে ত্রিভুজ। এই ত্রিভুজ, জামাতে ইসলামীর পে রোলে যে তার মতো আরো কজন বেতনভোগী শিবির কর্মী নিয়ে আমাদের স্বাধীনতার অর্জনগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস নেয়। তারা জাতীয় সংগীত নিয়ে প্রশ্ন তোলে, প্রশ্ন তোলে আমাদের নিহত স্বজনদের সংখ্যা নিয়ে, ধর্ষিতা নারীদের নিয়ে, সর্বোপরি এই পাপে তাদের পূর্বপুরুষদের সম্পৃক্ততা নিয়ে। স্বাধীনতাকে মূল্যহীন প্রমানেই তাদের যাবতীয় স্বার্থকতা।
আমার খুব শখ এই অর্বাচীনদের ব্লগগুলো প্রকাশ করি ছাপার অক্ষরে। তারপর সেগুলো বিলি করি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়। এদেশের শিক্ষিত সমাজ দেখুক কিভাবে কিছু কূপমণ্ডুক সামহোয়ারইনের মতো একটা জায়গায় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী অপপ্রচার চালায়। কি অন্ধকার যুগে তাদের বসবাস। কি ধৃষ্টতায় তারা এসব চালিয়ে যায়।
জাতীয় পতাকা আমাদের পটুয়া কামরুল হাসানের অনবদ্য এক ডিজাইন। ৩ জানুয়ারি ১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম এ পতাকা তোলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আসম আব্দুর রব। তার আগে পোড়ানো পাকিস্তানের পতাকা। সবুজ জমিনের লাল গোলকে স্বর্ণালী বাংলার মানচিত্র। এই পতাকা বুকে নিয়েই যুদ্ধ করেছে মুক্তিযোদ্ধারা।
পতাকার বদল হয় ১৯৭২ সালে, ১৭ জানুয়ারি। পতাকার মানচিত্র দু'পাশ থেকে দু'রকম দেখায় এবং একরকম করতে গেলে জটিলতার সৃষ্টি হয় বলেই মানচিত্র বাদ দেয়া হয়। সবুজ জমিন ইসলামী নয়, ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রতীক। আমাদের সবুজের প্রতীক। লাল বৃত্ত ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে লাল সূর্য্যের প্রতীক।
১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে সদস্যদেশগুলোর পতাকায় ঠাই পায় এই লাল-সবুজ। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের প্রকাশিত স্টাম্প সিরিজে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ছবি।
এসব জানা কথাও লিখতে হয়, বাধ্য হয়েই লিখতে হয়। ত্রিভুজ আর তার সহ বেতনভোগী প্রতিবিপ্লবীরা যতদিন এই স্বাধীনতার অর্জনের ও তার স্তম্ভগুলোকে নিয়ে নাড়াচাড়া করবে। লিখবই। আমি না লিখি, আর কেউ লিখবে। নিশ্চয়ই লিখবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

