ইইইয়েসসস! মেইল স্ট্যাটাসে নামটা দেখেই মুঠো পাকিয়ে পেছনে কনুই চালানোর ভঙ্গী করে জিম। পেছন থেকে ভেসে আসে- ভিক্ষা এসেছে? খুব খুশী! বলতে বলতে ছোটো কাঁথাগুলো ভাজ করে ডেলা। একটু আগে টিউশনি থেকে ফিরেছে। জামা ছাড়েনি। শ্লেষটা হজম করে জিম। আরো কয়েকঘণ্টা আছে হাতে। কল্প দৃশ্যে একটা মহড়া চালিয়ে নেয়-
-হ্যাপ্পি সেকেন্ড ইয়ার জান।
ডান হাতের মুঠো খুলে বিটিভির এডটার মতো বলে, বে-ছে না-ওও।
ভাজ করা কাগজ দুটোর দিকে চেয়ে ডেলা। চাপা খুশীতে ঝলমল করছে মুখ। -কি ওখানে?
-সোনারগাঁ নাকি মেঘনা ভিলেজ?
-তাইইই!
উহু, এইখানে ইমোশনটা একটু কম ঢোকাতে হবে বোঝে জিম। বরং কথাবার্তাগুলো আরেকটু বাস্তব সম্মত হওয়া চাই।
- তবে আই প্রেফার মেঘনা ভিলেজ। জটিল জায়গা।
-কিভাবে যাবো শুনি? বাসে?
-আরে নাহ। ক্যাব ভাড়া করে নেবো একটা। অবশ্য উকিলবাপকেও বলে দেখা যায়, অফিসের একটা গাড়ি রিকুজিশন করে দিতে পারে কিনা। তেলের খরচ আর ড্রাইভারের বখশিশই তো।
-পড়বো কি?
-কেনো ঈদে কেনা সেই ব্লুহোয়াইট ড্রেসটার কি হলো? ওটাতো পড়তে দেখি না।
-শুধু ওটা পড়লেই হবে, সঙ্গে কিছু না?
-মানে? সঙ্গে আবার কি? ম্যাচিং? স্যান্ডেল তো আছেই।
-হ্যা তা আছে। বলে খাটের নীচ থেকে একজোড়া ব্লু চপ্পল তুলে ধরে ডেলা। তলা ক্ষয়ে হা হয়ে আছে এক পাশ।
-ওহ, আর নেই!
হাসিটা দপ করে নিভে যাবে এই কথার পর। আন্দাজ করে জিম।
- হুমম। নো প্রব। কিনে নেবো এক জোড়া।
-তাই! আর তুমি কি পড়বে?
- আমি? কেনো জিন্স আর টি শার্ট।
- হাটুর কাছে ছেড়াটা?
-সমস্যা কি পাওয়ার ড্রেসিং। হাহাহা হাসতে হবে জিমকে।
-আর মেয়ে? ওকেও কি পাওয়ার ড্রেসিং করানো হবে?
-কেনো? ওর কি নেই?
- সেই যে একগাদা কাপড় আনলে। তারপর কি খোজ নিয়েছো? ওর পায়ে পড়ার আছে কিছু?
- নো প্রব জান। কিনে নেবো? এই হাসিটা খুব কনফিডেন্ট হতে হবে জানে জিম।
- ক্যাবে উঠে সোজা বসুন্ধরা। শপিং করে গাড়িতেই চেঞ্জ। তারপর সোজা মেঘনায়। কটেজে উঠবো। সারাদিন পিকনিক। রাতে ফিরবো। হাজার দশেকে হয়ে যাবে তো।
-তাছাড়া কাল সত্যি সত্যি আস্ত মুরগী খাবো।
এটা জিমের প্রতিদিনের স্বপ্ন বটে। তারা আস্ত মুরগীর নামে প্রতিদিন একটা ডিম সেদ্ধ ভাগ করে খায়। কুসুমটা মেয়ে পছন্দ করে বলে স্যাক্রিফাইস করে দুজনই।
- তাই। এরপর? ফিরে এসে?
-ফিরে এসে কি?
শিট। এই কথাটাই সব হিসেব গুবলেট করে ফেলে জিমের। এই একদিনের আনন্দটুকু দিয়ে বাকি ৩০ দিনের জীবনধারণ করা যায়। মাথাটা পুরোপুরি আউলে যায়। ধ্যাত্তেরি, দু বছরে কোন দিনটাই বিশেষ বলে পালন গেছে। এইতো কদিন আগে এসএমএস পেয়ে জিম জেনেছিলো ডেলার জন্মদিন। কবিতা কিংবা ফুল কিছুই দেয়নি।
মেইলটা খোলে সে। স্যরি বস হাত খালি। দেখেন অন্য কোথাও থেকে ম্যানেজ করা যায় কিনা। আর শোনেন, এইভাবে তো চলবে না। একটা কিছু চেষ্টা করেন। দেখেন।
হুমম। ওকে বস। রিপ্লাইটা লিখে নতুন হিসেব কষে জিম। কালকের দিনটাই শেষ দিন। আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। চলে যাবে ডেলা বাবার কাছে। এই অনিশ্চতয়তার মাঝে থাকা আর না থাকা একই কথা। এই ক'দিন আসলে একটা মিরাকলের মুখ চেয়েই থেকেছে দুজন। এই দুনিয়ায় কতো আশ্চর্য্য ঘটনাই ঘটে। হঠাৎই কেউ ডেকে একটা দারুণ চাকুরী দিয়েও দিতে পারে জিমকে। বেচে যেতে পারে সংসারটা। ছ'মাসে যা ঘটেনি। সেটা আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঘটার আর কোনো আশা দেখে না সে। বাস্তবের এই আঘাতগুলো এভাবেই ছিড়েখুড়ে ফেলে যাবতীয় ভালোবাসা।
এবার নতুন প্ল্যান। আজ দারুণ একটা গল্প বলে ঘুম পাড়াবে ডেলাকে। এ বিছানায় শেষ রাতটা সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখে কাটুক তার। মেঘলা আকাশের ফাঁক চুঁইয়ে জ্যোছনা উকি দিচ্ছে। এমনই এক রাতে ভীষণ আবেগে আত্মহত্যার স্বপ্নটা শিকেয় তুলে গল্পটা সাজায় সে। গল্পটা ভালো হতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

