আমার প্রিয় পোস্ট

অতীত খুড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি

আগুন নিভেছে (!) জনতা হতাশ (!!)

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৩

শেয়ারঃ
0 0 0

'মনে হয় আমরাই মৃত্যুরে ভয় পাই, এদের সেগুলা নাই'- পাশে দাড়িয়ে ভিড় করা আম-জনতার উদ্দেশ্যে যুদ্ধসাজে থাকা এক সেনাসদস্যের মন্তব্য। গতকালের অভিজ্ঞতা জানালেন ব্লগার গোলন্দাজ। সঙ্গে আমি আর ব্লগার উরি বাবা। রাত সাড়ে আটটা। এর আগে আসার পথে মৌচাকেই পেলাম যানজট। এরপর রাস্তা প্রায় ফাকাই। লোকজন যথারীতি কেনাকাটা করছে, চা খাচ্ছে, গল্প করছে। প্রেমও। দোয়েল চত্বর থেকে হেটে গেলাম নিউমার্কেট পর্যন্ত। নীলক্ষেত হকার মার্কেটের মুখ পর্যন্ত সীমানা। সেখানেই উৎসুক মানুষের ভিড়। জমজমাট বাদামের ব্যবসা। কেউ রোড ডিভাইডারে বসে, কেউ বা রাস্তায় কাগজ পেতে।

সর্বশেষ গরম খবর হচ্ছে কেউ একজন পাজামা পাঞ্জাবী পড়ে দেয়াল টপকে জনতায় মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে তুলে দিয়েছে আর্মির হাতে। বেচারাকে নিউমার্কেটের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। 'আজকে পেপারে যা পড়লাম' বলে একজন সংবাদ বিশ্লেষণে যাচ্ছিলেন, তাকে উপেক্ষা করে আমরা প্রশ্ন ছুড়ে দিই আত্মসমর্পণ নিয়ে। আর্মি না, পুলিশ গেছে কয়েক ট্রাক। নাহ, কোনো গুলি ফোটেনি। এমনি হতাশ মুখে বললেন যেনো কয়েকটা গুলির আওয়াজ না শুনলে এই কাগজ পেতে রাস্তাবাসটা বৃথাই যাবে। একটু দূরে র‌্যাবের কালো ভ্যান। নাহ এইখানে কোনো উত্তেজনা নেই। চলেন মামা ট্যাংক দেইখা আসি।

আপাত গন্তব্য ধানমন্ডী মাঠ। সেখানেই নাকি জড়ো হয়েছে সব। ৩২ দিয়ে ঢুকে প্যাভিলয়নের গেটের কাছেই বাধা। বেশ কিছু আর্মার্ড কার। একটা ট্যাংকের ব্যারেল উচিয়ে রাখা ব্যারিকেড। আমরা খুব ধীর গতিতে গাড়ি ঘুরাই, উৎসুক চোখ ক্যামেরার মতো বন্দী করে চারপাশ। ধানমন্ডী মাঠ গাড়ীতে ভরা। গেট দিয়ে বেরিয়ে আসে সামরিক ট্রাক। ভেতরে নানা সাজের সামরিক। গোলন্দাজ যুববিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলেছেন বাংলাদেশ দলের হয়ে। তার খেদ একটাই- পিচটার সর্বনাশ করে দিলো।


মাঠ চক্কর দিয়ে আসি। সাইড পকেট সব বেরিকেডে। খোলা রাস্তায় গাড়ি রেখে অগত্যা পথিক হওয়া। রিকয়েলেস রাইফেল নিয়ে সার সার ট্রাক। গোনা হয় না। একটু এগুতেই লরির উপর ট্যাঙ্ক। সোডিয়াম লাইটের মৃদূ আলোয় কালো পোশাক পড়ে গানাররা। লোকজন মোবাইল আর ডিজিটাল ক্যামে ছবি তোলে। রীতিমতো সামরিক প্রদর্শনী। সামনে এগোই। বাড়তে থাকে ট্যাংক। জনতার ক্যামেরাগ্রাফার হওয়া। ৫ নম্বর রোডের মুখেই শেষ। এইখানেই সেনাবাহিনীর শেষ সীমান্ত।


স্টার বেকারিতে জমজমাট ব্যবসা। লোকে খাচ্ছে, ট্যাঙ্কের ছবি তুলছে। অটোগ্রাফ না দিলেও হাসিমুখেই ফটোগ্রাফ দিচ্ছেন সেনারা। আমরা এগোই। রাইফেলস স্কোয়ারের গেটের কাছে আধো অন্ধকার। তবে সেখানে রিকশা আছে। লোকজনও। মিডিয়ার সদস্য সবাই। দুশো ফুট দূরেই পুলিশ আটকায়। এদিকটা তাদেরই দায়িত্বে। প্রেসকার্ড দেখিয়ে বাধাটা পেরুনোর ক্ষমতা থাকলেও সঙ্গীদের কথা ভেবে বাদ দিই। আমি এখানে জনতা হয়ে এসেছি।

এগিয়ে নার্ভাস ভঙ্গিতে সিগারেট টানা পুলিশের এসআইর সঙ্গে খাজুরা আলাপ। ওয়ারলেস দেখে বুঝি তার পদবী। কারণ তারা ব্যাজ এবং নামের ট্যাগ খুলে রেখেছেন। সরাসরি প্রশ্নে স্বীকার করেন এটাই তাদের ওপর নির্দেশ। জানালেন ভেতরটা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। সরকারী কেউ নেই। ব্যাজ নেই, ট্যাগ নেই- একটু উদ্বিগ্ন হই সম্ভাব্য অপারেশন নিয়ে। আরো চমকপ্রদ লাগে আমাদের কাছে তার জানতে চাওয়া- আর্মি কোথায়? তারা জানে না! ঘটনা ঘটবে নাকি!! থাকবো কিছুক্ষণ? কিন্তু মোবাইলে একটু পরপরই বাসা থেকে ফোন বাজে সবার। উৎকণ্ঠায় আমাদের মতো নিরাপদ জনতার স্বজনেরাও।

নিরাপত্তার কারণে তিন কিলো পেরিমিটার জুড়ে ঘরবাড়ি খালি করা লোকজন ফিরছেন কেউ কেউ। বেশী হতাশ যুদ্ধ দেখতে ছুটে আসা জনতা। গুলি নেই। অস্ত্র সমর্পণ। আপাতত ট্যাঙ্কের ছবি তুলেই শেষ করতে হচ্ছে রোমাঞ্চকর এই অভিযাত্রা।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩১
কুম্ভকর্ণ বলেছেন: ধন্যবাদ পিয়ালভাই। মনটা শান্ত হল।


আমি এ বিদ্রোহ ভালভাবে হ্যান্ডেল করার জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানায়। নিশ্চিতভাবে হাসিনা আগে থেকে অনেক ম্যাচিউর হয়েছে।
৩. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৭
মইন বলেছেন: বেশী হতাশ যুদ্ধ দেখতে ছুটে আসা জনতা। গুলি নেই। অস্ত্র সমর্পণ। আপাতত ট্যাঙ্কের ছবি তুলেই শেষ করতে হচ্ছে রোমাঞ্চকর এই অভিযাত্রা।

আজকে অবশেষে একটু হাসা গেলো।
অনেক ধন্যবাদ।
৪. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৯
ফাহিম মাহমুদ বলেছেন:
ব্যাজ আর নেমপ্লেট নেই। সর্বনাশের কথা রে ভাই্

পিলখানার ভেতরের পুলিশ গুলা আর্মি না সাধারণ পুলিশ।

উপর মহলে কে? আর্মি না সরকার। কার নির্দেশে ব্যাজ, নেমপ্লেট নাই?
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: উল্টাটাও সম্ভব। পুলিশের ড্রেস পড়ে বের হয়ে যেতে পারেন বিদ্রোহী বিডিআররা।

৫. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪০
আথ্যরিক বলেছেন: Hasina totha politician-ra matured hole...aage desher manusher kotha, jemon kom betoner police-bdr der kotha vabto....transit niya uthe pore lagto na.
৬. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৪
রাজর্ষী বলেছেন: ভালো পর্যবেক্ষন। আসলেই আম্রা পাবলিক্রা পিকুলিয়ার।
৭. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৫
ইসানুর বলেছেন: "ফাহিম মাহমুদ বলেছেন:
ব্যাজ আর নেমপ্লেট নেই। সর্বনাশের কথা রে ভাই্

পিলখানার ভেতরের পুলিশ গুলা আর্মি না সাধারণ পুলিশ।

উপর মহলে কে? আর্মি না সরকার। কার নির্দেশে ব্যাজ, নেমপ্লেট নাই"

চিন্তার বিষয়!!!
৮. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৮
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: রাত ১১টা পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম। ভাবলে ভয়ের আছে অনেক কিছুই। কিন্তু ঘটনা না ঘটলে সেইটা নিয়া ঘুম হারাম কইরা লাভ কি
৯. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫০
নেহাল হাসনাইন সার্জা বলেছেন: লোকে খাচ্ছে, ট্যাঙ্কের ছবি তুলছে। অটোগ্রাফ না দিলেও হাসিমুখেই ফটোগ্রাফ দিচ্ছেন সেনারা।



পিয়াল ভাই, সারাদিন চিন্তায় কাটানোর পর আপনার এই লাইনটা পড়ে একটু মন খুলে হাসলাম!!! :)
১০. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: একটা ছবি দিলাম। আমার ফটোশপ নাই, থাকলে একটু ব্রাইট করা যাইতো মনে হয়
১১. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪১
সুদীপ্ত বলেছেন: ছবিটার জন্য ধইন্যাপাতা।
১২. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৩
আরিফ থেকে আনা বলেছেন: ফটুশপের উস্তাদ কেডা জানি ?
১৩. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫১
সুদীপ্ত বলেছেন: হ, পিয়াল ভাই ফিফার কাছে যাইতে পারেন। সে আপনের ছবি উজ্জল কৈরা দিবে।
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: কিন্তু সে আমারে মুরীদ করবে কিনা এইব্যাপারে হ্যা বা না কিছুই বলে না

১৪. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:০৫
শুভ বলেছেন: "রাত ১১টা পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম। ভাবলে ভয়ের আছে অনেক কিছুই।"
মুশকিল হচ্ছে এরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চৌকশ- পাথরের মুখ দেখে বোঝা মুশকিল এদর ভেতরে ইচ্ছাটা কী।

"লোকজন যথারীতি কেনাকাটা করছে, চা খাচ্ছে, গল্প করছে। প্রেমও।"
এই বাস্তবতা।
অন্য প্রসঙ্গ। মিডিয়াকে সাধুবাদ। কিন্তু তথ্য একটা পণ্যও...।
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৫০

লেখক বলেছেন: আমি মিডিয়া ছিলাম না শুভ। জনতা

১৫. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৪
তাইলে শোনেন বলেছেন: ভাল লিখসেন।পাবলিক আসলে এিসব আর্মি বিডিআরের চে বেশি ভায়োলেন্ট।হ,আমরা সত্যিই হতাশ!

 

মোট সময় লেগেছে ১.৮১৯৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
বন্ধুত্বে উদার, শত্রুতায় নির্মম : কিছু করার নাই, রাশির দোষ
........................
জামাতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবির সম্পর্কে মহানবীর (দঃ) সতর্কবাণী :

শেষ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ