somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময় যদি আর না গড়াতো। তোরা যদি আর বড় না হতিস।

০৭ ই মে, ২০০৯ সকাল ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাত সকালে যখন বাসে করে যাওয়া করতে হয়, তখন আমি জানালার পাশের সিটটাতেই বসি। রাস্তায় জ্যাম থাকে না, নির্মল বাতাস, বেশ ভালই লাগে। এরকম এক সকালে পাশের একটি গাড়িতে তাকিয়ে দেখি এক পিচ্চি স্কুলে যাচ্ছে, মায়ের কোলে মাথা দিয়ে। বেশ একটা আলুথালু ভাব নিয়ে সে শুয়ে আছে, ঘুম ঘুম চোখে বিহের তাকিয়ে আছে, মা তার মাথায় পরম মমতায় হাত বুলীয়ে দিচ্ছে। ছেলেটা হয়ত ক্লাস ৫/৬ এ পড়ে, অন্তত আমার সেরকমই মনে হল। তার এই আরাম করে স্কুল যাওয়া দেখে আমার নিজেরই স্কুলে যাবার কথা মনে পরে গেল। কি একটা এডভ্যান্চারই না ছিল সেই দিন গুলা। :P

আমি ভর্তি হয়েছিলাম কলেজিয়েট স্কুল, চট্টগ্রামে। বাসা থেকে স্কুল বেশ দূরেই ছিল। এত রাস্তা-ঘাট চিনতাম না। স্কুলে যেতাম কাজিনের Click This Link সাথে:D, সে আমার এক ক্লাস উপরে ছিল। সে আসিল পুরা এক বিতলা:P। সব সময় থাকত টাকা বাচানোর ধান্দা। কেমনে কম খরচে যাওয়া আসা করে মইন ভাইয়ে চটপটি একটু বেশী খেয়ে টাকা জমানো যায়। অবশ্য তার কাছ থেকেই আমি এইভাবে টাকা বাচানোর ফর্মূলা পাইছিলাম!!! যাবার সময় যেতাম ১ টাকা দিয়ে। কাঁচা রাস্তা থেকে শুভপুরের মুড়িরটিন মার্কা বাসে করে মাদারবাড়ী যেতাম, সেখান থেকে নার্সারীর ভেতর দিয়ে শর্টকাটে স্কুল। আর ব্যাক করতাম পুরায় ফ্রি, ট্রেনে করে! আমাদের স্কুল ছুটি হত ১১.২০ এ, পাশেই ট্রেন স্টেশন চলে যেতাম, অপেক্ষমান কর্ণফুলি এক্সপ্রেস ধরতাম। ঐটা ছাড়ত ১১.৩০ এ। প্রায়ই পাহাড়তলী দাড়াত, সেখানে নেমে পড়তাম! সাথে অনেকজন থাকলে পাহাড়তলী থেকে হাজারদীঘির পাড় ঘেঁষে বাসায় হাঁটা মারতাম। সাকুল্যে খরচ হত ১ টাকা। বাসা থেকে নিতাম ১০ টাকা। হেভভী করে খাওয়া দাওয়া করতাম ৪ টাকায়। আর বাকি টাকা পুরায় বাঁচত! আমি ১৯৯৩ সালের কথা বলতেছি। তখন ৫ টাকা অনেক টাকা, বিশষ করে আমাদের মত স্কুলের পোলাপানদের জন্য। বছর শেষে দেখা যেত ৩/৪শ টাকা জমে গেছে। মজাই মজা...!
অবশ্য রিক্সা করেও স্কুলে যেতাম। ৩ জন মিলে যেতাম ৬ টাকা দিয়ে। এখন অবশ্য ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে, রিক্সায় ২৫ টাকার বেশী লাগে!
আর স্কুলে যে কি করতাম সেইটা মনে পড়লে এখনও আফসোস হয়। আহ, সেই দিনগুলা যদি ফিরে আসত!!! কালকে এক স্কুল দোস্তের সাথে চ্যাট করছিলাম, সে আংরেজ এ থাকে এখন। চেলসির সমর্থক, আমি বার্সার। লেগে গেছে ক্যাচাল, পরে সে আফসোস করে বলতেছে, "দোস্ত, এই ম্যাচটা যদি স্কুল মাঠে ওয়াইড স্ক্রিনে সবাই মিলে দেখতে পারতাম!!!" শুনেই বুকটা কেমন ধুক ধুক করে উঠল। আহ! আসলেই যদি সেই দিনগুলাতে ফিরে যেতে পারতাম!!!

সময় থেমে থাকে না। কিভাবে যেন পার হয়ে যায়। সেদিন এক পিচ্চি খালাত বোনের সাথে চ্যাট করছিলাম, খালা-খালু ইউএস থাকে। সে বলল আমি কি করি। বললাম অফিসে। সে পুরা তাজ্জব! "তুমি জব কর"? বললাম, কেন? তোর সমস্যা কি? আমি ত ২ বছর ধরেই জব করি। পিচ্চি সাথে সাথে আমার বয়স জিগায়, বললাম বয়স। এবার সে মহা তাজ্জব! "তুমি তো বুড়া হয়ে গেছ"! আমি বলি, "কেন আমার বয়স কত মনে করছিলি"? সে বলে ১৯!!! হাসতে হাসতে আমার পেট তখন ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে। জিগাইলাম তোর বয়স কত? সে বলল ১২। তোর ভাইয়ের, বলল ১৫। এবার বললাম, "আরে আমারে তোরা কম মুত খাওয়ায়ছস? আমার বয়স ১৯ হয়লে ত তোদের গু-মুত খাইতে হয়ত না"!!! ওরা দেশে আসছিল ৫ বছর আগে। তখন অনেক পিচ্চি ছিল এইগুলা। এখন বড় হয়ে গেছে। আমার বাসায়ও দুই পিচ্চি বোন আছে। অবশ্য আমার কাছে এখনও পিচ্চি বলেই মনে হয়। একজন সিক্সে আরেকজন টেনে পড়ে। এগুলাকে কোলে পিঠে চড় থাপ্পড় দিয়া এত বড় করছি, অথচ এখন মনেই হয় না যে এত বড় হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে বড়টাকে একটা চড় দিছিলাম। সে তো ক্ষেপে ফায়ার আমার উপ্রে। বলে, "ভাইয়া, আমি এখন বড় হয়ে গেছি না। তুমি এখনও আমাদেরকে মারলে চলবে নাকি"? আমি একটু তাজ্জব! আসলেই ত তোরা অনেক বড় হয়ে গেছিস, কত্ত বড়, কিন্তু আমার কাছে ত মনে হয় না। এখনও বাড়ি গেলে ছোটটাকে আগে কোল নিয়ে বিছানায় একটা আছাড় দি। না হলে পেটের ভাত হজম হয় না। আর তাকে সঙ্গে নিয়ে বড়টাকে ওর বড়টাকে ক্ষেপাতে থাকি। ঐটা একটুতেই ক্ষেপে যায়, আমরা ২জন আরও বেশী করে ক্ষেপাই! শেষ পর্যন্ত চিল্লা-চিল্লি, কান্না-কাটি, একেবারে বড়টা বাসায় আসলে তারে বিচার দেয়.... সেইরকম অবস্থা........ ।

সময় যদি আর না গড়াতো্। তোরা যদি আর বড় না হতিস। তোদেরকে আরও কিছু দিন এভাবে আদর শাসন করা যেত, কত কিছুইনা ভাবি..... ভাবতে থাকি..!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০০৯ সকাল ১০:২৫
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×