এমনিতেই অধমের ভারতবন্ধু বইলা বদনাম আছে বিশেষ মহলে। আম্লীগের সাকুল্য ৯ বছরের শাসনে এই দেশের যেই ক্ষতি হইছে সেইটা পূরণ করতে পারে নাই বাকিরা স্বাধীনতার ৩৮ বছরের বাকি সময়কালে। তারা সেইজন্য মর্সীয়া বাইর করে যখন, এই অধম তাতে নাড়া দেয়। খেপবো না ক্যান। একাত্তরে মিত্রতার জন্য আমার যত কৃতজ্ঞতা, তাদের তো ততই ক্ষোভ। কিন্তু তাই বইলা যে আমি তাদের সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া আগ্রাসন মাইনা নিসি, এমন না। সীমান্ত এলাকাগুলায় এখও যে একটাকায় ভারতীয় ম্যাচ আর অর্ধেক দামে অন্য পন্যাদি পাওয়া যায়, সেগুলোও অন্যদের শাসনামলে বজায় ছিলো। এইসব কারণে টিপাইমুখে ভারতের বাধ নির্মাণ নিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষণে চুপ থাকি। তারপরও আক্রান্ত হই নানা আকারে ও প্রকারে। তাই এই রচনা বিশেষ।
শুধু ভৌগলিক বেষ্টনীর কারণেই না, অন্য অনুষঙ্গেও আমরা ভারতের কাছে নতুজানু আছি। এখন পর্যন্ত তেমন হ্যাডমওয়ালা কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনৈতিক দল জন্ম নেয় নাই যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাদে ভারতের সমালোচনায় সক্ষম। আমরা ইসরাইলের মতো সামরিক ক্ষমতা সম্পন্ন কিংবা মার্কিন মদদপুষ্ট না যে ইরান বা ইরাকে নিউক্লিয়ার রিয়েক্টর বসলে প্লেন পাঠায়া উড়ায়া দিয়া আসবো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘোষণা দিয়া। পাশের বাড়িতে জোরে গান বাজলে দরজা ভাইঙ্গা তার রেকর্ডার নষ্ট করার চেয়ে বড়জোর আমরা কলিংবেল বাজাইয়া অনুরোধ কিংবা জোরে গালি দিতে পারি নিজের ঘর থিকা। ভারতের বিরুদ্ধে আমাদের সেইরকম গলাবাজী করা ছাড়া আর কোনো কিছু করার হ্যাডম নাই। আমাদের সেনা বাহিনী নির্বাচিত সরকার হটাইয়া গদি দখলে যত পারঙ্গম, সীমান্তের চৌকি দখলে ততটা না। তাই আমরা কিভাবে ভারতের প্রতিটা নদীতে বাঁধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠেকাইতে পারবো সেইটাই বুঝি না।
তার মানে কি এই আমি টিপাইমুখ নিয়া প্রতিবাদের বিরুদ্ধে? না, মোটেই না। কিন্তু আন্দোলনটা শুরু থিকাই যতটা পরিবেশবাদীদের তার চেয়েও বেশী বাটে থাকা বিএনপি-জামাত জোটের হইয়া দাড়াইছে। তার মানে কি বিএনপি জামাত জোট দেশের ভালো চাইলে আমি তাতে বাগড়া দিমু? না সেটাও না। বরং ভারতীয়দের এইসব ক্যারিকেচারে আমি নিশ্চিত হইছি তারা এটলিস্ট আওয়ামী লীগের সেইরকম মিত্র না যেইটা প্রচার হয়। হইলে এই দেশে আজীবন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতো, মুজিব বাইচা থাকতেন, এটলিস্ট ৯০'র পর তারা আর ক্ষমতা হারাইতো না।
যাক আসল কথায় আসি। টিপাইমুখ বাধ নিয়া আমি যে প্রতিবাদের পক্ষে, তেমনি আরো বেশী পক্ষে বাংলাদেশের নদীগুলার নাব্যতা বাড়ানোর আন্দোলনে। প্রতিটা নদী সরু হইতেছে। প্রমত্তা পদ্মায় চরের সংখ্যা চোখে পানি নিয়া আসে। বুড়িগঙ্গার মতো ইতিহাসখ্যাত নদীরে এখন আমার ড্রেন ছাড়া কিছু মনে হয় না। আর সেইটা ভরাট কইরা যারা বাড়িঘর বানাইতেছে সেইখানে আওয়ামী লীগ সাংসদ দেখলাম না একজনও। অবস্থা এতই খারাপ যে টিপাইমুখ ছাড়াই আমাদের নদীগুলার অবস্থা সঙ্গীন। এটার কারণ আমরা যত্ন নিতেছি না। ড্রেজিং করার দাবিতে পরিবেশবাদীরা গলা শুকাইয়া ফেলছেন। কোনো সরকারের সেদিকে নজর নাই। অথচ এই বাবদ বিশাল অনুদান দিতে রাজী অনেক ইউরোপিয়ান দেশ। একটু শুরু হইছিলো কিন্তু ডেনমার্ক আর নরওয়ে সেটা বাতিল করে দিছিলো বিএনপির এক মন্ত্রীর দুই নম্বরীর প্রমাণ পাইয়া।
ঠিকাছে, চলেন রাজনীতি বাদ দিয়া দেশের জন্য টিপাইমুখ নিয়া সোচ্চার হই। কিন্তু অবধারিতভাবে ব্যর্থ হবো জেনেও আমরা কি পারি না আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে। নদীতলদেশগুলা আমরা আরো গভীর করলে ভারত একশ বাধ দিলেও কিচ্ছু করতে পারবে না। হিসাবটা তখন নিতান্তই জোয়ার আর ভাটার। আমাদের নদীগুলার সম্পর্ক বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে। তাই চলেন পাশাপাশি নদীগুলোর নাব্যতা বাড়ানোর জন্যও সরকারের উপর চাপ দিই। ওইটা আমার কাছে বেশী ফলপ্রসু ও জরুরী মনে হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

