কেমন জানি একটা বিষন্নতা আজকাল মনটাকে ঘিরে রাখে। কেন জানি বুঝতে পারিনা কিসের জন্য এই বিষন্নতা। আমার এমনিতে কোন বড় রকমের সমস্যা নেই। চাকুরীর এই অকাল বাজারে আমার মাঝারি ধরনের একটা চাকুরী আছে। টাকাপয়সার কোন অভাব নেই। সুন্দরী একটা মেয়ে বন্ধু আছে। তবে ভাল বাসা বাসি এসব কিছুই নয়। আমরা শুধু বন্ধু, শুধুই বন্ধু। মানুষের জীবনে এই একটা জায়গা সবাইকে দেয়া যায়না। আবার অনেককেই দেয়া সত্বে ও মর্যাদা বুঝে না। আমি বন্ধুত্বের মর্যাদা বুঝি। সে ও বুঝে। তাই আজকাল আমার মনমরা ভাব দেখে সেই বলে “তোমার একটা সারপ্রাইজ দরকার”! অনেক ভেবে চিন্তে দেখলাম আসলেই আমার একটা সারপ্রাইজ দরকার। গতানুগতি লাইফ লিড করতে করতে হয়ত একটা হতাশ ভাব ঘিরে ধরেছে। কিন্তু আমার মনে হয় আমার একটা পরিবর্তন দরকার। একটা পরিবর্তন যা আমার ভিতকে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে।একটা পরিবর্তন! কিন্তু কি ধরনের? ভাবনাগুলো জট পাকিয়ে যায়। না আমি আর ভাবতে পারি না। কিন্তু সত্যি হচ্ছে আমি আর ভাবতে চাইনা।
এই ত সেদিনের কথা! বাবা তখন ও জীবিত। পাশা পাশি বসে রিকশায় বাজারে যাচ্চিলাম। কথায় কথায় বাবা বলে বসলেন “এবার একটু ব্যাঙ্কে আসা যাওযা কর! সব কাজ কর্ম গুলো বুঝে নে! আমার শরীরটা বেশী ভাল লাগে না” শুনেই কেমন জানি লাগল। অবাকে চোখে তাকালাম বাবার মুখের দিকে। শক্ত মুখে কেমন জানি একটা বিষন্নতার ছোয়া। এর কিছুদিন আগেই আমার পিয় বন্ধু উপলের বাবা মারা গেলেন। আমার বাবা থাকবেন না এটা চিন্তা করতেই বুকের মাঝে হাহাকার করে উঠল। বাবাকে ছাড়া আমি বাচব কিভাবে? কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে ওই ঘটনার ২০ দিনের মাথায় বাবা আমাকে ছেড়ে চিরদিনের মত চলে গেলেন। শোকে মৃহ্যমান আমি কিন্তু মরে গেলাম না। বেচে রইলাম শুধু বেচে থাকার তাগিদে।আজ প্রায় ৪ বছর হয়ে গেল। আমি ঠিকই বেচে আছি। একটা শিক্ষা গ্রহন করলাম জীবন থেমে থাকেনা। জীবন চলে জীবনের নিয়মে। মানুষ বেচে থাকে মানুষের স্মৃতিতে আর লেখাতে।স্মৃতি ও মলিন হয়ে আসে বয়সের সাথে কিন্তু লেখা থাকে তাই মাঝে মাঝে লেখার চেষ্টা করি। যদি আমার লিখাতে আমার স্মৃতি গুলো বেচে থাকে!! না এলোমেলো ভাবনার শেষ নেই। জীবনটা বড়ই অদ্ভুত। মন খারাপের কারনটা এখনো খুজে পাচ্ছি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

