আমি যখন ছোটছিলাম আমাদের বাসায় একটা গোলাপ ফুলের গাছ ছিল। সেরকম গোলাপ ফুলের গাছ আমি অন্য কোথাও দেখি নি। এমনিতে গোলাপফুল হয় ঝোপের মত অথচ সেই গাছটা লম্বা হয়ে উঠে গিয়েছিল উপরে। একটাই ফুল ফুটেছিল, গোলাপী একটা গোলাপ। অনেক ছোট আমি তখন, অনেক কিছুই মনে নেই। তবে, ভুলিনি সেই গাছের মাথায় একটি গোলাপ ফুলের কথা। এরপর যখনই গোলাপফুল দেখি সেই গাছটির কথাই মনে হয়। একটু বড় হবার পরে আগ্রহ বাড়তে থাকল। তখন ফুল পেয়ে ছিড়তাম, ভেতরটা দেখার চেষ্টা করতাম। সেই পাপড়ি, গর্ভদন্ড, পুংকেশ, বৃতি উপবৃতির শয্যা ভাল লাগল না। কাছ থেকে ফুল দেখতে গিয়ে তার রুপটাই বেরংএর হয়ে গেল। যখন আরো বড় হলাম, ফুলের নানা অংগের নানা কাজ জানলাম। কিভাবে, কেন কোন অংশ কাজ করে বুঝতে পারলাম। যে ফুলকে সাধারণ লোকে ফুল বলে স্বীকৃতি দেয় না, সেগুলোর অভ্যন্তরের অসাধারন আকর্ষণ খুজে পেতাম। ।
এই ফুলের মতই মানুষের জীবনটা। হয়ত কাউকে দূর থেকে খুব ভাল লাগে। একটু কাছে গেলে সেই মোহটা কেটে যায়। তারপর যখন ভেতরের অনেক না জানা কথা জানা হয় তখন আবার সেই ভালবাসা ফিরে আসে। হয়ত, আগের চাইতে অনেক গভীর ভাবে। আবার উল্টোটাও হয় প্রতিনিয়তই। অনেককেই ভাল লাগে, কাছে গেলে আরো ভালো লাগে ভেতরে গেলেই বেরিয়ে আসে অনেক ভয়ংকর কথা। আবার সেগুলোর পেছনেও থেকে যায় আরো না বলা অনেক কথা। যে কোন মানুষের জীবনের গভীরে পৌছতে পারলে, তার জীবনের ইতিহাস জানা থাকলে সেই ব্যক্তির কোন পাপকেই পাপ বলা হয়ত খুব শক্ত বিচারকের জন্যও কষ্টকর হতে বাধ্য।
আমিও এভাবেই চলি। কাছের দূরের কোন মানুষেরই জীবনের গভীরে ঢুকি না, ঢুকতে চাইও না। যতদূর থেকে দেখলে শান্তিতে নিজের জীবন চালানো যায় ততদূরেই থাকি। একটু কাছে গেলেই অনেক না দেখা ব্যাপার ফুটে উঠবে। তখন আরো গভীরে না গেলে, থেকে যাবে শত ভুল বোঝাবুঝি, হৃদয় ভাঙা, অথবা মোহমুক্তি। ব্যস্ত জীবনে এত সময় কই? জানিনা এটা ঠিক না বেঠিক। তবে, এটুকু মনে হয় যে, “এই দেখেও না দেখার জগতে ভালই আছি”।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


