somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শায়েস্তা খান ছিলেন শোষক ও বঞ্চনাকারী। আর ব্রিটিশরা মহান শাসক

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শায়েস্তা খান ছিলেন শোষক ও বঞ্চনাকারী। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন হলো ‘স্বদেশচেতনা’র জাগরণকারী আন্দোলন।

এসবই ছাপা হয়েছে অষ্টম শ্রেণীর জন্য ছাপানো ২০১২ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এই বইতে বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের উপনিবেশি ইউরোপীয় শাসকদের ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে, অন্যদিকে বিষোদাগার করা হয়েছে স্থানীয় শাসকদের বিরুদ্ধে।

এসব বিবরণের জন্য পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নিয়োজিত লেখক ও সম্পাদকরা নির্ভর করেছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উপনিবেশি ব্যবসায়ী কোম্পানির কর্মচারির দেয়া বিবরণের ওপর। ওসব ফরমায়েশি বিবরণকেই তারা ‘ইতিহাস’ হিসেবে তুলে ধরেছেন শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা পাঠ্যপুস্তকে।

শায়েস্তা খান শোষক ও বঞ্চনাকারী
একই পাঠের শেষ দিকে এসে “প্রজাদের শোষণ- বঞ্চনা” শিরোনামে বেনামি ‘এক ইংরেজ ব্যবসায়ী’র বরাত দিয়ে লেখা হয়েছে, “সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে জিনিসপত্রের শস্তা দামের কথা আমরা শুনি বা বইপত্রে পড়েছি। কিন্তু তখন সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বলে আসলে কিছুই ছিল না। তাই চালসহ নিত্য ব্যবহার্য জিনিস বা গরু- ছাগলের দাম অবিশ্বাস্য রকম কম হলেও তা প্রজাদের কোনো উপকারে আসে নি। শায়েস্তা খানের নিজের অর্থলিপ্সা এত প্রচণ্ড ছিল যে এক ইংরেজ ব্যবসায়ী ১৬৭৬ সালে লিখেছেন, শায়েস্তা খানের কর্মচারীরা সাধারণ মানুষকে এমন শোষণ করত যে, এমনকি পশুখাদ্যেও (মূলত ঘাস) ব্যবসাও তাদের একচেটিয়া ছিল। আর এক ব্যবসায়ী জানাচ্ছেন, ১৩ বছর বাংলার সুবেদার থেকে শায়েস্তা খান যে পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন তা তখনকার বিশ্বে বিরল। তিনি ছিলেন অন্তত ৩৮ কোটি টাকার মালিক এবং তার দৈনিক আয় ছিল দুই লক্ষ টাকা।”

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে স্বদেশচেতনা জোরদার
পাঠ-৬ এর শিরোনাম “বাংলায় নবজাগরণ”। এখানে লেখা হয়েছে, “১৯০৫ সনে ইংরেজ শাসকদের দ্বারা বাংলাকে বিভক্ত করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে স্বদেশি চেতনার সৃষ্টি হয়। বঙ্গভঙ্গ- বিরোধী আন্দোলনের ফলে ইংরেজরা বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। তাতে বাঙালির স্বদেশচেতনার আবেগ জোরদার হয়,স্বদেশি আন্দোলনে তার আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিকভাবে বাংলার দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনার জোয়ার আসে।”

উপনিবেশ ও বিশ্ব বাণিজ্য
২০১২ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে “বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়” বইতে। বইটির প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠের একটি অংশ এমন: “১৪৯৯ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-ডা- গামা দক্ষিণ ভারতের কালিকট বন্দরে পৌছে ভারতবর্ষকে বিশ্ব- বাণিজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ে আসেন।” পরবর্তী সময়ে ইংরেজরাও একই ধারা অব্যাহত রাখে। ইতিহাস বলছে, ভাস্কো দা গামা কিংবা এরপর ইংরেজদের আগমনের অনেক আগেই ভারতবর্ষ দুনিয়ার নানা অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত ছিল। অথচ উপনিবেশি দখলদারির অভিযাত্রাকে দেখানো হয়েছে স্রেফ ‘বাণিজ্য বিস্তার’ হিসেবে।

বইটির রচনায় ছিলেন অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী, অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোকাদ্দেস হোসেন, অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ, অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ড. সেলিনা আখতার,
ফাহমিদা হক, ড. উত্তম কুমার দাশ, আনোয়ারুল হক ও সৈয়দা সঙ্গীতা ইমাম।

সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, অধ্যাপক শফিউল আলম, আবুল মোমেন, অধ্যাপক ড. মাহবুব সাদিক, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক ও সৈয়দ মাহফুজ আলী।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শ্রেণীর ইতিহাস বইয়েই ইতিহাসের নামে এমন উপনিবেশ-বন্দনা করা হয়েছে।

জানুয়ারির শুরুতেই বইগুলো বিতরণ করা হবে।

খুব কষ্ট পেয়েছি জীবনে কখনো নিজেকে এত ছোট মনে হয় নি,চোখ দিয়ে আমার পানি পড়তেছে । আর বিএনপিকে গালি দিতেছি, একটা জাতীয়তাবাদি ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাই তৈরী করতে পারি নি । ইতিহাসে ইলিয়াস শাহী, সিকান্দার শাহের মত কিংবদন্ত্যী থাকতেও ওরা, ওদের মানুষের মাঝে পরিচিত করতে পারে নি, এই সুলতানদের নিয়ে একটা চলচিত্র ও নির্মাণ করতে পারনি । কুকুরা শুধু ক্ষ্মতায়ই ভোগ করে........., আজ সাহিত্য-সংস্কৃতি সব কিছু অখন্ড ভারতে বিশ্বাসীদের দখলে, আর কুকুররা তারেক বন্দনায় ব্যস্ত ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ২:৩৬
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×