somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন ভাল, ভদ্র ও চরিত্রবান (সুযোগের অভাবে) ছেলের অর্থহীন প্রলাপ!

০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আড্ডা পিটাইতেছিলাম দোস্তদের লগে। আড্ডায় ত কত আইটেম থাকে, এর মাঝে এক ফ্রেন্ডের কথা উঠল। ইউনিতে পড়ার সময় সে যখনই কোন বিয়ার অনুষ্ঠান বা গাড়ি দেখত, তখনই আফসোস করত,... হায়! হায়, আমার কি হবে? ... এটা শুইনা অন্যরা যখন তারে জিগাইত কেন দোস্ত কি হইনাই তোর? সমস্যা কি? তখন সে মারাত্মক মন খারাপ করে বলত এভাবেই একটা একটা করে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে, একটা একটা করে অপরুপা কুমারী মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, আমার কি হবে? আমাদের কি হবে? তার এই কঠিন আক্ষেপ আর প্রশ্ন শুইনা সকলেরই মন খারাপ হইয়া যাইত! আসলেই, ফিল্ড ত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে! কি হবে, কি হবে! (উল্লেখ্য সবাই তখন অপ্রেমিক ব্যাচেলর!)....! তার কয়েক বছর পরের কথা, সেই নিরাশাবাদী বন্ধুটাই আবার ঠিক উল্টা আচরণ শুরু করল! বিয়ের কোন অনুষ্ঠান বা বরের সাজানো গাড়ি দেখলেই সে খুশিতে আটখানা হয়ে পড়ত! ওয়াও.... কি মজা, কি মজা....! এবার সবাই আরও অবাক! কি ব্যাপার দোস্ত? তোর এই পরিবর্তন কেন? এত খুশিহওনের কি আছে? সে তখন আগডুম বাগডুম করতে করতে যা বলল তাতে সকলেরই চক্ষে চড়ক গাছ :-B । সে বলল, আরে বুঝছ না, একটা পোলা কইমা গেল? (সবার ত মাথা খারাপ, পোলা কমছে ত তোর কি? X()। কিন্তু সে শুনাইল ভিন্ন কথা, একটা পোলা কমা মানে একজন প্রতিদ্বন্দী কমে যাওয়া । ফিল্ড ফাঁকা হওয়া মানে খালি মাঠে গোল দেয়া! তার উত্তর শুইনা আমরা হাসমু না কানমু কিছু বুঝতে পারতেছিলাম না। তবে যেইটা বুঝলাম, সে আগে গ্লাসের অর্ধেক ফাঁকা দেখত, এখন ভর্তি দেখে!


বুয়েটের বন্ধুদের কাছ থেকে আরকটা ঘটনা শুনলাম, সত্য কিনা জানিনা তবে এই ঘটনা টা নাকি বুয়েটে প্রচলিত আছে। এক গুডি বয় ক্লাস ফাইভের এক মেয়েকে পড়াত! খুব সিরিয়াস ছেলে, খুব ভাল পড়াত, যার জন্য মেয়ের রেজাল্টও ভাল হত। এভাবে সে ২ বছর পড়ানোর পড়ে ৩য় বর্ষে পদার্পন করল। মেয়েও ক্লাস সেভেনে উঠল। এইবার ভোক োদ ছেলে টার মাঝে একটা পরিবর্তন আসল। শিশু হতে সদ্য কৈশরে পদার্পিত মেয়েটির রূপ খুলতে শুরু করল ;), ৪র্থ ইয়ারের 'বুইড়া'ও তারে রূপে মজল। এই ঘটনা তার অন্যান্য ফ্রেন্ড শুনতেই শুরু হইল তারে গালাগালি! এত্ত বড় বুইড়া যদি পি্চই মেয়ের প্রেমে পড়ে তাহলে ত গালি শুনতেই হবে। তার পরও সে নির্বিকার :|। শেষ পর্যন্ত তার বন্ধুরা তাকে ঐ মেয়েটাকে প্রপোজ করতে বলল। (কারণ তারা শিওর ছিল পিচ্চিটা তাকে রিফিওজ করবে, আর তাতে তার ভুল ভাঙবে।)। পরামর্শ অনুযায়ি ঐ বুইড়া আগাইল। একদিন সুন্দর সন্ধ্যায় সে ঐ ক্লাস ৭ এর মেয়েটাকে প্রপোজ করে বসল। মেয়েটা সব শুনল, শুনে একটা মিষ্টি হাসি দিল, এর পর বলল, "ভাইয়া, আপনি কি করে ভাবতে পারলেন যে ক্লাস ৭ এর একটা সুন্দরী মেয়ে এতদিন 'খালি থাকে?'" :-*!!!!
এটা শুনে ঐ ছেলের কি হয়ছিল জানি না কিন্তু আমাদের চিন্তা শতগুণ বিবর্ধিত হয়ে গেল। কারণ বয়স আর কারও থেমে থাকে না! :-/


জীবনে অপচয় কম করি নাই! ইশ যদি জায়গা মত খরচ করতে পারতাম!!! তাহলে এতদিনে অনেক কিছুই হয়ে যেত! :P আরেকটা ঘটনা, এইটা কিন্তু সত্যি! আরেক ছেলে অনেক বয়স পর্যন্ত (প্রায় ২৬ বছর) টিউশনি করাইছে। একদিন তার ৮এ পড়ুয়া একছাত্রী তাকে প্রপোজ করল। (বয়সের কারণে ঐ ছেলে ছিল রাশ ভারী টাইপের :P), সে রাগের ভঙ্গি করে বলল, যদি শুরু থেকেই ঠিক জায়গায় খরচ করতে পারতাম তাহলে এতদিনে তোমার মত একটা মেয়ে থাকত! :D


ভাবতাছেন এসব অর্থহীন প্রলাপ কেন করতাচি? আসলে এতদিন একটা নীতি মাইনা চলতাম। আমরা সবসময় প্রেমিক টাইপ লুইচ্চাদেরকে বাঁশাইতাম। যেকোন জায়গায়, যে কোন পরিবেশে। এজন্য কলেজে (ইন্টারে) কোন যুগল আমাদের ধারে কাছে থাকত না। যার জন্য ঐ লাইফে কোন জি.এফ. পাই নাই। এজন্য অবশ্য আফসোস নাই। কারণ মজা কম করি নাই! এর পরও কন্টিনিউ করতে লাগলাম। এখনও অভ্যাসমত চান্স পাইলেও এমন কাউরে ছারি না। কারণ আমারা ত জানিই..... এক একটা বিয়া মানে একজন প্রতিদ্বন্দী কমে যাওয়া! কিন্তু কিছু দিন আগে এক আচানক ঘটনা ঘটল। এক ভোদাই ফ্রেন্ড মেসেন্জারে আসল। অনেক কথা বলল। হঠাৎ সে বলল, দোস্ত আমি মনে হয় বিয়া করতাছি! জিগাইলাম মনে হয় মানে? তুই কি শিওর না? থতমত খাইয়া বলল, না মানে শিউর আবার... .... .... মোট কথা যা বলল তাতে আমার মাথামুথা পুরা খারাপ। সে যেই মেয়েরে পছন্দ করত কিন্তু ভয়, জড়তা, বাপ মা, তার মদন গিরিতার জন্য কিছু প্রকাশ করতে পারে নাই, ঐ মেয়ের ফ্যামিলি থেকেই তার জন্য প্রপোজাল আমছে। মেয়েটাকে আমি দেখেছিলাম এক বিয়ের অনুষ্ঠানে, ফাটাফাটি সুন্দরী! মেয়ে গোপনে তারে পছন্দ করে। :((

শুনার পর তেকেই আমি আছি মহা টেনশনে, কারণ এতদিন পর্যন্ত যা খালি হয়ছে (পোলা), বেশির ভাগ ভোদাইগুলাই গেছে, পুংটারা কিন্তু ফিল্ডে রয়ে গেছে। তার মানে সামনে অপেক্ষা করতেছে কঠিন কম্পিটিশন।/:) কি হবে ভবিষ্যতে কিছুই জানি না:|! মনে হয় এখন সময় হয়ছে সুযোগ করে নেয়ার।

সবাই দোয়া কইরেন! ছুম্মা আমীন......./:)
৬৮টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×