বিগত কয়েক বছর থেকে দেখছি, শত শত মুসুল্লি টাইপের মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর কি ঘটেছে সেটা কেউ জানে না। তাদের কি জামিন হয়েছে? তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো মামলা-মোকদ্দমা হয়েছিল? তারা কি দন্ড পেয়েছে? দন্ড পাওয়ার পর কি তারা জেল খাটছে? সকলেরই কি শাস্তি হয়েছে? কেউ কি খালাস পায়নি? এসব কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি বা যায়ও না। তথ্য যা কিছুই পাওয়া যায় তা এক তরফা এবং একপেশে।
বিগত কয়বছরে বলতে আপনি যদি চার বছরের মতো বুঝান তাইলে এইখানে আমরা তিনটা সরকার পাই। বিএনপি-জামাত জোট সরকার, সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এই যে শত শত মুসল্লী টাইপের মানুষের কথা বললেন, তারা আসলেই মুসল্লী টাইপ। মুসল্লী না। '৮১ সালে গোলাম আযমরে জুতাপেটা করার মতো একটা মহত কাম করা ছাড়া বায়তুল মোকাররমের সত্যিকার মুসল্লীরা তেমন কোনো প্রচারণায় আসে নাই। যারা আসছেন, তারা মুসল্লী টাইপ। তারা জুতার বাক্স খুইলা, চেয়ার টেবিল ভাইঙ্গা দেশের সবচেয়ে বড় মসজিদটার প্রাঙ্গনটারে রণক্ষেত্র বানান। কখনও তাদের ব্যানার থাকে ইসলামী ঐক্য জোট, কখনও বা হিজবুত তাহরীর।
এই দেশে জঙ্গী নাই কথাটা কইলে জনাব কুত্তাও হাসবো। এইদেশে বাগমারা ও বাঙলা ভাই কোনো চলচ্চিত্র না সত্যিকারের ঘটনা। এইদেশে জামাতুল মুজাহেদিন, হরকাতুল জিহাদ এবং হিজবুত তাহরীরও বাস্তব। এরা শরীয়া আইনের নামে কি করতে চায় তার প্রমাণ ইদানিং পাকিস্তানের বুনারের নানা ঘটনার ছবির মাধ্যমে আমরা দেখছি। এর আগে দেখছি আফগানিস্তানে। বাংলা হবে তালেবান নামে মিছিলও বাইর করছিলো আপনার এই মুসল্লী টাইপের লোকজন।
এই দেশের স্বাধীনতার সময় এর বিরোধিতাও করছিলো এই মুসল্লী টাইপের লোকজন। এইজন্য যখনই স্বাধীনতাবিরোধী কারো চিত্রায়ন করা হয়, তারে স্যুট টাইপ পড়া ভিলেন বানানো যায় না বাস্তবতার স্বার্থেই। তারে গোলাম আযমের মতো জিন্নাহ টুপি আর নিজামীর মতো সালোয়ার কামিজ পিন্দানো হয় অথেনটিসিটির স্বার্থেই।
এই মুসল্লী টাইপের লোকজনরে গ্রেপ্তারের পর যেসব ভয়াবহ কথাবার্তা বের হইয়া আসে তা সাংবাদিক জীবনে শোনার ও দেখার অভিজ্ঞতা কিছুটা আমার আছে। মজার ব্যাপার হইলো সব সরকারের আমলেই এবং এমনকি নিজেদের পছন্দের সরকারের সময়ও জঙ্গীদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে উনারা জামাতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির দিয়া রাজনীতিতে হাতে খড়ি নিছেন। এই তালিকায় সিদ্দিকুর রহমান আকা বাংলা ভাই কিংবা জেলে আটক হরকাতুল জেহাদের মুফতী হান্নানও আছে ।
সবচেয়ে বড় আতঙ্কের কথা জামাত যেই বিষয়গুলা নিয়া সমালোচনা করে, জঙ্গীরা সেইগুলার বিরুদ্ধেই একশনে যায়। রমনায় বর্ষবরণ নিয়া সে সময়কার জামাতী ভাষ্যগুলা দেখেন, যার কিছুদিন পরই পয়লা বৈশাখে বোমা ফাটাইলো জঙ্গীরা। এখন জনাব রাজনীতি নয়াদিগন্ত কপি পেস্ট মাইরা যদি বলেন জঙ্গী ইস্যুটা ভুয়া, আপনাদের পেয়ারের পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশও দখল করতে যাইতেছে যুক্তরাষ্ট্র- সেইটা হবে হাস্যকর।
সমস্যাটার মূল হইলো আগে সৌদিগো থিকা ভুঙ্গভাঙ্গ নিয়া পয়সা খাইতো জামাত। বাঙলাদেশে ইসলাম বিপন্ন বইলা। তারা শরাব আর হুর নিয়া ব্যস্ত থাকে, ক্রস চেকিংয়ের টাইম নাই। মজায় আছিলেন বড়। এইবার ট্যাকা নিতাছেন ইরান থিকাও। বিপ্লব ঘটানোর কথা কইয়া। লগে যোগ হইছে আফগানি তালিবানগো আফিম বেচা পয়সা। বিপ্লবের ব ও নাই, যেইডিরে ট্রেনিং দেন সেইডিই পড়ে ধরা। বিপদে আছেন বুঝতাছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

