somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাংলাদেশ : ৭১-এর একটি বিশেষ কোড বাংলাদেশ নামে। এর অর্থ ছিলো বিনা বিচারে, কোনো রকম তদন্ত না করে, কারো নির্দেশের তোয়াক্কা না করে হত্যা করা। মুলতঃ মুক্তিবাহিনী এবং আওয়ামী লিগের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ ছিলো এই বিশেষ কোড।

পেলাম হামদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টের একটা জায়গায়। কমিশনের ২৬০ নং স্বাক্ষী লে. কর্ণেল মনসুরুল হক তার স্বাক্ষ্যে উল্লেখ করেছেন ব্যাপারটা।

15. Lt Col. Mansoorul Haq, GSO-I, Division, appearing as Witness No 260, has made deiled and specific allegations as follows:

"A Bengali, who was alleged to be a Mukti Bahini or Awami Leaguer, was being sent to Bangladesh-a code name for death without trial, without detailed investigations and without any written order by any authorised authority."
Indiscriminate killing and looting could only serve the cause of the enemies of Pakistan. In the harshness, we lost the support of the silent majority of the people of East Pakistan.... The Comilla Cantt. massacre (on 27th/28th of March, 1971) under the orders of CO 53 Field Regiment, Lt. Gen. Yakub Malik, in which 17 Bengali Officers and 915 men were just slain by a flick of one Officer's fingers should suffice as an example.
There was a general feeling of hatred against Bengalis amongst the soldiers and officers including Generals. There were verbal instructions to eliminate Hindus.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28869654 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28869654 2008-11-16 07:13:15
হাদিস বিকৃতি : নবীজীরে নিয়া মশকরার অধিকার শুধু জামাত-শিবিরেরই আছে!
এই ধৃষ্টতা কিভাবে করতে পারলেন জনাব তানভীর আলাদীন সরপ? কিভাবে? নবিজী বেচে থাকলে কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা দেশপ্রেমকে নিরুতসাহিত করতেন? তাহলে কেনো্ আল্লাহ বলেছেন, দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ !

কিন্তু কথা সেটা না জনাব সরপ। আপনি আপনার আসল মুখোশ দেখাতে স্বয়ং নবীজির হাদিস পাল্টে ফেলে নিজের মতো করে লিখলেন! লিখতে পারলেন? আপনাদের সংগঠনে কি এটাই প্র্যাকটিস। আজ হাদিস বদলাচ্ছেন, কালকে তো কোরআনের আয়াত বদলে দেবেন (নাউজুবিল্লাহ)

আপনি মুসলমান হলে, তওবা করুন। ক্ষমা চান। এটা নবিজীকে নিয়ে মশকরা। আর আপনি যেভাবে তা করেছেন, তার অর্থ দাড়ায় একটাই। আপনারা ইসলামকে যেমন ইচ্ছে স্বার্থমতো বিকৃত করতে সিদ্ধ হস্ত। লানত পড়ুত এমন ধর্ম ব্যবসায়ীদের ওপর। ছিঃ ছিঃ ছিঃ।

একই হাদিস তো আমিও ব্যবহার করেছি। কই, একটা লাইনওতো বিকৃত করিনি। অবিকল আছে তা।

অবশ্য আমরা তো জানি, শিবির মুহাম্মদ নিয়ে কার্টুন ছাপালে সেটায় ক্ষতি নেই, প্রথম আলো ছাপালে সেটা ব্লাসফেমি। আপনি তওবা করুন এবং ক্ষমা চান। আমাদের কাছে না, আল্লাহর কাছে। তিনি্ আপনাকে মাফ করুন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28861334 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28861334 2008-10-29 00:30:45
ছদ্মবেশী নেকড়ের কথা বলা হইছে হাদিসে
মনে পড়লো একটা হাদিসের কথা, এইটা যতবার পড়ি আমার খালি জামাত-শিবিরের কথা মনে হয়। আর বেশী কইরা ভালোবাসি প্রিয় নবীরে।



শেষ জমানায় কিছু প্রতারক সৃষ্টি হবে। তারা ধর্মের নামে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের নিকট নিজেদের সাধুতা প্রকাশ ও মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য ভেড়ার চামড়ার পোষাক পড়বে (মানুষের কল্যাণকারী সাজবে)। তাদের রসনা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি। কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ের হৃদয়ের মতো হিংস্র। (তিরমিজী)


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জামাত আর শিবির ছাড়া এই ক্রাইটেরিয়া পুরা করে আর কেউ আছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28860957 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28860957 2008-10-28 12:04:12
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জামাত-শিবির কেন সন্ত্রাসী সংগঠন (পুনঃপ্রকাশ)
বিভাজনে যাই। জামাত ও শিবিরের সম্পর্ক কি? জামাতের ছাত্র উইঙ হচ্ছে ইসলামী ছাত্র শিবির। ১৯৭৭ সালের আগ পর্যন্ত তা ইসলামী ছাত্র সংঘ নামেই পরিচিত ছিল। জামাতে ইসলামী নাম বদলায়নি, ছাত্র সংঘ নাম বদলেছে। কারণ জামাত মেইন স্ট্রিম রাজনীতিতে জড়িত, যেখানে টাকার খেলায় অনেক আপোষ নামাই সম্ভব। ছাত্র সংঘ নাম বদলেছে। কারণ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের বুদ্ধিজীবি হত্যার নৃশংস নির্মমতা এখনো স্মৃতি থেকে বিলীন হয়নি সাধারণ বাঙালীর।

এই একাত্তরেই জামাতে ইসলামী স্বাধীনতাকামী বাঙালীদের জন্য ভয়াবহ এক আতঙ্ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। ২৫ মার্চের গণহত্যা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে জামাতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তানে নিজেদের প্রতিষ্টার জন্যই ভয়াবহ এক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামে। আওয়ামী লীগের পর জনসমর্থন বিচারে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে মুসলিম লিগ ও নেজামী ইসলামী ছিল জামাতের চেয়ে অনেক এগিয়ে। একই ভাবে প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে এনএসএফ (ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, মুসলিম লিগের) ধারে কাছেও ছিল না ছাত্র সংঘ।

তার মানে পশ্চিম পাকিস্তানে মওদুদী কাদিয়ানী দাঙার পর যেভাবে মিলিটেন্ট একটা দল হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন জেহাদী আফিম খাইয়ে, পূর্ব পাকিস্তানে সে মৌতাত পায়নি জামাত। আওয়ামী লীগের শুন্য স্থানে নিজেদের বসাতে তাই সেই মিলিটেন্সিরই শরণ নেয় তারা। পশ্চিম পাকিস্তানী প্রভু এবং এদেশে তাদের সামরিক প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের অধিকতর সাচ্চা মুসলমান ও পাকিস্তানপ্রেমী হিসেবে দেখিয়ে তাদের ল্যাপটপ হবার জন্য এর বিকল্প ছিল না কোনো। তাই নেজামী ইসলামী ও মুসলিম লীগের নেতারা যখন শান্তি কমিটি নিয়ে ব্যস্ত, তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মুক্তি নিধনে অধিকতর সহযোগিতার হাত বাড়াতেই জামাত সশস্ত্র পন্থায় গঠন করে রাজাকার। সেনাবাহিনীর কাজ কমাতেই তারা মাঠে নামে। স্বাধীনতার পক্ষশক্তি কিংবা তাদের সমর্থক নির্মূল থেকে শুরু করে মুক্তি বাহিনীর খোজে চৌকির তলা চষে ফেলা এই রাজাকাররা করেনি হেন কাজ নেই। তার পুল-কালভার্ট-সড়ক পাহারা দিয়েছে। সীমান্ত পার করে দেবে বলে পয়সা নিয়ে গুলি করে মেরেছে পলায়নপর বাস্তুহারাদের। হামলা করে লুটে নিয়েছে সহায়সম্পদ। দখল করেছে হিন্দুদের বসতভিটা। পুরোটাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংজ্ঞাভুক্ত। মেয়েদের তুলে নেয়া, পাকপ্রভু সেনা অফিসারদের ভেট দেয়া কিংবা মালি গণিমত হিসেবে তাদের এটো চাটায় ও পিছপা ছিল না তারা। এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের প্রতিদান তারা পেয়েছে স্বাধীনতার পর তাতক্ষণিক। এ কাজে তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে এসেছে বরাবরের মতো। পাকিস্তানকে ভাঙার ভারতের চক্রান্ত ও তাদের চর শেখ মুজিবের নীলনক্সার বয়ান দিয়ে রিক্রুট করেছে আলাভোলা মানুষদের। এরা কেউ জামাত করত না। শেখ মুজিব ক্ষমা করেছিলেন এই শেষোক্তদের। কিন্তু রাজাকার প্রধান ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্তরা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়েনি। প্রসঙ্গত রাজাকার প্রধান ছিলেন প্রতিটি জেলার ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতিরা।

যুদ্ধে যখন পরাজয় নিশ্চিত, তখন এই ছাত্র সংঘই মহানবী (দঃ) বিখ্যাত বিজয় আলবদর দিবসে গঠন করে স্বাধীনতা যুদ্ধের নৃশংসতম খুনী স্কোয়াড- আল বদর। দেশের সেরা বুদ্ধিজীবিদের তুলে নিয়ে নির্মমতম উপায়ে খুন করেছে তারা। জামাত তখন কি করছিল? রাজাকারি তত্ত্বাবধান তো আছেই, তারাই যে সেরা পাকিস্তানপ্রেমী এই প্রমাণ দিয়ে ইয়াহিয়ার সঙ্গে দরকষাকষি করছিল ক্ষমতার পিঠার সেরা ভাগটি পাওয়ার জন্য। মুসলিম লিগ ও নেজামী ইসলামী তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিরব দর্শক থেকে গেছে, কিংবা যোগ দিয়েছে সঙ্গে। কিন্তু সেখানেও ভিন্ন পলিটিক্স। পাকিস্তানের দালালীর নেতৃত্বটা নিজেদের হাতেই রেখে দিয়েছে জামাত।

স্বাধীনতার পর অন্য ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে তাই জামাত সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ। কারণ রাজাকার বলতে কেউ মুসলিম লীগ বোঝে না। জামাতকেই বোঝে। তাই গোলাম আযমের নামের আগে রাজাকার, নিজামী-মুজাহিদ-কামারুজ্জামানদের নামের আগে আলবদর বিশেষন জুটে যায়। এবং এটা ততদিন থাকবে যতদিন বাঙালীর শেষ রক্ত বিন্দুতে স্বাধীনতার চেতনা থাকবে। স্বাধীনতার পর তাই তারা পুরো দলটিই ছিল সাধারণ মানুষের চক্ষুশূল। শান্তি কমিটির অনেক নেতাই ছাড় পেয়েছে, রাজাকার নেতারা পায়নি। যারা পালিয়ে বেচেছে তারা ছাড়া।

স্বাধীনতা ঠেকানো যাচ্ছে না কিংবা রুখা যাচ্ছে না পাকিস্তানের ভাঙ্গন। এটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর গো.আ.সহ জামাতের শীর্ষ নেতারা সবাই পালিয়েছে দেশ ছেড়ে। ছাত্রসংঘেরও একই অবস্থা। এলাকা বদলে, ভোল পাল্টে, মুক্তিযোদ্ধা সেজে কিছুদিন কাটানোর পর পগাড় পার হয়েছে তারাও। অনেকে ভিড়ে গেছে বিহারীদের সঙ্গে, সাময়িক আশ্রয় নিতে। তারপর পাকিস্তান হয়ে লন্ডন ও সৌদি আরবে সংগঠিত হয়েছে সবাই।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দেশে ফেরার সুযোগ পেয়ে যায় এসব ঘাতক-দালালেরা। যারা মুজিবের বিকল্প হতে পারতেন জেল হত্যায় বিনাশ করা হলো তাদেরও। খুনীদের বোড়ে মুশতাক প্রথম কাজ যেটি করলেন সেটা হলো দালাল আইন প্রত্যাহার। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হবার পর সব দলগুলো রাজনীতির সুযোগ পেল। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ ছিল। জিয়ার সংশোধনীতে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের ছায়াতলে ফিরে এলো জামাত। পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নিয়েও ফিরল ঘাতক শিরোমনি গোলাম আযম। জামাতের আমির হয়ে গেলেন এসেই। কি অদ্ভুত একটা ব্যাপার! ভীনদেশের পাসপোর্ট নিয়ে এদেশে একটি রাজনৈতিক দলের কর্ণধার হয়ে যাওয়াটা আমাদের রাজনৈতিক দুর্বত্ততার দারুণ একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে আজীবন।

এখন নিজেদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত করার পালা। সে কাজে জামাত কাজে লাগাল তাদের ছাত্র ফ্রন্টকে। ইসলামী ছাত্রসংঘ ভোল পাল্টে হয়ে গেল ছাত্র শিবির। সভাপতি করা হলো একাত্তরের আলবদর কমান্ডার মীর কাশেম আলীকে। ধর্মভীরু বাঙালীদের মধ্যে ভারত বিরোধী প্রচারণা, একাত্তরে তাদের অবস্থান সঠিক ছিল নানা প্রপোগান্ডায় তা বোঝানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনুদান দিয়ে গরীব জনগোষ্টীকে কিনে ফেলে জামাত তাদের ভিত গড়ছিল। আর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শেকড় প্রতিষ্ঠার কঠিন কাজটি দেয়া হলো শিবিরকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতার প্রশ্নে অন্যরকম এক চেতনা ধারণ করে। এখানে মতিউর রহমান নিজামী জুতাপেটা হয়, এখানে শিবির পেলে অপরাজেয় বাংলার সামনে কানে ধরে উঠবস করতে বাধ্য করা হয়। কাটাবন মসজিদ দখল ও আশেপাশের মার্কেটের প্রায় প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্টান কব্জা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্রেফ ঘেরের মধ্যে রাখতে পেরেছে শিবির। কিছুদিন আগে ছাত্রদলের সহায়তায় একটা মিছিলও নাকি করেছিল। ফাকা ক্যাম্পাসে সফল হলেও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের চোখে পড়ার পর যথারীতি ধাওয়া।

ছাত্র শিবিরের গুরুত্বপূণ পদগুলোতে তখন সব বদর কমান্ডাররা। তারা জানে কিভাবে আঙুল বাকা করে ঘি ওঠাতে হয়। তারা এবার টার্গেট এরিয়া ঠিক করল অধিকতর ইসলাম ভীরু চট্টগ্রাম ও রাজশাহীকে। ভর্তি হওয়ার পর তাদের সদস্যরা নিয়মিত নামাজ কালাম ও আদাব সহবত দেখিয়ে নিতান্ত ভদ্র ইমেজ নিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোয় বিয়ে করে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করল। এরপর বের হলো গর্ত থেকে। মিছিল করলেই যখন আঘাত আসে তখন তাদের প্রতিশোধমূলক প্রতিঘাত। শুরুতেই টার্গেট করে ছাত্রনেতাদের পঙ্গু কিংবা খুন করে ফেলা হলো। চট্টগ্রাম কলেজে শাহাদত হত্যার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিল শিবির। জাতীয় পার্টির কব্জায় থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাজের নেতা হামিদের হাত কব্জি কেটে দিয়ে সন্ত্রাসের ধরণে বিপ্লব ঘটিয়ে দিল তারা। প্রতিপক্ষ অসংখ্য ছাত্রনেতার হাত ও পায়ের রগ কাটা হলো। চট্টগ্রামের প্রতিটি জেলায় ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা স্রেফ গুম হয়ে গেলেন। ঠিক একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও দখল করল তারা। পরিকল্পনাটা পূর্ণতা পায়নি স্রেফ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও সর্বশেষ একশনে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মিলিত প্রতিরোধে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে তারা।

এতকিছুর পরও জামাত তাদের অতীত মুছে ফেলতে পারেনি। অতীত মানে স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের অমর পৈশাচিক কীর্তি। সে কারণেই গোলাম আযম বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে গিয়ে জুতাপেটা হয় সাধারণ মুসল্লীদের হাতে। কিন্তু এরপর তাদের পরিকল্পনা অনেকখানি সফল। প্রচুর পেট্রোডলার ছড়িয়ে এখনো তারা কিনে যাচ্ছে গরীবগুর্বাদের ভোট ও সন্তানদের। সেইসঙ্গে ইসলামের ভয়াবহ অপব্যবহার। কোরআন শরীফ নিয়ে নির্বাচনের আগে মহিলা জামাত কর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে শপথ করিয়েছে দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে। কোরান শরীফ ছুইয়ে শিবিরের রিক্রুটদের শপথ করানো হয় জেহাদের। এই জেহাদে রগকাটা ফরজ, ভারতের দালালদের খুন করা ফরজ। এই জেহাদ একাত্তরেও করেছিল তারা। প্রচুর ব্যবসা প্রতিষ্টান কিনে ফেলে বাঙলাদেশের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে জামাত, মধ্যপ্রাচ্যের অনুদানের জন্য তাদের সুপারিশ লাগবেই। এবং যেহেতু ভোটব্যাংক বিশালায়তনে রূপ নিয়েছে, গদিতে বসতেও তাদের সমর্থন খুব জরুরী। সেই সমর্থনের বিনিময়ে নিজেদের শেকড়ের পাশে এখন রীতিমতো শানবাধানো ঘের দিয়ে দিয়েছে জামাত। আওয়ামী শাসনে নিজেদের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য অক্ষুন্ন রেখেছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে। কিছু হলে উপর মহল থেকে নির্দেশ ওদের কিছু বলো না, আমাদের মিত্র ওরা। বিএনপি শাসনেও তাই। সব শাসনেই তারাই উইনার। কারণ ওই যে ধর্মের আফিম। মাদ্রাসা ও মসজিদগুলো দখল করে ধর্মপ্রাণদের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং করে জনসমর্থন আদায় করা তাদের বিভিন্ন ইস্যুতে। এবং তারপর সরকারী পর্যায়ে চাপপ্রয়োগ। পাকিস্তানী উর্দি থেকে বাংলাদেশী উর্দি সবাই তাদের ভক্তি করে। কারণ তাদের চটালে মুসলমানরা চটবে। মুসলমানদের চটাতে হয় কিভাবে উস্কাতে হয় কিভাবে তারা সেটা সবচেয়ে ভালো জানে। এক্ষেত্রে লেবাস একটি বড় বিষয়। নুরানী দাড়িওয়ালা, টুপি পাঞ্জাবী পড়া একজন মানুষ চরম খারাপ হতে পারে না। ছাগুলে দাড়ি, নিয়মিত নামাজ পড়া একজন ছাত্রের পক্ষে খুনী রগকাটা হওয়া একেবারেই অসম্ভব। উপরে পানি ঢেলে গোড়া কাটার চরম উদাহরণ এই জামাত এবং শিবির। পানি ঢালা মানে নিজেদের ভণ্ডাবরণে সত ভাবমূর্তি। গোড়া কাটা মানে সন্ত্রাস। জামাত-শিবিরের ইতিহাস। আগাগোড়া সন্ত্রাসী ইতিহাস। অবশ্যই তারা সন্ত্রাসী দল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28860891 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28860891 2008-10-28 09:57:46
কুইনচাইন দেকি... http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28859902 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28859902 2008-10-26 10:32:39 ফটো ব্লগ : রাজকন্যার ৪টা অন্যরকম ছবি সংযুক্তি : এইবার পার্শিয়াল কালার দিয়া দেখলাম ক্যামন লাগে]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28859645 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28859645 2008-10-25 20:09:07 চন্দ্রাহুতি

মোজেজীয় মোজেজায় মজিয়া আমি তার অনুগামী
আমি কিংবা আমার দোসর
যা আমাতেই ছিলো খানিক আগে
আমি বসিয়া মুখোমুখি, স্ফূরিত অধরে বকবক শুনি
অশরীরি হারাই তাহাতে
ফরাসি চা-দানিতে ছিলো কি ধারা কমুনিয়ন!
পাপী হরণে তাতে অদৃশ্য ওষ্টছাপ খোঁজা
চুমুকে চুমুকে চুমু, অতঃপর দ্বি-ধা
আমাকেই টুকরা করে সে হরে আপনায়।।

ম্যাজেন্টা উপত্যকায় লুকানো স্বর্গ অলৌকিক
রংতুলি-ঠিকাদারী নিশ্চিত পল গগাঁ
ফূল-পাখি-লতা-পাতা তাতে বিমূর্ত রঙ্গীন
এবং অদেখা জমিনও।
আদমের মতো চ্যুত না হতে
কিংবা পথ না হারাতে
হলেও বা ফিরে এলে প্রিয় মুখে
আমি ল্যান্ডমার্ক খুঁজি
বসিয়া মুখোমুখি বকবকে, আতিপাতি খুঁজি।।


কোঁকড়া সিথির কাছে একতিল তিল
আমার উদ্ভাবনী আমোদেই কি সে উবু হয়!
বুকের ভাজে সাপ্টানো নতুন ঠিকানা
-দেখো, এইখানা দেখো, মনে রাখো।
নানামুখী চলনে-মোশনে আমার পাঠ
নাকের স্বেদ, শিরদাড়া থেকে চামড়ার চপ্পলে
পরটা-ডাল-ভাজি-ডিম গোগ্রাস প্রসাদ
সে কি বুঝে যায়
আমি কি গিলিতেছি অবাক প্রক্ষেপনে!

সম্বিতে ফিরিয়াও আসলে ফিরি না আর
অশরীরি হারাইয়া উম্মাদ শরীরে।

তারপর থেকে,
সেই থেকে,
তখন থেকে
চন্দ্রাহত আমি, স্বর্গে ফেরার ছলে আছি
ছকে আছি,
এক-দুই-তিন গুনি
কিংবা তিন-এক-দুই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28858544 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28858544 2008-10-23 10:40:52
নিশ্চিত থাকুন স্যার, আপনার আলোর মশালগুলোয় দুনিয়া রোশনাই
ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা দিয়ে একটা বড় লেখা লিখেছিলাম সেদিন। হারিয়ে ফেলেছি। সাফল্যের পাকাফল খেতে আগ্রহীদের অভাব কোনো কালেই ছিলো না এই দেশে। আইডিয়াল স্কুলকে ঘিরে কম রাজনীতি হয়নি। সেই টানাটানিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন স্যার। তার সর্বশেষ কীর্তি হয়ে আছে ফয়জুর রহমান আইডিয়াল হাইস্কুল। দেখাশোনা করছেন তার ছেলে এমদাদুর রহমান।

স্যার বলতেন তোরা মানুষ হ, আর কিছু চাই না। তোরা বড় হ, দুনিয়া রোশনাই কর। আমি একজন ব্যর্থ মানুষ স্যার। কিন্তু নিশ্চিত থাকুন, আপনার আলোর মশালগুলোয় ঠিকই দুনিয়া রোশনাই।

(লিখতে পারতেছি না স্যার, লিখতে পারতেছি না)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28857551 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28857551 2008-10-21 00:57:28
এখন কি ভর্তি করলেও প্রতিবাদ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসা ছাত্র ভর্তির প্রতিবাদে নাকি সেখানে মানব বন্ধন হইছে। ছবির ক্যাপশন লক্ষনীয়।

এইটা কারা করতেছে? তাদের এই প্রতিবাদ কেনো? ঢা.বিতে মাদ্রাসা ছাত্র ভর্তি হইলে তাদের কি সমস্যা? নাকি ই.বির ছাত্র কইমা যাবে এইজন্য?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28857503 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28857503 2008-10-20 22:45:54
কাহিনী বুঝলাম না আমি যখনই ঢুকি আমারে না হইলে ৫০টা কবিতা আর ১০০টা পোস্ট ফেলতে হয় যার সঙ্গে ১৯৭১ সালের কোনো সম্পর্ক নাই।
এখন এইটা বন্ধ করার উপায় একটাই, যারা এমনটা করতেছে তাদের তালিকা করে সন্দেহজনক সদস্য হিসেবে রাখা। এতে তাদের পোস্টগুলা মডারেশনে থাকবে গ্রুপ পেইজে আসার বদলে।

কিন্তু ব্যাপারটা সেই ব্লগারের জন্য যতটা না, তার চেয়ে ঢের বেশী অপমানজনক গ্রুপ এডমিন হিসেবে আমার জন্য। কারণ এটাকে ওপেন হিসেবে গ্রুপ রাখা হইছে।

আপনাদের আবারও অনুরোধ করি। যদি কোনো পোস্ট দেন, সেটার সঙ্গে যদি মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে জন্মযুদ্ধ গ্রুপ সিলেক্ট করবেন না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28857156 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28857156 2008-10-20 02:11:43
আসেন দেশগড়ার কাজে সম্মিলিত পদক্ষেপটা নিই
সমস্যার সমাধান দিছেন লালন সাঁই। গুন্ডারে মুফতি পৈতায় পদোন্নতি দিয়া মূর্তি ভাঙাইয়া জোশ কমে নাই আমিনীর। হুমকি দিছে ক্ষমতায় আসলে সব মূর্তি ভাইঙ্গা ফেলার। ভাবটা এমন তারা ক্ষমতায় আসতে চায় না, যেমন পদোন্নতি চায় না টিএন্ডটি বিভাগের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা।

তারা যেইটারে মূর্তি বলে, আমরা সেইটারে বলি ভাস্কর্য্য। এখন হাওয়া যা বুঝতেছি আমিনীরে প্রেসিডেন্ট বানাইয়াই ছাড়বো আমরার ভোটাররা। তো কি দরকার এত কষ্ট কইরা দিনের পর দিন খাইটা বানানো মূর্তি কিংবা ভাস্কর্য্যগুলার এহেন বিপন্নতায় ভোগার। আর এ থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে পারি আমরা সামহোয়ারের ব্লগাররা।

আমি কইকি এই দেশে যত ভাস্কর্য্য বা মূর্তি আছে সব প‌্যাকেট কইরা ফ্রান্সের কোনো জাদুঘরে পাঠাইয়া দেয়া হোক। সেইখানে ওয়ামী আর শাওন আছেন। তারা খোজ নিয়া আমাদের জানাইতে পারেন কোন জাদুঘর এইসব মূর্তি কিঙবা ভাস্কর্য্যের জন্য মানানসই। এরপর গোটা ফ্রান্সব্যাপী সেগুলির প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও নিবেন তারা। আর এয়ারপোর্ট থিক্যা যাতে চুরি না হয়, সেইটা নিশ্চিত করার জন্য বিমানবন্দরে পাহারার ব্যবস্থা করতে নিশ্চয়ই কিছু সাথী ভাড়া দেবেন তাদের নেতারা।

আমরা প‌্যাকেটিংয়ের কাজ করুম। আর কেউ এইডির বিপক্ষে মিছিল করতে চাইলে পিকেটিং। সরকার এবং হবু সরকাররে বলা হবে মূর্তি ভাড়া দিয়া দেশের জন্য বিদেশী মূদ্রা আনা হইতেছে (এখনতো ফ্রাঙক নাই, সবই ইউরো)। আমরা কমু সংস্কৃতি বাচলো, ওরা কইবো কুফরি গেলো। আমিনি কইবো ইউরো আইলো। শান্তিই শান্তি।

আইডিয়াটা ক্যামন? আর কোনো ইস্যুতো চোখে পড়তাছে না <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28857034 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28857034 2008-10-19 22:26:20
ঠিকাছে, মুজাহিদরে ছাড়ি দেন
জনাবে আলা আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে সব ধরণের দুই লাম্বারির অভিযোগ তাই প্রত্যাহার কইরা নিতে আপনাগো চাপে আমরা রাজি। কথা দিতাছি, তারে ছাইড়া দিলে কেউ কিচ্ছু বলবে না।

আমরা জানি মুজাহিদরে ছাইড়া দিলে সারা দেশে আর কোনো ভাস্কর্য বিপন্ন হইবে না। খালি লালন দৃষ্টান্তমুলক ভাঙচুর হইয়া থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সব ধরনের আন্দোলন ভুইলা গিয়া আবার ফাজেল অধ্যয়নে ব্রতী হইবে। খালি উপাচার্য্যের জানালার কাচ আর ফরম কিনতে গিয়া মাথা ফাটা তিন শিক্ষার্থী দৃষ্টান্ত হইয়া থাকবে।


জব্বর শো ডাউন হইছে জনাব।

ভিক্ষা চাই না সরকার কুত্তা সরান। শাস্তি চাই না, মুজাহিদরে ছাড়ি দেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28856942 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28856942 2008-10-19 18:28:23
এ-টিমের একজন হিসেবে আমার উত্তর Click This Link
এবং অনেক ব্লগাররাই এ-টিমের উপর তাদের ক্ষোভ ঝাড়তেছেন। অবশ্যই এই অধিকার তাদের আছে।
কারণ এটিমের পুন্দানি খাওয়া কোনো সুখকর অভিজ্ঞতা না।


কিন্তু উনি পোস্টে আমার নাম ব্যবহার করছেন। বলছেন যে উনি ব্লগে রাজাকার বিষয়ক একটি আদালত করতে চাইছিলেন, আর আমি তার প্রস্তাব মতো মডারেটর হইতে রাজী হইনি। আমি সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করছি কারণ এ ব্যাপারে আমার চেয়ে যোগ্য লোক আছেন। আমি তীরন্দাজের মতো অবিতর্কিত কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষকারী সিনিয়র ব্লগারের নাম সুপারিশ করছি।

যেহেতু আমি এ-টিমের মতো একটা ব্লগ গেরিলা দলের সদস্য, যারা বাংলা ব্লগে স্বাধীনতা বিরোধী চেতনা কবর দিতে বদ্ধ পরিকর, তাই তার এমন একটা পদে সাজে না যেখানে বিচার করতে গেলে দুই পক্ষের কথা শুনতে হয়। আমি শুয়োরের সঙ্গে সহবাসের ফতোয়া অস্বীকার করি বলেই তাদের কথা শুনতে নারাজ। সো আমি কেমনে একটা আদালতের প্রধান হই। আর সেটা যদি একতরফাই হয়, সেজন্য আমার এ-টিম তো আছিই। এক্সিকিউশন ইজ আওয়ার মটো।

তো জনাব সবাক টার্ন নিছেন Click This Link এই পোস্টটা দিয়া।

উনার আলোচ্য পোস্ট মডারেটেড। ধারণা করি যারা এ-টিমকে গালাগালি করবে, উনি থ্যাঙ্কু থ্যাঙ্কু লিখে লিখে তাদের পোস্ট প্রকাশ করবেন। কিন্তু আমাদেরটা না। আমি মন্তব্যে লিখেছি : ধন্যবাদ, সহমত। এ-টিম আসলেই একটা ফাতরা দল। তাদের গালাগালি করার অধিকার অবশ্যই সবার আছে। কিন্তু আপনি কি এ-টিমের উপর রাগ কইরা স্বরূপে আবির্ভূত হইলেন নাকি এ-টিম আপনার এই রূপের খবর জানতো বইলাই আপনারে এভয়েড করছে?
উনি মন্তব্যটা ছাড়বেন না ধরে নিয়েই এই পোস্টের অবতারনা। আশা করি বুদ্ধিমানরা বুঝে নেবেন আমার ইশারা। ভালো থাকবেন সবাই।

এ-টিম সম্পর্কে ধারনা পেতে পড়ুন : Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28854799 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28854799 2008-10-15 01:50:21
কেনো বলি রাজাকার? Click This Link
গতকালই একজনের পোস্টে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবির প্রসঙ্গে লিখেছিলাম ইডিয়টিক লজিকে ভরপুর এই সব জাউরাদের মাথা। প্রমাণ দেখেন :
আর যারা ইসলামী আন্দোলন করে রাজাকার বলতে যদি তাদের বুঝায় তাহলে কর্ণেল ফারুক এবং তাদের দলের সবাই ৯ নং সেক্টর কমান্ড়ার (অবঃ) জয়নুল আবেদীন ও তার দলের সবাই এবং অন্যান্য যারাই কোন না কেন ইসলামী দলের সংগে রয়েছেন তারা সবাই রাজাকার।
কণেল ফারুকের ফ্রিডম পার্টি বলে ইসলামী আন্দোলন করে! আর জয়নুল আবেদীন ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার হইছে কি স্বাধীনতার পর মেজর জলিল গ্রেপ্তার হওয়ার পরে? এই ছাগলের সঙ্গে কি যুক্তিতে যাবেন যার জ্ঞানই ভ্রান্তিপূর্ণ।



দেশের লোক যদি জামায়াত কে শত্রুই মনে করে তবে জামায়াত তো কোথাও পলায়ন করেনি।ওরা দেশে রইলো কি করে?তাদের কি কোন যাদু-মন্ত্র জানা ছিল? এরা যদি দেশের এতই ক্ষতি করে থাকে তবে
১৬ ই ডিসেম্বরের পরে এরা বাঁচতেই পারতো না।এটা কি দেশ বিদেশের লোক বুঝে না ?
গোলাম আজম কে৭১ এর ঘাতক দালাল বলা হয় ।কিভাবে আপনার তাকে রাজাকার বলেন? যদি উনি রাজাকার হয়ে থাকেন তাহলে স্বাধীনতার ৩৮ বছর পর ও কেন বাংলাদেশে বসবাস করেন?উনাকে শেখ সাহেব কেন গ্রেপ্তার করেন নি?মুক্তিযোদ্বারা তাকে কেন খতম করলো না?


দেশে নারে বান্দীর পুত গর্তে ছিলো। তোর বাপের বাপ গোলাম আযম ছিলো পাকিস্তানে। তোদের ইসলামী আন্দোলনের সাথীদের দিয়া মুজিবরে মারাইয়া, জিয়ারে ওর বউর ভিডিও দেখাইয়া ব্ল্যাকমেইল কইরা তারপর ছাড়পত্র নিছে এই দেশে প্রকাশ্য হওয়ার। তোর বাপদের এখনও চ্যালেঞ্জ বডিগার্ড ছাড়া একদিন রাস্তায় হাটাচলা করতে বল, ১৫ মিনিটের মইধ্যে ইন্নালিল্লাহ পড়তে হইবো সব বাইনচোদরে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28834419 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28834419 2008-08-24 19:00:41
একটি পাক কদমবুচী অনুষ্ঠান
কাজী অফিস একটা গলির মধ্যে। সেখানে দেখি বেজায় ভিড়। তরুণ-যুবকদের বেশ জমজমাট সমাবেশ। এরাও বোধহয় বিয়ে খেতে এসেছে। কি আশ্চর্য্য। আমার সঙ্গে তাদের পোষাকেও ভারী মিল। ফুলস্লি­ভ শার্ট, গোড়ালি পর্যন্ত গোটানো প্যান্ট। রিকশা থামাতেই দেখি সবগুলো মুখ আমার দিকেই ফিরে তাকালো। ভাড়া চুকিয়ে একজনকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম. ‘ভাই, কাজী…।’ কথা শেষ করতে পারলাম না। সমস্বরে চিৎকার উঠলো, ‘গাজী গাজী, আগায়া।’ তারপর আমাকে চ্যাংদোলা করে দেখি তারা এগিয়ে চললো। ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে চাইলাম, কিন্তু গলা দিয়ে স্বর বেরুল না। পাশে দেখি মিছিল হচ্ছে, প্রথম লাইনটা বুঝলাম না, পরেরটা পরিষ্কার, “আমরা সবাই গাজী হবো।”
সামনে একটা একচালা বিশাল ভবনের মতো। তাতে সামিয়ানা টাঙানো। বিশাল এক টেবিলে মুরুব্বী গোছের কয়েকজন বসে আছে। তাদের পেছনে উর্দূতে কিছু লেখা। উর্দূই, কারণ আরবী হলে জের, জবর থাকত। আর নিচে বাংলায় লেখা ‘গাজী ভাইয়ের পাক কদমবুচী অনুষ্ঠান’। আমাকে দেখেই হাততালিতে ফেটে পড়ল গোটা সমাবেশ। একদল যুবক বেশ সুরেলা একটা গান গাইলো বাদ্যবাজনা ছাড়া, কথাগুলোয় বেশ জোশ আছে। এরপর মাইকে এলেন এক মুরুব্বী, ততধিক জোশিলা গলায় বলে চললেন, “উপস্থিত বেরাদেরান, আমাদের গাজী ভাই এসে গেছেন। সেই গাজী, যিনি আমরা যা ঠারেঠোরে গোপনে করে যাচ্ছিলাম, একদম এক লাথিতে করে দেখিয়েছেন। তার সেই লাথিতে এই পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাস আবার নতুন গতি পেলো। এই গতিই ইতিহাসের চাকাকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাবে ঠিক যেখানে আমরা তাকে চেয়েছিলাম। বলুন মারহাবা।”

শুরু হলো মারহাবা। এদিকে আমি ভাবছি পূর্ব পাকিস্তান এলো কোত্থেকে। এই লোকগুলো অবশ্য বেশ উর্দূ বলে। পুরানো ঢাকার ছেলে আমি, বাসা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের পাশে। সুইপারদের কথা শুনে অভ্যস্ত। তাই এদের কথা বুঝতে অসুবিধা হলো না। সেই লোক এদিকে বলে চলেছে, “কিসের মুক্তিযোদ্ধা? সুন্দরী মেয়ে আর ধনসম্পদের লোভে যারা ডাকাতিতে নেমেছিলো, এরাই সব মুক্তিযোদ্ধা। আসলে সব প্রতিবেশী দেশের দালাল। কিন্তু এই দেশের মানুষ বুঝে গেছে সত্যিকার দেশপ্রেমিক কারা। আমাদের হাতে এই দেশের অর্থনীতির চাবিকাঠি। কল ঘুরিয়ে দিলে সব না খেয়ে মরবে। সব কিনে ফেলেছি। তাই মুক্তিযোদ্ধা আর যুদ্ধাপরাধী বলে এত বছর পর দেশকে দুই ভাগ করার ষড়যন্ত্র সফল হবে না। তাছাড়া এই যে আমাদের তরুণ মুজাহিদরা, এদের জন্ম তো একাত্তরের অনেক পরে। এদের কেনো রাজাকার বলে গালি দেয়া হয়? তারা আমাদের ভাষায় কথা বলে তাই? কাভি নেহী। সব গাজী ভাইয়ের মতো লাথি মেরে চুপ করিয়ে দেয়া হবে। সেদিন সেই সাহসী ঘটনার পর উনি ডায়েরিয়ার কারণে আর আমাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। অধ্যাপক সাহেব থেকে শুরু করে জেল খেটে আসা আমাদের নেতাও উনার বদন মুবারক দেখার জন্য আকুল হয়ে আছেন। আজ তার পাক কদমকে কদমবুচী করে তারা শ্রদ্ধা জানাবেন।”

এইবার আমার মাথা খারাপ অবস্থা। কোথায় এলাম! এযে সব বড় বড় খুনীরা বসে আছে। একজন দুজন নয়, হাজারে হাজারে লাখে লাখে মানুষের রক্ত এদের হাতে! ভাবনার সুযোগটাও পেলাম না। ‘আইয়ে জনাব’ বলে আমাকে ঠেলে সেই টেবিলের উপর তুলে দেয়া হলো। পাকা দাড়ি এক লোক আমার দিকে চেয়ে কেঁদে দিলেন। উনি নাকি অধ্যাপক। কোন কলেজের নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের জানি না। জানালো না কেউ। ‘তু আব তাক কাহা থি মেরে লাল- কই ছিলে তুমি? ২৬টা বছর ধরে অপমান সহ্য করে যাচ্ছিলাম। সেই ৮২ সালে বায়তুল মোকাররমে জুমা বারে গিয়েছিলাম পালেস্টাইন সংহতি দিবসে। আমাকে জুতাপেটা করলো বাঙালীরা। তারপর থেকে দিন গুজরান করেছি প্রতিশোধের জন্য। তুমি সেই কাজ করেছো বাপজান। বলেই আমার পা টা নিয়ে চাকুম-চুকুম করে চুমু দিতে লাগলেন। আমার তো সুরসুরি লাগছে, সেই সঙ্গে প্রবল ঘৃণা।

টেনে সরাতে হলো না, কেড়ে নেওয়া হলো। বলতে গেলে তার কাছ থেকে টেনে নিয়ে গেলো আমার পা’টা তার পাশের জন। চেহারাটা বেশ চেনা চেনা লাগলো। টিভিতে দেখেছি মনে হয়। ‘ইয়া হাবিবি, হে বন্ধু তুমনে তো কামাল কার দিয়া। এই দেখো আমার দাড়ি। দেখো দেখো। টেনে ছিড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেয়াদব ছেলেগুলা। সরকারে আসার পর গিয়েছিলাম সেখানে, মারধোর বাকি রাখে নাই। আর মুঠো ধরে টেনে ছিড়েছে মেরা মেহেদী লাল বাল। সেই থেকে এই দুপাশে টাক পড়ে গেছে, আর দাড়ি উঠে না। আমি জুলফি বড় করে সেই টাক ঢেকেছি। অধ্যাপক সাহেবের জুতাপেটার দিনও আমি পাশে ছিলাম। ভয়ে যেতে পারিনি কাছে, আমাকেও যদি মারে। সেই মারটা ঠিকই খেলাম। তুমি তার শোধ নিলে।’ বলেই সেই চুমু খাওয়া। এবং একইভাবে তার কাছ থেকে কেড়ে নিলো তৃতীয় জন। আমি যাতে পড়ে না যাই সে জন্য দেখি আমার বগলের দুপাশ ধরে আছে দশাসই দুই পালোয়ান কিসিমের যুবক। তারাই আগলে আমাকে আরো কাছে নিয়ে গেলো তৃতীয় জনের। তিনি বললেন, “আলবদরের কমান্ডার ছিলাম, তারপরও আমার লোম স্পর্শ করতে পারে নাই কেউ এতদিন। কিন্তু সেদিন প্রেসক্লাবে আমাকে দৌড়ানি দিলো কিছু দু®কৃতিকারী- গন্ডগোলের সময় এরা বন্দুক নিয়া মানুষজনকে ভয় দেখাতো। এই বুড়ো বয়সে কি বেইজ্জতি। তুমি বদলা নিয়েছো যুবক।’ তারপর কদমবুচী চলতেই থাকলো। লাইন ধরে লোকজন আমার পা ছোয়, কেউবা চুমু খায়। আর বলে মারহাবা। পাকসারজমিন পয়েন্দাবাদ।’

ঝামেলা থেকে কিভাবে বাঁচা যায় ভাবছি। বিয়ে খেতে এসে কোন গাড্ডায় পড়লাম! যা বুঝলাম গাজী নামে কোনো এক যুবকের সঙ্গে আমাকে মিলিয়ে ফেলেছে এরা। আর সেই লোক কোনো এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাথি মেরে উধাও হয়েছিল। তার সম্বর্ধনা আমি নিচ্ছি। এখন এই গাড্ডা থেকে বেরুতে হবে। ভেবে পেলাম একটা উপায়। সেই বক্তৃতাবাজ লোকটাকে বললাম ‘আমি কিছু বলতে চাই।’ উনি বেশাক, বেশাক বলে মাইক্রোফোন এগিয়ে দিলেন। হাতে নিয়ে বললাম, ‘বেরাদেরান। আজকে আমার খুব খুশী লাগছে যে আমি আমার শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পেরেছি। আর অধ্যাপক সাহেবের মতো মহান দেশপ্রেমিক লোক আমার কদমবুচী করে আমাকে যে শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন তাতে আমি আপ্লুত। উনার শিক্ষাকেই ধারণ করে আমরা আজ এতদূর এসেছি। এই যে দেশটা, এই ভৌগলিকভাবেই লুটপাট করার দেশ। দিনেমার, বর্গী, ইংরেজ সবাই লুটেছে। তাছাড়া ধর্মীয় দিক থেকেও এরা ঠিক পাক্কা ইমানদার না। তাই এর সঠিক নিদান দিতে পারে একমাত্র আমাদের নেতারাই, তাদের দিক নির্দেশিত পথেই এই দেশের সঠিক রিয়াসাত।’ মারহাবা, মারহাবা সমস্বরে রব উঠে চারদিক থেকে।

‘আমার একটা আরজি ছিলো অধ্যাপক সাহেব’, বলে তার দিকে তাকাই। উনি ‘বেশাক, আজ তেরা হার চাহা পুরি হোগি মেরে লাল, যা চাইবে তাই পাবে।’ বললাম, ‘আমার ডায়েরিয়া পুরাপুরি সারেনি। তাই বাড়ি যেতে হবে। আমি আবার বাড়ির টাট্টিখানা ছাড়া আর কোথাও পায়খানা করতে পারি না। তবে তার আগে আমি সেদিনের সেই কীর্তিটা আবার করে দেখাতে চাই। আপনি রাজী হলে…।” উনি গদগদ চেহারা নিয়ে নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই বলে উঠে পড়লেন টেবিলে। বললেন, ‘আমি মুক্তিদের মতো জয় বাংলা বলতে থাকব, আর তুমি লাথি মারবে।’ ‘জয় বাংলা!” বলে আমি গদাম এক লাথি কষিয়ে দিলাম তার পাছাতে। তারপর বললাম, ‘হোজুর বেশ বেগ পেয়েছে, তাই তাড়াহুড়ায় মারলাম, জয় বাংলাটাও আমিই বলে দিলাম। ইতিহাস নিশ্চয়ই জায়গামতো যাবে।” মারহাবা, মারহাবা শুনতে শুনতে বেরিয়ে পড়লাম।
একটা হোটেল খুজে বের করতে হবে। খিদে পেয়েছে।

লেখাটা আমার ব্লগে প্রকাশিত

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28834195 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28834195 2008-08-24 02:53:24
ববিতারে নিয়া ফাইজলামির তীব্র নিন্দা জানাই ববিতা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্না নায়িকা। সত্যজিত রায়ের অশনী সংকেত (১৯৭৩) ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র অনঙ্গা বৌর চরিত্রে অভিনয় করছেন। সেই বছর বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বেয়ার জিতছিলো সেই ছবি। এর বাইরে অরুনোদয়ের অগ্নিস্বাক্ষী্ আর ধীরে বহে মেঘনা নামে দুইটা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবির নায়িকা তিনি। একটা পশ ইমেজ নিয়া দীর্ঘদিন অভিনয় করছেন। দুই বোন সুচন্দা ও চম্পার সঙ্গে মিলে তিন প্রজন্মের চলচ্চিত্ররে ঠ্যাকা দিছেন।

আমি তারে ভালা পাই, তাই আবারো তীব্র নিন্দাবাদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28834126 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28834126 2008-08-23 23:57:59
ফেসবুকে মাসুদ রানা Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28828612 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28828612 2008-08-08 02:50:39 জন্মযুদ্ধ এখন ফেসবুকে http://www.jonmojuddho.org


একে আরো ব্যাপ্তি দিতে এবার ফেসবুকে খোলা হয়েছে জন্মযুদ্ধগ্রুপ। শুরুতে মাত্র ১০০ জনকে নিমন্ত্রণের কোটা বেধে দেয়ায় সবাইকে হয়তো ইনভাইটেশন পাঠানো যায়নি। সামহোয়ারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যেসব ব্লগারের ফেসবুকে একাউন্ট আছে, তাদের জন্মযুদ্ধে যোগ দিতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28822775 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28822775 2008-07-21 23:35:02
দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্টের শাস্তি চাইছি
এ কারণে এখানকার বাসিন্দাদের সবার দৈনিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা এই তো এখনই বাতি যাবে ভেবে ভেবে পড়তেই পারেনি হয়তো। বাসায় বসে অফিস করছি, বিদ্যুত যাচ্ছে না বলে ব্র্রেক পাচ্ছি না।

বিদ্যুত ভবনের কোনো কর্মচারীর দায়িত্বহীনতার জন্যই এমনটা ঘটেছে নিশ্চিত। তার শাস্তি দাবি করছি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28822702 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28822702 2008-07-21 19:45:34
মাতম না আসেন নাচন কুদন করি " style="border:0;" />]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28821286 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28821286 2008-07-17 14:15:59 মুক্তি পেয়েও আরিফের ফেরারী যাপন
সব বদলে গেলো একটা বিজ্ঞাপনে। ২০০৪ সালে বিচ্ছু নামে একটা ফান ম্যাগাজিন পাঠকদের কাছে কার্টুন চাইলো। আরিফ এর আগে কখনো কার্টুন আঁকেনি। এবার আঁকলো, পাঠালো, আর সেটা ছাপাও হলো। গ্রামের ছেলের আঁকা কার্টুন একটা জাতীয় পত্রিকার সাময়ীকিতে ছাপা হয়েছে! আরিফ পুরো স্বর্গে! চেনা-অচেনা সবাইকেই সে দেখালো তার কীর্তি। সেইসঙ্গে পুরোদস্তর কার্টুনে মন দিলো। ‘উন্মাদ’ ও ‘আলপিন’-এর মতো বিখ্যাত ম্যাগাজিনগুলোতেও ঠাই পেলো তার আঁকা।

আরিফের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে ছোটো থাকতেই। আত্মীয়দের বাসাতেই তার বেড়ে ওঠা। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে তাই উপার্জনের কথাও ভাবতে হয়। কিছু করতে, সেইসঙ্গে কার্টুনটাও ধরে রাখতে ঢাকায় চলে এলো আরিফ। চাচাতো ভাইয়ের মুদি দোকানে কাজ নিলো। মাগনা থাকা-খাওয়া আর সামান্য পকেট খরচ- আরিফ তাতেই খুশী। দুপুরের খাবার পর দোকান একটু ফাঁকা থাকে। সে সময়টায় চলে কার্টুন আঁকা। আর বাসায় ফেরার পর ঘুমানোর আগ পর্যন্ত।

এভাবেই একদিন খ্যাতিও চলে আসে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত এক কার্টুন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় পুরষ্কার জেতে আরিফ। এরপর ডেইলি স্টার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের যৌথ আয়োজনে এক প্রতিযোগিতায় একদম প্রথম। রফিকুন্নবী (রনবী) ও শিশির ভট্টাচার্য্যরা অবাক হন জেনে যে আঁকাআঁকিতে কোনো ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নেই আরিফের! এর মধ্যে প্রথম আলো টুন হান্টেও দুটো বিভাগে জয়ী হয় সে। তবে আলপিনের সম্পাদক সুমন্ত আসলাম জানিয়ে দেন সব জায়গায় কার্টুন পাঠালে হবে না, প্রথম আলোয় ছাপাতে হলে শুধু সেখানেই কার্টুন দিতে হবে। আরিফ মেনে নেয়, যোগ দেয় আলপিনের প্রদায়ক কার্টুনিস্টদের দলে।

মাসখানেক পর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে আরিফের। রোজার মাস। আরিফের ইচ্ছে আঁকাআকি বাবদ অল্প যা কিছু পাওয়া যায় সেটা দিয়ে মা আর বোনের জন্য কিছু নিয়ে যাবে ঈদের ছুটিতে। এর মাঝেই আলপিনে ছাপা হলো আরিফের সেই কুখ্যাত কার্টুনটি। এক বৃদ্ধ লোক এক বাচ্চাকে তার নাম জিজ্ঞেস করছে। ছেলেটি নাম বলার পর লোকটি তাকে বকলো নামের আগে কেনো মোহাম্মদ (দঃ) লাগায়নি সে। এরপর তাকে তার কোলের বিড়ালটির কথা জিজ্ঞেস করলে ছেলেটি এবার বিড়ালের আগে মহানবীর নাম বসিয়ে উত্তর দিলো।
আলপিনের সেই সংখ্যাটি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে গেলো চারদিকে। বায়তুল মোকাররমে একদল মৌলবাদী আলপিন পোড়ালো, প্রথম আলো সম্পাদক ও কার্টুনিস্ট আরিফের গ্রেপ্তার ও চরম শাস্তি দাবি করলো। প্রথম আলো প্রথম পাতায় ক্ষমা চেয়ে সম্পাদকীয় ছাপালো, আলপিন বন্ধ ও আরিফের কোনো কার্টুন না ছাপানোর প্রতিশ্রুতি দিলো। সম্পাদক মতিউর রহমান বায়তুল মোকাররমের খতিবের কাছে ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন, পার পেলো না আরিফ। ছয় মাস রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ধর্ম অবমাননার দায়ে জেল খেটে গত ২০ মার্চ অবশেষে মুক্তি পেয়েছে সে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে তাকে। তার মুখ থেকেই চলুন শোনা যাক পুরা ব্যাপারটা।

এমন একটা কার্টুন আঁকার আইডিয়া কোথায় পেলেন? কেন আঁকলেন এটা?
আসলে আমি বুঝতে পারিনি এটা নিয়ে এত হৈ চৈ হবে। আমি সিরাজগঞ্জের ছেলে। আমাদের ওখানে এই কৌতুকটা খুবই প্রচলিত, ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। আমি শুধু একটু রূপান্তর করেছি। আসলে আমি চেয়েছিলাম আমাদের ধর্মীয় শিক্ষার অসম্পূর্ণতাটুকু তুলে ধরতে। মুরুব্বীরা আমাদের শেখান নামের আগে মোহাম্মদ ব্যবহার করতে। কিন্তু কার নামের আগে সেটা ব্যবহার করা যাবে, কোথায় যাবে না- সেটা তারা বলে দেন না। মুক্তি পাওয়ার পর আমি অবাক হয়েছি জেনে যে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কিশোর কণ্ঠ (নভেম্বর, ১৯৯৮ সংখ্যা) নামের একটা পত্রিকায় একই কৌতুক একটু অন্যভাবে ছাপা হয়েছে।

আপনি দেখেছেন সেটা?

হ্যাঁ, দেখেছি।

এরপর কি হলো?

গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর আমি কার্টুনটি আঁকি। আলপিনে তা ছাপা হয় ১৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন বিকেলের দিকে এক সহ-প্রদায়ক আমাকে ফোন করে জানায় যে আমার কার্টুনটি নিয়ে নাকি খুব গন্ডগোল হচ্ছে। সে বাসে করে কোথায় যাচ্ছিলো, তাই পুরোটা খুলে বলতে পারেনি। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। ফোন করলাম আলপিন সম্পাদক সুমন্ত আসলাম ভাইকে। উনি বললেন দুঃশ্চিন্তা না করতে, সব ঠিক হয়ে যাবে। আর ফোন খোলা রাখতে বললেন আমাকে। সে রাতটা আমার নির্ঘুম কেটেছে।
পরদিন সকালে আমার চাচাতো ভাইকে খুলে বললাম ঘটনা। উনি আমাকে গা ঢাকা দিতে বললেন। এরপর সাংবাদিক টিপু সুলতান (আওয়ামী লীগ সাংসদ জয়নাল হাজারীর নির্যাতনে মৃত্যুর মুখে পড়া এই সাংবাদিক আন্তর্জাতিক শিরোনাম হয়েছিলেন) ভাইয়ের ফোন এলো। উনি বললেন সিআইডির গোয়েন্দারা আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। আমি যেনো ভয় না পাই এবং উনাদের সহযোগিতা করি।

আপনি তখন কোথায়?

দোকানে। এরপর সিআইডি থেকে ফোন এলো, তারা আমার ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম। ঘণ্টাখানেক পর পুলিশের একটি জিপ এসে থামলো দোকানের সামনে। আমি তখন বাইরে দাঁড়িয়ে। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এসে আমার খোঁজ করলেন। পরিচয় দিয়ে বললাম আমিই আরিফ। উনি বললেন তার সঙ্গে জিপে উঠতে। আমাকে মিন্টু রোডে তাদের কার্যালয়ে যেতে হবে কিছু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এরপর ওয়ারল্যাসে কাকে যেন বললেন- ‌‌ওকে আমরা ধরেছি স্যার। আমি ভড়কে গেলাম। জিপে উঠতে উঠতে জানতে চাইলাম আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা। উনি বললেন যে আমাকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি ফোন করতে চাইলাম আমার চাচাতো ভাইকে, কিন্তু উনি আমার মোবাইল নিয়ে নিলেন। একটু পর ফেরত দিলেন অবশ্য। আমি সুমন্ত ভাইকে একটা এসএমএস করলাম। উনি কোনো জবাব দেননি।

জেরার সময় কি আপনাকে মারধোর করা হয়েছে?

না, মোটেই না। আমাকে নিয়ে অফিসারটি উপরতালায় একজন বড় কর্মকর্তার কাছে নিয়ে গেলেন। উনি তাকে বললেন- তোমাকে পুরস্কার দেয়া হবে। হয়তো আমার মতো একজন দাগী অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার জন্য (হেসে)। আমার কাছে জানতে চাইলেন কেনো এমন কার্টুন আঁকলাম। আমি বললাম কেনো একেছি। এরপর আমাকে নীচতলায় নিয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। সেখানে আমাকে জেরা করা হলো, কয়েকজন অফিসার জানতে চাইলেন কার বুদ্ধিতে আমি কার্টুনটা একেছি।

কার বুদ্ধিতে মানে?
উনারা জানতে চাইলেন এটা আমাকে কে আঁকতে বলেছে। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান কিংবা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বা আর কেউ এমন কোনো নির্দেশ দিয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলেন। আমি জানালাম এটা একান্তই আমার আইডিয়া। সেইসঙ্গে আমি ক্ষমা চাইলাম অন্য সবার হয়ে। বললাম যা শাস্তি দেবার আমাকে দিন, এই কার্টুনের সঙ্গে কোনোভাবেই আর কেউ জড়িত নন।
এর মধ্যে নীচতলায় থাকতে আমি প্রথম আলোর প্রথম পাতাটি দেখেছি, সেখানে দেখলাম ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। আর বলা হয়েছে আমার কার্টুন আর কখনোই ছাপাবেন না তারা। ভাগ্যভালো যে সেখানে কয়েকজন আমার হয়ে কথা বলছিলেন। একজন আমার একটা ছবি প্রিন্টআউট এনে দেখালেন যেখানে আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্টুন প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরষ্কার নিচ্ছি। আরেকজন বললেন আমি একজন উদীয়মান কার্টুনিস্ট যে একদিন খুব বিখ্যাত হবে।

তাহলে সেখানে তেমন কিছু ঘটেনি?

ভয় পাওয়ার মতো কিছু হয়নি। তবে একটা চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছিলো। আমাকে তেজগাঁ থানায় হস্তান্তর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। সেখানে যাওয়ার আগে একজন গোয়েন্দা অফিসার আমাকে তার রুমে নিয়ে গেলেন। তার কম্পিউটারে দেখালেন আমার পুরষ্কার পাওয়া কার্টুনগুলো। বললেন তার ভাই নাকি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালে চাকুরি করেন, তার কাছ থেকেই তিনি এগুলো সংগ্রহ করেছেন। এরপর আমাকে অনুরোধ করলেন একটা কার্টুন একে দিতে। আমি একটু বিব্রত হলাম। বললাম আমার মানসিক অবস্থা কার্টুন আঁকার মতো নয়। উনি পিড়াপিড়ি করতে লাগলেন যা খুশী একটা কিছু একে দিতে, উনি সেটা স্মৃতি হিসেবে রাখতে চান। অগত্যা আঁকলাম। একজন তরুণ ম্লান মুখে বসে আছে, আর অন্য একজন তার সঙ্গে কথা বলছে। ঠিক কার্টুন নয়, স্কেচ। তখনকার পরিস্থিতিটাই আমি কাগজে তুলে দিয়েছি। উনি খুব প্রশংসা করলেন সেটার। আমার সাক্ষর নিলেন।

এর মধ্যে কেউ যোগাযোগ করেনি?

না গোয়েন্দা অফিসে থাকতে কেউ করেনি। যখন আমাকে তেজগাঁ থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন আমার চাচাতো ভাই আর এক মামা ফোন করে অভয় দিলেন। বললেন আমাকে মুক্ত করার সবচেষ্টাই তারা করবেন। এরপর প্রথম আলোর আরেক সাংবাদিক ফোন করলেন। তিনি বললেন এনএসআই (জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা) থেকে আমাকে ফোন করা হবে। আমি যেন তাদের সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করি এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ঠিকঠাক উত্তর দিই।

তাহলে সিআইডির অভিজ্ঞতা তেমন ভয়ানক ছিলো না?

তা ঠিক। মানুষগুলো আসলেই ভালো। আমাকে যিনি তেজগাঁ নিয়ে যাচ্ছিলেন, উনি স্বান্তনা দিয়ে বললেন যে তার ধারণা আমি পরিস্থিতির শিকার। মনে হয় আমার গ্রাম্য চেহারা দেখেই তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে আমি নির্দোষ। উনারা দিনরাত অপরাধীর পেছনে ছোটেন, তাদের চোখে ঠিকই ধরা পড়ে কে অপরাধী।

থানায় কি হলো?

গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমাকে তেজগাঁ থানার ওসির কাছে বুঝিয়ে দিলেন। চলে যাওয়ার পরও তিনি আবার ফিরে এলেন আমাকে স্বান্তনা দিতে। বললেন ইনশাল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে, আর থানার কর্মকর্তাদের অনুরোধ করলেন আমার উপর যেনো কোনো অত্যাচার না করা হয়। আমি ভীষণ অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম তার এই আচরণে। এরপর ওসি সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কেনো আমি এমন একটা কার্টুন আঁকলাম। জানালেন আমার জীবনের উপর হুমকি থাকায় সরকার আমাকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এরপর উনি আমাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করতে বললেন। হাজতখানার পাশেই একটা টেবিলে নাম-ঠিকানা লেখাতে গেলাম। ঝামেলা শুরু হলো তখনই। একজন দারোগা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করলেন। কয়েকজন সেপাই তার সঙ্গে যোগ দিলো।

তারা কি মারলো আপনাকে?

না, গায়ে হাত তুলেনি। তবে ধর্মের অবমাননা করেছি বলে চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ফেললো। এইসময় এনএসআই থেকে ফোন এলো। একজন অফিসার সেই আগের প্রশ্নগুলোই করলেন- কেনো একেছি, কার বুদ্ধিতে একেছি। বাকিদের উচ্চস্বরে গালাগালির মাঝে যতটা সম্ভব মাথা ঠাণ্ডা রেখে আমি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলাম। এক পর্যায়ে ওই দারোগা আমার ফোনটি কেড়ে নিয়ে পকেটে রেখে দিলেন। আর ফেরত পাইনি। এরপর আমাকে হাজতে পোরা হলো। রোজা ছিলাম, তাই ইফতারি করলাম বাকি হাজতিদের সঙ্গে। এরপর আমাকে আলাদা হাজতে একা রাখা হলো।

এর মধ্যে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করেছিলেন আপনার সঙ্গে?

না। আমি শুনেছি তারা থানায় এসেছিলেন। তবে কেউ আমার সঙ্গে দেখা করেননি। আমাকে নিরাপত্তা হেফাজতে আনা হয়েছে এটা তাদের দেখাতেই আমাকে আলাদা রাখা হয়েছিলো। পরে অবশ্য বদলে গেছে অভিযোগ।

বদলে গেছে মানে?

আমাকে যখন আদালত থেকে জেলে পাঠানো হলো, তখন জানলাম আমার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন তেজগাঁ থানার ওসি।

তার মানে দেশ ও জনগণের শত্রু?

সেরকমই অনেকটা।

মাঝে একটা কথা জানা হয়নি। আপনাকে এনএসআই জিজ্ঞাসাবাদ করার মাঝ পথে যোগাযোগ যে কেটে গেলো, এতে তারা কিছু মনে করেনি? আপনার সঙ্গে কি যোগাযোগ করেছিলেন তারা?

আমি সেটা জানি না। তবে দোষ তো আমার না। উনারা অবশ্য যোগাযোগ করেননি আর।

জেলে কি ঘটলো? মানে আপনার অভিজ্ঞতা কি রকম?

আমার উপর দুটো হামলার ঘটনা বাদ দিলে খুব একটা খারাপ কাটেনি সেখানে। অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তবে আমার মনটা খারাপ থাকতো। মাকে ছাড়া দুটো ঈদ কেটেছে আমার কারাগারে। এই কষ্টটাই আমাকে পোড়াতো।

হামলা! কি রকম?

জেলে নেয়ার পর আমাকে আমদানী ওয়ার্ডে রাখা হলো। মুখে মুখে খবর রটে গিয়েছিলো যে আমি এসেছি। ওখানে কয়েদিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডাকার একটা ব্যবস্থা আছে। এমনি এক মিথ্যে ঘোষনা দিয়ে আমাকে চেনানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর একদল লোক আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। লাথি-চড়-কিল-ঘুষি চলতেই থাকে। এরপর একজন বাঁশ দিয়ে পেটালো আমাকে। ঘণ্টাখানেক পর তারা আবার এলো। একজন পায়খানা থেকে কাঠি দিয়ে গু তুলে আমার মুখে ঘষে দিলো। আমি তখন রোজা। কষ্ট সহ্য করে মুখ ধুয়ে এলাম।

কেউ আটকায়নি? কারা ছিল তারা?

শুরুতে কেউ কিছু বলেনি। মারধোর চরম পর্যায়ে যাওয়ার পর অন্যরা আমাকে বাঁচিয়েছে। এরা ছিলো জেএমবির (জামাতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ) সদস্য।

কিভাবে বুঝলেন যে ওরা জেএমবির সদস্য?

আমি জিজ্ঞেস করে জেনেছি, পরে ওদের সঙ্গে কথাও বলেছি। সবাই জানে ওরা জেএমবি সদস্য।

কথাও বলেছেন?

ওরা আমাকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখত। আমি কি করি, কোথায় যাই, কার সঙ্গে কথা বলি- সব নজরদারি করতো। কেউ কেউ আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করেছে। তাদের দলে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। আমি বলেছি দেবো (হেসে)।

দেবেন!

ওদের পিছু ছাড়াতে কিছু একটা বলা দরকার, তাই বলেছি।

দুটো হামলা বাদ দিলে আর কোনো সমস্যা হয়নি তাহলে?

হামলার ঘটনার পর আমাকে মনিহার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেও তারা হামলার চেষ্টা করেছিলো। এরপর আমাকে ছয়সেলে রাখা হয়। সেখানে আরাফাত রহমান কোকো (সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে), অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল আওয়াল মিন্টুকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। নিরাপত্তার কারণে রোজার ঈদের নামাজ আমাকে জামাতে পড়তে দেয়া হয়নি, নিজের রুমে একা একা পড়েছি। কোরবানীর ঈদে অবশ্য জামাতেই পড়েছি।

বিখ্যাত লোকদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি?


বলার মতো কোনো ঘটনা না। সবাই আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। কোকো ভাই আমাকে হাদিস পড়িয়ে শোনাতেন, বলতেন কার্টুন আর না আঁকতে কারণ এটা নাকি মুসলমানদের জন্য হারাম। আনোয়ার স্যার আমাকে খুব আদর করতেন। আমাকে কাগজ-কলম দিয়েছিলেন ছবি আঁকতে। আওয়াল স্যার আমাকে একটা রেডিও দিয়েছিলেন খবর শুনতে। কিছুদিন পর আমাকে নব্বই সেলে পাঠানো হলো। মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি সেখানেই ছিলাম।

আপনার সঙ্গে কেউ দেখা করেনি? মামলার কি অবস্থা কিভাবে বুঝতেন?

রোজার ঈদের আগের দিন ব্যারিস্টার সারা হোসেন এসেছিলেন আমার সঙ্গে দেখা করতে। আমাকে উনি চিন্তা করতে নিষেধ করেছিলেন। মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন আগে থেকে আমার আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মেলে। তার আগ পর্যন্ত আদালতে আমাকে নিয়ে যাওয়া হতো, এরপর নিয়ে আসতো। কিন্তু কারো সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাইনি। এমনকি উকিলের সঙ্গেও না।

পরিস্থিতি বদলালো কিভাবে?

তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে উপদেষ্টা মইনুল হোসেনের পদত্যাগের পরপরই আমার মামলা ঘুরে যায়। প্রথম আলো থেকে আমাকে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করার জন্য একটি কাগজ পাঠিয়ে তাতে সই করতে বলা হয়। এরপর বেশ দ্রুতই এগুলো আমার মামলা। একপর্যায়ে আমাকে সব অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে মুক্তি দেয়া হয়।

বলতে চাইছেন আপনার এই অবস্থার জন্য মইনুল হোসেন দায়ী?

না, আমি মোটেই সেটা বলিনি। আমি শুধু আমার মামলার মোড় ঘুরে যাওয়ার সময়কালটা উল্লেখ করেছি, বাকিটা কাকতালীয়। আমার এই পরিস্থিতির জন্য আমি মোটেই কাউকে দায়ী বা অভিযুক্ত করতে চাই না। দেখুন সুমন্ত আসলাম ভাইতো এখন ইত্তেফাকে (ব্যারিস্টার মইনুলের পত্রিকা) চাকুরি করছেন। উনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। উনি আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তাহলে এখন আপনার কি অবস্থা? কার্টুন আঁকেন আর?

অবশ্যই। আমি নিয়মিত অনুশীলন করি, কারণ আমি ভবিষ্যতেও আঁকতে চাই। যদিও আমার ধারণা কেউ সেগুলো ছাপবে না। তবে একদিন নিশ্চয়ই তারা ছাপবে। আমি তাদের বোঝাতে চাই যে আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি। তবে সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আমার লক্ষ্য খুব বড় কেউ হওয়া, যাতে আমাকে নিয়ে দেশবাসী গর্ব করতে পারে।

আপনি কি এখন নিরাপদ? জেএমবি আপনাকে কি ছেড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন?

ওরা আমাকে ঘুমের মধ্যেও তাড়া করে। আমি সহজে কোথাও যাই না। কারো কাছে নিজেকে আরিফ বলে পরিচয় দিই না। তারপরও আমি স্বস্তিতে নেই। এরা যে কোনো কিছুই করতে পারে, আমাকে হত্যা করাটাও অসম্ভব না। ভয়ে আমি এখন দোকানেও বসি না।

আপনার এই সাক্ষাতকারটা ছাপালে আপনার কোনো ধরণের সমস্যা হবে বলে মনে করেন?

মনে হয় না। কারণ সরকার আমাকে মুখ না খুলতে কোনো নির্দেশ দেননি। তবে আপনি ছাড়া আমার সঙ্গে আর কেউ কথা বলতে চায়নি। আমি সবাইকে জানাতে চাই যে কাউকে বা কারো অনুভূতিকে আহত করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার কখনোই ছিলো না। হয়তো কোনদিন বড় কিছু করে আমি তাদের এবং আমার দেশকে প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করবো। আমার একমাত্র ভয় জেএমবিকে। তাদের মনে কি আছে জানি না। জেলে থাকতে একজন আমাকে বলেছিলো আমাকে যে হত্যা করবে তার জন্য নাকি বেহেশত নিশ্চিত। এরা বেহেশতের জন্য যে কোনো কিছুই করতে পারে।

শেষকথা : আরিফ বেকার নয় পুরোপুরি। নির্বাচন কমিশন তাকে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচারণায় ছবি আকার দায়িত্ব দিয়েছে। পারিশ্রমিক খারাপ পাবে না হয়তো আরিফ। কিন্তু সবার আগে দরকার তার নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসন। আরিফ সেই দিনটিরই পথ চেয়ে।

ইংরেজি সাক্ষাতকারটি এখানে

ছবি: মুস্তাফিজ মামুন
কার্টুন কৃতজ্ঞতা: মেহেরুল হাসান সুজন














]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28803654 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28803654 2008-05-28 05:33:43
এ-টিম সম্পর্কে যারা জানতে চান... ব্লগীয় রাজনীতি নিয়ে কিছু কথা
এ-তে আমরা, যারা শুয়োরের সাথে সহবাসের ফতোয়া অস্বীকার করি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28800119 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28800119 2008-05-20 02:02:36
একটা গান খুজতেছি, আছে কারো কাছে? মাখখি গিড়া গারাম তেলমে
হো য্যায়সা,
রেহনা পড়েগা সেন্ট্রাল জেলমে...

যারা মইত্যা রাজাকারের কারাবাস উপলক্ষ্যে নফল রোজা রাখছেন, তাদের প্রতি পূর্ণ সহমর্মিতা রইলো]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28799670 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28799670 2008-05-19 04:10:43
জন্মযুদ্ধ গ্রুপের সদস্যরা খেয়াল করুন http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28795841 http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28795841 2008-05-09 15:12:29 রাজকন্যার কাছে বাবার কৈফিয়ত... (দুদিন আগে রাজকন্যার তিনমাস পূরো হলো। মেয়েটা আল্লাহর রহমতে খুব হাসিখুশী হয়েছে। বাবা-মেয়ের প্রতিরাতে একটা গানের আসর হয়, দুজনই গলা ছেড়ে আ-আ-আ করি। ভালোবাসা রাগে চলে আমাদের সেই ধ্রুপদী আলাপ। এর বাইরে দুজনে নানা কথাও বলি। এখানে তুলে দেয়া আলোচনাটা একদমই সাম্প্রতিক।)

-তোমার ওপর রাগ করেছি?

-কেনোরে মা?

-তোমার কারণে আজ আমার মতো দুধের শিশুকেও গালি শুনতে হচ্ছে ব্লগে। আমাকে অভিশাপ দেয়া হচ্ছে। আমি কি ব্লগার? তাহলে? তোমার লেখার দায় আমাকে কেনো নিতে হবে? কেনো আমাকে নিয়ে এসব লেখা হবে?

-তাই নাকি! তুই কিভাবে জানলি এসব? তুই কি পড়তে জানিস?

-আমাকে নিজে থেকে পড়তে হবে কেনো? তুমি পড়েছো, তোমার চোখেই আমার পড়া হয়ে গেছে।

-হুমম। ব্যাপারটা আসলেই খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু কি করবো বল মা, ভার্চুয়াল দুনিয়াদারিতে যেটুকু রিয়েলিস্টিক টাচ, তুই তো তারই অংশ। আমিতো তোকে আমার যতখানি ভাবি, ততখানিই ভাবি ব্লগের।

-সেটা কিরকম?

-এই যেমন ধর সামহোয়ার ইন ব্লগ দিয়ে আমার ব্লগিংয়ে হাতেখড়ি। এখানে আমার প্রথম যে পোস্টটি, সেটি ঠিক কবিতা নয়, তোর মাকে প্রেম নিবেদন করে আমার এসএমএস। তোর মা পটেছিলো সে