somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিম-ডেলার দ্বিতীয় বিয়ে বার্ষিকীর কয়েক ঘণ্টা আগে

২৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এটা গল্প হতে পারে, সত্যিও হতে পারে। আমি জিম হতেও পারি, নাও পারি। তাতে এই দুনিয়াদারীর কিচ্ছু এসে যায় না। তাই কষ্ট কল্পনায় না গিয়ে পাঠকরা এটাকে নিছক একটা ব্লগ হিসেবে নিলে ঝামেলামুক্ত থাকবেন)


ইইইয়েসসস! মেইল স্ট্যাটাসে নামটা দেখেই মুঠো পাকিয়ে পেছনে কনুই চালানোর ভঙ্গী করে জিম। পেছন থেকে ভেসে আসে- ভিক্ষা এসেছে? খুব খুশী! বলতে বলতে ছোটো কাঁথাগুলো ভাজ করে ডেলা। একটু আগে টিউশনি থেকে ফিরেছে। জামা ছাড়েনি। শ্লেষটা হজম করে জিম। আরো কয়েকঘণ্টা আছে হাতে। কল্প দৃশ্যে একটা মহড়া চালিয়ে নেয়-
-হ্যাপ্পি সেকেন্ড ইয়ার জান।
ডান হাতের মুঠো খুলে বিটিভির এডটার মতো বলে, বে-ছে না-ওও।
ভাজ করা কাগজ দুটোর দিকে চেয়ে ডেলা। চাপা খুশীতে ঝলমল করছে মুখ। -কি ওখানে?
-সোনারগাঁ নাকি মেঘনা ভিলেজ?
-তাইইই!
উহু, এইখানে ইমোশনটা একটু কম ঢোকাতে হবে বোঝে জিম। বরং কথাবার্তাগুলো আরেকটু বাস্তব সম্মত হওয়া চাই।
- তবে আই প্রেফার মেঘনা ভিলেজ। জটিল জায়গা।
-কিভাবে যাবো শুনি? বাসে?
-আরে নাহ। ক্যাব ভাড়া করে নেবো একটা। অবশ্য উকিলবাপকেও বলে দেখা যায়, অফিসের একটা গাড়ি রিকুজিশন করে দিতে পারে কিনা। তেলের খরচ আর ড্রাইভারের বখশিশই তো।
-পড়বো কি?
-কেনো ঈদে কেনা সেই ব্লুহোয়াইট ড্রেসটার কি হলো? ওটাতো পড়তে দেখি না।
-শুধু ওটা পড়লেই হবে, সঙ্গে কিছু না?
-মানে? সঙ্গে আবার কি? ম্যাচিং? স্যান্ডেল তো আছেই।
-হ্যা তা আছে। বলে খাটের নীচ থেকে একজোড়া ব্লু চপ্পল তুলে ধরে ডেলা। তলা ক্ষয়ে হা হয়ে আছে এক পাশ।
-ওহ, আর নেই!
হাসিটা দপ করে নিভে যাবে এই কথার পর। আন্দাজ করে জিম।
- হুমম। নো প্রব। কিনে নেবো এক জোড়া।
-তাই! আর তুমি কি পড়বে?
- আমি? কেনো জিন্স আর টি শার্ট।
- হাটুর কাছে ছেড়াটা?
-সমস্যা কি পাওয়ার ড্রেসিং। হাহাহা হাসতে হবে জিমকে।
-আর মেয়ে? ওকেও কি পাওয়ার ড্রেসিং করানো হবে?
-কেনো? ওর কি নেই?
- সেই যে একগাদা কাপড় আনলে। তারপর কি খোজ নিয়েছো? ওর পায়ে পড়ার আছে কিছু?
- নো প্রব জান। কিনে নেবো? এই হাসিটা খুব কনফিডেন্ট হতে হবে জানে জিম।
- ক্যাবে উঠে সোজা বসুন্ধরা। শপিং করে গাড়িতেই চেঞ্জ। তারপর সোজা মেঘনায়। কটেজে উঠবো। সারাদিন পিকনিক। রাতে ফিরবো। হাজার দশেকে হয়ে যাবে তো।
-তাছাড়া কাল সত্যি সত্যি আস্ত মুরগী খাবো।
এটা জিমের প্রতিদিনের স্বপ্ন বটে। তারা আস্ত মুরগীর নামে প্রতিদিন একটা ডিম সেদ্ধ ভাগ করে খায়। কুসুমটা মেয়ে পছন্দ করে বলে স্যাক্রিফাইস করে দুজনই।

- তাই। এরপর? ফিরে এসে?
-ফিরে এসে কি?
শিট। এই কথাটাই সব হিসেব গুবলেট করে ফেলে জিমের। এই একদিনের আনন্দটুকু দিয়ে বাকি ৩০ দিনের জীবনধারণ করা যায়। মাথাটা পুরোপুরি আউলে যায়। ধ্যাত্তেরি, দু বছরে কোন দিনটাই বিশেষ বলে পালন গেছে। এইতো কদিন আগে এসএমএস পেয়ে জিম জেনেছিলো ডেলার জন্মদিন। কবিতা কিংবা ফুল কিছুই দেয়নি।
মেইলটা খোলে সে। স্যরি বস হাত খালি। দেখেন অন্য কোথাও থেকে ম্যানেজ করা যায় কিনা। আর শোনেন, এইভাবে তো চলবে না। একটা কিছু চেষ্টা করেন। দেখেন।

হুমম। ওকে বস। রিপ্লাইটা লিখে নতুন হিসেব কষে জিম। কালকের দিনটাই শেষ দিন। আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। চলে যাবে ডেলা বাবার কাছে। এই অনিশ্চতয়তার মাঝে থাকা আর না থাকা একই কথা। এই ক'দিন আসলে একটা মিরাকলের মুখ চেয়েই থেকেছে দুজন। এই দুনিয়ায় কতো আশ্চর্য্য ঘটনাই ঘটে। হঠাৎই কেউ ডেকে একটা দারুণ চাকুরী দিয়েও দিতে পারে জিমকে। বেচে যেতে পারে সংসারটা। ছ'মাসে যা ঘটেনি। সেটা আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঘটার আর কোনো আশা দেখে না সে। বাস্তবের এই আঘাতগুলো এভাবেই ছিড়েখুড়ে ফেলে যাবতীয় ভালোবাসা।

এবার নতুন প্ল্যান। আজ দারুণ একটা গল্প বলে ঘুম পাড়াবে ডেলাকে। এ বিছানায় শেষ রাতটা সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখে কাটুক তার। মেঘলা আকাশের ফাঁক চুঁইয়ে জ্যোছনা উকি দিচ্ছে। এমনই এক রাতে ভীষণ আবেগে আত্মহত্যার স্বপ্নটা শিকেয় তুলে গল্পটা সাজায় সে। গল্পটা ভালো হতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০০৯ রাত ১:৫৬
৩০টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×