ধানের শীষে ভোট দেয়াই ছিল যেন আফজাল উদ্দিনের অপরাধ। তিনি কোনো দলের নেতা বা কর্মী নন। নেই কোনো তার দল। কৃষি কাজ করেই তার জীবনের ৫০টি বছর পার হয়েছে। তারপরও তাকে দল করার অজুহাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। নামধারী আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন বড় ভাই ইসলাম উদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে রায়হান উদ্দিন (২৫)। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য ২ লাখ টাকা দাবিও করা হয়েছিল আফজাল উদ্দিনের কাছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার প্রকাশ্য দিবালোকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার হরিনগর গ্রামে।
গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে চিকিৎসাধীন আফজাল উদ্দিনের পাশেই বসে আছেন তার চাচাতো ভাই আজিজুর রহমান। ঘটনা সম্পর্কে আজিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আফজাল উদ্দিন ধানের শীষে ভোট দেন। তিনি কোনো দল করেন না। আর এ অভিযোগে কয়েকদিন থেকে আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাকে শাঁসিয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ ক্যাডার ওকি মিয়া তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন আফজাল উদ্দিন। গত শুক্রবার দুপুরে রিকশাযোগে গ্রামের হাটে যাচ্ছিলেন আফজাল। কিছুদুর এগোতেই দুটি মোটরসাইকেলযোগে ওকি মিয়ার নেতৃত্বে একদল ক্যাডার রিকশার গতিরোধ করে। ওকি মিয়া তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আহত অবস্হায় স্হানীয় এক দারোগার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলেও ক্যাডার ওকি সে বাড়িতে গিয়ে তাকে বাড়ির লোকজনের সামনেই আরো কোপায়। খবর পেয়ে তার ভাই ও ভাতিজা ছুটে যান আফজাল উদ্দিনকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও হামলা চালায়। আহতদের প্রথমে স্হানীয় ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ময়মনসিংহ সদর হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিকেলে স্হানান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, আফজাল উদ্দিনের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী। এ কারণে ক্যাডাররা চাঁদার জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে।
শুধু আফজাল উদ্দিনের কাছেই নয়, গ্রামে অনেক নিরীহ মানুষের কাছেই ওই সন্ত্রাসী ক্যাডাররা চাঁদা দাবি করেছে। অনেকে প্রাণভয়ে চাঁদার টাকা ওই ক্যাডারদের বাসায় গিয়ে দিয়ে আসে। হরিনগর গ্রামের স্হানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভ করার পরই স্হানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীরা বিএনপি সমর্থিত ৮২ জনের একটি তালিকা তৈরি করে যাদের কাছে চাঁদা চাইবে। আর সেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে। ওকি মিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথবাহিনীর হাতে সে ধরা পড়ে জেলও খেটেছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত ইসলাম উদ্দিন ও তার ছেলে রায়হানের অবস্হা আশঙ্কামুক্ত হলেও আফজাল উদ্দিনের অবস্হা ৭২ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

