প্রিয় কর্তৃপক্ষ,
জানি আপনাদের কাছে কোনো ফরিয়াদ জানানোর জন্য ই-মেইল করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু দরজায় কড়া নেড়ে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়েই খোলা চিঠি লিখছি। আশা করি বেয়াদবি ক্ষমা করবেন।
আমি আরো ক্ষমা চাইছি সামহোয়ারে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পোস্টের ব্যাপারে নীতিমালায় সংশোধনী যোগ করার নিষ্ফল আন্দোলন করার জন্য। ক্ষমা চাইছি ব্লগারদের কাছে, যারা আমার চেতনা নিয়ে ব্যবসার ফাঁদে পড়ে কি-বোর্ড বিরতিতে অংশ নিয়েছেন। তবে সবার আগে বিশেষভাবে এবং ভার্চুয়ালি পায়ে ধরে মাফ চাইছি ওয়ামীকে ব্যান করাতে চাপ সৃষ্টি করার জন্য। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর একজন প্রধান নেতা যখন ভারতীয় দালালদের হাতে নাজেহাল হয়, তখন তার ছেলের অধিকার থাকে সেই দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। এবং তার অধিকার আছে মুক্তিযোদ্ধা নামের এইসব কুলাঙ্গারদের কুকুরের সঙ্গে তুলনা করার। আবেগের বশে এইসব লোকদের পক্ষ নিয়ে আপনাদের বিরক্ত করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
ওয়ামীর কোনো দোষ নেই। কারন উনি মুক্তিযোদ্ধাদের (যারা আসলে তথাকথিত) কুকুর বলে ঠিকই করেছেন।
কারণ সামহোয়ারইন ব্লগ না পড়লে আমার কখনোই জানা হতো না যে এইসব মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে গনহত্যার অভিযোগ আনা উচিত।
সামহোয়ার ইন ব্লগ না পড়লে আমার জানা হতো না যে এই যে ২ লক্ষ ধর্ষিতা বীরাঙ্গনার কথা ভেবে আমরা তীব্র কষ্ট ও ঘৃণা বুকে নিয়ে এতগুলি বছর পার করে এলাম, তা ছিলো ভুল আবেগ। তারা ধর্ষিতা হয়নি। হলেও সংখ্যাটা এত নয়। এবং ধর্ষণকারীরা আসলে মুক্তিযোদ্ধা। এ ব্যাপারে প্রামান্য ভিডিও চিত্রও দাখিল হয়েছে।
সামহোয়ার ইন ব্লগ না পড়লে আমার জানা হতো না যে ভারত আসলে চক্রান্ত করে বাংলাদেশের কিছু মানুষকে ব্যবহার করে আসলে ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানকে ভেঙে দিয়েছে।
সামহোয়ার ইন ব্লগ না পড়লে আমার জানাই হতো না যে আমাদের আসলে মুক্তিযোদ্ধা নামের এইসব তথাকথিতরা আসলে দেশের ক্ষতিই চেয়ে এসেছে বরাবর, আর তা করেছে ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে।
সামহোয়ার ইন ব্লগ না পড়লে আমার জানাই হতো না যে আমাদের চোখে জল আনা ছবিগুলো আসলে ফটোশপে এডিট করা। মানুষ যদি না মরে কুকুর কিভাবে লাশ খাবে আর তাছাড়া মোটাসোটা কুকুরইবা আসবে কোত্থেকে। জনাব আওরেঙ্গজেবের কাছে আমি কৃতজ্ঞ এই ব্যাপারটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য।
সামহোয়ার ইন ব্লগ না পড়লে আমার জানাই হতো না যে আসলে আমি ও আমার মতো অসংখ্য বাঙালী ভুল জানে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে একটা গৃহযুদ্ধ হয়েছিলো এবং পরে সেটা পাক-ভারত যুদ্ধ হিসেবে পরিচিতি পায়। বিশ্বের সব লাইব্রেরিতে আমরা যেটাকে মুক্তিযুদ্ধ বলি তা আসলে গৃহযুদ্ধ হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে।
এই যে আমাদের জ্ঞানচক্ষু খুলে দিয়েছেন, এইজন্য আপনাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমাদের উচিত সামহোয়ারের এইসব লেখা সংকলিত করে একটি বই বের করা। আমি অশেষ কৃতজ্ঞতায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা করার। আমি শিগগিরই সে বই প্রকাশ করবো। আর তারপর দরজায় দরজায় নিয়ে যাবো মানুষকে সঠিক ইতিহাস জানাতে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি সেখানে আপনাদের সবার নাম মোটা অক্ষরে সোনালী কালি দিয়ে ছাপানো হবে।
এ জাতির জানা উচিত তারা ৩৮ বছর ধরে ভুল জানছে। শুধু শুধু তিরিশ লাখ শহীদের নামে আমরা কেদেছি, কেদেছি দুই লাখ সম্ভ্রমহারা নারীর কথা ভেবে। সংখ্যাটা অনেক কম।
সেইসঙ্গে আমি ক্ষমা চাই এতদিন ধরে সামহোয়ারের পাঠকদের ভুল ইতিহাস শেখানোর জন্য। সামহোয়ারের নির্বাচিত পোস্ট ও স্টিকি পোস্ট হিসেবে এই যে ভুল ইতিহাস ঝুলছে, সেগুলো প্রত্যাহার করার জন্যও অনুরোধ জানাই। আমি নিশ্চিত সেখানে যাদের পোস্ট আছে তারা সবাই এই দাবির প্রতি সহমত পোষন করবেন।
প্রিয় সামহোয়ার কর্তৃপক্ষ,
দয়া করে বাংলাদেশের গৃহযুদ্ধ বিরোধী পোস্ট নিয়ে নীতিমালার সংশোধনের সিদ্ধান্তটি বাতিল করুন। আপনাদের সামহোয়ারের অনেক জায়গা নিয়ে অনেকগুলো অপ্রয়োজনীয় বাক্য রয়ে গেছে। সেগুলো দয়া করে মুছে দিন। সর্বশেষ সংযোজন আপত্তি জানান নামের ফালতু বাটনটিও অনেক জায়গা খাচ্ছে। সেইসঙ্গে মেইল করে জানান- অপশনটিও বাতিল করুন। কারণ এই অপশনে চাপ দিলে কোথায় বেল বাজে জানি না, তবে মডারেটররা সে শব্দ শোনেন না।
আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা নিয়ে আবেদন জানাই, নিম্নলিখিত ব্লগারদের পোস্টগুলিকে স্টিকি করা হোক :
জনাব ত্রিভুজ : উনার পোস্ট পড়েই আমরা জানতে পেরেছি মুক্তিযোদ্ধারা ধর্ষণকারী
জনাব নীলসাগর : উনার পোস্ট পড়েই আমরা জানতে পেরেছি যে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেই আসলে গণহত্যার অভিযোগ আনা উচিত।
জনাব প্রশ্নকতো : উনি অনেকদিন ধরেই আমাদের বাংলাদেশের গৃহযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যাটা জানানোর চেষ্টা করে আসছেন।
জনাব পাঞ্জেরী ও আওরঙ্গজেব : উনারা তথ্য ও প্রমাণ সহকারে বাংলাদেশের গৃহযু্দ্ধে ভারতের নানাবিধ চক্রান্ত ফাস করে দিয়েছেন।
এছাড়া আরো অনেকেই আছেন।
তাই কর্তৃপক্ষর কাছে সবিনয় আবেদন। আপনারা আমার অপরাধগুলো ক্ষমা করে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করুন। ওয়ামীকে আনব্যান করুন। স্টিকি পোস্টগুলি বদলে দিয়ে সেখানে আমাদের সত্যিকার ইতিহাস তুলে ধরা ব্লগারদের যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে বাধিত করুন। এবং নীতিমালার সংশোধন বাতিল করুন।
নতুন ইতিহাস শেখানোর ঋণ স্বীকার প্রতিদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
অমি রহমান পিয়াল
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



