somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... প্রায় দুই বছর পর http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29758376 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29758376 2013-01-30 21:03:45 আমরা জিতছি। সাব্বাস বাংলাদেশ
সাব্বাস বাংলাদেশ। সাব্বাস শফিউল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29342601 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29342601 2011-03-11 22:46:41
ভূমিকম্প: অতঃপর?

ঈদের চাঁদ দেখা গেছে কাল ঈদ। ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলাম। ডিপার্টমেন্টের গ্রুপ মেইলে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মেইলও দিলাম। হঠাৎ মনে হল ভূমিকম্প হল। নিশ্চিত ছিলাম না। ব্লগে ঢুকলাম। কেউ একজন দেখি পোস্ট দিয়ে ফেলেছেন। তিনিও আমার মতই অনিশ্চিত। তার সাথে সহমত প্রকাশ করলাম, “হ্যা আমিও বুঝতে পেরেছি ভূমিকম্প হয়েছে”। আর কারো মাঝে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখলাম না।
রাতে সোয়া এগারটার মত বাজে তখন। কি যেন করছিলাম, মনে হয় গুগলে মেইল চেক করছিলাম। হঠাৎ, বিল্ডিং কাঁপতে শুরু করল। মনে হল কে যেন ব্লিডিং এর উপরে হাত দিয়ে তালে তালে নাড়ছে। অন্য সময় রুমের দরজা বন্ধ থাকে। কি মনে করলাম জানি না, দ্রুত ল্যাপটপের সাথে লাগানো বিভিন্ন ইউএসবি কেবল পাওয়ার লাইন খুলে ফেললাম। হয়ত ভাবছিলাম, কোন কিছু হলে ল্যাপটপ সাথে নিয়ে দৌড় দেব। এর ভেতর আমার সব কিছুই আছে। এরপর দ্রুত চলে গেলাম ডাইনিং রুমে। বাবা ড্রইং রুমে টিভি ছেড়ে সোফায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। এদিকে মা দেখছি ছোট বোনের রুমে সোফা আকড়ে ধরে আল্লাহ আল্লাহ বলে চিৎকার শুরু করেছে। ওদিকে বাবা “ওরে বাবারে বলে চিৎকার দিয়ে ব্যালকনিতে চলে গেল” আর ডাইনিং রুমে এসে জিজ্ঞাসা করে, “কি হল কি হল”। আমি ডাইনিং টেবিল বা একটা চেয়ার ধরে সবাইকে ধমক দিয়ে শান্ত হতে বললাম। এ সবই মাত্র দশ কি বার সেকেন্ডের ঘটনা। থেমে গেল ভূমিকম্প।


শান্ত হলাম। বোঝা গেল ক্ষতি তেমন কিছু হয় নি। এখন প্রথম কাজ কি? প্রথমত, ফেসবুকে স্টাটাস আপডেট দ্বিতীয়ত ব্লগে পোস্ট। ততক্ষণে ব্লগে পোস্ট চলে এসেছে। আমিও একটা দিলাম। একের পর এক পোস্টে ভেসে গেল সামহোয়্যারের প্রথম পাতা। ফেসবুকে ব্লগার আইরিন সুলতানার সাথে কথা হল, জানলাম মিরপুরেও ভূমিকম্প হয়েছে। আমি থাকি টিকাটুলিতে। ব্লগ থেকে জানা গেল, ভূমিকম্প হয়েছে ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায়। দ্রুতই ইউনাইটেড স্টেটস্ জিওলজিকাল সার্ভে সাইট থেকে পাওয়া গেল যাবতীয় সব তথ্য। তেমন কিছু না বুঝলেও জানতে পারলাম রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৬ এবং কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার কাছে।


এরপর আবার বাবা মায়ের কাছে গেলাম। তারা ভীত, আমি প্রস্তাব তুললাম আমাদের চারজনেরই ভূমিকম্প কালীন কিছু প্লান থাকা দরকার। টেবিল চেয়ারের নিচে পিষ্ট হয়ে মরার চাইতে অন্য প্লান হিসেব করলাম। আমাদের বিল্ডিং ছয়তালা, আমরা থাকি পাঁচতলায়। আমাদের জন্য টেবিল চেয়ারের নিচে লুকানোর চাইতে ভাল হবে ছাদে চলে যাওয়া। মরলেও অন্তত খোলা আকাশের নিচে মরব।আর যাই হোক, বিল্ডিং এর ফাকে কোথাও আঁটকে থেকে না খেয়ে দেয়ে তিলে তিলে মরার সম্ভবনা কম। এরচে আত্মহত্যা হয়ত ভাল। এরপর শুরু করলাম এদিক সেদিক ফোন করা। অনেকেই ভূমিকম্পটের পেয়েছে। অদ্ভুত লাগল এই যে, কেউ কেউ আবার ঢাকাতে থেকেও ভুমিকম্পটের পায় নি। আজব!!


ভূমিকম্পের মাত্রা আরো বেশি হলে এই ঈদের দিনে নিজেকে কোথায় দেখতে পাই? হয় মৃত অথবা প্রিয়জন হারা অথবা সপরিবারে খোলা আকাশের নিচে। কোথায় ঈদের জামা? কোথায় ঈদের দাওয়াত? ঈদে যাদের যাকাতের কাপড় দেওয়া হল, দেওয়া হল ফিতরার টাকা তাদের সাথে এক কাঁতারে। আমাদের ঢাকা ইউনিভার্সিটির রেজিস্টার ভবন যদি ধ্বসে যায় তবে আমার বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেটের কোন প্রমান আর থাকবে কি? জানি না তারা কিভাবে তাদের তথ্য রাখেন। প্রিয়জনদের যদি হারাই তবে মানসিক অবস্থারই বা কি হবে? থাকব কি স্বাভাবিক? জীবনের সব স্বপ্ন, চাকুরি, চাতুরি যাবে কোথায়? অনেকগুলো প্রশ্নে জর্জরিত। উত্তর হাতে নেই। কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতা সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। র্যা নডম বা ইতস্তত ব্যাপারগুলো তারই হাতে। তারই উপস্থিতিতে সব র্যা নডম ঘটনাই একটা কাহিনীর মালা গাঁথে। সেই কাহিনীর চরিত্র আমি আমার পরিবার, আমার বন্ধু, আমার পরিচিত অপরিচিত সব মানুষ। আল্লাহ সবাইকে ভাল রাখুক।


ইদানিং গান বাদ দিয়ে ইন্সট্রুমেন্টাল শুনছি। আনন্দ সংকরের মিউজিকগুলো ভাল লাগছে। সবার জন্য কিছু লিংক শেয়ার করলাম।







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29238744 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29238744 2010-09-12 01:25:56
আশীফ এন্তাজ রবির স্টিকি পোস্ট এবং আমার কিছু ভিন্ন চিন্তা
পোস্টে জনাব রবি কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সম্পর্কিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। এগুলো প্রধানত মার্কেট বন্ধ করা, অনুষ্টানাদি বন্ধ করা, স্কুল কলেজ বন্ধ করা, অর্থাৎ “বন্ধ” কেন্দ্রীক। তবে হ্যা, তিনি হাসপাতাল বন্ধের উপদেশ দেননি। আমি মনে করি “বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ কর” এটা কোন সমাধান হতে পারে না। সরকার কত কিছুই না করল। প্রধানমন্ত্রী এমনিতেই অনেক কিছু বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে বসে আছেন। মার্কেট আটটার পর বন্ধ করা হল, এখন বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক সিডিউল করল মার্কেট বন্ধ করার, অফিস আদালতে এসি ব্যবহার করতে মানা করছে, এক ঘন্টা-দুই ঘন্টা বিরতির লোডশেডিং লোডশেডিং খেলা করছে আরো কত কি! এর ফলাফল কি? বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোন উন্নতির লেশমাত্র কি আমরা দেখতে পাচ্ছি? উত্তর একটাই, না।

ঘটনাটাকে আমরা ভিন্ন উদাহরণে বিবেচনা করতে পারি। ধরি, একজন ব্যক্তি যা আয় করেন সেটা দিয়ে সংসার চালাতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি কি কি করতে পারেন? যতই তিনি পয়সা বাঁচাবার উপায় খোঁজা হোক না কেন, পরিবার চালানো তার জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকবে। আমরা কতটুকুই বা সাশ্রয় করতে পারি। বড়জোর রিক্সা ফেলে বাস ধরতে পারি,নিজের জামা কাপড়ের খরচ কমাতে পারি, খাওয়াদাওয়া থেকে কিছু বাঁচাবার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু এতে কতক্ষণ? আমরা চাইলেও বাসা ভাড়া কমাতে পারি না। চালের খরচ, শিশুদের লেখা পড়ার খরচ, বাবা মায়ের ঔষুধের খরচ এগুলো কি কমানো যায়? যে সব ক্ষেত্রে সাশ্রয় সম্ভব বরং সেই সব নিয়ে চিন্তা করতে করতে অস্থিরতা বাড়ে। এক্ষেত্রে সমাধান হল, বিকল্প আয়ের উৎস খুজে বের করা। কেউ শেয়ারে পয়সা খাটায়্ কেউ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা করে, কেউ অন্যত্র টাকা খাটায়। এদেশ দূর্ণীতিগ্রস্থ হতে পারে কিন্তু এদেশের অধিকাংশ চাকুরিজীবি এভাবেই তাদের সংসারের অতিরিক্ত খরচের ব্যবস্থা করেন।সবাই তো আর চোর না।

ঠিক একই ভাবে দেশেও বিকল্প বিদ্যুতের উৎসের সন্ধান করতে হবে। যে সূর্য তার প্রখরতায় আমাদের নিংড়ে জীবন অতিষ্ট করে তুলছে, সেই শক্তিকে ব্যবহারের কোন তাগিদ আমাদের নেই। অনেকদিন ধরে বৃষ্টি না হলেও বাতাস কিন্তু ঠিকই আছে। কোন উইন্ড মিল স্থাপনের উদ্যোগ কোথাও দেখি না! এইসব শক্তি ব্যবহার করে আমরা হয়ত হাজার হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে পারব না। কিন্তু জাতীয় গ্রীডের ঘাটতি নিশ্চয়ই পুরণ করতে পারব। ঢাকা শহরের একটি বাড়ির ছাঁদে একটি করে সোলার এনার্জি সেল (ছাদের আকারের উপর নির্ভর করে), ছাঁদে কয়েকটি উইন্ড মিল স্থাপন করতে কি কোটি কোটি টাকা লাগে? বিদ্যুৎ চলে যাবার পরে আমাদের এলাকার অনেক বাড়িতেই লাইট্ ফ্যান চলতে দেখা যায় আইপিএসের বদৌলতে। আইপিএসএর জন্য অনেকেরই বিশ ত্রিশ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এক লোক শুনলাম প্রায় কোটি টাকা দিয়ে ফ্লাট কিনেছে। সেখানে জেনারেটর খরচ নাকি মাসে আট নয় হাজার টাকা গুনতে হয়। সেই হিসেবে দশতালা দুই ইউনিটের একটি এপার্টমেন্টে দেড় লাখটাকা মাসিক খরচ জেনারেটরের তেল বাবদ। এই খরচের কিছু অংশ যদি তারা তাদের বিল্ডিংএর ছাদে সোলার এনার্জি সেল, উইন্ড মিল স্থাপন করতে ব্যয় করে তবে নিজেদের খরচ যেমন বাচাবে তেমনি জাতীয় গ্রিডের উপর চাপও কমাবে। এমন এপার্টমেন্ট শহরগুলোতে ভুরি ভুরি আছে। আমরা উলটো আইপিএস সরকারের লোডশেডিং এর মূল উদ্দেশ্য কেউ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছি। কারন বিদ্যুৎ বন্টনের উদ্দেশ্যেই লোডশেডিং করা হয়। আমরা যদি বিদ্যুৎ আইপিএসএ সঞ্চয় করে রাখি তাহলে লোডুশেডিংএর লাভ তো কিছু হচ্ছেই না বরং উলটো আইপিএস নিজে কিছু অতিরিক্ত শক্তি নষ্ট করছে। মেশিন নিজের অপারেশনে নিশ্চয়ই কিছু শক্তি ব্যয় করে। শহরগুলোর সম্মিলিত আইপিএসের এই খরচ হিসেব করলে তা নিশ্চয়ই কম হবে না।

বড় বড় শপিং মলের প্রতি কেন জানি না আজকাল সবার একটা ইর্ষা দেখা যায়। কিন্তু যানজটের এই শহরে প্রচন্ড গরমে শপিংমলই কিন্তু অধিকাংশ লোকের বিনোদনের স্থান হয়ে দাড়াচ্ছে। শপিং মলে, মার্কেটে কি লোকে শুধু আজাইরা পয়সা উড়াতেই যায়? মার্কেট, শপিং মল কি শুধু বড়লোকের পয়সা উড়াবার জায়গা? বসুন্ধরা সিটির একটি দোকানের মালিক হয়ত কোটিপতি হতে পারে কিন্তু তার দোকানে যেই দশটা লোক কাজ তারা কি লক্ষপতি? যদি ধরেই নেই তিন চারদিন মার্কেট বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ জমা করে হাসপাতালের রোগিদের দেওয়া হবে। প্রশ্ন হল সেই দোকান কর্মচারিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য চিকিৎসার খরচ জোগাবে কিভাবে? মালিক কি দোকান বন্ধ রেখে এমনি এমনি তাদের টাকা দেবে? যদি না দেয় তবে কি তাকে আমরা দোষ দিতে পারি? সে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবির মত তার মাস শেষে বেতন আসে না। তাকে নিজের আয়ের ব্যবস্থা নিজেই করতে হয় সাথে নিজের কর্মচারিদেরও। এই বাস্তবতা অস্বীকার করবার কোন উপায় আছে কি? আজকালের অফিসগুলো সেন্ট্রাল এসি থাকে। এই এসি বন্ধ থাকলে আর বাতাস আসা যাওয়ার উপায় থাকে না। বিল্ডিংএর বাইরের দিকের রুমগুলোতে হয়ত বা জানালা খোলার ব্যবস্থা সম্ভব। নইলে মাঝের বদ্ধ ঘরগুলোতে শীতগ্রীষ্ম কোন কালেই এসি ছাড়া টেকা সম্ভব না। এটা কি ভুল?

স্কুল কলেজ বন্ধ করাও একটা প্রস্তাব। প্রশ্ন হল ঢাকা শহরের স্কুল গুলো কি অনেক অনেক বিদ্যুৎ খরচ করে। একটা স্কুলে বড় জোড় প্রতি ক্লাস রুমে কয়েকটি লাইট, ফ্যান চলে। এর চাইতে কম পরিসরে একটি দোকানে আরো বেশি লাইট ফ্যান চলে। তাছাড়া দিনের বেলায় স্কুলে লাইটের ব্যবহার খুব একটা হয় না। শহরের সামগ্রিক খরচের সাপেক্ষে স্কুল কলেজের বিদ্যুৎ খরচ খুব একটা বেশি হয়ত হবে না। তিনশ পয়শট্টি দিনের বছরে একটা স্কুল সাপ্তাহিক ছুটি, দুই ঈদ, পুঁজা, জন্মদিন-মৃত্যুদিন, নানা দিবস, এসএসসি পরীক্ষার সিট পড়া, রাজনৈতিক-প্রাকৃতিক কারনে একটা বিশাল সময় বন্ধ থাকে। তার উপর যদি উড়ে এসে জুড়ে বসা বিদ্যুৎ সমস্যা জন্য ছুটি যোগ হয় তাহলে তো লেখা পড়া লাটে উঠবে।

সহজ কথা হচ্ছে আমাদের কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা আছে। সরকার যদি এই মূহুর্তেও সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হতে হতে অবশিষ্ট পৌনে চার বছর অনায়াসে কেটে যাবে বিদ্যুৎ পেতে পেতে। সাময়িক যে কোন উদ্যোগই আমরা ব্যর্থ হতে দেখছি। আমার মনে হয় সরকারের একটাই উপায় তা হল শহর গ্রামের মানুষকে ব্যাপক ভাবে সৌর বিদ্যুৎ সেল স্থাপনে আগ্রহী করে তোলা, উইন্ড মিল মানুষের কাছে জনপ্রিয় করা। এই ক্ষেত্রে আমাদের সব চাইতে বড় সমস্যাটিই প্রধান শক্তি হয়ে দাড়াতে পারে। সেটা হল আমাদের জনসংখ্যা। এই দেশে নাকি তেত্রিশ হাজার কোটিপতি আছে। তাদেরকে দিয়ে যদি সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, বায়োগ্যাস প্রভৃতি ব্যবহার করে জন প্রতি ০.০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করানো যায় তবে সরকার দ্রুতই একহাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত পেতে পারে। এরজন্য সরকারকে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে হবে।

সরকার তার ঘুনে ধরা মান্ধাতার আমলের আমলাদেরকে দিয়ে এই ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না। সরকারের শিক্ষা নেওয়া দরকার কর্পোরেট কম্পানিগুলো থেকে। আমরা এদেরকে যতই গালি দেই না কেন, তারা সিদ্ধান্ত নিতে এবং তা সাথে সাথে বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। যা আমাদের সরকার খাতাকলমে সব ক্ষমতা থাকা সত্তেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে পারে না। গ্রামীন ফোন যখন তার লোগো পরিবর্তন করে তখন আমি রীতিমত তাদের কর্মদক্ষতায় অভিভূত হয়েছিলাম। ঢাকার বাইরে সেই সময় বিভিন্ন জায়গায়তে যাওয়া হয়েছিল। অবাক হয়েছিলাম, তাদের পুরানো লোগো কোথাও আর দেখি নি। একই ব্যাপারই দেখা যাচ্ছে একটেল নতুন নাম রবি নেবার পর থেকে। আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদের এইটুকু শিখেছি বিশাল রকম কিছু করার জন্য দরকার সঠিক ভাবে পরিচালনা, শক্ত নেতৃত্ব। সঠিক ভাবে অর্গানাইজ করা হলে এবং নেতৃত্ব শক্ত থাকলে নিতান্ত গাধাও নিজের অজান্তে অনেক বড় কিছুর অংশ হয়ে যেতে পারে। সরকারের উচিত সোলার সেল, উইন্ড মিল প্রভৃতির ব্যবসা খোলা করে দেওয়া,দেশী বিনিয়োগকারিদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া, বড় বড় বিদেশী কম্পানিকে দেশে নিয়ে আসা। নিজের ব্যবসার স্বার্থে তারাই জনগনকে উজ্জিবিত করবে। সরকারের শুধু দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করলেই হল।

আমাদের মনে রাখতে হবে, সমস্যাটা প্রযুক্তিগত। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে,এটা মাটি ফুড়ে বের হবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উৎস আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। এই জন্য দরকার বিজ্ঞানী এবং ব্যবসায়ীদের যৌথ কার্যক্রম। সরকার শুধু এই দুই গোষ্টির মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করতে পারে। দেশে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেসব বিজ্ঞানীরা কাজ করেন তাদের দিয়ে কিছু হবে না। কারন জীবনে চ্যালেঞ্জ নেবার সাহস নেই বলেই তারা সরকারি চাকরি একবার পেলে ত্রিশ বছরে আর যাবে না এই দর্শন নিয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন। তারা কিছু এ যাবৎ করতেও পারেননি আর পারার সম্ভবণাও নেই। বিদেশে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা কর্মরত আছেন, তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিলে নিজ দেশে কিছুটা কম বেতনে চাকরি করতে অনেকেরই বাধবে না। বরং, অধিক আগ্রহে তারা দেশের জন্য কাজ করবেন।

প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে আবেগের কোন স্থান নাই। আমরা বড়ই আবেগ প্রবন জাতি। রাস্তা ঘাট কম থাকা, অব্যবস্থাপনা, অধিক জনসংখ্যার জন্য সৃষ্টি হওয়া যানজটককে আমরা শুধুই বড়লোকের প্রাইভেটকারকে দায়ী করি। আবার নিজেরা বাসে বসে রিক্সাই সকল যানজটের মূল কারন উল্লেখ করে রিক্সাওয়ালাদের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করি। কিন্তু আমরা ভাবি না যে যার সামর্থ আছে সে কেন গাড়ি কিনতে পারলে কিনবে না? রিক্সা ওয়ালাকে যতই গালি দেই তাকে কি আমরা রাস্তায় রিক্সা চালাবার রীতিনীতি শিখিয়েছি? তাকে কি অন্য কোন কিছু করবার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি আমরা?

বিদ্যুৎ, পানি্ গ্যাস, যানজট প্রভৃতি আমাদের সমস্যা। এগুলোকে সমাধান করতে হবে অংকের মত। হিসেব করতে হবে কি আছে হাতে কি নেই। প্রধানমন্ত্রী হাজার ধরনের মানুষকে নিয়ে উঠা বসা করেন। কেউ উনি সরে গেলেই খুশি (বিরোধী দল), কেউ বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি পেলে খুশি, কারো আর কোন দাবীই নাই সে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, আরো কত কি! উনি যাদের খুশি করতে পারবেন না তারা তার গদি ধরে টান দেবে। বেচারীরা দেশের সবক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারেন কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা মনে হয় সবচাইতে বেশি। ভাল কাজও চাইলে করতে পারেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই অনুরোধ করা যেতে পারে যে, দয়া করে মানুষের সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হন। আপনার ভাবতে হবে না ষোল কোটি মানুষের দেশে আপনাকে সহায়তা করার মত অনেক মানুষই পাবেন।

পোস্টের শেষে আমি এখন। এটাই শেষ অনুচ্ছেদ। শেষ করব যেটা বলে, তা প্রথমে মাথায় রাখলে এ পোস্ট আর লিখতে পারতাম না। আজকাল এইরকম কারনে তাই আর লেখা হয়ে উঠে না। কারনটা হল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরা এত কিছু বুঝলে বা বুঝতে আগ্রহী হলেতো দেশে এইসব সমস্যা থাকত না। শান্তিতে ব্লগে আড্ডা দিতাম। এইদেশে যা কিছু নতুন নতুন হয়েছে জনগন নিজেরা নিজেরাই করেছে। মানুষ জীবিকার তাগিদে দেশ হতে বিদেশে গিয়েছে, এখন সরকার এর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আর জনশক্তি রপ্তানির বড় বড় কথা বলে। কিছু লোক গার্মেন্টস ব্যবসা করে লাভবান হয়েছে অন্যদের আকৃষ্ট করেছে তারপর সরকার এই খাতের প্রতি আগ্রহী হয়েছে। তেমনি আমাদেরও নিজেদেরই সোলার সেল, উইন্ড মিল প্রভৃতির ব্যবহার শুরু করতে হবে। একসময় সরকারের লোকজন নিজ স্বার্থেই এটাকে সহায়তা করবে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29132552 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29132552 2010-04-10 23:23:01
গবেষণার ফলাফল: ল্যাব থেকে খবরের কাগজ

কিছুদিন আগে আমার কোন এক পোস্টে উল্লেখ করেছিলাম আমি বর্তমানে আইসিডিডিআর, বি তে কাজ করছি। সেটা দেখে জনৈক ব্লগার জানতে চেয়েছিল, “সোয়াইন ফ্লু বিষয়ে আইসিডিডিআর, বি যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সেই বিষয়ে কিছু বলুন”। সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছিলাম তাকে কিন্তু মাথার রয়ে যায় বিষয়টি। তাই আর একটু বিষদ ভাবে লিখতে চেষ্টা করছি।


বাস্তবে কোন গবেষক বা তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে খুব একটা ভূমিকা রাখবার সুযোগ তেমন পান না। যদি পাওয়া যেত তবে বিজ্ঞানীর নামের আড়ালে যে রাজনীতি অর্থনীতির খেলা চলে তা হয়ত এত বেশি হত না। আমি নিজে জীববিজ্ঞানের ছাত্র বিধায় এই বিষয়ে নিয়েই কথা বলব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে থাকার সময়ই শেখানো হয়েছিল আমাদের লেখালেখিতে যেন বেশির ভাগ সময় Generally, usually, most probably, possible that, to our knowledge, as far as we are concern ইত্যাদি শব্দ থাকেই। Scientific writing এ absolutely, doubtless জাতীয় শব্দ গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে লিখবার কারন হচ্ছে, কোন গবেষণাই শেষ না। হয়ত কতগুলো সুনির্দিষ্ট কারনে একটা বিশেষ ব্যবস্থায় এমনটা ঘটছে কিন্তু বাস্তবে সবসময়ই এমনটাই হবে মনে করার কোন কারন নাই। সব কিছুরই ব্যতিক্রম কোথাও না কোথাও থাকতেই পারে। যদি একটা গবেষণাতেই সব প্রমান হয়ে যেত তবে পৃথিবীতে জ্ঞানের অনেক শাখাই থেমে যেত। অথচ জ্ঞানের এক শাখা হতে বিভিন্ন উপশাখা আমরা অহরহই তৈরি হতে দেখি।


যখন কোন গবেষক তার গবেষণার রিপোর্ট দেন কর্তৃপক্ষকে বা তা প্রকাশ করেন কোন স্বীকৃত জার্নালে তাকেও এভাবেই লিখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই কোন পর্যবেক্ষণকে doubtless উল্লেখ করার পর জার্নালের Reviewer এর প্রশ্নবানে জর্জরিত লেখককে সম্পাদনা করতে হয়। যা তিনি বলেছিলেন, “এটা নিঃসন্দেহে প্রমানিত হইল।”, তার পরিবর্তে তার লিখতে হয় “আমাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এটাই মনে হয়ে যে হয়ত এমনটাই হবার বিশাল সম্ভবনা রয়েছে”।


এইসব গবেষণার ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরি করেন, সাংবাদিক তৈরি করেন সংবাদ। ঘাপলাটা শুরু হয় এখানেই। হয়ত গবেষণার রিপোর্টে বা নিবন্ধে লেখা হয়েছে, “আমাদের পর্যবেক্ষণে যতদূর মনে হয়, হয়ত কোন এক সময় মঙ্গল গ্রহে পানি থাকার যথেষ্ট সম্ভবনা রয়েছে। যেহেতু পানির সাথেই জীবনের সৃষ্টি জরিত, তাই হয়ত অদূর ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে প্রানের উপস্থিতির প্রমান পাওয়া যেতে পারে”। এসবকেই আমরা খবরের কাগজে ছাপতে দেখি, “মঙ্গল গ্রহে পানি পাওয়া গেছে” অথবা “পৃথিবীর বাইরে প্রাণের উপস্থিতির প্রমান মিলেছে”। প্রতিবছরই এমনসব খবর সংবাদপত্রে পাওয়া যায়। এগুলোই হয়ে যায় বিভিন্ন বক্সঅফিস হিট মুভির উপাত্ত।


সোয়াইন ফ্লুর ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছিল। আমার জানামতে আইসিডিডিআর, বিতে টেস্ট হয় এবং শুধু রিপোর্ট দেওয়া হয় যে এই স্যাম্পল পজিটিভ ঐ স্যাম্পল নেগেটিভ। রিপোর্ট খুবসম্ভবত সরকার পায় এবং তারাই এটা জনগনকে জানাবার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। বাংলাদেশে প্রথম সোয়াইনফ্লু ভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবার পরে কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রীই জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যমে যে বাংলাদেশে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান শুধু টেস্ট করে দেয়। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নিত যে জনগনের মাঝে ভয়ভীতি ছড়াতে পারে তাই এইখবর প্রকাশ করা যাবে না তাহলে কিন্তু কেউ জানতেও পারত না বাংলাদেশে কখন ভাইরাস আসল, কখন ছড়াল আর কখনইবা চলে গেল। সরকারের নিজস্ব নীতি থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রত্যেক দেশের সরকারকেই এসব সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিজ্ঞানী বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এখানে করার তেমন কিছু নেই।


আর একটা বড় সমস্যা হল সাংবাদিকদের। অন্যদেশের খবর জানি না, কিন্তু আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলোর বিজ্ঞান বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খবরগুলো যারা লেখেন তাদের অধিকাংশই বিজ্ঞানের ছাত্র না। তাই বিজ্ঞান বিষয়ক খবরগুলো পড়তে হাসি পায়। জনগনকে খবর খাওয়াবার জন্য এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যে তাতে মূল অর্থই হারিয়ে যায়। হয়ত টেস্ট করে পাওয়া গেছে বাংলাদেশে ৫০০ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত ব্যক্তি। খবর ছাপা হবে “অর্ধসহস্রাধিক ব্যক্তি সোয়াইনফ্লুতে আক্রান্ত”। ভেতরে লেখা হবে ভয়ভীতি ছড়ানো অনেক কথা। কিন্তু লেখা হবে না কতজনের মাঝে এই ৫০০ জন আক্রান্ত। এককোটিতে মানুষের মাঝে ৫০০ জন আক্রান্ত হওয়া আর এক হাজারে ৫০০ জন আক্রান্ত হওয়া নিশ্চয়ই এক নয়? কেউ মারা গেলে যদি লেখা হয় “ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তির নির্মম মৃত্যু”। তাহলে কে না ভয় পাবে। অথচ দেখা যাবে, কয়েক লক্ষ মানুষের মাঝে এই একজনই মারা গেছেন এবং মৃত্যুর হয়ত ফ্লু ছাড়াও অন্য কারন আছে। বিজ্ঞানের প্রত্যেক শাখাতেই কিছু এমন শব্দ থাকে যা বিশেষ অর্থ বহন করে। এগুলো অন্য বিষয়ের ছাত্রের জন্য বোঝা মুশকিল। একটি রোগের ২০০১ থেকে ২০০৯ Prevalence হল 500 এটার অর্থ ২০০৯ পর্যন্ত মোট ৫০০ জন আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। কিন্তু যদি লেখা হয় ২০০৯ সালে ৫০০ ব্যক্তি ঐ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তাহলে কিন্তু এর মর্মার্থ অন্যরকম হয়ে যায়।


শুধু সাংবাদিকরাই নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের আর্থিক সুবিধার জন্য গবেষনার ফলাফলকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে। এনজিওগুলো ফান্ড আনার জন্য ভাল পরিস্থিতিকে খারাপ ভাবে উপস্থাপন করে, সরকার ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য খারাপ পরিস্থিতিকে ভাল করে। এইসব ক্ষেত্রে গবেষনা প্রতিষ্ঠান বা গবেষকের কিছুই করার থাকে না। পলিসিমেকাররাই সব কিছু নিয়ন্ত্রন করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29129155 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29129155 2010-04-05 00:38:23
শ্লোগান ২০১০: চেতনা দেখান, গ্রামীন ফোনে কথা বলুন নয় মাস

১৪ ফেব্রুয়ারি আমরা কয়েক বন্ধু মিলে গেলাম বই মেলায়। অল্প ঘুরে মেলার বাইরে রাস্তার আইল্যান্ডে বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। তখন এক মধ্য বয়স্ক ব্যক্তি একটা পোস্টার নিয়ে এলেন। লোকটা অনুমতি নিয়ে কথা বলা শুরু করল। সে বলে, তারা ভাষা শহীদদের ছবি সম্বলিত একটা পোস্টার বার করেছে। এটা আলাদা এই দিক দিয়ে যে তাদের পোস্টারে সালাম ভাইয়ের (!) ছবি আছে। সালাম ভাইয়ের কোন ছবি নাকি আগে পাওয়া যায়নি। ঐ লোকের কম্পানি নাকি সালাম ভাইয়ের দুইভাইয়ের ছবি জোগার করে সালাম ভাইয়ের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করেছে কম্পিউটারে। দাম মাত্র বিশ টাকা, বিশ টাকা, বিশ টাকা। আমরা বললাম না নিব না। লোকটা একটু অনুরোধ করে চলে গেল। আমরাও বাদাম চিবাতে মন দিলাম। হঠাৎ আমরা থমকে গেলাম, আরে সালাম ভাই মানে? এমন ভাবে বলছিল যেন, এলাকার পোলা সালাম ভাইয়ের ছবি। তার উচ্চারণে কোন শ্রদ্ধা ছিল না। সে বলতে পারত, শহীদ সালামের ছবি। লোকটারে একটা থাপ্পড় দিতে ইচ্ছা হল। খুজলাম কিন্তু শত মানুষের ভীড়ে আর হদিস পাওয়া গেল না। ব্যবসা করার জন্য মানুষ কত ধান্ধাই না করে থাকে। নিজেরা এই ব্যাপারে কথা বলতে বলতে ফিরে এলাম।


টিভি তেমন একটা দেখি না এখন। তাই খবর বা বিজ্ঞাপনও দেখা হয় না। খবররের কাগজের বিজ্ঞাপনগুলো অনেক আগে থেকেই এড়িয়ে চলি। দুই তিনদিন আগে এক বান্ধবির বিয়েতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠির সাথে দেখা। সে বলে, ২১ তারিখের র্যা লিতে যোগ দিতে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কিসের র্যা লি? সে বলে বাহান্নর একুশে ফ্রেব্রুয়ারির আন্দোলনের বিখ্যাত আমতলায় গ্রামীন প্রথমালো ত্রিশ মিনিটের র্যা লি আয়োজন করছে। আরো কিছু চেতনা সম্বলিত বাক্য সহপাঠির মুখে শুনলাম। একটু অবাক হয়েও আবার বাস্তবে ফিরে এলাম। অবাক এই জন্য যে, এই সহপাঠির মুখে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ শব্দগুলো একটু বেমানান। শিবিরের ছেলেদের সাথে উঠাবসা, আলোচনায় বাঙালির বিভিন্ন অর্জনকে কটাক্ষ করা এই ছেলেটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ দিকে বুঝতে পারে ক্ষমতায় লীগ আসবে। অতি নিপুনতায় আওয়ামী পন্থি শিক্ষক ও এক ছাত্রদল হতে আগত ছাত্রলীগ সহপাঠির ল্যাঞ্জা ধরে এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়। অতএব, তার মুখে এসব এখন শুনতেই হবে। যাইহোক, ফিরে এসে খবরটা ভাল ভাবে শুনলাম। গ্রামীন ফোন, প্রথমালো ইত্যাদি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপনের পণ্য হিসেবে এবার ভাষা আন্দোলনকে বেছে নিয়েছে। ভাবতে ভালই লাগে বাঙ্গালির ব্যবসায়িক দৃষ্টি দিন দিন উন্নত হচ্ছে। আর যাই হোক এই বুদ্ধি নিশ্চয়ই কোন না কোন বাঙ্গালি মার্কেটিং কর্মকর্তার মাথা থেকেই এসেছে। তবে ভাবতে দুঃখ লাগে তাদের সহযোগী হলেন তিনজন ভাষা সৈনিক। জানি না ভাষার প্রতি কি আবেদন তারা এই নাটকে খুজে পেলেন। কত কিছুই না দেখলাম আমাদের পথ পদর্শকদের কাছ থেকে। জীবন সায়াহ্নে সারা জীবনের কর্মকান্ডের উপর কর্পোরেটের ধুলা ছড়ানো কতটা জরুরি ছিল তা তাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। তবে, এই একটি ঘটনার দায়ভার তাদের ঘাড়ে চাপানো উচিত হবে না। আমরা হয়ত জানি না, কিন্তু পেছনে আছে নিশ্চয়ই কোন না কোন মীর জাফরের প্যাচ। গ্রামীন, প্রথমালোর সেই দালালরা হয়ত ভাষা সৈনিকদের অজান্তেই তাদের চেতনা বিক্রি করে দিয়েছে। হতাশা থেকে যে যায় যে, আমাদের গর্বের মানুষগুলো এখনও মীর জাফরদের চিনতে শিখল না। মুজিব-জিয়া বলি আর মতিন-রফিক-বাচ্চু বলি কেউই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিল না। আরো কত কিছু দেখব জানি না। হয়ত এবার আসবে, “রক্তাক্ত নয় মাস”। শ্লোগান হবে, “চেতনা দেখান গ্রামীন ফোনে কথা বলুন নয় মাস”।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29102827 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29102827 2010-02-22 00:30:33
যাচ্ছে যেমন দিনগুলো

কনফিউজড মানুষ হিসেবে (প্রোফাইলের মন্তব্য দ্রষ্টব্য)মনে বিপরীত প্রশ্নও জন্মে। হয়ত ব্যস্ততার চাপে আমিই ধরতে পারছি না ভাল লেখা গুলো। দুই বছর তিন মাস ব্লগজীবনে সব চাইতে বেশি লিখেছিলাম মাস্টার্সের পরীক্ষার সময়। সারাদিন বাসায় থাকা তিন চারদিন পরে পরীক্ষা দিতে যাওয়া। ব্লগিং এর জন্য উত্তম সময় ছিল সেটা। এখন অতীতের অসমাপ্ত কাজ, বর্তমানের দৈনন্দিন দায়িত্ব, ভবিষ্যতের হিসাব নিকাশ নিয়ে দিনের ১৮ ঘন্টা কেটে যায়। বাকি ছয় ঘন্টা নির্ভেজাল ঘুমটা তাই শরীরের দাবি। বেচারা স্বাস্থ্যই যখন সুখের তাই সেটাকে সব কিছু না দিতে পারলেও এই পাচ ছয় ঘন্টা ঘুমটুকু দিতেই হয়।


ডিজিটাল টাইমে সূর্য হবার আগেই ঘুম থেকে উঠতে হত। মন বলে সূর্য উঠুক তারপর উঠি, এলার্ম বাজা মোবাইল বলে ডিজিটাল সূর্য এখনই উঠেছে, তারাতারি উঠ। উঠেই সোজা মাথায় পানি ঢালা এবং গোসল। প্রধান উদ্দেশ্য ঘুমের শেষ বিন্দুটাকে ধ্বংস করা। তারপর মিনিট হিসেবে রেডি হওয়া, চা খাওয়া এবং দুই তিনটা অর্ধেক চাবানো রুটি গিলে খাওয়া। আটটা বাজতে তের মিনিট আগে ঘর থেকে বের হওয়া এবং আটটার মাঝে মতিঝিলে গাজীপুর পরিবহনের কাউন্টারে। এইটা টাইম ফ্রেমে চলতে পারলে বাসে বসে আটটা তেত্রিশ বা চৌত্রিশের মাঝে মহাখালী পৌছানো সম্ভব। কোন কারনে যদি আটটা দশের পরে মতিঝিল পৌছি তবে দেখব গাজীপুর পরিবহনের কাউন্টারে লম্বা লাইন এবং আধ ঘন্টা পরে বাস আসে। তখন নয়টা সতের মিনিটের আগের আর মহাখালী পৌছানো যায় না।


মহাখালী পৌছে কলেরা হাসপাতাল তথা আইসিডিডিয়ার,বিএর প্রবেশ পথে দেখা যায় লম্বা লাইন রুগীদের দর্শনার্থীদের। তাদের এক্সিউজমি এক্সিউজমি বলে সাইড নিয়ে আটটা চল্লিশের মধ্য আমাদের ল্যাবে পৌছে যাওয়া। এরপর আগের দিনের এক্সপেরিমেন্টের রেজাল্ট নেওয়া বা নতুন এক্সপেরিমেন্ট শুরু করা। এর মাঝে দশটায় টি ব্রেক। এই সময় শুধু টিতে চলে না, আলাদা নাস্তা করা বাধ্যতামূলক। তাই চলে যাই নিপসমের ক্যান্টিনে সবাই। আইসিডিডিআর, বিএর ক্যান্টিনে স্বাস্থ্য সম্মত, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সুলভ মূল্যে স্বাদবিহীন খাবার মেলে। স্বাদবিহীন এই কারনে যে এইখাবারের স্বাদ সবার মুখস্ত। যতটা গুরুত্ব দিয়ে আমরা এক্সপেরিমেন্টের রিয়েজেন্ট মাপি তার চাইতেও বেশি মনোযোগ দিয়ে মনে হয় বাবুর্চি হলুদ মরিচ তেল মাপে।এই নয় মাসে একদিনও দেখলাম না খাবারের স্বাদ এদিক সেদিক হতে। টি থেকে এসে এক্সপেরিমেন্ট এগিয়ে নেওয়া তারপর লাঞ্চ ব্রেক। লাঞ্চ শেষে তেমন কাজ থাকে না, টুকটাক আর কি। দেখতে দেখতেই সাড়ে তিনটায় আবার টি ব্রেক। সবাই ছুটে যায় চা খেতে। চা খেয়ে আসতে আসতে চারটা। তারপর আর কিছু শুরু করা হয়ে উঠে না কারন পাচটায় অফিস ছুটি।


পাচটায় প্রায় অধিকাংশই ল্যাব থেকে চলে যায় সেন্টারের বাসে। থেকে যাই আমরা কয়েকজন। দিনে চলে রুটিন কাজ, আর রাতে আমাদের শুরু হয় নিজেদের ইচ্ছায় করা গবেষণার গবেষণা খেলা। নয়টা পাচটা অফিস করাটা আমার কাছে ভ্যান্দাটাইপের জীবন মনে হয়। তবে ঘরে বৌ-পোলাপান থাকলে হয়ত আমিও বাধ্য হব সেই ভ্যান্দা জীবন বেছে নিতে। বিকেলের পরে যে সময়টা থাকি কিছু না কিছু শেখা হয় প্রতিদিনই। সেই সাথে আমাদের নিজেদের গড়া ফান্ড হতে খাওয়ায় দাওয়াও হয়।আল্লাহর নাম নিয়ে আটটা সাড়ে আটটার দিকে ল্যাব বন্ধ করে আমরা বের হয়ে পড়ি। কখনও ভাইয়ার (বস) গাড়িতে পল্টন অথবা নিজেরা সিএনজি বা বাসে মতিঝিল। তারপর আমি রিক্সায় বাসায়। বাসায় ফিরেই আবার ল্যাপটপ খুলে বসা। প্রথম যে কাজটা করি তা হল মোজিলার এক ট্যাবে ফেসবুক আর এক ট্যাবে সামহোয়্যারইন। আমাদের ল্যাবে ফেসবুকে ঢোকা যায় না। কি এক বারাকুডা ফিল্টার দিয়ে পুরা সেন্টারে ফেসবুক বন্ধ। এতে অবশ্য আমাদের চাইতে আমাদের বসই বেশি বিরক্ত। কারন তার বাসায় নেট স্পিড ভাল না, উনি সেই স্পিডে ফেসবুকে ঢুকে বিরক্ত হন। এরপর মা খাবার দিয়ে ডাক দেয়। রাতের খাবার গিলে আবার ল্যাপটপ এবং তারপরই ঘুম।


এটাই আমাদের সপ্তাহের পাঁচদিনের রুটিন। শুক্রবারে ঘুম থেকে উঠতে চাই একটু দেরীতে অথচ তখন কাকডাকা ভোরে এমনিতেই জেগে যাই। তারপর আবার সেই বিকেলে এক আধটু টিভি দেখতে বসি। যদি কেবল অপারেটরদের চ্যানেলগুলোতে তেমন ভাল কোন সিনেমা থাকে তবে দেখি হয়ত। খবরটবর আর দেখি না এখন। এমনকি পেপারও পড়ি না। বাসে জ্যামে আটকে মাঝে মাঝে দুই তিনটাকার ভোরের ডাক বা আমাদের সময় কিনা হয়। শনিবারও আমাদের ছুটি। সেইদিন যাই ডিপার্টমেন্টে, আগের ফেলে আসা কিছু কাজ শেষ করতে এখনও যেতে হয়। সেই সাথে হবু বৌয়ের সাথে সপ্তাহের দেখা সাক্ষ্যাতও সেখানেই হয়ে যায়। রাতে বাসায় ফিরে মাঝে মাঝে বন্ধুদের ফোন পাই। আগের প্রতি সন্ধ্যার পর বের হতাম। এখন কয়েক সপ্তাহ পর হয়ত বের হওয়া হয়। কারো শনিবারে ছুটি নাই, কারো অন্য কাজ, বা কারো অফিসে এমার্জেন্সি ডিউটি। কিছু না কিছু থাকেই।

লিখি লিখি করে অনেক কিছুই লিখে ফেললাম। কেন জানি না অনেকদিন পরে আজ রাতে ঘুম আসছে না। তারপরও ঘুমাতে হবে, শরীরের দাবি বলে কথা। নইলে কালকে সব উলটা পালটা হবে। নির্ঘুম রাত আমি বড়ই ভয় পাই। শুভ রাত্রী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29089269 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29089269 2010-02-01 01:34:48
মুভি রিভিউ: থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার

গত সপ্তাহ হতে চেষ্টা করছিলাম সিনেমাটা দেখবার, কিন্তু টিকেট পাচ্ছিলাম না। আজ ঢাবিতে কাজ থাকায় আজকে বলাকায় ঢূঁ দিলাম। টিকেট মিলল তবে সেকেন্ড ক্লাস। ডিসির সব টিকেট শেষ। গত সপ্তাহে সেটাও পাইনি। হলে ঢুকতে ঢুকতে দেখি সিনেমা শুরু। ছবিটা মুক্তি পাবার পর ব্লগে এবং বন্ধু মহলের আলোচনায় মোটামুটি সিনেমার প্রতি বিশেষ দৃশ্য এবং সংলাপ সম্পর্কে ধারণা হয়ে গিয়েছিল। জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শুনতে শুনতে ভেবেছিলাম নিশ্চয়ই সমাজ উল্টা পালটা করে দেওয়া কোন মুভি ফারুকি বানিয়েছে। নিজে দেখতে গিয়ে শোনা কথার একশত আশি ডিগ্রি উল্টা চিত্র দেখে বড় হতাশই হতে হল।


সিনেমার কাহিনীটা এ রকম যে, রুবা এবং মুন্না লিভ টুগেদার স্টাইলে একসাথে থাকছে। ব্যাপারটা পরিবারে জানাজানি হলে পরে তারা মুন্নার ফ্যামিলির সাথে থাকা শুরু করে। মজার ব্যাপার, তারা বাপ মার সাথে থাকলেও তাদের বিয়ে হয়নি। সেই লিভটুগেদারই চলছিল। এর মাঝে মদ খেয়ে বন্ধুদের সাথে মারামারিতে মুন্নার হাতে একটা খুন হয়ে যায়। যাবৎজীবন কারাদন্ড শাস্তি পেয়ে মুন্না জেলে যায়। ছেলের অবিবাহিত বউকে মুন্নার বাবা আর ঘরে রাখে নি। এদিকে রুবা তার মায়ের সাথে থাকতে চায় না। কারন তার মা পুরানো প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়ে বের হয়ে গেছে। রুবার বিশ্বাস এই কারনেই তার বাবার মৃত্যু ঘটে। সে তার মাকে ঘৃণা করে। থাকার স্থান না থাকায় রুবা প্রথমে তার খালাত বোনের বাসায় উঠে, কিন্তু খালাত বোনের শাশুড়ি রুবাকে তার ঘরে দেখতে চায় না। অগ্যতা রুবার ঢাকায় বাসা এবং চাকরি খুজতে থাকে। ঢাকার অলিগলিতে ঘুরতে ঘুরতে তার বিভিন্ন পুরুষের অসৎ উদ্দেশের লক্ষ্য হতে হয়। যেখানেই যায় সেখানেই অসৎ ইঙ্গিত। নিজের বাপের বয়সীদের হতে পাওয়া এই আচরণে রুবার ঘৃণা ধরে যায়। কেউ চাকরি দিতে চায়, কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় কিন্তু বিনিময়ে ব্যবহার করতে চায় রুবাকে। উল্লেখ করা মত একটা জিনিস দেখলাম যে, রুবার প্রতি অন্যসব পুরুষকে আগ্রহী দেখানো হলেও, তার অফিসের বসকে কোন প্রকার ইঙ্গিত দিতে দেখানো হয় নি। অথচ, জেলে দেখা করতে গেলে মুন্না রুবাকে বলে তার বস একটা লুইচ্চা। এমনি কি রুবার দ্রুত প্রোমশনে অফিসের অন্য পুরুষ কর্মকর্তাকেও জেন্ডার ডিসক্রিমিনিশনের দায়ে বসকে দোষ দিতে দেখা যায়। কাহিনীতে এই বসকে লুল না দেখিতে হয়ত রুবার চাকরির যোগ্যতা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।


এভাবে চলতে চলতে একসময় রুবার ছোট্ট বেলার বন্ধু তপুর কথা মনে আসে। এই তপুর সাথে তার দীর্ঘ দিন যোগাযোগ নাই, এমনকি মোবাইল নম্বরটাও নাই। সিনেমায় তপু বাস্তবের তপুই। বিখ্যাত নূপুর গানের গায়ক, তার হাজার হাজার ফ্যান। যাইহোক, মোবাইল নম্বর যোগার করে রুবা তপুকে ফোন করে দেখা করতে বলে। তারা বসুন্ধরার পেছনে কাশবন টাইপের এক জায়গায় দেখা করে। রুবা তার কাছে থাকবার জায়গার জন্য সাহায্য চায়। সাথে সাথে তপু বসুন্ধরায় ফ্লাট ভাড়া করে। যেহেতু্‌ একা মেয়ের জন্য বাসা ভাড়া পাওয়া কঠিন তাই তপুই রুবার স্বামী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়। রুবা মুন্নার বাসা থেকে ফার্নিচার নিয়ে আসে। তপু রুবাকে বসুন্ধরায় দামী ফ্লাটের ভাড়া, অভিজাত জীবন যাপনের খরচা পাতি এবং সেই সঙ্গে মুন্নার মামলার খরচও দিতে থাকে। তাদের সাথে কথা হয় এইগুলো তপু দান করছে না, একসময় রুবা তাকে টাকা দিয়ে দিবে।


এরপর শুরু সিনেমার অন্যপর্ব। তপু-রুবা একই ফ্লাটে থাকছে, আলাদা আলাদা রুমে। রাতের বেলা প্রথমাংশের এই সব বৃদ্ধদের মতই মিলনের ইচ্ছায় তপু রুবার রুমের সামনে ঘোরা ঘুরি করে, মাঝে মাঝে দরজা নক করে। রুবা সবই বুঝে কিন্তু সরাসরি সম্মতি দেয় না। ঠিক পরের দৃশ্যে, একই উদ্দেশ্যে রুবাকেও ঘোরা ঘুরি করতে দেখা যায়। ঠিক এই মূহুর্তেই রুবার সামনে হাজির হয় তার ১৩ বছরের মন। রুবাকে তপুর প্রতি শারিরিক আকর্ষণ হতে দূরে রাখতে রুবার মনের এক অংশ সবসময় রুবার সাথে ঝগড়া করতে থাকে। এই সমস্যায় রুবা মানসিক চিকিৎসকেরও কাছে যায়। প্রথমে মাঝে মাঝেই রুবা মুন্নাকে দেখতে যেত। কিন্তু চাকরি এবং তপুর কারনে সেটা ধিরে ধিরে কমতে থাকে, একপর্যায়ে মুন্নাই আর রুবার সাথে দেখা করতে চায় নায়। তপু রুবাকে পাবার আকাঙ্খা বার বার প্রকাশ করে যায়। রুবা বোঝে এবং এটাকে সে কোন প্রকার অসৎ উদ্দেশ্য বলে মনে করে না, যেমনটা সে প্রথমের বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে মনে করত। উলটা রুবা নিজেই তপুর আহ্ববানে সাড়া না দেবার কারনে অস্বস্থি বোধ করে। এক পর্যায়ে রুবা তপুর আকাঙ্খাতে সম্মতি জানিয়ে তপুকে তার ঘরে আসতে বলে। তপু লাফাতে লাফাতে কনডম কিনে হাজির হয় রুবার ফ্লাটে। গিয়ে দেখে রুবা নাই। রুবা আবার তার ১৩ বছরের মনের প্রভাবে তপুর কাছে নিজেকে সমর্পনে অসম্মতি জানায়। তপু মহা বিরক্ত হয়।


ঠিক এই মূহুর্তেই কিভাবে যেন মুন্না জেল থেকে ছাড়া পায়। সে এসে উঠে রুবার ফ্লাটে। কিন্তু বুঝতে পারে এই রুবা আগের সেই রুবা নয়, সব চেঞ্জ হয়ে গেছে। রুবাও বুঝতে পারে তার মন পড়ে আছে তপুর কাছে। সেটা সে সরাসরি মুন্নাকে জানায়। মুন্নাকে সে বলে যেহেতু তাদের বিয়েই হয় নাই তাই ডিভোর্সের প্রশ্ন উঠে না। তাই তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত। প্রথমে মুন্না জানায় সাত দিন সময় নিয়ে দেখতে যদি মত পালটায়। কিন্তু অল্প কয়দিনেই মুন্না বুঝে কোন লাভ নাই। সে রুবাকে প্রস্তাব দেয় তারা আলাদা থেকে আর কি করবে, তার চেয়ে তারা বন্ধুর মত একত্রেই থাকতে পারে। শেষ অংশে দেখা যায় রুবার তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেতে। সে চিৎকার করে বলে, মা আমি তোমাকে ভালবাসি। ভালবাসা ফিরে এসেছে যে কারনে রুবা তার মাকে ঘৃণা করত সেই দোষেই সে নিজে দোষী। সেই মূহুর্তে রুবা নিজের মায়ের কৃতকর্মের যুক্তি খুজে পায়। এককালে তার কাছে মায়ের যে কাজটিকে পিতার মৃত্যুর কারন বলে মনে হয়ে এসেছে, সেই একই কারনে তার মায়ের প্রতি ভালবাসা ফিরে আসে। এরপর তপু রুবার সাথে দেখা করতে এসে প্রস্তাব দেয় তার সাথে কক্সবাজারে ঘুরতে যাবার। রুবা বলে মুন্নাকেও নিয়ে যেতে, মুন্না রাজি হয়। তারা তিনজন কক্স বাজারে ঘুরতে যায়

...................................................সিনেমা শেষ।


এখন আসি বাকি কথায়। প্রথমেই অভিনয়। আগেই বলে নেই আমি অভিনয় বিষয়ে আলোচনার যোগ্য কেউ নই। হাজার হাজার দর্শকদের একজন, তাই আমার আলোচনায় চলচিত্রের বোদ্ধাদের আপত্তি থাকলে আমার কিছু করার নাই। রুবা চরিত্রে তিশা, মুন্না চরিত্রে মোশারফ করিম আর তপু চরিত্রে তপুই। তিশার আমি এপর্যন্ত যত অভিনয় দেখেছি তার সবটাই একই রকম বৈচিত্রহীন। অত্যন্ত রকম, বা খানিকটা বেয়াড়া মেয়ের চরিত্র। এখানেও একই ধরণের চরিত্র। মোশাররফ করিমের অভিনয় ভাল ছিল, কিন্তু সে সিনেমায় অভিনয় দেখাবার তেমন সুযোগ ছিল না। তার অভিনয় খুবই কম সময়ের জন্য। তপুর অভিনয় আমার কাছে কোন অভিনয়ই মনে হয় নাই। গায়ক হিসাবে তার পরিচিতি না থাকলে হয়ত এই অভিনয় কারো আলোচনার বিষয়ই হয়ত হত না। একমাত্র আবুল হায়াৎ লুচ্চা বুড়ার চরিত্রে খুব ভাল অভিনয় করেছে।

এই সিনেমার সবচাইতে বড় দূর্বলতা কাহানী প্রবাহ। মনে হল একটার পর একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখানো হল। প্রথমে রুবা তপুর কাছে সাহায্য চাইল। তপু বাসা ম্যানেজ করতেই তারা এক ফ্লাটে থাকা শুরু করল। প্রথম রাতেই তারা শারিরিক তাড়নায় একজন আর একজনের রুমের সামনে ঘোরাঘুরি শুরু করল। তপু রুবার দেখা হওয়া, তারপর এক ফ্লাটে থাকা শুরু করা এবং প্রথম রাতেই উত্তেজিত আচরণ। তিনটা পর্বই বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে। মজার কথা হল, তারা একজন যে আর একজনকে শারিরিক ভাবে পেতে আগ্রহি সেটা কোন ভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পারে নাই ফারুকি। অশ্লিলতা বাদ দিয়ে এমন অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারলেই ফারুকির যোগ্যতা প্রকাশ পেত।


ছবিতে কাহানীতে খাপছাড়া কিছু বিষয় পেলাম। যেমন মুন্না-রুবা লিভ টুগেদার করত। পরে তারা মুন্নার বাবার বাসায় থাকতে শুরু করে। মজার ব্যাপার, মুন্নার বাবার বাসায় থাকলেও তার বাবা-মা রুবা মুন্নার বিয়ে দেন নি। তার লিভ টুগেদারই করত। এই অবাস্তব ব্যাপারটার কি কোন দরকার ছিল? বাবা-মা লিভ টুগেদারকে খারাপ চোখে দেখে নিজের ঘরেই তা চালু রাখতে দিল? রুবা চাকরি আর বাসা খুজতে গিয়ে লুল বৃদ্ধদের লালসার লক্ষ্য হল। অথচ, তপুর উদ্দেশ্যও ব্যতিক্রম কিছু ছিল না। বরং, আমার কাছে সেই বুড়াদের থেকে তপু চরিত্রকে বেশি লুইচ্চা মনে হয়েছে। কারন রুবার সাথে প্রথম রাতে ফ্লাটে থাকতে এসেই সে রুবার রুমের দরজা দিয়ে উকি ঝুকি শুরু করে। পুরা ছবিতেই তপু অন্যদের মতই নানা ইঙ্গিত দিতে থাকে রুবাকে। অথচ, রুবা তার ঋণ পরিশোধের জন্য উতলা হয়ে উঠে। আরো অদ্ভুত, ঋণ পরিশোধের একমাত্র রাস্তা হিসেবে এই ছবিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে শারিরিক সম্পর্ককে। মুন্না ঠিকই রুবাকে ভালবেসে যায়, কিন্তু রুবা যখন জানায় যে সে আর মুন্নাকে ভালবাসে না সে অন্য কাউকে ভালবাসে তখন মুন্নার স্বাভাবিকভাবে কি করার কথা? রুবার ফ্লাট ছেড়ে দেবার কথা। অথচ, মুন্না রুবার ফ্লাটেই আলাদা থাকা শুরু করে বন্ধুর মত। সিনেমার ওয়েব সাইটে মুভি সম্পর্কে লেখা আছে, third person singular number is a thoroughly modern, stylistically assured story of a young woman.....combining an indie sensibility with subcontinental elements... Modern বলতে ফারুকি কি বুঝালেন তা ধরা গেল না। কারন, পুরুষের লিপ্সা হতে বাচবার সংগ্রামে রুবার সাহায্য নিতে হয়েছে আরেক লুলপুরুষের। তবে, শেষ অংশে মুন্নাকে ছেড়ে দেবার যে সিদ্ধান্ত রুবা নিল সেই সাহস থাকাটাকে আধুনিক বলা যেতে পারে। শেষে দেখাতে চাওয়া হয়েছে তারা তিনজন অথচ সিঙ্গুলার। কিন্তু রুবা মুন্নাকে ছাড়তে চাইল তপুর জন্য। তবে?? রুবা এদিকেও নাই ওদিকেও নাই আবার সবদিকেই আছে??? আউলা ঝাউলা সব ব্যাপার অথবা বুঝবার বুদ্ধিই আমার হয়ত নাই। তবে সিদ্ধান্তহীন ও নৈতিকতা বিবর্জিত জীবন যাপন যদি আধুনিকতা হয় তবে এই মুভি সত্যিই আধুনিক। নৈতিকতা বিবর্জিত এই কারনে যে, ছবিতে যা কিছু খারাপ হিসেবে দেখানো হল, ছবির মূল চরিত্রগুলোও একই দোষে দোষী।


ব্লগে অনেক আলোচনা পড়লাম এই সিনেমা নিয়ে। অনেকেই মনে করেন এইসব সিনেমা লিভটুগেদারকে উৎসাহ দেবে। আমার এরকম কিছু মনে হল না। এরকম অন্তসার শুন্য একট সিনেমা সমাজে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আমার মনে হয় না। বাংলাদেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের জন্য ভাল সিনেমার অভাব ছিল। কারন প্রচলিত সিনেমাগুলো নিম্ন মানের, অশ্লিলতাপূর্ণ। মাঝে কয়েকটা ছবি দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন অশ্লিলতা না থাকলেই বুঝি ছবি ভাল হয়। আসলে অশ্লিলতা না থাকলেও একটা ছবি খারাপ হতে পারে তার উদাহরন এই থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার। এই ছবিতে কোন অশ্লিলতা আছে বলে আমার মনে হয় না, কিন্তু ছবিটা ভাল হয় নাই। মনে রাখবার মত কোন ছবি এটা নয়। মনপুরা দেখে মনে হয়েছিল, ছবিটা আহামরি না হলে দুই আড়াই ঘন্টা বসে সময় কাটাবার জন্য ভাল একটা মুভি। কিন্তু থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার দেখে মনে হল অযথাই সময় নষ্ট করলাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29066117 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29066117 2009-12-26 22:28:29
ফেলে আসা ঠিকানা

অনেক দিন পরে আজ ঢাবি ক্যাম্পাসে যাওয়া হল। একসময়ের খুব প্রিয় এই এলাকাটা এখন এড়িয়ে চলতে ইচ্ছে হয় এবং তাই চেষ্টা করি। ছাত্রত্ব হারালাম মাত্র ছয় মাস অথচ এখনই এই অবস্থা। আগে মাঝে মাঝেই নিজের উপর বিরক্ত হতাম এখানে ভর্তি হবার জন্য। কারনগুলো এখন আর লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। বিরক্তি সব ধুয়ে যেত যখন নীলক্ষেত দিয়ে রিক্সায় ক্যাম্পাসে ঢুকতাম। ভিসির বাসার সামনে মল চত্তরের বিশাল গাছটি মনে হয় স্বাগতম জানাতে দাঁড়িয়ে থাকত। কলাভবনের সামনের রাস্তায় দুই ধারের গাছগাছালি যেন মাথা নত করে স্বাগতম জানাচ্ছে। বিভিন্ন লতা পাতায় সাজানো রাস্তায় মাঝের আইল্যান্ডটা যেন কোন বিশাল প্রাসাদের মখমলে মোড়া সোফা। সব চাইতে মন কাড়ে যদি জারুল গাছে বেগুনী ফুলগুলো থাকে। ফাকে ফাকে লাল কৃষ্ণচুড়া, হলুদ রঙের ফুলের গাছ মাঝে একটা সাদা রঙের ফুল গাছও আছে কলাভবনে। মনটা নেঁচে উঠত, নিমিষেই হাওয়া হয়ে যেত সব অভিযোগ। বিকেলে যখন বাসের জন্য অপেক্ষা করতাম, গাছগুলোর মাথায় সূর্যের আলো থাকত। মুগ্ধতায় স্তব্ধ হওয়া ছাড়া গতি ছিল না।


মোকাররম ভবনে ডিপার্টমেন্ট আর সাইন্স লাইব্রেরী দুটিই থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনান্য প্রান্ত গুলোতে তেমন যাওয়া হয়নি। এমনকি টিএসসিতেও না। ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়ে নতুন আমেজে কয়েকবার বন্ধুরা মিলে গিয়েছিলাম সেখানে আড্ডা দিতে। পরে আর সময় কুলাতে পারিনি। সকালে নয়টা- একটা টানা ক্লাস, তারপর দুই-পাঁচটা প্রাকটিকাল, শনিবার সকালে মিডটার্ম থাকায় শুক্রবারে পরীক্ষার প্রস্তুতি আড্ডার জন্য রুটিনে কোন সময় বরাদ্দ করতে দেয় নি। অনেকটা কিন্ডারগার্ডেনের মতই ছিল আমাদের জীবন যা ঢাবিতে অনেকটাই অনাকাঙ্খিত।


আজকে রিক্সা দোয়েল চত্তর অতিক্রমের পরে মোকাররম ভবনের গেটে রিক্সাওয়ালাকে বললাম ডানে যাও। ঠিকই বলেছিলাম যদিও আমি প্রায়ই ভুলে ডান-বাম গুলিয়ে ফেলি। ডানের স্থলে বামে যাও বলায় রিক্সাওয়ালাও মাঝে মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের গেট দিয়ে রিক্সা ঢুকিয়ে দিত। আজ তেমনটি হল না। আমি আজও অনুভব করতে পারি, মোকাররম ভবনের প্রবেশ পথ দিয়ে প্রথম এখানে ঢুকবার অনুভূতি। আমাদের বিভাগটি আগে কার্জন হলে ছিল, তাই চান্স পাওয়ার পরে অনেকের কাছ হতেই জেনেছিলাম ডিপার্টমেন্টটা কার্জন হলে। পর পর দুই দিন খুজেও পাই নি তখন। পরে তখনকার অগ্রনী ব্যাংকের ম্যানেজার আংকেল বাবার কলিগ হবার সুবাদে নিজেই ডিপার্টমেন্টে পৌছে দিয়েছিলেন। আমাদের ডিপার্টমেন্টটা নতুন সাইন কম্পলেক্স বিল্ডিংএ খুবই আধুনিক লাগত। গর্বে বুক ফেটে যায়নি এই ভরসা।


বিভাগের প্রতিষ্ঠাতার নামানুসারে একটা সেমিনার লাইব্রেরী আছে, প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী মেমোরিয়াল সেমিনার লাইব্রেরী।
ডিপার্টমেন্টে ঢুকে প্রথম এখানেই আসি ভর্তির ফর্ম ফিলাপের জন্য। এখানেই সেই সব বন্ধুদের সাথে দেখা যাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পাড়ি দিয়েছি। তখন কোন কম্পিউটার ছিল না, কিন্তু প্রানবন্ত ছিল। এখন অনেকগুলো কম্পিউটার, সাথে এসিও লেগেছে কিন্তু প্রান নেই। আসলে কি প্রান নেই? উক্তিটি আসলে আমার সাপেক্ষে। এখনকার ছাত্র ছাত্রীদের কাছে নিশ্চয়ই এই লাইব্রেরিই প্রানবন্ত। আমাকে প্রান দেবার জন্য আমার বন্ধুরা এখন আর নাই, আমার মত ওরাও ব্যস্ত। তবে হ্যা, আমরা আরো একটা এলাকা পেয়েছিলাম যা এখনকার ছাত্রছাত্রীরা পায় নি। আমাদের একটা রিডিংরুম ছিল। সেখানে সিনিয়র-জুনিয়র সবাই আড্ডা, চিল্লাচিল্লি সবই করা যেত। আমাদের ফিরোজ ভাই স্যারদের জন্য খাবার দাবারের ব্যবস্থা করতেন। সেই সাথে তিনি আমাদের জন্যও সিঙ্গারা, সমুচার ব্যবস্থা রাখতেন, ফ্রিজে সফট ড্রিকংসও থাকত। নিজ ঘরের মত নিয়ে খেয়ে ফেলতাম, তবে ফিরোজ ভাইয়ের হিসাবে কখনও ঝামেলা হয়েছে বলে শুনিনি। এই সুবিধাটা এখন নেই। জনৈক ধর্মপরায়ন ও নীলাভ শিক্ষক বিভাগীয় চেয়ারম্যান হবার পর রিডিং রুমটির অর্ধেক নামাজের জন্য বরাদ্দ দেন। ফলাফল এই যে আজ সেখানে কেউ নামাজও পড়ে না, ছাত্রছাত্রীদের গুঞ্জনও শোনা যায়না।


আমাদের আড্ডার অভাব পূর্ণ হয় ক্যাফে ক্যাম্পাসে। আইএসআরটিতে ঢুকবার রাস্তার পাসে কিছু জায়গা খালি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটাকে একটা ক্যাফেতে পরিনত করে। সুন্দরই ছিল জায়গাটা। সবুজ ঘাসে ঢাকা গাছগাছালির মাঝে টাইলস দিয়ে বাধানো সুন্দর সুন্দর বেঞ্চ। দুইটি কৃত্তিম ঝর্ণাও ছিল। আমাদের মত নিরস কিন্ডারগার্ডেনের ছেলেমেয়েদের জন্য জীবনে খানিকটা রস আনার ভাল সুযোগ ছিল সেখানে। বাইরের জুটিও আসত, তবে বিকেলের দিকে। ক্যাফে ক্যাম্পাসও এখন ইতিহাস। ক্যাফে ক্যাম্পাস নাম নিয়ে যা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসির এক কোনায় টিকে আছে তা টং দোকানের আধুনিক রূপ।


সাইন্স লাইব্রেরীর পেছনের অংশটা আসলেই মোহনীয়। ছেলে মেয়েরা সেই দিকটায় তেমন ভীড় করে না। সৌরশক্তি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একটা দারুন বাগান আছে। সেখানের সারাবছরই শাপলা ফোটে, নীল শাপলা। শাপলার ট্যাবের সামনেই একটা বাঁশ ঝাড়। এই বাশ ঝাড়টাও হয়ত একদিন হারিয়ে যাবে, তবে আমি এটার অসিত্ব অনুভব করব সব সময়। বিকেল বেলা যখন ডিপার্টমেন্ট থেকে বের হতাম মূল মোকাররম ভবনের লম্বা ছায়া থাকত। শুধু বাঁশ ঝাড়টায় সূর্যের আলো থাকত, এটা একটা রুপ। আবার যখন ঝড় আসে আসে অবস্থা এই বাঁশ ঝাড়ের শন শন শব্দ ভুলিয়ে দিত আমরা ব্যস্ত ঢাকা শহরের মাঝে আছি। সাইন্স লাইব্রেরীর পেছনে একটা বিশাল গাছ আছে যার নিচের অংশ পুরোটাই মানিপ্ল্যান্টের বড় বড় পাতায় ঢাকা। এখানে একসময় আমাদের ডিপার্টমেন্টের ভেড়াগুলো চড়ত। এই ভেড়াগুলোকে আদর করে পালন করা হত কারন ওদের রক্ত আমাদের দরকার। জনৈক শিক্ষক চেয়ারম্যান হবার পর ভেড়াগুলোকেও বিক্রি করে দিলেন রাখলেন একটা। শিশু ভেড়াটা আর কতই বা রক্ত দিতে পারে। একদিন মরে গেল। এরপর আমাদের রক্তের জন্য মহা ঝামেলা করতে হত। যার দরকার তার নিজ টাকায় মুরগি কিনে রক্তের ব্যবস্থা করতে হত। শুনেছি, জুনিয়র এক মেয়ে ঝামেলা এড়াতে নিজের রক্তেই কাজ সাড়ে।


ডিপার্টমেন্টের বাইরে যেখানে আমার নিয়মিত যাওয়া হত সেটা সাইন্স লাইব্রেরী। প্রথম তিন বছর আমার লাইব্রেরী কার্ড কখনও খালি থাকে নাই। ১৫ দিনের মধ্যে বই জমা দিতে না পেরে কত যে পঞ্চাশ পয়সা জরিমানা দিতে টিএসসির জনতা ব্যাংকের লম্বা লাইনে দাড়িয়েছি তার সংখ্যা মনে নাই। একে একে ছেলে মেয়েরা জমা দিচ্ছে দুই হাজার তিন হাজার, পাঁচশ ছয়শ আর আমি দিচ্ছি পঞ্চাশ পয়সা। লাইব্রেরীটা ক্লোজ সিস্টেম, মানে আমাদের সেলফে এক্সেস নাই। তাই বইয়ের এক্সেস কোড লিখে দিতে হত। কত বইয়ের আইডি যে আমার মুখস্থ ছিল তার হিসাব নাই। একবার এক বই এক টাকাও জরিমানা না দিয়ে ছয় মাস রেখেছিলাম। ১৫ দিন পরে সবার শেষে জমা দিতাম, পরদিন সবার আগে তুলে ফেলতাম। লাইব্রেরীয়ান গাইগুই করত, কিন্তু আমি আইন দেখাতাম। আইনে এই ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। লাইব্রেরীতে একটা থিসিসের ছাত্রছাত্রীদের জন্য রুম ছিল। গুগল পাবমেডের যুগে সেই কোনায় কখনও যাওয়া হয় নাই।


সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত বোটানি আর বায়োকেমিস্ট্রি ক্লাস করতে কার্জন হলে যেতে হত। কেমিস্ট্রি ক্লাস ছিল ভোরে। বসন্ত ঋতুতে ভোরের বেলায় কার্জন হল অন্যরকম সাজে। বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের দিকের গেট দিয়ে ঢুকলে চারটা হলুদ ফুলের গাছ দেখা যায়। খুবই গাঢ় হলুদ সেই রঙ, গাছের নিচেও ছড়িয়ে আছে কার্পেটের মত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্প কয়টা নিয়মিত কাজের মাঝে একটা হয়ত কার্জন হলের পরিচর্যা। কাজটা সিরিয়াসলিই করা হয়।


পুরানো ঢাকায় মানুষ আমি। দাদার একটা বাড়ি আছে এলিফেন্ট রোডে। মাঝে মাঝে বাবার সাথে সেখানে যাওয় হত। মন খুব চাইত রিক্সা যেন রমনার সামনে দিয়ে না গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে যায়। বাবা কার্জন হল দেখিয়ে বলত, “লেখা পড়া ভাল মত না করলে এখানে চান্স পাবে না, গিফারি কলেজে পড়তে হবে”। জানি না এত কলেজ থাকতে উদাহরনে কেন গিফারি কলেজ আসত। যাই হোক গিফারি কলেজে পড়তে হয়নি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়েছি। জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সাত বছর কাটল এই ঠিকানায়। কেন গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর হবে আমি আসলেই এখানে মানুষ হয়েছি, মানুষকে চিনতে শিখেছি। শিক্ষক হিসেবে যারা বেতন পান শুধু তারাই নয় আমার সহপাঠিরা, বন্ধুরা সবাই এক ধরনের শিক্ষক। এক একটা অদ্ভুত মানব চরিত্র, যা ভবিষ্যতের বিশাল পৃথিবীর একটা ছোট্ট সংস্করণ। ফেলে আসা দিনগুলোর পাতা উল্টালে দেখতে পাই ভয়ানক পার্থক্য সেই আমি আর এই আমির মাঝে। সেই আমি ভালবাসতাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন আর বাসি না। সেই সুন্দর অঞ্চলটাতে রিক্সায় ঢুকতে হলে চেষ্টা করি যেন ভিন্ন পথ ধরা যায়।

জারুল ফুলগুলো এখন আর মান ভাঙ্গাতে পারে না।




বিদ্র: লেখাটা আবারো পড়লাম। হঠাৎ মনে হল, নতুন ব্লগাররা কেউ কেউ মনে করতে পারেন ছ্যাকা ট্যাকা খেয়ে ক্যাম্পাস এলাকার নিয়ে বিরহ কিনা। উত্তর হবে, না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29027667 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29027667 2009-10-18 02:29:08
সত্যিকারের ডিজিটাল ঈদ চলতেছে!! ডিজিটাল সময় সকাল ৭ টায় মোবাইলে এলার্ম বাজল। নামাজ যদিও সাড়ে আটটায় আগেই এলার্ম সেট করেছিলাম, উঠি উঠি করে উঠতে যে সময়টুকু লাগে সেটা হাতে রেখেই। ফির্নি জর্দা আর চা খেয়ে মসজিদে ঢুকে গেলাম। লম্বা খুতবা, তারপর নামাজ, তারপর দোয়া দূরুদও শেষ হল। খুতবা শুরুর সাথে সাথেই অল্পস্বল্প বৃষ্টি দেখা গেল। হালকা বৃষ্টির ঈদের দিন ভালই লাগে, তাই খুশিও হলাম। প্রায় আধঘন্টা পড়ে নামাজ মোনাজাত শেষ করে দেখি বৃষ্টি হালাকা নাই ভারী হয়ে গেছে। লোকজন মসজিদ থেকে বের হয় না, আমিও বসে থাকলাম। দশ মিনিট, বিশ মিনিট করে আধ ঘন্টা যায় বসেই আছি বৃষ্টি কমে না। ভাবলাম, মসজিদের পেছনের দিক হতে বের হয়ে দাড়াই রিক্সা নিয়ে বাসায় যাব। দাঁড়িয়ে আছি, আমি শুধু না আরো অনেকেই। রিক্সা খুব কম, যা আছে লোকসহই আছে। কি আর করা শুধু তীর্থের কাকের মত রিক্সা খোজা আর বৃষ্টি থেকে নতুন জামা কাপড় বাঁচানো। সময়ের সাথে বৃষ্টি আরো জোরেই ঝরছে।

আর কতক্ষণ!!! রিক্সাও পাব না, পেটেও ক্ষুধা, প্লাস বিরক্তি। অগ্যতা উপায় না দেখে পা বাড়িয়ে দিলাম। নিমিশেই চুপচুপা। গলির মুখে পৌছে দেখি, প্রবাহমান নদী। এভাবেই বাসায় পৌছানো। তারপর শুরু ডিজিটাল ঈদ। মোবাইলে, এসএমএসে, ফেসবুকে, মেসেঞ্জারে, টিভির রিমোট নিয়ে। বাসা থেকে বের হবার উপায় নাই। বিল্ডিংয়ের সিড়ি পর্যন্ত পানি। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত নামবে না নিশ্চিত।

আজকের ডিজিটাল ঈদটা আসলেই জমছে না। দেখাযাক কাল কিছু করা যায় কি না!!!

আবারো সব্বাইকে য়ীড মুবারাক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29013990 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29013990 2009-09-21 14:37:34
ঈদ স্পেশ্যাল: সোয়াইন ফ্লু নয় সালামী ঠেকাতে মাস্ক<img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> ব্যবহার করুন (জানা জরুরী) <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> /<img src=" style="border:0;" /> । লিখতে ইচ্ছা করল,যেন ঈদের উপহার পেয়ে খুশি তাই লিখতে চাচ্ছি। তার উপর দেখি আর এক মফিজ বাংলাদেশের বিশ্বদখলের পরিকল্পনা করতেছে। এসবে আরো উৎসাহি বোধ করছি।

এই রোজার মাসটা লম্বাই গেল। সেই কবে শুরু হয়েছিল, এখনও চলছে। কর্মজীবনের প্রথম রোজার মাস গেল। এইবারের কয়েকটা কারনেই অন্যরকম। প্রথমত, কর্মজীবনের প্রথম ঈদ। সেইটা ব্যাপার না, কিন্তু ব্যাপার হল দ্বিতীয় কারন। সেটা হল বাবা দেশে নাই, সুইডেন গেছে। এর আগে একটা ঈদে বাবা বাসায় ছিল না, তখন বড় মামা আমাদের সাথে ঈদ করে। এইবার কেউ নাই। আমি, মা আর আমার বোন। নামাজেও এইবার একাকী যাব। ঈদের দিন সকালে বাবা ইনশাল্লাহ্‌ ফোন করবে। এখন প্রতিদিনই করে কিন্তু মন তার বিশেষ ভাল না তা বোঝাই যায়। বাবা এমনিতে ধর্মকর্ম তেমন একটা পালন করে না, তবে সামাজিক ব্যাপারগুলোতো চর্চা করাই হয়। সংস্কৃতির অংশ বলে কথা। ঈদের নামাজ শেষে আশে পাশের বিভিন্ন বাসায় বাবা যায়, সাথে অন্যান্য আংকেলরাও থাকে, তখন আমারো যাওয়া হয়। এইবার আমি একা, আমার এতদিনের ঈদ মানে বাসায় সবাই, আত্মীয় স্বজন, এবং বন্ধুবান্ধব। প্রতিবেশীর প্রতি কর্তব্য জনিত ব্যাপার গুলো আংকেল আন্টিদের সালাম দেওয়া, কোলাকুলি পর্যন্ত।

তৃতীয় কারনটা অনাকাঙ্খিতই ছিল। পুরো ইউনিভার্সিটি লাইফে যতটুকু মনে আসে দুই তিন দিন অসস্থতার জন্য মনে হয় বাসায় বসা ছিলাম। আর ভার্সিটি পর্ব চুকিয়ে প্রথম দুই মাসের মাঝেই নিউমোনিয়া ইনফেকশন হল। এই বিগত বুধবার বিকেল থেকে জ্বর আসল, টেস্ট ফেস্ট করে জানলাম টাইফয়েড। ডাক্তার বলে বাইরের ইফতারি খাওয়া হয়েছে হয়ত এই জন্য ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হয়ে গেছে। ইফতার টাইমে অফিসে কাটানোয় বাইরের ইফতার খেতে হয়েছে প্রতিদিন। মনে হয় সেখান থেকেই ইনফেকশন হয়েছে। জ্বর কেটেছে; পেটে, জ্বিবে, চোখে ক্ষুধা ঠিকই আছে কিন্তু মুখে স্বাদ পাই না। ঈদের খাওয়া দাওয়া গিলব ঠিকই কিন্তু স্বাদ বুঝব না হয়ত। সব চাইতে বড় ঝামেলা ক্লান্ত লাগছে, ঈদের বাসায় বসে থাকতে হবে মনে হয়। <img src=|" style="border:0;" />

লেখার এই পর্যায়ে একটা ব্রেক ছিল। নেটে একটা কাশির সিরাপের সাইড এফেক্ট নিয়ে ঘাটাঘাটি করলাম। যা বুঝলাম, এইটাও একধরনের ডাইল (ফেন্সি!!) <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> B<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> । তাই ঈদের আনন্দ মাটি হইতেছে। কালকে থেকে আর খাব না। কাশি অবশ্য কমছে।

আবার আসি ঈদের কথায়, ঈদের বড় প্যানিক সালামী। আমি আর কত পাব, বেশি চলে যেতে পারে নিজের পকেট থেকে। মাথায় একটা সাইন্টিফিক আইডিয়া আসল। সোয়াইন ফ্লু নয় এবার সালামীর ঠেকাতে মাস্ক থেরাপি। টুপির সাথে যেকোন ধরণের মাস্কই সাথে রাখুন। অবস্থা বুঝে দ্রুত পড়ে ফেলুন এবং সালামী দাবীদারকে কয়েক হাত দূরে থাকতে বলুন<img src=" style="border:0;" />। চাইলে পাঞ্জাবির পেছনে লিখতে পারেন,

আমি ফ্লুয়াক্রান্ত: ১০০ হাত দূরে থাকুন



দেশী প্রবাসী সব্বাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ কাটুন সানন্দে। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29013255 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29013255 2009-09-20 00:31:29
~আধেক ঘুমের গান~

গানটা হঠাৎ কয়েকদিন খুব ভাল লাগছে। কেন জানি না। ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে টাইপ করা। ভুলটুল হলে জানালে খুশি হব। আমি ঘুমাতে গেলাম। গানটা শুনে দেখতে পারেন, সত্যিই খুব সুন্দর। শুভরাত্রী।


আধেক ঘুমে নয়ন চুমে
স্বপন দিয়ে যায়,
শ্রান্ত ভালে যুঁথির মালে
পরশে মৃদু বায়।।

বনের ছায়া মনের সাথি
বাসনা নাহি কিছু,
পথের ধারে আসন পাতি
না চাহি ফিরে পিছু।।

বেনুর পাতা মিশায় গাঁথা
নিরব ভাবনায়,
শ্রান্ত ভালে যুঁথির মালে
পরশে মৃদু বায়।

মেঘের খেলা গগন তটে
অলস লিপিলিকা,
সুদূর কোন স্বরণ পটে
জাগিল মরিচিকা।

চৈত্রদিনে তপ্ত বেলা
তৃণ আচল পেতে,
শুন্য তলে গন্ধ ভেলা
ভাসাই বাতাসেতে।

কপত ডাকে মধুপ শাখে
বিজন বেদনায়,
শ্রান্ত ভালে যুঁথির মালে
পরশে মৃদু বায়।

আধেক ঘুমে নয়ন চুমে
স্বপন দিয়ে যায়,
শ্রান্ত ভালে যুঁথির মালে
পরশে মৃদু বায়।।


~গানটির লিংক~ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29010703 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29010703 2009-09-15 02:47:04
~প্রেম বলে যে যুগে যুগে তোমার লাগি আছি জেগে~

সারাদিন ব্লগেই পড়ে রইলাম, কিন্তু কিছুই লিখতে পারলাম না। এখন যাবার বেলায় গানটা পোস্ট করে খাটি দুধের স্বাদ চকলেট মিল্কে মিটাবার চেষ্টা আর কি!!! শুভরাত্রী। <img src=" style="border:0;" />

মেঘ বলেছে যাব যাব
রাত বলেছে যাই,
সাগর বলে কূল মিলেছে
আমিতো আর নাই।।

দুঃখ বলে রইনু চুপে
তাহার পায়ে চিহ্ন রুপে
আমি বলি দিলাম আমি
আর কিছু না চাই।।

ভূবন বলে তোমার তরে
আছে বরণ মালা,
গগন বলে তোমার তরে
লক্ষ প্রদীপ জ্বালা।।

প্রেম বলে যে যুগে যুগে
তোমার লাগি আছি জেগে
মরণ বলে আমি তোমার
জীবন তরী বাই।।

মেঘ বলেছে যাব যাব
রাত বলেছে যাই,
সাগর বলে কূল মিলেছে
আমিতো আর নাই।।



গানের লিংক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29008898 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29008898 2009-09-12 02:41:38
সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এইচ১এন১/০৯: যা কিছু জানা জরুরি (পর্ব ২)

(পর্ব - ১)

গত পর্বে লিখলাম বর্তমানের সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে এত ভয় পাবার কিছু নাই। এটা স্বাভাবিক সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জার মতই। মৃত্যুর হারও খুবই কম। এখন কেউ বলতে পারে, ভাই কোটিতে একটা মৃত্যুর কারন হইলেই বা কি! সাবধান থাকতে তো হবে নাকি? উত্তর হবে, অবশ্যই, কিন্তু সাবধান কিভাবে থাকবেন? এই পর্বে থাকবে ফ্লুয়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাবধানতা বিষয়ে।

যে কোন যুদ্ধে প্রথমেই প্রতিপক্ষকে চিনতে হয়, জানতে হয় তার বৈশিষ্ট্য এবং সেই হিসেবে প্রতিরোধ করতে হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসটি শ্বসনতন্ত্রে সংখ্যাবৃদ্ধি করে এবং আমাদের ফ্লু হয়। কথা হচ্ছে, ভাইরাসটি আমাদের মাঝে আসে কোথা হতে। সহজ উত্তর, “আক্রান্ত ব্যক্তি হতে”। আক্রান্ত ব্যক্তি কয়েক উপায়ে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। প্রথমত, যেহেতু ফ্লু হলে সর্দি হয় অতএব রোগী হাত দিয়ে তার নাক, মুখ ধরবে। তার সর্দিতে ভাইরাসটি থাকায়, সর্দি থেকে হাতে আসবে। সেই হাত দিয়ে রোগী যাই ধরবে তাতেই ভাইরাস ছড়াবে। ধরুন রোগী তার ভাইরাসবাহি হাত দিয়ে দরজা খুলল, চামচ ব্যবহার করল, কম্পিউটারের মাউস, কীবোর্ড ব্যবহার করল বা মোবাইল ব্যবহার করল। তাহলে, সেই সব বস্তু আমরা সুস্থরা ধরলে আমাদের হাতেও ভাইরাস চলে আসবে। এখন আমরা যদি আমাদের হাত নাকে দেই তবে আমাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত হবার সম্ভবনা থেকে যাবে। দ্বিতীয়ত (সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ), ফ্লু আক্রান্ত রোগী হাচি কাশি দেবে। প্রতিবার হাঁচি দিলে আমাদের নাক, মুখ হতে প্রবল বেগে মিউকাসের ছোট ছোট কনা বেরিয়ে আসে। এর মাঝে কিছু থাকে বড় কনা, যা মধ্যাকর্ষণের ফলে মাটিতে পড়ে যায়। বাকি রয়ে যায় অনেক ছোট ছোট কনা, এই কনাগুলোকে বলে ড্রপলেট। এই ড্রপলেটগুলোর বেশির ভাগই আমরা চোখে দেখি না। ড্রপলেটের বৈশিষ্ট্য হল এগুলো উৎসস্থল হতে (আক্রান্ত ব্যক্তির নাক, মুখ) বাতাসে প্রায় ৬ ফুট (প্রায় সোয়া দুই মিটারের মত) ভেসে বেড়াতে পারে। এই মিউকাস আমাদের শ্বাসনালীর অভ্যন্তরের প্রাচীরকে ঘিরে থাকায় এগুলোতে যথেষ্ট পরিমান ভাইরাস থাকে। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি কাশির সময় যদি সুস্থ ব্যক্তি তার ৬/৭ মিটারের মাঝে থাকে তবে সুস্থ ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারে।


এই পর্যন্ত আমরা প্রতিপক্ষের (ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের) আক্রমনের পন্থাগুলো জানলাম। এখন দেখি কি করে বাধা দেওয়া যায়। প্রথমত, এই ভাইরাসটির পৃষ্টে লিপিডের আবরণ আছে যা সাবানে নষ্ট হয়। অর্থাৎ, আক্রান্ত হলে নাকে মুখে বেশি হাত দেব না। যেহেতু, এটা প্রতিহত করা কষ্টকর, তাই প্রতিবারই চেষ্টা করব সাবান দিয়ে হাত ধুতে এবং অবশ্যই নাক, মুখ ছোয়া হাত দিয়ে দরজার নব, চামচ, মোবাইল, মাউস, কীবোর্ড এগুলো ছোব না। এটাও প্রতিহত করা কষ্টকর। তাই আমাদের বাসায় অন্যরাও বার বার হাত ধোবে সাবান দিয়ে। আর একটা কথা মনে রাখতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সুইচ অন অফ করার মত বিষয় না, যে চাপ দিলে লাইট জ্বলবে আবার চাপ দিলে নিভবে। ভাইরাসকে মারতে সাবানেরও সময় লাগে। তাই প্রতিবার হাত ধোয়ার সময় অন্তত বিশ সেকেন্ড ব্যপি (২০ সেকেন্ড) সাবান হাতে দিয়ে ঘষতে হবে। তারপর প্রবাহিত পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। সেই সাথে যত্রতত্র থুথু কফ ফেলাও পরিহার করতে হবে।


দ্বিতীয়ত, এই ভাইরাস হাচি কাশির মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। অতএব, রোগীর নাক, মুখ হতে হাচি, কাশির ফলে নির্গত ড্রপলেটকে সুস্থ ব্যক্তি পর্যন্ত পৌছতে দেওয়া যাবে না। এর জন্য রোগীর মাস্ক পড়তে পারলে ভাল হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, কোন ধরণের মাস্ক?


বিভিন্ন ধরণের মাস্ক আছে। এগুলোর প্রকার ভেদ করা হয়, এরা কোন ধরনের নিরাপত্তা দেয় তার উপর নির্ভর করে। দুই ধরণের মাস্ক আছে, এক সার্জিকাল মাস্ক, দুই রেস্পিরেটর। সার্জিকাল মাস্ক আমাদের সবার পরিচিত, আজকাল ঢাকার রাস্তা ঘাটে পাবলিকের মুখে হালকা নীল বা সবুজ রঙের যে সব মাস্ক দেখা যায় সেগুলোই সার্জিকাল মাস্ক। এসব মাস্ক বড় বড় কনা আটকাতে সাহায্য করে। ফ্লু ভাইরাস ধারণকারী ড্রপলেটের বিরুদ্ধে কোন নিরাপত্তা দেয় না। এগুলো মূলত রক্ত বা তরল কিছু নিয়ে কাজ করবার সময় যেন ছিটকে না আসে তার জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন আমরা যদি কোন গ্লাস সীটের উপর হাচি দেই তাহলে অনেক মিউকাসের ফোটা দেখতে পাব। কিন্তু ঘটনা হল, এই কনা গুলো কিছুই না। প্রতিবার হাচিতে প্রায় ২০,০০০ ড্রপলেট জাতীয় ছোট ছোট মিউকাসের কনা সৃষ্টি হয় যা খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। এইসব ড্রপলেট আটকাবার কোন ক্ষমতাই নাই সার্জিকাল মাস্কের। সার্জিকাল মাস্ক শুধু বড় বড় কনাগুলো আটকাতে পারে। আর অদেখা এইসব ড্রপলেটের মাঝে থাকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। অতএব, ফ্লু প্রতিরোধে সার্জিকাল মাস্কের তেমন গুরুত্ব নাই। তবে সম্ভব হলে, রোগী এটা ব্যবহার করতে পারে। যদি মাস্কের ভেতরে হাচি কাশি দেওয়া হয় তবে, ড্রপলেটের বেগ কম হবে এবং রোগী এটা পড়ে থাকলে নাক বা মুখের দিকে হাত গেলে হাত মুখে ভাইরাস মিশ্রিত মিউকাস লাগবার সম্ভবনা কম হবে। তবে কথা হল, একবার হাচি দিলে সেই মাস্ক বেশিক্ষণ পড়ে থাকতে অনেকেরই রুচি হবে না। তাই বার বার মাস্ক পরিবর্তনের চাইতে টিস্যু ব্যবহারই শ্রেয় বলে মনে হয় আমার। যারা সুস্থ তাদের সারাদিন সার্জিকাল মাস্ক পড়ে থাকার কোন যৌক্তিকতা নাই। অহেতুক, বিরক্তিকর এবং পয়সা নষ্ট।

তবে, ফ্লুয়ের বিরুদ্ধে আপনাকে রক্ষা করতে পারদর্শী হল রেস্পিরেটর। এটাও একধরণের মাস্কই তবে এর বিশেষত্ব হল এটা আপনার নিঃশ্বাস প্রশ্বাস ফিল্টার করতে পারবে। রেস্পিরেটর ড্রপলেট গুলোকেও আটকাতে পারে। সবচাইতে বহুল ব্যবহৃত রেস্পিরেটর হল N95 রেস্পিরেটর। কিন্তু, এটা যথেষ্ট দামী এবং আসল N95 মাস্ক আপনি বাংলাদেশে সহজে পাবেন না।


এই পর্যন্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি, N95 মাস্ক আমাদের সহজলভ্য নয় এবং সার্জিকাল মাস্কের তেমন কার্যকরিতা নেই ফ্লুয়ের বিরুদ্ধে। এখন উপায়?? উপায় আছে, আগেই বলেছি আমাদের হাচি, কাশির সাথে বের হওয়া ড্রপলেট গুলো বাতাসে উৎস হতে প্রায় ছয় ফুটের মত দূরত্বে ভেসে থাকতে পারে। তাই, সব চাইতে উপকারি প্রতিরোধ ব্যবস্থা হল রোগী হতে দূরে থাকা। আর নিজে রোগী হলে অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা রোগ শুরু হবার পর তিন চার দিন ব্যাপি। যেসব স্থানে অনেক মানুষ একত্রে থাকে সেখানে না যাওয়া। যেমন, স্কুল, কর্মক্ষেত্রে। স্কুল এই ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। একটি আক্রান্ত শিশু স্কুলে অন্য শিশুদের আক্রান্ত করে। সেই সব শিশুরা নিজের বাড়িতে এবং এলাকার অন্যদের আক্রান্ত করে। কর্মক্ষেত্রের ব্যাপারেও একই ব্যাপার প্রযোজ্য। তাই বলে কি ফ্লু এর প্রাদুর্ভাব হলেই স্কুল কলেজ, কাজ কর্ম ফেলে বসে থাকতে হবে? ফ্লুয় ভয়াবহ মহামারি আকারে প্রকাশ না পেলে তেমনটির দরকার নাই। কারো ফ্লুয়ের মত লক্ষণ দেখা গেলে, যদি সে স্কুলে বা কর্মক্ষেত্রে না গেলেই হল। এই ব্যাপারটা পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রযোজ্য। যেমন আমার বাসায় যদি কারো ফ্লু হয় তবে আমিও কর্মক্ষেত্রে যাব না বা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাব না। ঘরে বড়রা আক্রান্তদের সেবা ও শিশুদের নিরাপত্তা দেবে।

দেশের অল্প কয়েকজনের ফ্লু হয়েছে তাই সবার কাজ কর্ম লেখাপড়া ফেলে বসে থাকাটা অযৌক্তিক। তাছাড়া আমাদের অঞ্চলে ফ্লুয়ের তেমন ভয়ংকর মহামারীর ইতিহাসও নাই। এর কারন আমাদের আবহাওয়া আদ্র। পশ্চিমা যে সব দেশ ঠান্ডা ও শুষ্ক সেখানে হাচি কাশির ফলে নির্গত ড্রপলেট গুলো সহজে শুকিয়ে যায় এবং বেশিক্ষণ বাতাসে ভাসে। অন্যদিকে আমাদের আবহাওয়ায় ড্রপলেটগুলোর শুকাতে সময় লাগে এগুলো তারাতারি মাটিতে পড়ে যায়, ভেসে বেড়ায় কম।

এই পোস্টের মদ্দা কথা হল, “সার্জিকাল মাস্ক পড়ে ঘোরাঘুরি করলেই আপনি ফ্লু হতে নিরাপদ নন। তাই যুযুর ভয়ে অহেতুক পয়সা খরচ করবেন না। পরিবারে কারো ফ্লুয়ের মত লক্ষণ দেখা গেলে তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করুন অন্যদের স্বার্থে। আপনার কর্মক্ষেত্রে বা বাচ্চার স্কুলে কেউ আক্রান্ত হলে রোগীকে বাসায় থাকতে উৎসাহী করুন এবং কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক করুন”।






পর্ব ৩ হবে অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ ও অ্যান্টিবায়োটিকের যাচ্ছেতাই ব্যাবহার নিয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29004835 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29004835 2009-09-05 01:00:11
এই মাত্র কি ভূমিকম্প হল? http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29004408 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29004408 2009-09-04 02:54:41 সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এইচ১এন১/০৯: যা কিছু জানা জরুরি (পর্ব ১)

সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সোয়াইন ফ্লু খবরের কাগজের এই শব্দগুলো টেনে নিচ্ছে আমাদের গভীরে যাবার জন্য। বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর কিছু খবর পাওয়া যাচ্ছে, প্রতিদিন বাড়ছে সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জাতে আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে কয়েকগুন বাড়ছে আতঙ্ক। কেউ বলছে অবস্থা সুবিধার না, কেউ বলছে রশ কম্পানির বানিজ্যিক প্রসারের একটা ধান্ধা এই আতঙ্ক। খবরগুলো আমরা পাচ্ছি খবরের কাগজ থেকে অথবা নিজেদের ধারণা নির্ভর আলোচনা থেকে। বিষয়টা Medical Microbiology বা আরো সুনির্দিষ্টভাবে বললে Virology সম্পর্কিত। হাওয়ায় ভেসে আসা নানা বিশেষজ্ঞের আলোচনা শুনে আতঙ্কিত হবার চাইতে, সব চাইতে ভাল হয়ত Medical Microbiology খানিকটা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখলে। আসুন দেখি বিজ্ঞান কি বলে।


ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ঘটিত শ্বাসযন্ত্রের যে রোগ তাকে ফ্লু বলে। এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের তিনটি ধরণ এ, বি ও সি। এদের মাঝে এ এবং বি মানুষের ফ্লু করে থাকে। বি শুধু মানুষের মাঝেই পাওয়া যায় অন্যদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস মানুষ, পাখি, শূকর, কুকুর প্রভৃতি প্রানীতে থাকে। বিভিন্ন প্রানীতে পাওয়া ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস একই নয়, বিভিন্ন রকম। যেমন মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস পাখিতে বাস করতে পারে না তেমনি পাখির ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস মানুষে বাস করতে পারে না। প্রানীভেদে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নামকরন করা যায়। যেমন Human influenza A, Avian Influenza A, Swine Influenza A প্রভৃতি। অর্থাৎ সবই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস কিন্তু পোষক হিসেবে প্রকৃতি ভিন্ন।


এবার আসুন ভাইরাসের একটু ভেতরে ঢুকি। সকল জীবের যেমন জেনেটিক মেটেরিয়াল বা নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ বা আরএনএ) থাকে তেমনি ভাইরাসেরও থাকে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জেনেটিক মেটারিয়াল হল আর এন এ (RNA)। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে মোট আট টুকরা আরএনএ থাকে। প্রতিটি হতে ভাইরাসের কনিকার বিভিন্ন অংশ এবং সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য দরকারি প্রোটিন তৈরি হয়। ভাইরাস কনিকার পৃষ্ট একধরণের চর্বি জাতীয় পদার্থের আবরণে ঘেরা। এই আবরণ ভেদ করে হিমাগ্লুটিনিন এবং নিউরামিনিডেজ দুটি প্রোটিন বেরিয়ে এসেছে। আবরণে ঢাকা থাকায় আমাদের দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শুধু এই দুটি প্রোটিনকেই চিনতে পারে। ফলে, এই দুটোর বিরুদ্ধেই আমাদের দেহে প্রতিরোধকারি এন্টিবডি তৈরি হয়। বিভিন্ন প্রাণীর ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসে মোট ১৫ টি হিমাগ্লুটিনিন (H1, H2, H3…….. H15 এভাবে প্রকাশ করা হয়) এবং ৯ টি নিউরামিনিডেজ (N1, N2, N3………. N9 এভাবে প্রকাশ করা হয়) চিহ্নিত করা হয়েছে। যদি কোন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের হিমাগ্লুটিনিন হয় ১ এবং নিউরামিনিডেজ হয় ১ ধরণের তবে সেটাকে লেখা হয় Influenza A H1N1। মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা যেমন Influenza A H1N1 হতে পারে তেমনি অন্য প্রানীর Influenza A ভাইরাসও Influenza A H1N1। তবে তারা এক ধরণের না। তাদের H1 বা N1 এর গঠনে পার্থক্য থাকে। অতএব, মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের H1 শূকরের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের H1 থেকে ভিন্ন হয়।


আগেই বলেছি, মানুষের Influenza A ভাইরাস পাখিতে বাস করতে পারে না তেমনি পাখির Influenza A ভাইরাস মানুষে বাস করতে পারে না। কিন্তু জীববিদ্যায় Absolute বলে কিছু নাই। শূকরের শ্বসনতন্ত্রে কিছু কোষ আছে যেখানে মানুষ ও পাখির Influenza A ভাইরাস ঢুকতে পারে। বলার অপেক্ষা রাখে না সেই সব কোষে শূকরের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অবশ্যই ঢুকতে পারবে। এখন চিন্তা করুন, একটা বদ্ধ রুমে তিনজন ব্যক্তিকে পাঠানো হল নির্দিষ্ট জামা পড়তে। একজন, সাজবে রাজা, একজন রানী আর একজন জোকার। অন্যদিকে তিনজন ব্যক্তিতে তিনটি আলাদা রুমে পাঠানো হল রাজা, রানী ও জোকারের নির্দিষ্ট জামা পড়তে (এক এক রুমে এক এক রমন জামা রাখা আছে অন্যরকন নয়)। প্রথম ক্ষেত্রে, ভুলক্রমে রাজার জোকারের টুপি পড়বার বা জোকারের ভুলে রানীর জুতা পড়ে ফেলবার সম্ভবনা যতটুকু থাকবে, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সেটা থাকবে না। ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রেও তাই, একই কোষে মানুষের, শূকরের, পাখির ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে গেলে ভুল ক্রমে মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ভেতর শূকরের বা পাখির জেনেটিক মেটারিয়ালের একটা টুকরা চলে আসার সম্ভবনা বেড়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সৃষ্টি হওয়া নতুন ভাইরাসটি বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, কারন কম্বিনেশন ঠিক মত হয় না। তবে, যদি দৈবক্রমে কম্বিনেশন মিলে যায় তবে উদ্ভব হয় নতুন ভাইরাসের। ইদানিং আমরা একটা টার্ম নিশ্চয়ই শুনছি Antigenic shift, এই কম্বিনেশন মিলে গিয়ে নতুন ভাইরাসের উদ্ভব হওয়াই Antigenic shift।


এই পর্যন্ত আলোচনা হয়ত খুব কঠিন হয়ে গেছে। এখন একটু একটু করে সহজ করতে চেষ্টা করি। এককালে সিঁদেল চোর গায়ে তেল মেখে চুরি করতে আসত। আমরা ধিরে ধিরে তাদের পদ্ধতি ধরতে পারলাম এবং তেলতেলা চোর ধরার পন্থা বের করলাম। চুরি কমে আসল। হঠাৎ, একদিন এক চোর নতুন পদ্ধতি বার করল, যেহেতু এই পদ্ধতি আমাদের অজানা ছিল তাই আবার চুরি বেরে গেল। ইনফ্লুয়েঞ্জার ঘটনাও সেরকম। এই ভাইরাস আমাদের মাঝে সব সময়ই ছিল, আছে এবং থাকবে। মাঝে মাঝে আমরা জ্বর, সর্দিতে আক্রান্ত হই, গাঁ ব্যাথ্যা করে, ক্লান্ত লাগে। এগুলোই ফ্লুয়ের লক্ষণ। ভাইরাস জ্বরের প্রোকোপে পরি আমরা মাঝে মাঝে, অনেকেই আক্রান্ত হই। এগুলোকে কেউ একটা পাত্তা দেই নানা, কিন্তু বেশিরভাগই ভাইরাস ঘটিত বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ। যেহেতু এই ভাইরাসটি আমাদের মাঝেই সব সময় আছে, তাই আমাদের ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসটিকে ভাল মত চেনে। ভাইরাস আসলেই ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় হয়ে উঠে আমাদের রক্ষা করে। কিন্তু যদি ভাইরাসটি নতুন হয় যাকে আমাদের ইমিউন সিস্টেম (Immune system)চেনে না, তবে প্রতিরোধের অভাবে দেহ ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয়ে উঠতে পারে। এখন পরিস্থিতি কতটা খারাপ হবে তা নির্ভর করে ভাইরাসটি কতটা ক্ষতিকারক তার উপর।


১৯১৮, ১৯৫৭, ১৯৬৮ সালেই এরকমই নতুন ভাইরাসের উদ্ভব ঘটেছিল, এবং সেই ভাইরাসগুলো ছিল অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বর্তমানে যে সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের উদ্ভব ঘটেছে তা মানুষ, পাখি এবং শূকরের ভাইরাসের সংমিশ্রন। তবে আশার কথা এই ভাইরাসটি পূর্বের মত ক্ষতিকারক নয়। রোগ বিষয়ক আলোচনায় আমাদের একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, এমন কোন রোগ নেই যাতে মানুষ মারা যায় না (হয়ত ১০ কোটিতে একজন মারা যায়), আবার এমন কোন রোগ নেই যাতে সব মানুষ মরে যায় (হয়ত হাজারে একজন বেঁচে যায়)। সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমনে বিশ্বব্যাপি প্রতিবছর আড়াই থেকে পাঁচ লক্ষ মানুষ মারা যায়। নতুন সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জাও একই রকম। এটা নিয়ে ভয়ের কিছু নাই। খোদ আমেরিকাতেই যুগ যুগ ধরে প্রতিবছর ২০/২৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।
কথা হচ্ছে তাহলে এই ফ্লু নিয়ে এত মাতামাতি কেন? কারন হল, এবারের সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা A H1N1 খুব সম্প্রতি শূকর হতে মানুষে বংশবৃদ্ধির যোগ্য হয়েছে। অতএব, মানুষকে একই সাথে সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং মানুষে বিরাজমান সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমন করতে পারে। এই দুটি ভাইরাস যদি একই কোষকে আক্রমন করে তবে, উভয়ের সংমিশ্রনে নতুন একটি ভাইরাসের উদ্ভব হবার সম্ভবনা বেশী হয়। সেই নতুন উদ্ভব হওয়া ভাইরাসটি হতে পারে ১৯১৮ সালের মত ক্ষতিকর। আবার সেটি হতে পারে স্বাভাবিক ফ্লুয়ের মতই।


১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারির ধরনও এমনই ছিল। সেবার সেটার নাম দেওয়া হয়, স্প্যানিশ ফ্লু। প্রথমে নতুন ভাইরাস মানুষের মাঝে ছড়ায় আমেরিকাতে (কেউ কেউ বলেন চীনে)। সেটা খুব একটা ক্ষতিকারক ছিল না। কিন্তু কয়েকমাস পরে অর্থাৎ পরবর্তী সিজনে (এটাকে বলা হয় Second Wave) এই ভাইরাসই অত্যন্ত ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করে। কারন আজও গবেষণাধীন। বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি নিয়েই চিন্তিত। যদি কপাল খারাপ থাকে হয়ত পরবর্তী সিজনে (আগামী নভেম্বরের দিকে) ভয়ঙ্কর রূপে ফ্লুর আবির্ভাব হতে পারে। যদি তেমন না হয়, তবে চিন্তার কিছু নাই। কারন ততদিনের মানব সম্প্রদায়ে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়ে যাবে।


যে কোন পদার্থেরই নির্দিষ্ট ধর্ম থাকে। ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের ধর্ম হল, এর নতুন কোন রূপ উদ্ভব হবার পরে প্রায় বছর খানেকের মাঝে এটা বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে যায়। একই নিয়মে, বর্তমানের সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জাও ছড়াচ্ছে। এটাকে আটকানো সম্ভব নয়। বিবর্তনবাদ বিশ্বাস করি আর না করি, যেই বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করে আমরা ডাক্তারের কাছে যাই সেই বিজ্ঞানের মতেই, “ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বাহক হিসেবেই আমরা বানর থেকে মানুষ হয়েছি”। আমরা যেমন বিবর্তিত হয়েছি, আমাদের সাথেই বিবর্তিত হচ্ছে ভাইরাসও।


খেয়াল করুন, আপাতত এই সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং স্বাভাবিক ইনফ্লুয়েঞ্জার কোন পার্থক্যই নাই। শুধু ভাইরাসটি সনাক্তকরণের সহজ (কিন্তু ব্যয়বহুল) পদ্ধতি আছে বলেই বিশ্বব্যাপি এটাকে সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। যদি সেটা না থাকত, তবে আমরা জানতামই না কখন সোয়াইন ফ্লু আসল, ছড়াল এবং আমাদের মাঝে স্বাভাবিক হয়ে রইল। আমরা সংবাদপত্রে পড়তাম, ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রোকোপ বাড়ছে, বাচ্চারা স্কুল কামাই দিচ্ছে। ভাইরাস নিয়ে ভয়ের যতগুলো কারন আছে তার প্রত্যেকটির সাথেই “হয়ত” “সম্ভবত” জাতীয় শব্দ জড়িত। ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস যে কতভাবে উদ্ভব হয়ে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে তার কোন ধারণাই সাধারণ মানুষের নাই। আমরা কি জানতাম নতুন সোয়াইন ফ্লু শূকর হতে ২০০৯-এ উদ্ভব হতে পারে?


বর্তমানের সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে ভয়ের কিছু নাই। এটা স্বাভাবিক ফ্লুয়ের মতই ছড়িয়ে গেছে। আজ দুইশত, কাল হয়ত দুই হাজার হবে। এটা ফ্লুয়ের সময় তাই এমনটাই হবে। অহেতুক সরকারকে দোষ দেওয়া, হাসপাতালের আলাদা ওয়ার্ডের জন্য চিল্লাচিল্লি করার কোন মানে নাই। ভ্যাকসিন নেবার আগে মনে রাখতে হবে সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন নিয়ে লাভ নাই। সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে কার্যকরি ভ্যাকসিন মনে হয় এখনও মার্কেটে নাই। সাবধানতা যা নেবেন, সেটা সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা হলেও নেওয়া উচিত। স্বাভাবিক ভাবেই অন্যের মুখের সামনে হাচি কাশি দেওয়া ঠিক না, রুমাল ব্যবহার করা উচিত। এটা ফ্লু হলেই বা কি আর না হলেই বা কি। হাত পরিস্কার রাখা উচিত, এই আর কি। আর শরীর খারাপ থাকলে একটু বেশি সাবধান হওয়াই ভাল, তাই না!! ১৫/১৬ কোটি মানুষের গরিব দেশে মাস্ক, টিস্যু জাতীয় উপদেশকে আমার কাছে একধরণের রসিকতাই মনে হয়।


এই পোস্টের মদ্দা কথা হল, “বর্তমান সোয়াইন ফ্লু নিয়ে ভয়ের কিছু নাই। ফ্লু ছিল, আছে, থাকবে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা যেন সামনের সিজনে (আসছে নভেম্বর) এটা ১৯১৮ সালের মত ভয়াবহ রূপ না নেয়। এটাই দেখবার বিষয়। এই ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের”।


ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সম্পর্কে জানতে বাংলা উইকির নিম্নোক্ত নিবন্ধগুলো দেখতে পারেন। সম্ভব হলে নিজেও তথ্য যোগ করতে পারেন।

# ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস

# সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস

ছবি সূত্র: নেট থেকে পাওয়া। উৎস মনে নাই<img src=" style="border:0;" />



(সময় করে পরবর্তী পোস্ট দেব)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29002729 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/29002729 2009-09-01 02:26:59
একটা আলোচনা পোস্ট: সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক যানজটের কারন কি? http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28997738 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28997738 2009-08-22 02:00:33 অনুভূতিহীন কথাবার্তা

কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে, কিন্তু লিখবার শক্তি নাই। লিখব কি করে! লিখতে হলে দেখতে হয়, ভাবতে হয়। আজ খেয়াল করলাম অনেকদিন ধরে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখি না, আকাশ দেখি না। অথচ আছি সেই আকাশ তলে যেখানে প্রতিদিন সূর্য উঠে, অস্ত যায়। দিন কালের হিসাব সব ডিজিটাল ঘড়িতে। আরো খেয়াল করলাম, অনেকদিন কোন গান শুনি না।

একটা গান দিলাম অনেকদিন পরে। যান্ত্রিক এই জীবনে ডিজিটাল টাইম পাসই ভরসা এখন। যদিও পাস করবার সময়েরও বড় অভাব। আগে যখন কোন গান পোস্ট করেছি, গানটার সাথে আমার অনুভূতির একটা মিল পেতাম। অথচ, আজ সেই মিল খুঁজবারও আগ্রহ পাচ্ছি না। এমনি এমনি গানটা কেন জানি না ভালই লাগছে শুনতে। তাই শেয়ার করা, এই আর কি।


মুখপানে চেয়ে দেখি
ভয় হয় মনে
ফিরেছ কি ফের নাই
বুঝিব কেমনে।

আসন দিয়েছি পাতি
মালিকা রেখেছি গাঁথি
বিফল হল কি তাহা
ভাবি ক্ষণে ক্ষণে
ফিরেছ কি ফের নাই
বুঝিব কেমনে!!

গোধুলি লগনে পাখি
ফিরে আসে নীড়ে
ধানে ভরা তরী খানি
ঘাটে এসে ভিড়ে।

আজও কি খোঁজার শেষে
ফেরনি আপনও দেশে
বিরাম বিহীন তৃষা
জ্বলে কি নয়নে
ফিরেছ কি ফের নাই
বুঝিব কেমনে।



ইস্নিপসের লিংক


শুভরাত্রী]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28996722 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28996722 2009-08-20 02:55:37
ইটিভির গেমশো ভবঘুরে ডট কম .......আমাদের বাস্তব প্রতিচ্ছবি
যা বুঝলাম তা হল কতগুলো পথের ছোট ছেলে চতুষ্পদ জন্তুর মত হাটু গেড়ে বসে আছে। ওদের মুখে গায়ে পশম লাগা, দেখতে অনেকটাই ছোট ছোট বিলাতি কুত্তার মত। চারিদিকে অনেক মানুষ খেলা দেখছে। কিছুলোক ওদের গায়ে পশমগুলো লাগাচ্ছে। অদ্ভুত মনে হওয়ায় চ্যানেলটা ঘুরালাম না। কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পারলাম, এটা একটা গেম শো চলছে ইটিভিতে।


অনুষ্ঠানের নাম ভবঘুরে ডট কম। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে উপস্থাপিকা নাবিলা পাবলিককে দিয়ে বিভিন্ন খেলা খেলায়। আজকের খেলাটার নিয়ম ছিল অনেকটা এই রকম, ছোট ছেলেগুলো চারপেয়ে প্রানীর মত বসে থাকবে। আর প্রতিযোগীরা ওদের গায়ে পশম লাগিইয়ে পরিপূর্ণ ভেড়া বানাবে। নির্দিষ্ট সময় পরে যে ব্যক্তি কোন ছেলেকে সবচাইতে বেশি ভেড়ার মত বানাতে পারবে সেই পাবে বিজয়ীর গিফট হ্যাম্পার। প্রতিযোগীতা শেষে উপস্থাপিকা ছেলেগুলোকে দেখে বিজয়ী খুঁজছিল, বলছিল, কোনটা ভাল হয়েছে, এইটা নাকি ঐটা। ভাবটা এমন যেন শিশুগুলো মানুষ নয় কোন জড় বস্তু বা আসলেই গরু ভেড়া জাতীয় প্রানী।


প্রথম খেলাটা তারা খেলে জিঞ্জিরা এলাকায়। এরপর তারা যায় বুড়িগঙ্গার তীরে সদরঘাট এলাকায়। সেখানের খেলাটাও বিশ্রী। চারটা ব্যাগে কতগুলো পাঁপড় ভাজা রাখা আছে। প্রতিযোগীদের প্রথমে বুড়িগঙ্গার ময়লা, দুর্গন্ধময় বিষাক্ত পানিতে ঝাঁপ দিতে হবে তারপর সেখান থেকে উঠে একটা পাঁপড় নিয়ে নদীতে নামতে হবে। নদীতে নেমে তাদের সেই পাপড় খেতে হবে। যে পানিতে যত বেশি পাপড় খেতে পারবে সে বিজয়ী।

ইটিভি তার ওয়েব সাইটে এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে লিখেছে, "একুশে টেলিভিশনের ষ্ট্রিট শো ‘ভবঘুরে ডট কম’। শুধুমাত্র দর্শকদের অংশগ্রহণে মজার-মজার গেম নিয়ে সাজানো এই অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন লাক্স তারকা উর্মি (আজকের অনুষ্ঠানের মেয়েটার নাম ছিল নাবিলা)। ২২ মিনিটর্র এই অনুষ্ঠানটির প্রতি পর্বে উপস্থাপক কোন একটি স্থানে গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মকান্ডে অংশ নেবেন। যার প্রাণ থাকবেন মূলত দর্শকরাই। তবে এই অনুষ্ঠানে যে-সব গেম থাকবে তা প্রচলিত কোন গেম নয়। নতুন উদ্ভাবিত এই গেমগুলো দর্শকদের আনন্দ দেয়ার জন্য শুধু এই অনুষ্ঠানেই প্রদর্শিত হবে।"

প্রযোজকের নাম আলভি হায়াত রাজ। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা জনৈক আবদুস সালামের। আমি বুঝি না মজার গেম বলতে তারা কি বোঝে! প্রথম গেমটিতে তারা পথের সেই শিশুগুলোকে অপমান করল। আমি সন্দিহান, ঢাকার কোন ভাল স্কুলের ছেলেমেয়েদের দিয়ে তারা এইসব গেমটা করবার অনুমতি পেত কিনা। অন্যদিকে বুড়িগঙ্গার নোংরা পানিতে যেখানে মানুষকে নানা রোগ বালাইয়ের জন্য গোসল করতে বা নামতে নিষেধ করা হয় সেই পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে পাপড় খাওয়ার মত নোংরামিকে যারা গেম বলতে পারেন তাদের সচেতনতা নিয়ে আমার প্রশ্ন জাগে। অনেকেই প্রতিযোগীদের বা অংশ নেওয়া শিশুদের দোষ দেবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে তারা হয় কারখানার কর্মি, পথ শিশু সমাজের নিম্নবিত্ত গোষ্ঠির কেউ। টেলিভিশনে চেহারা দেখা যাবে এই কথাটুকু তাদের আত্মমর্যাদা নিয়ে না ভাবানোর জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু যারা এই অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত তারা কারা? তারা শিক্ষিত হবার দাবীদার, অনেক ক্ষেত্রে তাদের বসদেরই গলা শোনা যায় মানবাধিকার সম্পর্কে। আজ না হয় ইটিভির অনুষ্ঠানটা চোখে পড়ল, অন্য টিভি চ্যানেলগুলোতেও নিশ্চয়ই এরকম অনুষ্ঠান প্রচারে কোন বাঁধা নাই।


দুঃখজনক হল, এটাই আমাদের দেশে বাস্তবতা। আমাদের সমাজের বৈষম্য এতটাই প্রকটভাবে আমাদের মানসিকতাকে ছাপিয়ে গেছে যে, সঠিক বেঠিক পরিমাপের ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। আমি যা লিখলাম অনুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত বা আমার আশে পাশের অনেকের কাছেই আলোচনার কোন বিষয় নয়। ব্যাপারটা তাদের কাছে নিশ্চয়ই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। এরকারন একটাই, সেটা হল সেই পথ শিশুদের এখন আর মানুষ হিসেবে দেখা হয় না। পথের কুকুর আর ওদের ফরাকটা খুব একটা বেশি নয় অনেকের কাছে। মুখে যাই বলি এটাই বাস্তবতা। দেশের উন্নতি নিয়ে আমরা অনেক গবেষণা, আলোচনা, পরিকল্পনা করি। কিন্তু কখনও কি নিজেদের দিকে তাকিয়ে ভেবেছি দেশের নাগরিক বলতে কাদের কথা বলছি। বাজি রেখে বলতে পারি, আমরা তথাকথিত শিক্ষিতরা দেশের মানুষ বলে যাদের উল্লেখ করি, এই দেশে সিংহ ভাগ নাগরিকই সেই মানুষের অন্তর্গত নন। এটাই আমাদের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।












(পোস্টটা একটা গ্রুপেও দিয়েছিলাম। পরে সেই গ্রুপ থেকে সরাতে গিয়ে দেখি গ্রুপে নাই কিন্তু প্রথম পাতায় গ্রুপের লিংক দেখাচ্ছে। বাগটাগ হবে হয়ত। যাই হোক, এখন মুছে আবার দিলাম। মন্তব্যগুলো কপি করে রেখেছিলাম, তাই আবারো দিয়ে দিলাম)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28987458 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28987458 2009-08-02 03:09:07
প্রাক্তন নিয়মিত ব্লগারের বর্তমান দিনলিপি
সকালে দশটার দিকে ঘুম থেকে উঠলাম। গতকাল অনেক পরিশ্রম গেল। রাতে বাসায় ফিরে বিছানায় পড়েই ঘুম, টানা ১০ ঘন্টা। আবার সাড়ে এগারটার মাঝে অফিস যাবার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। আজ দুপুরে পরিবেশ ঠান্ডা ছিল। কেন জানি না, মগবাজারের ফালতু রাস্তায় তেমন একটা জ্যামে আটকালাম না। অফিসে পৌছে ব্যাগ রাখবার আগেই কাজ শুরু। সাড়ে তিনটায় টি ব্রেকে বেড়িয়ে দেখি অল্প অল্প বৃষ্টি পড়ে। তারপরও আমতলায় কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম। অফিস তথা আমাদের ল্যাবের ভেতর দুনিয়াদারির খবর পাওয়া যায় না। টেমপারেচার সবসময় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের চাপ এক এটমোসফিয়ার থেকে কম। ব্রেকগুলোতে আর কিছু না হলেও অন্তত আকাশ, বাতাস গাছ পালা দেখতে বের হই আমরা।

আজ একটা এমারজেন্সি স্যাম্পল এসেছে। মেয়েটার বয়স বিশ, শ্বসনযন্ত্রের মারাত্বক কোন সমস্যার ভুগছে সে। তার কিছু আত্মীয় আবার ম্যারিকা হতে এসেছেন। ডাক্তাররা সোয়াইন ফ্লু সন্দেহে আমাদের কাছে পাঠাল। বস বলল, মেয়েটার যা অবস্থা আমাদের রেজাল্ট দিবার আগেই নাকি টিকে থাকবার সম্ভবনা কম। আর রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ তাই মারাত্বক সংক্রামক কিছু থাকতে পারে। আমাদের বলা হত অতিরিক্ত সতর্ক হতে। আমি অন্য দিনের মতই নরমাল কাজ করলাম। শালার মরলে এইডস, সিফিলিস, যক্ষ্মা বা ক্যান্সার জাতীয় রোগে মরব তুচ্ছ সর্দি জ্বরে মরলে পোষাবে না। মনে হয় না, আল্লাহ আমার প্রতি এত অবিবেচক হবে।

এই নতুন স্যাম্পল নিয়ে কাজ করতে করতে রাত সাড়ে দশটা বেজে গেল। রোগীর কারেন্ট সিচুয়েশন আরো খারাপ যদিও মারা যায়নি এখনও। নয়টার দিকে রেজাল্ট দিলাম মেয়েটার সোয়াইন ফ্লু বা অন্য কোন ফ্লু হয় নি। মেয়েটার সাপেক্ষে খবর ভাল। কিন্তু আমাদের সাপেক্ষে খবর তেমন কিছু না, বরং বিরক্তিকর। সোয়াইন ফ্লু হলে আমরা আহ্বালাদিত হতাম, প্রশংসিত হতাম। রেজাল্ট দেখা মাত্র খুশিতে বাগ বাগ হতাম। পৃথিবীটা এমনই, কারো পৌষ মাস তো কারো সর্বনাশ। নিরস গলায় জানালাম, নাহ্‌!! সোয়াইন নাই। যদি পজিটিভ হত, অন্য কারো খবর জানি না, আমি খুশিতে আটখানা হয়ে রেজাল্ট দিতাম। হয়ত আমার এই সরল স্বীকারোক্তি শুনে অনেকেই আমাকে ভয়ংকর মানসিকতার মনে করবেন। কিন্তু স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যারা কাজ করে তাদের এমনই হয়। মানুষের মাঝে নতুন ভাইরাসের উপস্থিতি আবিস্কার করে বিজ্ঞানী মানবজাতী নিয়ে সংকিত কখনই হয় না বরং নিজের নাম এই ভাইরাসের সাথে সবসময় যুক্ত থাকবে এই আনন্দে আটখানা হয়। এটাই বাস্তবতা। তবে, সত্যিই কথা পাবলিকলি বলতে নেই, লোকে ভুল বোঝে। বরং অর্ধেক সত্য বা মিথ্যা বললেই লোকে ভাল ভাল কথা বলে।

যাইহোক, প্রায় পোনে এগারটার দিকে বের হলাম। টিকেট কাউন্টার গুলো আগেই গায়েব। এই বৃষ্টিতে আর লোকাল বাসে ঝুলাঝুলি করতে ইচ্ছা হল না। জুনিয়র কলিগ সহ নিলাম সিএনজি। সেই দুপুরে যেই রাস্তা দিয়ে সহজে অফিস পৌছালাম, সেই একই রাস্তার পয়েন্টে পয়েন্টে এই রাতে জ্যাম। ধীরে ধীরে বৃষ্টির প্রকোপ বাড়তেই থাকল। শহুরে বৃষ্টির ঢংই আলাদা। গ্রামে টিনের চালে বৃষ্টির ছন্দের যে রুপ, কবি সাহিত্যকরা মনোযোগ দিলে শহরে রাস্তায় বৃষ্টিকেও একই মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হত। পিচ ঢালা রাস্তা পানির ফোটা পেছনের গাড়ির লাইটের আলোতে অন্যরকম একটা রূপ নেয়। সাদা টিউব লাইটের বিপরীতে বৃষ্টির ধারা আর রাস্তার সোডিয়াম লাইটের আভায় পানির ফো|টা দুটোই অন্যরকম। আর চলন্তু গাড়িতে বসে দেখা যায় বৃষ্টি ধারা এক একবার এক দিক নেয়। সিএনজির ভেতর হালকা হালকা পানির ছিটা যখন গায়ে লাগে সেটার অন্যরকম একটা আবেদন আছে। আবেদন না থাকলেও বানিয়ে নিতে হবে। আমরা শহরের মানুষ ইচ্ছে হলেও তো আর কবিতার প্রকৃতির মাঝে যেতে পারি না। প্রকৃতি যতটুকু আমাদের কাছে আসে ততটুকুকেই ভাষার রঙ লাগিয়ে বিশাল করে নিতে হবে।


গলির মুখে এসে দেখি পাড়ার গলি ভেনিসের রাস্তা হয়ে গেছে। শালার সিএনজি ড্রাইভার বলে তার ইঞ্জিনের স্টার্ট বন্ধ হয়ে যাবে, সে ভিতরে যেতে পারবে না। আরে পানিতে জুতাই ভিজাব তো তোরে কেন বিশটাকা বেশি দিব। বলে আপনারে রিক্সা ঠিক করে দেই আপনি গলির ভিতরে যান, আমি যামু না। কিন্তু কেমনে দিবে রিক্সা ঠিক করে রিক্সাতো আগেই গলির মুখে ঢোকা ছেড়ে দিয়েছে। অগ্যতা তার আগাতেই হল। রাস্তায় পানি আছে কিন্তু এত নাই যে সিএনজির ইঞ্জিন থামিয়ে দেবে। ততটুকু পানি উঠতে আরো ক্ষানিক্ষন বৃষ্টি হতে হবে। আমি এক যুগ ধরে এই এলাকায় থাকি, এতটুকু বুঝব না! আওয়ামী লীগ বিএনপি মিলে বিভিন্ন আমলে এই গলি এক হাত করে উঁচু করল। কিন্তু ফলাফল কিছু দেখলাম না। হয়ত এক হাত কেটে আবার এক হাত উঁচু করে। ইঞ্জিনিয়ারদের ব্রেনের প্রশংসা করতে হয়।

বাসায় ফিরতেই ধরা খেলাম। বাবার মোবাইল নষ্ট। অফিসের এক বড় ভাইয়ের মেঝ ভাইয়ের মোবাইলের দোকান আছে এলিফেন্ট রোডে। তাকে দিলে সারিয়ে এনে দিবে। এত কাজের মাঝে ভুলেই গেছি। বাবা বিরক্ত হয়ে মোবাইলটা নিয়ে নিল, কালকে বসুন্ধরা সিটিতে নিয়ে যাবে। সেখানে নাকি এরিকসনের সার্ভিস সেন্টার আছে। ফ্রেস হয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আজকে ঢেঁড়শ দিয়ে কি রান্না হয়েছে। কয়েকদিন ধরে বাসায় যাই রাধে ঢেঁড়শ সহই রাধে। মাছে ঢেঁড়শ, ডিমে ঢেঁরশ, ভাজি ঢেড়ঁশের খালি ঢেরশ আর ঢেরশ। জানতে পারলাম আজকে বরবটি দিয়ে বেলে মাছ রান্না হয়েছে। হয়ত এই শুরু হল বরবটির সাইকেল। আমার আবার নিজের হাতে খাওয়া হয় কম। সকালেও মা নিজ হাতে খাইয়ে দেয়, রাতেও একই। নইলে, ক্লান্তিতে হয়ত খাওয়াই হত না।

অবশেষে চান্স পেলাম, কিছু সময় নিজের জন্য। মানে ইন্টারনেটে ঢুকে ব্লগ, ফেসবুকে ঢুঁ দেওয়ার। অফিস ওয়ালারা মনে করে নিয়মিত মেইল চেক, রিসার্চ পেপার খোজা আর পড়া ছাড়া গবেষণা কর্মকর্তার কোন কাজ নাই। শালারা ফেসবুকও ফিল্টার করেরেখেছে। ব্লগারদের কাছ হত প্রক্সি সাইটের খবর নিয়েছি, কালকে ঢুকব ইনশাল্লাহ্‌। প্রতিদিন ঘরে ফিরে ব্লগে ঢুকি সব পোস্ট দেখি। লিখবার কত কিছু মাথায় কিন্তু সময় পাই না। চিন্তা ভাবনা ছাড়া হাবি জাবি লিখে গেলাম আজকে। জানালা দিয়ে তাকালেই মনটা উড়তে ইচ্ছে করছে। সেই সুযোগ আর কোথায়, তবে আজ কিছু লিখতে না পারলে ভাল লাগত না।

ব্যস্ততার মাঝে এক বান্ধবিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পারি নি। সকালে চিঠি (মেইল) করেছিলাম। রাতে কাজের ফাকে একটা এসএমএসও করেছিলাম। কিন্তু ফোন করা হয়ে উঠল না। যাইহোক, এতটুকু করবার সময় আছে, তাতেই শুকরিয়া।


এখন ঘুমাতে হবে। কালকে সকালে টিএসসিতে যাব। দুই বছর আগের সেই অনার্স রেজাল্টের উপর ডিন্‌স এওয়ার্ড দিবে মাননীয় উপাচার্য ও অনুষদ প্রধান। কার্ডে বাবা-মায়ের জন্যও একটা নিমন্ত্রন পত্র ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ভাবতাম, সিনিয়রদের মত এওয়ার্ড নিতে আমিও বাবা মাকে নিয়ে যাব। বিশ্ববিদ্যালয়টার কিছু মানুষ মনটা এতটাই ভেঙ্গে দিয়েছে যে, সেই আগ্রহ আর নাই। বাবা মাকে জানানোও হয় নাই। সিভিতে লিখব এওয়ার্ডের কথা তাই নিতে যাওয়া সার্টিফিকেটটা।

অনেক প্যাচাল পাড়লাম। সবাইকে শুভরাত্রী।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28984843 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28984843 2009-07-28 02:19:23
শুভ জন্মদিন <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_71.gif" width="23" height="22" alt="!:#P" style="border:0;" /> @ ব্লগীয় স্ক্রিপ্ট রাইটার আউলা <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_71.gif" width="23" height="22" alt="!:#P" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> হয়ে আউলার জন্মদিন উইশ করে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম /<img src=" style="border:0;" /> । পরে শোনা গেল তারিখটা ভূয়া <img src=(" style="border:0;" /> । তবে যতদূর মনে হয় আজকের তারিখটা ভ্যালিড <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> ।

আজ আমাদের ব্লগার আউলার জন্মদিন। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

















বিদ্র: পরবর্তিতে যদি জানা যায় এই তারিখটিও ভূয়া তবে পোস্টটি মুছে ফেলা হতে পারে <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28979763 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28979763 2009-07-18 00:11:26
Führer is always right - কথা সত্য

আমরা বাঙ্গালিরা নাকি বিদ্রোহ প্রবন জাতি। কোন শাসককেই থাকতে দেই নাই শান্তিতে। শাসকের শাসনের বিরুদ্ধতা করতে করতে আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তবে, এখন মনে হচ্ছে আমাদের জাতীয় চরিত্র পালটে গেছে। এখন আমরা ষড়যন্ত্রপ্রবন জাতী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে উঠা আমাদের সব দাবীই কারো না কারো ষড়যন্ত্র। উদাহরণ, ভুরি ভুরি


কানসাটে বিদ্যুতের দাবীতে পাবলিক রাস্তায় গুলি খেল। সরকার বলে বিরোধীদলের ষড়যন্ত্র।

পিলখানায় বিডিআরের অনেকদিনের দাবীর ব্যানারে বিদ্রোহ হল। পরে জানলাম, জেএমবি, বিএনপি-জামাতের যৌথ ষড়যন্ত্র। আবার দুষ্টজনেরা বলে আওয়ামী লীগেরও হাত আছে।

শ্রমিকরা দলে বলে গার্মেন্টস জ্বালিয়ে দিল। সরকার বিরোধীদল এক হয়ে জানায় এখানে পেছনের ষড়যন্ত্র আছে।


টিপাইমুখে বাঁধ দিচ্ছে ভারত, বাংলাদেশের ক্ষতি হবে এতে। কিছু পোলাপান "ল্যাম্পপোস্ট" ব্যানার নিয়ে, পিনাক বাবুকে বিরক্ত করতে গেল হাই কমিশন অফিসের সামনে মিছিল নিয়ে। রাস্তায় ঠেঙ্গানি খাবার পর এখন শুনি তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমুনিস্ট পার্টির লোক। বুঝলাম না এই ক্ষেত্রে, জেএমবি ট্যাগ কেন দিল না। এই ট্যাগের পাবলিক ডিমান্ড বোধ হয় কমছে অথবা স্মার্ট পোলাপান হওয়ায় ভিন্ন ট্যাগিং।


বিদ্যুৎ সমস্যা, বিডিআর সৈনিকদের সমস্যা, শ্রমিকের বেতন-ভাতার সমস্যা, টিপাই মুখে বাঁধের সমস্যা এগুলো কেউ অস্বীকার করে না। তবে প্রতিনিয়ত এই সমস্যাগুলোকে বিভিন্ন ট্যাগ লাগিয়ে বেড়ান তাদের জন্য প্রশ্ন রাখতে চাই, "পাবলিকের সমস্যা যে আছে সেটার প্রকাশটা কিভাবে হবে?" সমস্যার কথা বললেই, তো গভীর ষড়যন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। সবার পক্ষে কি আর প্রথমালো ট্যাগ লাগানো সম্ভব?


আসল কথা হচ্ছে, এই পৃথিবীতে সত্য মিথ্যা বলে কিছু নাই। At the end of the day, Winner is always right. শুনতে কেমন যেন হিটলারি বানী মনে হচ্ছে। হিটলার যতদিন জীবিত ছিলেন বিজয়ী ছিলেন, তাই লোকে বলত, Führer is always right. হিটলার হেরে আত্মহত্যা করল, এখন তার যত দোষ। স্বাধীন হতে পেরেছি বলেই, একাত্তর পূর্ববর্তি আমাদের সব আন্দোলন সফল এবং তা জনতার আন্দোলন। বাংলাদেশে আজ স্বাধীন না হলে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, উনসত্তর, একাত্তর সবই ভারতীয় ষড়যন্ত্রেরই নামান্তর হত। আসলে এই অর্জনগুলো অসম্পূর্ণ। ভাষা আন্দোলনের ৫০/৬০ বছর পরেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের জন্য সভা সেমিনার হয়ে চলে। ভারতীয় আর পাকিস্তানী ষড়যন্ত্র নাকি চলছে প্রতিনিয়তই। বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশী দেশের তুচ্ছ রাষ্ট্রদূতই সম্মান দেয় না।


আমাদের স্মৃতিসৌধের ডিজাইনের পেছনের কন্সেপ্ট হচ্ছে এরকম যে, "চারিদিক হতে চাপ সইতে না পেরে ভূমি উপরে উঠে গেছে। তেমনি মানুষ নির্যাতন সইতে না পেরে বিদ্রোহ করছে"। ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে মনে হয় বর্তমানে আমরা নিকট ভবিষ্যতের কোন এক সামাজিক বিপ্লবের পটভূমি রচনা করছি। চারিদিক হতে আমাদের চেপে ধরা হচ্ছে। আর কত!!! সন্ত্রাসী মিডিয়ার ট্যাগিং এর এই যুগে মনোবল টিকিয়ে রাখা কঠিন। মনে রাখতে হবে যদি আমরা জিততে পারি তবে আমরাই হব বিজয়ী।


আমরা বিজয়ী হলে ইতিহাস বলবে They were always right যেমন বলত Führer is always right. ইতিহাসের চরিত্র এমনই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28976460 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28976460 2009-07-11 03:25:13
প্রসঙ্গ টিপাই মুখে বাঁধ: আসুন ব্লগ বিতর্কে চেতনায় লাগাম টানি। মাতামাতি হয়ে গেল। ভারতীয় বাংলাভাষী ব্লগারদের উপস্থিতিতে আলোচনা ভিন্ন মাত্রা পেল। সেই সব আলোচনায় দিগন্তদাদার একটি কমেন্ট পড়ে ভাবলাম। কমেন্টা ছিল –


দিগন্ত বলেছেন: @কিছুকিছু - টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতিকরণ হয়ে গেছে। একদল বলে ক্ষতি, আরেকদল বলে লাভ হবে। সবথেকে মজার কথা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকেও একাধিক রকমের ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে - কেউ বলেন গরমে নাকি বেশী জল আসবে কেউ বলেন গরমে নদী শুকিয়ে যাবে। কোনো ভাবেই দুটো একসাথে হতে পারে না, এটা যে কোনো সাধারণ বুদ্ধিতে বোঝা সম্ভব। গরমকালে জল বেশী এলে কি কি ক্ষতি তা নিয়ে লেখা দেখলাম, কিন্তু গরমকালে জল বেশী এলে যে লাভ হবে তা কেউ বলছেন না। কেউ বলার চেষ্টা করলে তাকে ভারতের দালাল বলা হচ্ছে। (একই বক্তব্য ব্রহ্মপুত্র সম্পর্কেও।)বাঁধের লাভ-ক্ষতি দুটো পাশাপাশি রেখে কাউকেই বিশ্লেষণ করতে দেখলাম না। অথচ লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ না হলে পরে আরো বাঁধ হবে - তখন কি হবে?
আমার লেখা পড়তে পারেন সময় থাকলে।

সবথেকে অবাক লাগে রমেশচন্দ্র সেনকে সবাই মিলে আক্রমণ করেন (এর মধ্যে অনেকগুলো ধর্মীয় আক্রমণ - যদিও ভারতের জলসম্পদ মন্ত্রী সৈফুদ্দিন সোজ সম্পর্কে কি মত এদের তা জানা যায় না)। উনি তো সরকারের প্রতিনিধি মাত্র - ব্যক্তিগত মত উনি দেন নি। আর আগের দেশপ্রেমিক সরকারের দেশপ্রেমিক মন্ত্রীরা কি কি করেছেন জানতে পারি কি? ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে দেখেছিলাম বাংলাদেশে ফারাক্কা বড় ইস্যু - ফারাক্কার জলচুক্তি বাতিল করার দাবী। কিন্তু দেশপ্রেমিক সরকার ক্ষমতায় এসে চুক্তি মেনেই চললেন, বিরোধিতাও করেন নি। অথচ চুক্তিতে বলাই আছে প্রতি পাঁচ বছরে চুক্তি রিভিউ করার সুযোগ আছে - চুক্তিতে আপত্তি থাকলে আন্তর্জাতিক কোর্টে যাবার কথাও বলা আছে। তারা কোনোটিও করেন নি। তারা ১৯৯৭ সালের জাতিসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক আইনটিতেও স্বাক্ষর করেন নি যা বাংলাদেশের আইনি অবস্থানকে দুর্বল করেছে।
-----------------------------------------------------


বাস্তবতা হল, আমরা হয়ত দিগন্ত বা তারমত কিছু ভারতীয় ব্লগারকে হাতের কাছে পেয়ে উত্তেজিত হয়ে দেশপ্রেম দেখাচ্ছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এইসবের কোন দাম নেই। সেখানে এসব প্রশ্নের জবাব দিয়েই কূটনৈতিক খেলা খেলতে হবে। আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বক্তব্যই আমাদের মতামত হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃতি পাবে। তাই নিজের ঘর দরজার ফুটো বন্ধ না করে, অন্যলোকে কেন তাকাল সেটার বিচার চাওয়া বৃথা। আমরা অহেতুক নিজেদের তামাশার উপাদানে পরিনত করছি।


আমি মনে করি ভারতীয়দের এসব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আমাদের একবার ভাবা উচিত আমাদের অবস্থানটা আসলে কোথায়। তারপরই নিজেদের মানসম্মান রেখেই কথা বলা উচিত। মনে রাখতে হবে, যাদের জন্য আমরা আর বিব্রত, তাদেরই আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোন সময় আমরা চেতনা সহকারে নির্বাচিত করে থাকি। ভুল যায়গায় চেতনা ফালাবার গ্লানি আমাদের টানতেই হবে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28975543 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28975543 2009-07-09 02:24:31
অর্ধ বাৎসরিক খেরোখাতা - জুলাই ২০০৯

ব্লগিংটা এখন সাপ্তাহিক হয়ে গেছে আমার জন্য। রবি থেকে বৃহঃস্পতি পোস্টগুলোতে চোখ বুলাই, পরিচিত কারো বা অন্যরকম হেড লাইন দেখলে পোস্ট পড়া হয়। আগের মত ব্লগিং হয় শুধু শুক্রবারে। এইদিনটা শুধুই আমি আমার জন্য রাখি। টিভিও দেখি, ব্লগিংও করি, ঘুমাই, বিকেল হলে বন্ধুর সাথে দেখা করতে বের হই, এখন আর প্রতিদিন দেখা করার সুযোগ পাই না।


এই বছরটা শুরু হল খুবই ব্যস্ততার মাঝে। থিসিস নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় কাটালাম মার্চের শেষ নাগাদ। ব্লগ থেকে একরকম উধাও ছিলাম সময়টা। মার্চে থিসিস জমা দিলাম। ঢাবি থেকে অফিসিয়ালি শেষ দিনটা বের হতে হল চোখে পানি নিয়ে। ভালবেসে নয়, ঘৃণায়। ইচ্ছা ছিল জীবনে আর কখনও ঐ পাড়ায় পা দেব না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও এরপরও যেতে হয়েছে সেখানে। কিভাবে যে ছাত্রজীবনটাতে ইতি পড়ে গেল ধরতেই পারলাম না। থিসিস জমা দেবার পরেই ডিপার্টমেন্টটা কেমন যেন অচেনা হয়ে গেল। সেখানে যারা আছে তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব কাজ আছে, যেমন ছিল কিছু দিন পূর্বে আমারও। অথচ থিসিস জমা দেবার পর থেকেই আমি সেখানে কেমন যেন আগুন্তক হয়ে গেলাম। আমার আর সেখানে কোন কাজ নাই। জুনিয়রা জিজ্ঞাসা করে ভাই কোথায় আছেন এখন, আমি নিরুত্তর। অধিকাংশ কুলাঙ্গার, অপদার্থ, উম্মাদ শিক্ষকের মাঝে তিনচারজন পরম শ্রদ্ধেয় আছেন। তারা জিজ্ঞাসা করে, 'কি করছ এখন"। আমি বলি, 'আপাতত কিছু না'। বুঝে গেলাম, কিছু ব্যবস্থা না করে আসা চলবে না।


যখন ছাত্র ছিলাম তখন আগামী দিনটার জন্য কিছু না কিছু ফিক্সড থাকত। ছাত্রত্ব শেষ করে দেখি মহা সমুদ্রে ছোট্ট ডিঙ্গিতে ভাসছি। কম্পাস বিহীন আমি দিকভ্রান্ত। যে সৈকত হতে যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেখানে ফিরে যাবার সুযোগ নেই। এখন শুধু এগিয়ে যাবার পালা, কিন্তু কোথায় যাব, কোন দিকে যাব। ছোটবেলা থেকেই আমি একটির বেশি কাজ একসাথে ঠিক মত করতে পারি না। তাই ছাত্র থাকাকালীন চাকরি বাকরির ধান্ধা করা হয় নাই। নাক উঁচা বড় ভাইদের তল্পিবাহক হতেও বাঁধত। নিজের মতই থাকতাম, অনেকটা দ্বীপের মত। চারিদিকের মহা সমুদ্রটাকে অনুধাবন করতে ব্যর্থ ছিলাম।


প্রথম সপ্তাহ শেষে বুঝলাম, বেকার বসে থাকাটা আর সহ্য করতে পারছি না। বিডিজবস্‌ জাতীয় সাইট খুলে দেখি আমি যেসব চাকরি করতে চাই সেগুলোর কোন সার্কুলার নাই। যা আছে সেগুলো করতে ইচ্ছা করল না। কেউ উপদেশ দিল, আগে চাকরি ধর, তারপর চয়েজ করার সময় পাবে। আমি কেন জানি না, সেই দিকে পা বাড়ালাম না। একে একে সহপাঠিরা চাকরিতে ঢুকে যাচ্ছিল। আর, আমি কাঙ্খিত চাকরির আশায় সমুদ্রের পানে চেয়ে আছি।


মানুষ জীবন বড় অদ্ভুত। মহাসমুদ্রে কম্পাস বিহীন দিকভ্রান্ত অবস্থায় ধ্রুবতারাকেই দিকনির্দেশক বানাতে পারে, অন্যদিকে কেউ বলেন ধ্রুবতারার সৃষ্টিই পথভ্রান্তর চলার সাথি হবার জন্য। আমার পরিচিত মানুষের জাল তেমন বিস্তৃত না হলেও শত্রুর সংখ্যা সীমিত বা শুন্য। আমি খুঁজে নিলাম, নাকি আমার জন্যই আবির্ভাব হলেন এক বড় ভাই। মানুষের সাথে আজাইরা খাতির গড়তে না পাড়লেও, যার সাথে একটু পরিচয় হয় তার সাথে আমি খুব ভালই জমিয়ে নিতে পারি। এভাবেই কিছু বড় ভাইয়ের সাথে সখ্যতা গড়ে থিসিস করার সময়। তারাই দেখিয়ে দিলেন, "প্রোপার চ্যানেল"। কিভাবে কি হল জানি না, তবে পরের সপ্তাহেই আমার কাঙ্খিত চাকরিতে ঢুকে গেলাম।


"প্রোপার চ্যানেল" শব্দটার সাথে বিশেষভাবে পরিচিত হয় মাস্টার্সের সময়। বিভাগের এক স্যারের ল্যাবে মাঝে মাঝে কিছু কাজে যেতে হত। গেলেই, সেখানকার এক বড়ভাই বলতেন প্রোপার চ্যানেলে আস। চাকরি খুজতে গিয়ে, চাকরিতে ঢুকে একটা জিনিস বুঝলাম। তাহল, সবই সম্ভব যদি প্রোপার চ্যানেলে আগানো যায়। যেকোন লোক, যেকোন পোস্টে, যেকোন বেতনেই চাকরি অর্জন করতে পারে, যদি সে প্রোপার চ্যানেলে আগায়। যোগ্যতা, ভাল রেজাল্ট এগুলো সেই প্রোপার চ্যানেলের কাজকে সহজ করতে সাহায্য করে। তবে, শুধু আমি যোগ্য এই আশা নিয়ে বসে রইলে অর্জনের খাতা শুন্যই রয়ে যায়। চাকরি পেলে তবেই যোগ্যতা দেখাবার অবসর।


যাইহোক, ঢুকে গেলাম চাকরিতে। শুনেছিলাম কর্মক্ষেত্রে অনেক গ্রুপিং হয়, পক্ষপাতিত্ব হয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ডিপার্টমেন্টের গ্রুপ, সিনিয়র গ্রুপ, জুনিয়র গ্রুপ, একটিভ গ্রুপ, ঢিলা গ্রুপ আরো কত কি! ভাগ্যিস আওয়ামী-বিএনপি গ্রুপিং সেখানে নাই। আমি গিয়ে দেখি, জয়েন করবার আগেই আমি একটা গ্রুপের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছি। প্রথম দুইদিন শুধু বসেই রইলাম। তারপর শুরু হল কাজ দেখা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গ্রুপিংএর কারনে এক সিনিয়র কলিগ নুন্যতম ভদ্রতা ব্যতিরেখে, যাচ্ছেতাই ব্যবহার করল। দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করলাম, মুখে হাসি নিয়ে। আমার পাশে পেলাম আমারই কয়েকজন সিনিয়র আপু ভাইয়াদের। বড় ভাইরা বুঝাল, চাকরি জীবন এমনই, কেউ পক্ষে কেউ বিপক্ষে। আমার কপাল ভাল যে আমি তাদের সাপোর্ট পাচ্ছি। তারা সেটাও পায় নাই। বুঝলাম ব্যালেন্সের মাঝে আছি। আমার বাবার কিছু কথা মনে হল। বাবার অফিসে তারই স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু তার ক্ষতি করে যাচ্ছিল । অথচ, অফিসের বাইরে তাদের সম্পর্কে কোন প্রকার টানাপোড়ন দেখি নাই। বাবা বলেছিল, "চাকরিতে টিকে থাকবার বা এগিয়ে যাবার এক এক জনের একএকে স্ট্রাটেজি। এগুলোকে পার্সোনালি নিতে হয় না। একেই বলে প্রোফেসনালিজম"। বুঝলাম, প্রোফেসনাল হবার সময় হয়ে গেছে।


চাকরি করছি প্রায় দুইমাস হতে চলল। এরমাঝে মাস্টার্সের রেজাল্ট হয়ে গেছে। অনার্সের তুলনায় এবার রেজাল্ট ভালই খারাপ হয়েছে। শুভাকাঙ্খিরা এমন সহানুভূতি দেখাচ্ছে যেন সেকেন্ড ক্লাস পেয়েছি। মনটা খারাপ হয়েছিল কিছু দিন, নিজের জন্য নয়। আমাদের কয়েকজনের পেছনের একজনকে ফার্স্ট করা হল, যোগ্য একজনকে বঞ্চিত করে। করা হল বলছি এইজন্য যে, একটা নোংরামি করেছে সোকলড শিক্ষকরা। উদ্দেশ্য একটাই, তাদের ভবিষ্যতের কলিগ সিলেকশন। কেন যেন তারা নিজেদের সমপর্যায়ের লোকদেরই কলিগ হিসেবে পছন্দ করে। আমার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার একটা আকাঙ্খা ছিল। আপাতত, প্রোপার চ্যানেলের অভাবে আর হয়ে উঠবে না। তবে হ্যা, প্রোপার চ্যানেল ধরতে পারলে সবই সম্ভব। এক সিনিয়র বলেছিল, মনে করার কারন নাই "প্রোপার চ্যানেল" ধরাটা বাংলাদেশে অব্যবস্থাপনার ফলাফল। এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে কৌশলি হতে হবে। এটাই, সার্ভাইভালের মূল সূত্র।


পেছনে ফিরে তাকাতে চাই না। তবে আশে পাশে তাকিয়ে নিজের অবস্থানটাকে বিবেচনা করি। আপাতত আমি অন্য কারো চাইতে ভাল আছি, তো অন্য কারো চাইতে খারাপ। আমার হাতে কিছু অর্জন আছে, আবার আছে কিছু ব্যর্থতা। ভাল খারাপ মিলে জীবনটাকে একটা Steady state এ রেখে দিয়েছে। এটাই জীবন, I'm loving it.


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28973065 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28973065 2009-07-03 16:01:18
টিপাই মুখে বাঁধ: কালের কাছে এক বাঙালির স্বীকারোক্তি

আজপর্যন্ত যা বুঝলাম, তার সারমর্ম হল টিপাই মুখে একটি বাঁধ বা কারো কারো ভাষায় ড্যাম হতে চলছে। এটা হবেই, আমরা যাই বলি না কেন। আমাদের জাতির মহান নেতা শেখ মুজিব। তিনি ভারতের ফারাক্কা বাঁধ নির্মানে সম্মতি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রতি শেখ মুজিবের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষমতা আমার নেই, তাই ধরে নিচ্ছি ভারতের প্রতি সরল বিশ্বাসেই তিনি ফারাক্কায় বাধ নির্মানে সম্মত হন। এই সম্মতির ফলাফল যে ভয়ংকর হবে তা সেদিন মাওলানা ভাসানী বুঝতে পেরেছিলেন বলেই হয়েছিল তার ঐতিহাসিক লংমার্চ। তিনিও এ জাতির এক মহান নেতা। শেখ মুজিবের ভুল বিশ্বাস, মাওলানা ভাসানীর ব্যর্থ প্রচেষ্টা সর্বোপরি আমাদের অসাড়তার ফলাফল আজ গড়াই নদী ইতিহাসের পাতায়, পদ্মার বুকে বালুচর।


সেদিন শেখ মুজিবের সামনে বাঁধের ভয়াবহতার এবং ভারতের চুক্তিভঙ্গের কোন উদাহরণ ছিল না। অথচ, আজ সংসদের তিন চতুর্থাংশ আসন জয় করে ক্ষমতায় অসীন বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে পিতার আমলের ভুল সিদ্ধান্তের উদাহরণ আছে। অথচ, তিনি, তার দেশপ্রেমিক মন্ত্রী, এমপি (কেউ কেউ বীর মুক্তিযোদ্ধা) তারা কেউই ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহতাকে আমলে নিচ্ছেন না। চোখের সামনে মরা পদ্মা রেখে যারা আজ টিপাই মুখ সমর্থন করে গলাবাজি করছেন তাদের উদ্দেশ্য সৎ বলে ধরে নিতে ব্যর্থ হলাম। সরকারই যখন দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে বদ্ধপরকর তখন আম জনতা আর কি করতে পারে। হায়! এখন ভাসানীর ন্যায় কেউ আর নেই। বিএনপি প্রতিবাদ করছে, কিন্তু সেটাতো নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে! মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া এই বঙ্গদেশে আমরা দেশপ্রেমিক জনগন বিএনপির ফাঁদে পা দিয়ে টিপাই মুখের বিরোধিতা করে তো আর রাজাকার সীল লাগাতে পারি না! টিপাই মুখে বাঁধ হবে বা হয়ে যাচ্ছে। বাঁধের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে যাচ্ছেন দেশপ্রেমিক (!) আওয়ামী প্রতিনিধি দল। ফিরে তারা বলবেন, “চিন্তার কিছু নেই, সুন্দর বাঁধ হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাবে”। “দেশ” বলতে কোন দেশ বোঝাবেন তা ইতিহাস সাক্ষীদেবে।


আন্তর্জার্তিক আইন, পানি বন্টন, নদীর পানির ইউনিট কিউসেক, বাঁধ বা ড্যামের পার্থক্য এত কিছু আমি বুঝি না। শুধু বুঝি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা পড়লে, দু’তীরে হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক সম্পদ, জনজীবন সব বিনষ্ট হবে। বরাক নদী হতে বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে সুরমা আর কুশিয়ারা, এ দুটো মিলে মেঘনা নদী। মানুষের লিখিত ইতিহাসে বাংলাকে প্রথম পরিচিত করে মেঘনা নদী। টলেমি লিখে গেছেন, সম্রাট আলেকজান্ডার সেই মেসিডোনিয়া হতে ভারত পর্যন্ত জয় করে এসে বাধা পেয়েছিলেন তৎকালীন ভারতের গঙ্গাঋধি রাজ্যে, যা বর্তমান বাংলা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা আলেকজান্ডারকে বর্ণনা দিয়েছিলেন গঙ্গাঋধির বিশাল হস্তিবাহিনীর। মেগাস্থেনাসের ইন্ডিকাতে বর্ণনা আছে, গঙ্গাঋধির বিশাল মাঘোন (আমাদের মেঘনা) নদীর কথা। যার এক তীর হতে অন্য তীর দেখা যায় না। দু পাশে প্রচুর ধান উৎপন্ন হয়, সেই ধান হতে তৈরি মদ খাওয়ানো হয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হাতিদের। এই হাতির ভয়ে আলেকজান্ডারের সৈন্যরা এগিয়ে যেতে অস্বীকার করলে, আলেকজান্ডার মেসিডোনিয়ার দিয়ে ফিরতি যাত্রা শুরু করেন। এসব ইতিহাসের সাক্ষি মেঘনা এবার হয়ত নিজেই ইতিহাস হবে।


পদ্মা, মেঘনা এই নদী গুলোই সব নয়। আছে এদের শাখা প্রশাখা। জালের মত বিস্তৃত এই বাংলার মানুষের সংস্কৃতি, সাহিত্য, আচার আচরণ সব কিছুরই ভিত্তি নদী। বাঙ্গালিকে নাকি শাসন করা খুব কঠিন। এরা নিজেই নিজের রাজা। ইতিহাসে কেউই বাংলাকে শান্তিতে শাসন করতে পারে নি। জালের মত এই অঞ্চলের ভুখন্ডগুলোকে নদী আলাদা করে রেখেছে। নদীর ভাঙ্গনে ভৌগলিক সীমারেখা কখনই স্থির হয়নি। বিধায় দৃঢ় কোন সামাজিক সংগঠনও আমাদের এই অঞ্চলে তেমন দেখা যায় না। শাসিত হতে আমাদের বড় ভয়। কেউ জোড় করতে এলেই আমরা বিগড়ে যাই। এবার মনে হচ্ছে বাঙ্গালি নামের পাগলা ঘোড়াকে বেঁধে ফেলা গেল। হাজার হোক ভারত বর্ষের এই জাতিটিই স্বাধীন দেশের অধিকারি।


আজ যারা ভারতের কাছে স্বেচ্ছায় মাথা নত করে টিপাই মুখ মেনে নিল তারা শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্যই অপরাধ করল না। তারা অপরাধ করল এই নদীর দ্বারা পুষ্ট হাজার হাজার বছর অতীতের এবং আগত ভবিষত্যের কাছে। আজ হতে হাজার বছর পর জন্ম নেওয়া বাঙ্গালিটি যখন নিঃশেষ হয়ে যাওয়া মেঘনার উপহার থেকে বঞ্চিত হবে, তার কাছে অপরাধী হবে এই বিশ্বাসঘাতকরা।


একাত্তরের রাজাকারেরা একাত্তরের অপরাধী। তাদের তৎকালীন যুদ্ধাপরাধের জন্য আমরা তাদের বিচার করার জন্য আইনের আশ্রয় নিতে পারি। কিন্তু যাদের অপরাধ কাল নিরপেক্ষ কোন আইনে তাদের বিচার করব? রাজাকারদের রাজাকার বলি কারন তারা স্বেচ্ছায় জন্মভূমির স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিল। আজকের এই বিশ্বাসঘাতকেরা কি স্বেচ্ছায় বিশ্বাস ঘাতকতা করছে না? তবে রাজাকার গালি এদের কেন দেব না?


দীর্ঘশ্বাস ফেলে, হতাশাভরে লিখতে হচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনা আর এভাবে প্রবাহিত হবে না। তার বুকে রইবে ধুঁ ধুঁ বালুচর। তবে সময়ের কাছে সাক্ষি দিয়ে যেতে চাই, “আমি এই বিশ্বাসঘাতকদের সাথি ছিলাম না। মুক্তিযুদ্ধের বিশ্বাস ঘাতকদের যেমন আমি রাজাকার বলে ঘৃণা করেছি, তেমনি বাংলার বর্তমান বিশ্বাসঘাতকরাও রাজকার ভিন্ন আমার কাছে আর কিছুই না”।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28970060 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28970060 2009-06-26 23:29:19
নাদান ব্লগারদের উদ্দেশ্যে

ইদানিং বাঙ্গালি ব্লগার সংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটছে বলে মনে হয়। কত নতুন নতুন নিক/নাম। কিন্তু সেই তুলনায় ব্লগ ঢিলা হয়ে গেছে। বছর খানেক আগের ব্লগিংইয়ের সাথে মিলাতে গেলে হতাশ হই। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে একটা নতুন আপদ। আজকাল অনেকেই পোস্ট দিয়ে কমেন্ট, হিট প্রভৃতির জন্য কান্নাকাটি করে। মনে হয় তাদের ব্লগে আসবার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশিষ্ট হিট ব্লগার হওয়া। বেচারা নাফিসের তাদের পোস্টে আনন্দ সহকারে তার হিট বাড়াবার পোস্টগুলোর লিংক ছেড়ে আসতে হয়।

আমি যখন এই ব্লগে আসি তখন লোভনীয় দুইটি প্যানেল ছিল। পেইজের বামদিকে শীর্ষ পোস্টদাতা ব্লগয়ার ও ডানের নিচের দিকে সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্ট। নিজের লিংক আলাদাভাবে সেখানে প্রদর্শনের একটা সুযোগ ছিল কিন্তু, তখনও কাউকে "আমার পোস্ট কিভাবে জনপ্রিয় হবে" জাতীয় কান্নাকাটি করতে দেখা যায় নাই। কমেন্টের প্রতি একটা লোভ সবারই থাকে, আমারও ছিল। আমি কি লিখলাম, সেটা অন্যের কাছে কেমন লাগল তা জানতে কে না চায়। তবে ব্লগে প্রধানত জনপ্রিয় হতে কেউ ব্লগিং করত কিনা সন্দেহ।


নতুন ব্লগারদের জন্য কিছু বলতে চাই। ব্লগিং এর সাথে অন্য মিডিয়ার পার্থক্য হল এখানে লেখক তার লেখাকে পাঠক দ্বারা সরাসরি যাচাইয়ের একটা সুযোগ পাচ্ছে। অনেকটা বিভিন্ন ফোরামের মত। তবে ফোরামগুলোর কিছু প্রাইম এজেন্ডা থাকে। যেমন কোথাও প্রযুক্তি, কোথাও বিজ্ঞান, কোথাও সাহিত্য, ইতিহাস বা অন্য কিছু। সেখানে অন্য বিষয়ে লেখা যেতে পারে তবে তা মূল আলোচনার বাইরের বিষয় হলে অনেকটা বেখাপ্পা লাগবে। ফোরামগুলো হতে ব্লগিং পার্থক্য হল, এখানে কোন নির্দিষ্ট এজেন্ডা নেই। যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারেন। এটাই এখানের বৈশিষ্ট্য।


ব্লগার তার ইচ্ছে মত লিখে যাবে, পড়ে যাবে। অন্যকারো জন্য সে বসে রইবে না। কোথাও কোন বাঁধা নাই। আমার কোন লেখার সমালোচনা যে কেউ করতে স্বাধীন, কিন্তু কেউ এটা বলতে পারবে না, "এটা কেন লিখলেন, এটা লেখা নিষেধ" (যতক্ষণ না তা অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।)। সেই হিসেবে, "আমার পোস্ট কেউ কেন পড়ে না", "কিভাবে কি করলে অনেক লোকে পড়বে" টাইপের পোস্ট দেওয়াতেও কোন বাধা নেই। তবে আমি মনে করি শুধু হিট বাড়ানো, বা জনপ্রিয় হবার আশায় লিখলে নব্য ব্লগার ব্লগিং এর আনন্দ হতে নিজেকে বঞ্চিত করবেন। শুধু তাই নয় নতুনরা একসময় হতাশও হয়ে পড়বেন।


তাই নতুন ব্লগারদের জন্য বলতে চাই, "নিজের মনে যা আসে লিখে যান, কে পড়ল, কতজন পড়ল সেই হিসাব করা দরকার নাই"। যদি আপনার মন সুন্দর হয়, চিন্তা স্পষ্ট হয় এবং সুন্দর মন ও চিন্তাকে লিখে সুন্দর করে উপস্থাপন করবার ক্ষমতা আপনার থাকে বা আয়ত্ত্ব করতে পারেন তবেই আপনি অন্যের কাছে প্রিয় হতে পারবেন। তখন দেখবেন, আপনি ব্লগে ব্যস্ততার জন্য আসতে পারছেন না কিন্তু ব্লগাররা আপনাকে, আপনার লেখাকে মিস করছে। তখনই পোস্ট দিন যখন আপনার মন চাইছে কিছু লিখতে। পোস্ট দিতে হবে নিজেকে নজরে আনতে, এই লক্ষ্যে কখনই পোস্ট দেবেন না। এতে নিজেকে স্বাধীন ভাবে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হবেন।

ব্লগে নিজেকে স্বাধীন করে দিন, দেখবেন এমনিতেই বাড়ছে আপনার হিট। তখন আপনিও উপভোগ করবেন বাঁধ ছাড়া স্বাধীনতা, অন্যরাও জানবে আপনার ভিতরের এতদিনের সুপ্ত প্রতিভা।





ছবি সূত্র
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28966547 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28966547 2009-06-19 02:17:20
অন্যরকম ঢাকা

নগর জীবনে বিশালতার স্থান কোথায়? মুখ তুলে কোথাও তাকালে দৃষ্টি কতটুকুই বা প্রসারিত হবার সুযোগ পায়? যে দৃষ্টি কখনও বিশালতার ছোঁয়া পায় নি, সে হয়ত বুঝবে না এর গুরুত্ব। কিন্তু, যে সমুদ্রের তীর ঘেঁষে একদিন দাঁড়িয়েছিল তার কাছে বিশালতার তৃষ্ণা থাকবে সবসময়। ২০০৮ এর শুরুতে সমুদ্রের বিশালতার ছোয়া পেয়েছিলাম সেন্টমার্টিনে। ফিরতে না ফিরতেই মন জানান দিল তার অতৃপ্তির কথা। কিন্তু হায়! আমি যে ঢাকায় থাকি। তাই বলে কি হাল ছেড়ে দেব? না! হার মানা হারের প্রতি আগ্রহ আমার নাই। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বন্ধুরা তাই বেড়িয়ে পড়তাম বিশালতায় সন্ধানে। কোথায় আর যাব, রাস্তায় হাটা হাটি। প্রতিদিন যেতাম নতুন নতুন পথে, চিনতাম নতুন নতুন রেস্তোরা, নতুন নতুন খাবার। চার দেওয়ালে ঘেরা রুমের চাইতে একদিকে প্রসস্ত রাস্তাই বা কম কিসে!!

এভাবে হাটতে হাটতে একরাতে নতুন এক পথ ধরলাম। কিছুদূর গিয়ে অন্যরকম এক জগতের সন্ধান মিলল। নদীর তীর ঘেষে লম্বা প্রশস্ত রাস্তা, পাশে বড়বড় গাছের কাঠের গুড়ি, তাকে তাকে সাজানো। তারই সামনে একটা অন্য রকম ব্রীজ। ব্রীজটা অন্যরকম এই অর্থে যে এটা নদীর এপার ওপারে না মিলিয়ে নিজেও তীর ঘেষে চলে গেছে। আমাদের ঢাকায় এরকম সময় কাঁটাবার জায়গা আছে জানা ছিল না। রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলাম, নির্জন অন্ধকার!! মাঝে মাঝে দু একটি গাড়ি দেখা যায়। একপাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ঢাকার বুড়িগঙ্গা, অন্য পাশে পুরোনো দিনের ঢাকার আমেজ। আজ হতে চারশ বছর আগে নদী পথে ইসলাম খান যখন ঢাকাতে আসেন ঢাকার এই এলাকাই তার চোখে প্রথম বাঁধে। তিনি সিদ্ধান্ত নেনে এখানেই মোঘল বাংলার রাজধানী স্থাপনের।

নদী, নিস্তব্ধতা, নির্মল বাতাস এই তিনের সংমিশ্রন এই শহরে পাওয়া আর আলাদিনের চেরাগ পাওয়া একই মনে হল। সব সুন্দরের সাথে আল্লাহ কিছু না কিছু অসুন্দর মিলিয়েই দেন। এখানে আছে ময়লা পানির একধরনের গন্ধ। তবে তা এতটা প্রকট না যে আমাদের দূরে সরিয়ে দেবে। সেই থেকে প্রতি সন্ধ্যায় পৌছে যাই সেখানে। ইদানিং খুব বাতাস বয়, নদীর পানিও বেড়েছে। ভাল লাগে। রাতে যাই, তাই ছবি তুলতে পারি না। পূর্ণিমার রাতে জায়গাটা অন্যরকম হয়ে যায়। নিজেকে আর ঢাকাবাসী মনে হয় না। কাঠ ব্যবসায়ীদের ফেলে রাখা বিশাল বিশাল কাঠের গুড়ির উপর নদীর এক তীরে বসা আমরা অন্য দিকে জাহাজ বানাবার ডকইয়ার্ড। ওপারের একটা ঘাটের নাম "সাগর"। এপারে বসে ওপার হতে মাঝে মাঝে আসা অক্সি এসিটিলিন শিখার আভাস পাওয়া যায়। ডান দিকে তাকালে দেখি বুড়িগঙ্গার উপরের আলুবাজার ব্রীজ বেয়ে চলে যাচ্ছে কতগুলো গাড়ি। বামে তাকালে দেখি বুড়িগঙ্গার পোস্তাগোলা ব্রীজের লাইটপোস্টগুলো। একই সাথে বুড়িগঙ্গার উপরের দুটি ব্রীজ আর একটি ব্রীজের উপর দিয়ে দেখা।

সেখানে আর একটি বিশেষ নজরকাড়া ব্যাপার আছে, সেটা হল র‌্যাব ১০ এর হেডকোয়াটার। অন্য র্যা ব অফিসগুলোর চাইতে এই হেডকোয়াটারটা আলাদা। যে জানে না তার চোখে কখনই র‌্যাবের অফিসটা আটকাবে না। সাধারন একটা বাড়ি, ফটক সবসময় বন্ধ। সামনে নেই কোন গাড়ি বা কালো র‌্যাব পাহাড়ারত। শুধু একটা সাইনবোর্ডে লেখা "র‌্যাব ১০", নিচে একটা সিসিটিভির ক্যামেরা।

প্রথম দিকে হেটে হেটে জায়গাটার সন্ধান পেয়েছিলাম। যেদিন হাটতে ইচ্ছে করত না আমরা রিক্সা নিতাম। প্রতিদিনই রিক্সাওয়ালার সাথে ঝামেলা বাধত, কারন আমরা ঠিক করে বলতে পারতাম না কোথায় যাব। রিক্সাওয়ালার ভাব বুঝে আন্দাজের উপর ভাড়া ঠিক করতাম। কখনও ঠকতাম আমরা, কখনও বা রিক্সাওয়ালা। একদিন আমরাও চিনে গেলাম। টিকাটুলির বলধা গার্ডেনের মোড় থেকে ফরাশগঞ্জ কাঠপট্টি যাব, বললেই ১৫/২০ টাকায় পৌছে যাওয়া।

মাঝে মাঝে আমি একাকী ঘুরতে বের হই, একেবারে নিসঙ্গ। অনেকের মাঝে একা একা ঘুরতে ভাল লাগে। সেরকমই এক বিকেলে গিয়েছিলাম সেখানে, কিছু তোলা ছবি দিলাম। জায়গাটাতে স্থানীয় ছেলেপুলেরা ছাড়া অন্যরা যায় বলে মনে হত না। ইয়ুটিউবে মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর 'থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার' নাম্বার মুভিতে জায়গাটার একটা দৃশ্য আছে। আমাদের রাজধানীর ভারী জীবনকে একটু হালকা করার অনেক উপকরণ এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমরা চাইলে সেগুলোকে গুছিয়ে নিতে পারি, গড়তে পারি আমাদের এক অন্যরকম ঢাকা।


থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার মুভির এই এলাকাটা বুড়িগঙ্গার তীরে

















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28965670 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28965670 2009-06-17 01:59:19
উবন্টু বিষয়ে সাহায্য চাই
মনিটরের রেজোলুশন বাড়াতে পারছি না। মনে হচ্ছে গ্রাফিক্স কার্ডের প্রোপাইরেটরি সফটওয়্যার ইনস্টল দিতে হবে। কিভাবে কি করব? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28960731 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28960731 2009-06-05 23:07:06
বাবাকে সমাপ্তিতে শুভেচ্ছা
পহেলা জুন ২০০৯ এর কথা শুনে আসছি সেই অনেক বছর ধরে। এইদিন বাবা অবসরে যাবে। সময়ের স্রোতে দিনটা এল এবং চলেও গেল। সময়ের এই প্রবাহ নিয়ে ভাবতে বসলে স্তব্ধ হয়ে যাই। প্রতিটা অক্ষর টাইপ করবার সাথে সাথে সেই অক্ষরটা টাইপ করবার জন্য অপেক্ষা শেষ হয়ে যায়। একটা একটা অক্ষরের শব্দ, অনেক গুলো শব্দের বাক্য, অনেকগুলো বাক্যের অনুচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ মিলে অধ্যায়, অনেক গুলো অধ্যায়ের সমষ্টিতে একটি জীবনী। বত্রিশ বছরের চাকরির অংশটুকু আমার বাবার জীবনের একটি অধ্যায় আর চাকরিজীবি বাবার ছেলে হিসেবে সেটা আমার জীবনেরও একটা অধ্যায়। দুজনের জীবনীর দুটি অধ্যায়েরই আজ সমাপ্তি।

জীবন নিয়ে, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা চিন্তার শুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আর দশজন ছাত্রের মতই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে খুব উজ্জীবিত ছিলাম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ইতিহাসের অংশ ভাবতাম নিজেকে। "কি হব ভবিষ্যতে"- এটা নিয়ে বন্ধুরা কথাও বলতাম। বিশাল কিছু করব, এটাই ছিল স্বপ্ন। সেই বিশাল কিছু হওয়াটাও দূরের মনে
হত না। ভাবটা এমন যে, হাতের কাছেই আছে, হাত বাড়ালেই আমি হয়ে যাব অনেক বড়, অনেক ক্ষমতাবান। বন্ধুদের বলতাম, "নিজের বাপের মত পঁচিশ বছর ধরে নয়টা পাচটা চাকরি করতে পারব না"। কি ঢিলা লাইফ, সারা জীবনে সর্বোচ্চ ৬/৭ টা প্রমোশনই সম্ভব। একটা প্রমোশনের পরে লম্বা সময় বসে থাকা পরেরটার জন্য। আমাদের পেশা হবে বৈচিত্রময় কিছু, অনেক অনেক গতিশীল, আধুনিক। অনেকেই সায় দিত। সময়ের সাথে এক, দুই, তিন করে চার বছরের অনার্স শেষ করে ফেললাম। বাস্তবতা যখন দরজার কড়া নাড়ল, তখনই ছাত্রজীবনের অপরিপক্কতা উদ্বায়ী হয়ে গেল। বুঝে গেলাম, বাবা তার জীবনে যতটুকু উঠেছে ততটুকু হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় না। সংগ্রাম করে পেতে হয়।


পেছনের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়ে উঠে, এতদিন ধরে অদেখা কিছু দৈনন্দিন ঘটনা। তার বত্রিশ বছরের চাকরির অন্তত ২২ টা বছর আমি দেখেছি। বাবাকে আমি কখনই নয়টার পরে অফিস পৌছতে দেখি নি। বত্রিশ বছরেরর ছুটির দিন বাদে অনান্য প্রতিটি দিন। আমার জীবনে এ যাবৎ দেখা নিজ কাজের প্রতি সবচাইতে নিষ্ঠাবান আমার বাবা। কয়েক বছর আগের একটা ঘটনা। বাবা তখন অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকার একটি জোনের প্রধান। ব্যাংকে জুন ও ডিসেম্বর মাসে ক্লোজিং হয়। জোনের বিভিন্ন শাখায় শাখায় বাবা খোঁজ খবর নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদেরই সামনের বিল্ডিংএ বাবারই সাবেক বস থাকত। উনি তখন অবসর প্রাপ্ত। আন্টির সাথে কথা বলতে, মা মাঝে মাঝে তাদের বাসায় যায়। একবার কোন এক জুন মাসে, রাত নয়টা বাজে বাবা তখনও অফিসে। লোকটা তুচ্ছার্থে বাবার সম্পর্কে বলছিল, "আপনার জামাই ব্যাংকরে বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে। তাই মনে করে আগলিয়ে রাখে। আরে ক্লোজিংএ ব্রাঞ্চের ম্যানেজাররা কাজ করবে, জোনাল হেডের অহেতুক খোজ খবরের জন্য দৌড়া দৌড়ির কী মানে হয়"। সেই ব্যক্তি তুচ্ছার্থে বললেও, আমি আমার বাবার জন্য গর্ব বোধ করি। সে সত্যিই তার কর্মস্থলকে নিজের বাপদাদার সম্পতির মতই আগলে রাখার মানসিকতা রাখে।

একবার খালার সাথে অগ্রণী ব্যাংকের এক শাখায় গিয়েছিলাম। অফিসে গিয়ে দেখি ম্যানেজার তার চেয়ারে এমন ভাবে বসে আছে যে, অন্য কেউ দেখলে ভাববে লোকটা হয় শুয়ে আছে বা ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে পিছলে যাচ্ছে। পান চিবাতে চিবাতে কথা বলছে। খালার একটা ড্রাফট নিয়ে আসবার জন্য অনেক চিল্লাচিল্লি করছে অথচ ব্যাংকের কর্মচারীরা তার কথার পাত্তা দিচ্ছে না। একই শাখায় বাবাও ম্যানেজার ছিল কয়েকবছর আগে। দুইজনকে মিলিয়ে দেখলাম। আমার বাবা সব সময় চেয়ারে সোজা হয়ে বসত, তার অধঃস্তন কর্মচারীরা সব সময় তটস্থ থাকত স্যারের।

সেই বাবাই কাল হতে আর সকাল নয়টার মাঝে অফিসে পৌছবে না। বাসায় ফিরে রাতের বেলা ফোনে অফিসারদের সাথে অফিসিয়াল ব্যাপারে কথা বলবে না। ঘটনাগুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছি না। বাবাকে এভাবে আমি দেখতে চাই না, দেখতে অভ্যস্ত নই। কয়েকদিন ধরেই নানা লোককে বলে যাচ্ছি, আমার জীবনটাকে এমন ভাবে চালাব যেন কখনও অবসর নিতে না হয়। জানি না, হয়ত এইদিন আমারও একদিন এসে যাবে। অনেক ভেবে চিন্তে আজ বুঝতে পারলাম, "আমি আমার বাবার মতই হতে চাই"। অবশ্য আমি আমার কাজ যথেষ্ট নিষ্ঠার সাথেই করি। গুনটা আমার নিজের না, অনেক বছর ধরে বাবাকে দেখতে দেখতেই পাওয়া।


বাবার শেষ অফিসের দিনটা নিয়ে কিছুদিন ধরেই মনে মনে প্লান করছিলাম। কিছুই করা হয়ে উঠল না। বাবার সাথে কিছু কথা বলার ইচ্ছে ছিল, বলতে পারলাম না। রাতে বাবা যখন ফিরল, মনটা ছলছল করছিল আমার। কিন্তু বাবার সামনে কিছুই প্রকাশ করতে পারলাম না। স্বাভাবিক ভাবই দেখালাম, অন্যদশটা দিনের মত। ছেলেরা বোধ হয় বাবার সামনে আবেগ প্রকাশ করতে পারে না।


তার এই অধ্যায়ের শুভ সমাপ্তিতে শুভেচ্ছা সহ বলতে চাই, "আমি তোমার মতই হতে চাই"। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28958936 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28958936 2009-06-02 01:24:49
~মেলে দিলেম গানের পাখনা~

দিন কাটছে ঝামেলা ছাড়া। সকালে ঘুম থেকে উঠা, নাস্তা করে অফিস যাওয়া, কাজ কর্ম করা, ঠিক পাঁচটায় সবকিছু গুটিয়ে ঘরে ফেরা। ঘরে এসে হালকা খাওয়া দাওয়া, টিভির সামনে খানিক্ষণ বসে থাকা তারপর...... ব্লগ খুলে তাকিয়ে থাকা, এইতো!! হঠাৎ লিখতে মন চায়। নতুন ফাইল খুলে লিখে ফেলি কিছু লাইন। খানিক্ষণ পরে ভাল লাগে না বলে, লেখা গুলো মুছে ফেলা, ব্যস!!! আসলে লিখবার বিষয় আর পাচ্ছি না খুজে। একটা সময় নিজের অনেক কথা লিখতাম। এখন আর সেই ইচ্ছা নাই। অন্যদিকে ব্লগে জ্ঞান ছাড়তে আর আগ্রহ পাই না। ব্লগীয় আলোচনা-বিতর্কের প্রতিও বিতৃষ্ণা এসে গেছে। এগুলোর কোন শুরু নাই, শেষ নাই। সেই আস্তিক-নাস্তিক, আওয়ামী-বিএনপি। একটা কাজ ইদানিং করা হয়। তা হল নিজের পুরানো পোস্ট পড়া, সাথের মন্তব্য পড়া। কিছু ব্লগার আসলেই খুব বিরক্তিকর। তারা সেই ২০০৮ এ যে গায়েব হয়েছে আর খবর নাই। এমনকি মন্তব্যও করে না কোথাও। ভাবতে অবাক লাগে, এভাবে গায়েব কিভাবে হতে পারে ব্লগার ব্লগ হতে। আমিতো যাই যাই করে কত বারই নাটক করলাম, কিন্তু লাভ হল কী? যেতে আর পারলাম কই।

ঘোরাঘুরি তেমন একটা হয় না। বন্ধুবান্ধব সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। অফিস থেকে ফিরে আর আড্ডাবাজির আগ্রহ কারোরই থাকে না। আগে গান শুনতাম। আমি শুধু রবীন্দ্রসংগীতই শুনতাম। এখন আর তাও ভাল লাগে না। কথাবিহীন নানা ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক ডাউনলোড করে চালিয়ে রাখি। কারন, নিস্তব্ধতায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। শুনি না শুনি, আগে গান বাজতে থাকত, এখন থাকে মিউজিক। এখন ডায়েরিতে লিখবার কিছুই থাকে না।

কলেজের সময়টার মত। কলেজে যাওয়া, ক্লাস করা প্রাইভেট পড়া বাসায় ফিরে পড়তে বসা। বোরিং!!!! তবে, জীবনের অধিকাংশ সময়টাই এমন।
একটা গান দিলাম। ঘুরে ফিরে সেই রবীন্দ্রসংগীতই। নিজের ভাবনার সাথে মিলিয়ে গান খুজতে গেলে রবীন্দ্রসংগীত খোজাটাই ভাল। সহজেই কিছু না কিছু মিলে যায়।


এমনি করে যায় যদি দিন যাক না
মন উড়েছে উড়ুক নারে
মেলে দিয়ে গানের পাখনা।

আজকে আমার প্রাণ ফোয়ারার সুর ছুটেছে
দেহের বাধ টুটেছে
মাথার পরে খুলে গেছে
আকাশের ঐ সুনীল ঢাকনা।।

ধরণি আজ মেলেছে তার হৃদয় খানি
সে যেন রে কাহার বানি
কঠিন মাটি মনকে আজি দেয় না বাধা
সে কোন সুরের সাধা।।

বিশ্ব বলে মনের কথা
কাজ পড়ে আজ থাকে থাক না।।


গানের লিংক
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28958044 http://www.somewhereinblog.net/blog/onujibblog/28958044 2009-05-31 02:02:43