রাজাকার মুক্ত ব্লগ- এই শ্লোগান নিয়ে ২০০৮ সালের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম মাসের সপ্তাহ না পেরুতেই ব্লগ ফের উত্তাল। এর মধ্যে হালনাগাদ ঘটনাটি হচ্ছে ব্লগাধিপতি আরিলের সরাসরি হস্তক্ষেপ। ফ্লাডিংয়ের অপরাধে বেশ কিছু নিক ব্যান এবং প্রথম পাতায় ব্লগাধিকার হারিয়েছে। এক ঘোষণায় বলা হয়েছে- ক্ষমা চেয়ে (মনে হয় নাকে খতের ব্লগীয় পরিভাষা) আবেদন করলেই তাদের নিক ফিরিয়ে দেয়া হবে। কানাঘুষায় শোনা যাচ্ছে এই তড়িত পদক্ষেপের সবচেয়ে বড় শিকার ব্লগবাগানে স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখতে মরিয়া একদল ব্লগার।
এবং এই পদক্ষেপের আগে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একদল সুশীল পোস্ট দিয়েছেন। সবচেয়ে সাড়া জাগানো পোস্টটি দিয়েছেন জনাব মাহবুব মোরশেদ নামে একজন। কারো সাতে পাঁচে থাকেন না বলে ভদ্রলোকে খ্যাতি আছে। উনি কারো পোস্ট পারতপক্ষে পড়েন না নিজেরটা ছাড়া। এবং তার প্রিয় পোস্টের লিংকেও নিজের পোস্ট ছাড়া আর কেউ জায়গা করে নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেননি। এরকম একজন নির্বিরোধী ব্লগার পর্যন্ত সোচ্চার হয়েছেন ব্লগের গুন্ডাদের কাছ থেকে রেহাই চেয়ে। কি আশ্চর্য্য! সেখানে আমাদের মডারেটরদের একজন কমেন্ট করে বলেছেন তারা ব্যাপারটি দেখেছেন।
সেখানে ভার্চুয়াল গুন্ডাগার্দির কাছ থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে আরেকটি ব্যাপারে সচেতন করেছেন জনাব মাহবুব মোরশেদ। সেখানে সামহোয়ারে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তিনি। তার আশঙ্কা, সামহোয়ারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত একটি মহল এই কাজ করছে। ইঙ্গিতটা সচালয়তন নামে একটি রাইটার্স ফোরামের দিকে- যেখানে তার মানের লেখককে ফালতু বলে উপেক্ষা করা হয়েছে। মাহবুব মোরেশেদ ভাসুরের নাম মুখে নিতে শরমিন্দা বধুর মতোই ভার্চুয়াল গুন্ডাদের নাম নিতে যেমন অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তেমনি মুখে নেননি সচলের কথাও। তবে ঠারেঠোরে বুঝিয়েছেন সেখানকার ব্লগাররা বিভিন্ন নিকে সামহোয়ারের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। মাহবুব মোরশেদ তার সাড়া জাগানো পোস্টে যে হিট এবং পিঠচাপড়ানি পেয়েছেন সেটা কিভাবে বাধিয়ে রাখা যায় এনিয়ে উনার ঘুমহারাম হওয়ারই কথা-এতো বিশাল অর্জন!
এরপর আরেক প্রতিক্রিয়াশীল ব্লগার সন্ধ্যাবাতি সরাসরি সচলায়তনের নাম নিয়েছেন। তার পোস্টে মন্তব্যকারীদের সরাসরি চার্জও করেছেন- আপনিতো সচলে লেখেন। সামহোয়ার নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন! তারপর আরিল মহাদয়ের পোস্ট। সেখানে রাগ ইমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফ্লাডিং কেনো হয়েছে। আরিল পাল্টা জানতে চাইলেন কই এমন কোনো পোস্ট তো দেখলাম না। আমি খুজে দেখলাম তাইতো- নাটেরগুরু পোস্ট গায়েব করে দিয়েছেন। মাঝে ফাদে পড়েছে বিপ্লবী কিছু ব্লগার। ফ্লাডিংয়ের একই অপরাধে রাগ ইমনকে ধরার সাহস বগাধিপতির নেই। তাহলে তিনি জানেন চাট্টিবাট্টি গোল কথাটা উদাহরণসহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তিনি ঝিকে মেরে বউ শেখানোর পথ বেছে নিয়েছেন। অথচ সামহোয়ারের ডাটা ঘাটলেই উদ্ধার করা সম্ভব ঘটনা আসলে কি ঘটেছিল।
এই ঘটনাটাই আসলে সামহোয়ারের এই এখনকার বিপদ্দশার একটা ডায়নামিক উদাহরণ হতে পারে। এই ব্লগে আমরা আমাদের নিত্যকার যাপন নিয়ে ব্লগাতে এসেছি। হাত মকশো করতে এসেছি গল্প-কবিতা-দিনলিপির। এসব লেখা হয়তো সাহিত্যমানে উত্তীর্ণ হবে না, সাহিত্য সম্পাদকরা এক নজর দেখে কাগজ মুড়িয়ে ছুড়ে দেবেন ডাস্টবিনে। কিন্তু সমমনাদের আড্ডায় সেটারইতো দারুণ কদর। শুরুতে তাই ছিলো । ব্যাঘাত ঘটালো স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি। একজন ওয়ালী এসে বলেন তার বাবা আলবদর নন, ধোয়া তুলসী পাতা। সেটার প্রতিবাদ হলে উনি বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে মুক্তমনা ব্লগারদের পিটিয়ে মারার হুমকি দেন। একজন ত্রিভুজ ঘোষনা দেন স্বাধীনতার ইতিহাস নিজের মতো করে লেখার। একজন আশরাফ রহমান প্রতিবেশী দেশ ও বিধর্মীদের কুৎসা রটিয়ে ব্লগ গরম করে ফেলেন। এবং সেগুলি রিপ্রোডাকশন হয়। একই পোস্ট আশরাফ রহমানে ছয় মাস পরে আসা হাসান তারিক হুবহু তুলে দেন। স্বাধীনতার শহীদের সংখ্যা, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন এবং শহীদ জননী জাহানারা ইমাম নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট পড়ে বিভিন্ন নিকে। মাহবুব মোরশেদ উদ্বিগ্ন হন, তার ইন্টেলেকচুয়াল পোস্ট না পড়ে লোকজন দেখি রাজাকার নিয়ে ব্যস্ত।
ফলাফল যা হয়েছে, শেখ জলিলের মতো কবি নিভৃতে একটি পোস্ট করে চলে যান। তার নতুন লেখা কবিতা কেমন হলো পাঠকের মতামতের তোয়াক্কা না করেই। তারা আগে দল বেধে সামহোয়ার ছেড়ে লোকে সচলে লিখছে কারণ তারা লিখতে চায়। আমি নিজেই কাঁদি আমার লেখক স্বত্ত্বার অপমৃতুতে। দেশবিরোধী লেখার জবাব দেবার বদলে আমার কবিতা আসবে না। এই অপশক্তিতো এটাই চায়। এতেই তারা সফল। আমাকে শুধু বলেন- সামহোয়ারে নয়া দিগন্তের কপি পেস্ট করা যাবেনা আইন হলে- আওরঙ্গজেব, পাঞ্জেরী, আমি রাজাকার কি নিয়ে লিখবে। সামহোয়ারে জামাত-শিবিরের ম্যানুয়েল কপিপেস্ট বন্ধ হলে নিপু পাওয়ারফুল, আলমগীর আহসান, হলদে ডানা, বিবেক সত্যি কি লিখবে? মওদুদীর তাফসির বয়না বন্ধ হলে কোথায় যাবে ফজলে এলাহী। স্বাধীনতা বিরোধী লেখা বন্ধ হলে- ত্রিভুজ, আশরাফ রহমান, হাসান তারিকদের কি হবে? খোদা তো এদের মৌলিক কিছু লেখার ক্ষমতা দেননি। নিজেরা পারে না, অন্যদের সে ক্ষমতায় বাদ সাধতেই তাদের অস্থিতিশীলতার মিশন। সামহোয়ার কি এসব জানেন না? জানে। কিন্তু কয় হাজার হিটে কয় ক্রোনারের অঙ্কে তাদের টিকি বাধা।
একটা চ্যালেঞ্জ- সাতদিন আরিল। সাতদিন আপনি বিশেষ নীতিমালা করে স্বাধীনতা বিরোধী নিক এবঙ তাদের পোস্ট বন্ধ রাখন। সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সামহোয়ারের চেহারা যদি না ফিরে, আমি অমি রহমান পিয়াল নাকে খত দিয়ে আপনার গুলশান অফিসে ঢুকব। জিভ দিয়ে চেটে চকচক করে দিয়ে আসব আপনার জুতো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

