
আমরা বাঙ্গালিরা নাকি বিদ্রোহ প্রবন জাতি। কোন শাসককেই থাকতে দেই নাই শান্তিতে। শাসকের শাসনের বিরুদ্ধতা করতে করতে আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তবে, এখন মনে হচ্ছে আমাদের জাতীয় চরিত্র পালটে গেছে। এখন আমরা ষড়যন্ত্রপ্রবন জাতী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে উঠা আমাদের সব দাবীই কারো না কারো ষড়যন্ত্র। উদাহরণ, ভুরি ভুরি
কানসাটে বিদ্যুতের দাবীতে পাবলিক রাস্তায় গুলি খেল। সরকার বলে বিরোধীদলের ষড়যন্ত্র।
পিলখানায় বিডিআরের অনেকদিনের দাবীর ব্যানারে বিদ্রোহ হল। পরে জানলাম, জেএমবি, বিএনপি-জামাতের যৌথ ষড়যন্ত্র। আবার দুষ্টজনেরা বলে আওয়ামী লীগেরও হাত আছে।
শ্রমিকরা দলে বলে গার্মেন্টস জ্বালিয়ে দিল। সরকার বিরোধীদল এক হয়ে জানায় এখানে পেছনের ষড়যন্ত্র আছে।
টিপাইমুখে বাঁধ দিচ্ছে ভারত, বাংলাদেশের ক্ষতি হবে এতে। কিছু পোলাপান "ল্যাম্পপোস্ট" ব্যানার নিয়ে, পিনাক বাবুকে বিরক্ত করতে গেল হাই কমিশন অফিসের সামনে মিছিল নিয়ে। রাস্তায় ঠেঙ্গানি খাবার পর এখন শুনি তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমুনিস্ট পার্টির লোক। বুঝলাম না এই ক্ষেত্রে, জেএমবি ট্যাগ কেন দিল না। এই ট্যাগের পাবলিক ডিমান্ড বোধ হয় কমছে অথবা স্মার্ট পোলাপান হওয়ায় ভিন্ন ট্যাগিং।
বিদ্যুৎ সমস্যা, বিডিআর সৈনিকদের সমস্যা, শ্রমিকের বেতন-ভাতার সমস্যা, টিপাই মুখে বাঁধের সমস্যা এগুলো কেউ অস্বীকার করে না। তবে প্রতিনিয়ত এই সমস্যাগুলোকে বিভিন্ন ট্যাগ লাগিয়ে বেড়ান তাদের জন্য প্রশ্ন রাখতে চাই, "পাবলিকের সমস্যা যে আছে সেটার প্রকাশটা কিভাবে হবে?" সমস্যার কথা বললেই, তো গভীর ষড়যন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। সবার পক্ষে কি আর প্রথমালো ট্যাগ লাগানো সম্ভব?
আসল কথা হচ্ছে, এই পৃথিবীতে সত্য মিথ্যা বলে কিছু নাই। At the end of the day, Winner is always right. শুনতে কেমন যেন হিটলারি বানী মনে হচ্ছে। হিটলার যতদিন জীবিত ছিলেন বিজয়ী ছিলেন, তাই লোকে বলত, Führer is always right. হিটলার হেরে আত্মহত্যা করল, এখন তার যত দোষ। স্বাধীন হতে পেরেছি বলেই, একাত্তর পূর্ববর্তি আমাদের সব আন্দোলন সফল এবং তা জনতার আন্দোলন। বাংলাদেশে আজ স্বাধীন না হলে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, উনসত্তর, একাত্তর সবই ভারতীয় ষড়যন্ত্রেরই নামান্তর হত। আসলে এই অর্জনগুলো অসম্পূর্ণ। ভাষা আন্দোলনের ৫০/৬০ বছর পরেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের জন্য সভা সেমিনার হয়ে চলে। ভারতীয় আর পাকিস্তানী ষড়যন্ত্র নাকি চলছে প্রতিনিয়তই। বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশী দেশের তুচ্ছ রাষ্ট্রদূতই সম্মান দেয় না।
আমাদের স্মৃতিসৌধের ডিজাইনের পেছনের কন্সেপ্ট হচ্ছে এরকম যে, "চারিদিক হতে চাপ সইতে না পেরে ভূমি উপরে উঠে গেছে। তেমনি মানুষ নির্যাতন সইতে না পেরে বিদ্রোহ করছে"। ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে মনে হয় বর্তমানে আমরা নিকট ভবিষ্যতের কোন এক সামাজিক বিপ্লবের পটভূমি রচনা করছি। চারিদিক হতে আমাদের চেপে ধরা হচ্ছে। আর কত!!! সন্ত্রাসী মিডিয়ার ট্যাগিং এর এই যুগে মনোবল টিকিয়ে রাখা কঠিন। মনে রাখতে হবে যদি আমরা জিততে পারি তবে আমরাই হব বিজয়ী।
আমরা বিজয়ী হলে ইতিহাস বলবে They were always right যেমন বলত Führer is always right. ইতিহাসের চরিত্র এমনই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

