somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধুই কি দেয়াল লিখন?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইলেকশন আসলে বোঝা যায় ব্যাপারটা। যে কোনো দেয়ালে চাইলেই চিকা মারা সম্ভব না। কারণ দেয়ালেরও দখল থাকে। ছোটো করে ইনিশিয়াল দেয়া থাকে। চিকা মারতে হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অবশ্য রাজনৈতিক চিকাবাজই হয় তারা। পার্টির শ্লোগানই লিখে। জলপাই সরকার আসার পর সেই দখলীস্বত্ত্ব উৎখাত। বাড়ির মালিকরা রং করিয়ে ছোট সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়েছেন- চিকা মারা নিষেধ। কিন্তু তারপরও চিকা পড়ছে। আপাত দৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হতে পারে। একইসঙ্গে তা হতে পারে এক অশনি সংকেতও।

ধানমন্ডী উম্যান কমপ্লেক্সের দেয়ালে প্রথম চোখে পড়ে লেখাটা। MS13- কি নিরীহই না শব্দগুলো। কিন্তু যারা জানে, তারা জানে। আরেকটু এগোতেই এরকম বেশ কটি সীমানা জানান দেওয়া চিহ্ন। মারা সালভাতরুচার কালো হাত তাহলে সাত সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশেও পৌছে গেছে! দুযুগ ধরে নিউইয়র্কে ঠাই গাড়া পিন্টুর মুখে প্রথম শুনেছিলাম এদের কথা। বেশিদিন নয়, মাস দুয়েক আগে।

এমএস থার্টিন। লস এঞ্জেলসে আশির দশকের শুরুতে অভিবাসী সালভাদরিয়ানদের স্ট্রিট গ্যাং। মেক্সিকান গুন্ডাদের হাত থেকে বাচতে গৃহযুদ্ধ পালানো তরুণরা গড়ে তুলেছিলো। ১৩ যোগ হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া জেল মাফিয়ার সম্মানে। লস এঞ্জেলস থেকে এখন গোটা উত্তর আমেরিকার জন্য এক ত্রাসের নাম হয়ে দাড়িয়েছে মারা সালভাতরুচা। '৯৭তে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে গুলি করে মেরে আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় তারা। খোদ আমেরিকার প্রতিটি স্কুলে এদের তৎপরতা। রিক্রুটমেন্টে আছে ৮ থেকে ২০ বছর বয়সীরা। দলভুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখানোর পর সদস্যদের তুমুল মার খেতে হয়। এরপর প্রমাণ করতে হয় নিজের সামর্থ্যের। সেজন্য তাকে মারতে হবে প্রতিপক্ষের কাউকে। পরের কাজ সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহ এবং টাকা কামানো। পিন্টু জানালো তার পরিচিত এক গ্যাংস্টারের কথা। ৯ বছর বয়সে প্রথম সে খুন করে। একমাত্র মৃত্যুই একজন গ্যাংস্টারকে মুক্তি দেয়।

এমএস থার্টিন এলাকা ভিত্তিক সদস্য জোগাড় করে। সে এলাকার দখল নেয়। এবং সেখানে অন্য গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রবেশ নিষেধ। দেখলেই গুলি। পরে কথা। ড্রাগস থেকে শুরু করে কিডন্যাপিং হেন কাজ নেই এমএস থার্টিন করে না। খুন-জখম নিত্যকার অনুষঙ্গ। সবচেয়ে কঠোর তারা ইনফরমারদের ব্যাপারে। নৃশংসভাবে মারা হয় তাদের। গায়ে উল্কি আকাটা এমএস থার্টিন সদস্যদের পরিচয় পত্র। একেক উল্কি একেকটা গল্প বলে। সেইসঙ্গে আছে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ। আমরা হাতের তিন আঙ্গুল মুড়িয়ে ফোন বানিয়ে বাংলা লিংকের যে সাইনটা দেখাই, সেটার উল্টোটা। তর্জনী আর কড়ে আঙুল তুলে বাকি তিন আঙুল মুড়িয়ে ডেভিলস হেড- এমএস থার্টিনের অভিবাদন। আরো নানা ধরনের সংকেত তারা ব্যবহার করে যা শুধু তারাই জানে।

কিন্তু বাংলাদেশে কেনো! ধানমন্ডী এলাকায় প্রচুর স্কুল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। বড়লোকের ছেলেপুলে পড়াশোনা করে। আমেরিকা বেড়াতে গিয়ে দেয়ালে দেখে এসে এখানেও লিখে দেওয়াটা খুবই সম্ভব। কিন্তু যদি না হয়? এমনিতেই ইয়াবার আগ্রাসনে টালমাটাল উচ্চবিত্তদের এই অংশটা। যোগ হয়েছে মোবাইলে মেয়েদের ভিডিও এমএমএস করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া। সুবাদেই চলে ব্ল্যাক মেইলিং এবং পরিনামে আত্মহত্যা। কদিন পর হয়তো দেখা যাবে কোনো এক স্কুলে নিজেকে টপ দেখাতে গুলি করে সহপাঠী কয়েকজনকে মেরে ফেললো এই টিনেজারদের কেউ। এমনিতেই দাদা আর ভাইদের দাপটে অস্থির আমরা। এবার যদি বর্গিও আসে প্লেনে চড়ে তাহলে ভয় পাবার যথেষ্ট কারণ থাকে বই কি। আমাদের কি সতর্ক হওয়া উচিত নয়?

পাদটিকা : সঙ্গে ব্লেড নামে আরেকটা গ্রুপেরও নাম দেখলাম। সত্যিকার এমএস থার্টিন হলে এ ধরণের গ্রুপ কামাইয়া দেওয়ার কথা।

(ছবি তুলেছেন : মুস্তাফিজ মামুন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)
১৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×