বাই ডিফল্ট যাপিত ভিড়ভাট্টা ঠেলে রোদনেচ্ছুক মন নিয়ে কীবোর্ডকেই ভালোবাসি এবং এফোরটেক স্ক্রলার। ভালোবাসি তিনটি ইউএসবি পোর্ট নষ্ট কেসিংয়ের আড়ালে ভাগ্যের ফসিলকে। আর; ঊনিশ ইঞ্চি পর্দায় আগুন শিয়ালের ৩.৬.৬ সংস্করণ লেখার সুযোগ দেয়, প্রিয় জাঝিমে এসে ছেড়ে দিই প্রাপ্তবয়স্ক দেহের মোড়ক। অনলাইনে ১৯৭ জন ব্লগার এবং ২৫৬জন ভিজিটর। এ আমাদের ব্লগর ব্লগর।
প্রসঙ্গ কবিতা। সাহিত্যের পাঠক হিসেবে কবিতায় দারুন ভক্তি। এখানে জেনেটিক কোন প্রভাব নেই। আমার আব্বাহুজুর রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল ছাড়া হয়তো অন্য কোন কবির নামও বলতে পারবেন না। তার মানে বংশের চর্চার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়া যায়। কারণ আমার মা আবার কবি হিসেবে কেবল আমাকেই চেনেন।
গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হচ্ছে ব্লগের কবিতা। হরেক রকমের কবিতা দেখি ব্লগে। ব্লগে কবিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে প্রত্যক্ষভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তাই একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মনের কথাগুলো লেখার চেষ্টা করি। প্রথমে চেষ্টা করবো ক্যাটাগরাইজড করে নিতে, কি কি ধরনের কবিতা আছে।
ছড়িতা
যে সব ছড়াকে কবিতা হিসেবে চালিয়ে দিতে দেখা যায়, সেগুলোকে আমরা ছড়িতা বলতে পারি। যেমন ধরুন :
"তোমায় আমি ভালোবাসি, ভালোবাসি লিপস্টিক
বলতে গেলেই তেড়ে আসে তোমার ভাইয়ের হকিস্টিক"
জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে ব্লগে এধরনের কবিতা প্রথম স্থানে আছে। তবে এ ক্ষেত্রে ছড়িতার স্রষ্টার চাইতে পাঠকের সংখ্যাই বেশি। আমিও মাঝে মাঝে পড়ার চেষ্টা করি। যদিও এক লাইন পড়লে আরেক লাইন না দেখেই বলে দিতে পারি।
ছ্যাকোবিতা
বসুন্ধরা গ্রুপ যদি কখনো মেডিসিন শিল্পে আসে, তবে নিশ্চিত তারা "ছ্যাকামাইসিন" কিংবা "ছ্যাকোস্প্রিন" এর মতো অষুদ বানানোয় নামতে পারে। তখন বিজ্ঞাপনের জন্য "ছ্যাকোবি"দের খুব চাহিদা দেখা দিতে পারে।
"এখনও তোমার দেয়া শেষ চিঠিতে ধুলো জমছে
আমার দাড়ির মতো গজিয়ে উঠে হতাশার দুর্বা ঘাস
বিমূর্ত বেসিনের সামনে আফটার শেভ লোশনের বিশ্রী গন্ধ
বিশ্বাস করো, এখনো ভালোবাসি"
হৃদয়ের আকুতি, দেহের মিনতি এ কবিতার পরতে পরতে। কবির রেজিষ্ট্রিকৃত এসব কবিতায় প্রমীলা মন্তব্যের জবাব অপেক্ষাকৃত দীর্ঘতর হয়। এবং কবিদের প্রোফাইলে "আমি এক খাক হওয়া কাষ্ঠ" "স্বপ্ন বলে কিছু নেই, যখন দু:স্বপ্নে বসবাস" "তুমি কি আর আসবে না!" এধনের হতাশা ঝুলে থাকে।
উপবন এক্সপ্রেস
উচিত ছিলো কোন প্রমীলা নাম দেয়া। কিন্তু "১২ হাত শাড়ি" কিংবা "৩হাত ওড়না" নাম হিসেবে অতটা সুবিধার মনে হয়নি। কবিতার দৈর্ঘ্য বিচারে "উপবন এক্সপ্রেস"ই যথার্থ বলে মানি। এ কবিতার তেমন স্রষ্টা নেই, যা আছে সব স্রষ্টী। অর্থাৎ আমাদের আপুনি এবং খালামনিরা। কবি যখন এ কবিতা লিখতে বসেন, তখন তিনি প্রমান করে ছাড়েন যে, তিনি কৃপন নয়। একটি ঘটনাও (ঘটনা নির্ভর কবিতাতো) বাদ যেতে দেন না।
"তারপর আঠারোশো তেষট্টি সালে প্রথম যেদিন মেরুন পাঞ্জাবীতে
তোমার বিংশ শরীর ঢেকেছিলে
নিশ্চয় মনে পড়ে, আমাদের ছোট্ট বাবুটি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম
আমাদের বাগানে...
ফুল আর প্রজাপতি ছেদ করে তারও অনেক পরে তোমার কানে
পৌঁছুলো প্রথম সন্তানের কান্না"
উপবন এক্সপ্রেস কবিতায় আবার মন্তব্যগুলো হয় মাখা মাখা মাখনের মতো। মাঝে মাঝে বেরসিক কাব্যহীন দুষ্টু পোলাপান এসে মাখনের একেবারে মাঝখানেই ছুরি চালিয়ে দেয়। "নস্টালজিক কবিতা" "সুন্দর স্মৃতিচারণ" "আমার মহসিনের জন্মের কথা মনে পড়ে গেলো" "মায়েরা এমনই হয়, সন্তানকে নিয়েও কবিতা লিখে" এরকম মন্তব্যগুলো আসলে কবিতার চেয়েও অনেক সুন্দর ভাবে ফুটে উঠে।
বিদ্রোহী কবিতা
দ্রোহের কারণ খুঁজে পাওয়া গেলেও দগ্ধ কবিরা এখন দ্রোহ নিয়ে যখন তখন কবিতা লেখার কারণ খুঁজে পান না। কিন্তু কিছু বিশেষ বিশেষ সময়ে বিশেষ বিশেষ কারণে কিছু ব্লগার বিদ্রোহী কবিতা লিখে থাকেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ে এরকম প্রচুর কবিতা লেখা হতো। এখন আবার জামায়াত শিবিরকে ভায়া করে ইসলামকে সামনে এনেও বিদ্রোহী কবিতা দেখা যায়।
"জলপাই রংগের আকাশে আজও বজ্রপাত হয়নি
যেদিন বুঝতে পারবে জুলুম, দেখবে রক্ত এবং পোকা খাওয়া চাঁদ
আমাদের রক্তবিষ, আমাদের হুংকার"
অথবা
"কান্ডারী, চৌদ্দ শিক গরম জলে থামবো না
উড়বেই পতাকা, শতকুটি আত্মার স্পন্দন"
মন্তব্যে দেখবেন সুকান্ত এবং কাজী নজরুল হাজির। "বাংলার কবিতাকাশে আরেক নজরুলের ছায়া দেখতে পাচ্ছি" "আপনার কবিতা পড়ে সুকান্তের লেখা গুলোর কথা মনে যাচ্ছে" এ ধরনের মন্তব্যের জবাবে কবিও খুব ভাব ধরে "কি আর এমন লিখি, আমার কাছে সব অকবিতা মনে হয়" "কাউকে না কাউকে জ্বলে উঠতেই হবে, এতো সময়ের দাবি। অস্বীকার করি কিভাবে!" বুলি আওড়াতে থাকেন।
আজিজ মিয়ার পঙতি
"সিরামিক গালের একপাশে লটকে ছিলো নিখিল শাহবাগের ক্লেশ
জরিনার ওড়নায়, উড়ে গেলো শকুনের মা আর পুতুলের কান্না
তোমাদের শহরে, ঝরছে বুদ্ধিজীবীর কেশ; অন্যমনষ্ক
আমলার মধুচন্দ্রিমায় নির্বিষ ঘাস ফড়িঙ"
যেহেতু উনারা নিজেকে এবং স্তুতিকারী ভিন্ন অন্য কাউকে কবি হিসেবে গণ্য করেন না, সেহেতু পাঠকের মন্তব্য মূখ্য নয়। আবার পাঠক মন্তব্য করেও বিপদে পড়েন। যেমন, "ওয়াও! কাব্য সংকটের এ অসহনীয় সময়ে প্রতি লাইনে লাইনে আরামের ছড়াছড়ি" এমন মন্তব্যের জবাবে "আপনার দৃষ্টিতে কাব্য সংকট কি রকম?" শোনার পর মন্তব্যকারী লগ আউট করার চিন্তা করতে সেকেন্ড সময়ও নেন না।
গঞ্জিতা
ভাববেন না আমি বানান ভুল করেছি। গাঞ্জা শব্দটি শুনেই আপনার মানে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, নূন্যতম সে প্রতিক্রিয়া নিয়ে যদি এ ধরনের কবিতা না পড়েন তবে কোন মজাই পাবেন না।
"নাভীফল বুনে দিই শামুকের পোঁদে
ছোটমাছের নিতম্বে হীনকালোমাছি চুম্বনে
রাতবৃষ্টি ঝরে উরুর ক্যাশবাক্সে, অস্পৃশ্য ঠোট
হাত বাঁধা গাধার গ্রীবায় যৌনগন্ধা বসন্ত..."
এসব কবিতার পোস্টে এক ধরনের আলোচনা চলে। একদিন আলোচনা করতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু আমার মন্তব্যের জবাবে কবি কি বলেন, তা বুঝি না।
অবশ্য, যাদের কবিতা পছন্দ করি, তাদেরকে নিয়ে কিছু লিখিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

