সর্বশেষ গরম খবর হচ্ছে কেউ একজন পাজামা পাঞ্জাবী পড়ে দেয়াল টপকে জনতায় মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে তুলে দিয়েছে আর্মির হাতে। বেচারাকে নিউমার্কেটের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। 'আজকে পেপারে যা পড়লাম' বলে একজন সংবাদ বিশ্লেষণে যাচ্ছিলেন, তাকে উপেক্ষা করে আমরা প্রশ্ন ছুড়ে দিই আত্মসমর্পণ নিয়ে। আর্মি না, পুলিশ গেছে কয়েক ট্রাক। নাহ, কোনো গুলি ফোটেনি। এমনি হতাশ মুখে বললেন যেনো কয়েকটা গুলির আওয়াজ না শুনলে এই কাগজ পেতে রাস্তাবাসটা বৃথাই যাবে। একটু দূরে র্যাবের কালো ভ্যান। নাহ এইখানে কোনো উত্তেজনা নেই। চলেন মামা ট্যাংক দেইখা আসি।
আপাত গন্তব্য ধানমন্ডী মাঠ। সেখানেই নাকি জড়ো হয়েছে সব। ৩২ দিয়ে ঢুকে প্যাভিলয়নের গেটের কাছেই বাধা। বেশ কিছু আর্মার্ড কার। একটা ট্যাংকের ব্যারেল উচিয়ে রাখা ব্যারিকেড। আমরা খুব ধীর গতিতে গাড়ি ঘুরাই, উৎসুক চোখ ক্যামেরার মতো বন্দী করে চারপাশ। ধানমন্ডী মাঠ গাড়ীতে ভরা। গেট দিয়ে বেরিয়ে আসে সামরিক ট্রাক। ভেতরে নানা সাজের সামরিক। গোলন্দাজ যুববিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলেছেন বাংলাদেশ দলের হয়ে। তার খেদ একটাই- পিচটার সর্বনাশ করে দিলো।
মাঠ চক্কর দিয়ে আসি। সাইড পকেট সব বেরিকেডে। খোলা রাস্তায় গাড়ি রেখে অগত্যা পথিক হওয়া। রিকয়েলেস রাইফেল নিয়ে সার সার ট্রাক। গোনা হয় না। একটু এগুতেই লরির উপর ট্যাঙ্ক। সোডিয়াম লাইটের মৃদূ আলোয় কালো পোশাক পড়ে গানাররা। লোকজন মোবাইল আর ডিজিটাল ক্যামে ছবি তোলে। রীতিমতো সামরিক প্রদর্শনী। সামনে এগোই। বাড়তে থাকে ট্যাংক। জনতার ক্যামেরাগ্রাফার হওয়া। ৫ নম্বর রোডের মুখেই শেষ। এইখানেই সেনাবাহিনীর শেষ সীমান্ত।
স্টার বেকারিতে জমজমাট ব্যবসা। লোকে খাচ্ছে, ট্যাঙ্কের ছবি তুলছে। অটোগ্রাফ না দিলেও হাসিমুখেই ফটোগ্রাফ দিচ্ছেন সেনারা। আমরা এগোই। রাইফেলস স্কোয়ারের গেটের কাছে আধো অন্ধকার। তবে সেখানে রিকশা আছে। লোকজনও। মিডিয়ার সদস্য সবাই। দুশো ফুট দূরেই পুলিশ আটকায়। এদিকটা তাদেরই দায়িত্বে। প্রেসকার্ড দেখিয়ে বাধাটা পেরুনোর ক্ষমতা থাকলেও সঙ্গীদের কথা ভেবে বাদ দিই। আমি এখানে জনতা হয়ে এসেছি।
এগিয়ে নার্ভাস ভঙ্গিতে সিগারেট টানা পুলিশের এসআইর সঙ্গে খাজুরা আলাপ। ওয়ারলেস দেখে বুঝি তার পদবী। কারণ তারা ব্যাজ এবং নামের ট্যাগ খুলে রেখেছেন। সরাসরি প্রশ্নে স্বীকার করেন এটাই তাদের ওপর নির্দেশ। জানালেন ভেতরটা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। সরকারী কেউ নেই। ব্যাজ নেই, ট্যাগ নেই- একটু উদ্বিগ্ন হই সম্ভাব্য অপারেশন নিয়ে। আরো চমকপ্রদ লাগে আমাদের কাছে তার জানতে চাওয়া- আর্মি কোথায়? তারা জানে না! ঘটনা ঘটবে নাকি!! থাকবো কিছুক্ষণ? কিন্তু মোবাইলে একটু পরপরই বাসা থেকে ফোন বাজে সবার। উৎকণ্ঠায় আমাদের মতো নিরাপদ জনতার স্বজনেরাও।
নিরাপত্তার কারণে তিন কিলো পেরিমিটার জুড়ে ঘরবাড়ি খালি করা লোকজন ফিরছেন কেউ কেউ। বেশী হতাশ যুদ্ধ দেখতে ছুটে আসা জনতা। গুলি নেই। অস্ত্র সমর্পণ। আপাতত ট্যাঙ্কের ছবি তুলেই শেষ করতে হচ্ছে রোমাঞ্চকর এই অভিযাত্রা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


