আমার হল জীবন: কিছু স্মৃতি রোমন্থন (৪)
দেখতে দেখতে কেটে গেল প্রায় সাড়ে নয় মাস। এ সাড়ে নয় মাসে ক্লাস, হোস্টেল করেই কেটেছে বেশীরভাগ সময়। কারন আমি যাদের সাথে আড্ডা দিতাম তারা প্রায় সবাই তখন ক্যাম্পসের বাইরে। সেতু এবং দূর্ভাষী তখন হাইকোর্টে রীট মামলা দায়ের করে মামলার দেখভাল করতে ঢাকায় রয়েছে। অবশ্য মোবাইলে কথা হত সমবসময়। ২০০৫ সালের ২৫ এপ্রিল ওদের মামলায় রায় ঘোষনা করা হলো। মামলার রায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আরোপিত শাস্তিকে অবৈধ ঘোষনা করে ১৫ দিনের মধ্যে ছাত্র হিসাবে ওদের সকল অধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয় মহামান্য হাইকোর্ট।
মামলার রায়ের পর ৩০ এপ্রিল ওরা ফিরে আসে ক্যাম্পাসে। আবার ও বৈচিত্রে ভরে ওঠে আমাদের সার্কেল এর প্রতিটা দিন।
হলে এতদিনে সিনিয়র হতে শুরু করেছি, জুনিয়র দুইটা ব্যাচ ভর্তি হয়েছে। অনেক মেয়েকেই চিনি যারা ভাড়া করা বাসা বা মেসে থাকতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অনেকেই পরামর্শের জন্য আসে। কিন্তু আমার অনেক বান্ধবীই তখন ও সিট সংকটের কারনে হলে উঠতে পারেনি, তাই ওদের কোন উপকারে আসতে পারলাম না।
একদিন এলো আমার ডিপার্টমেন্টেরই এক জুনিয়র। দেখতে শুনতে মাশাল্লা, নজর কাড়া সুন্দরী। ওর সব কথা শুনলাম। গ্রামের মেয়ে, বাবা কৃষক, অনেক কষ্টে পড়াশুনা করছে। উঠেছে একটি মেসে, কিন্তু ক্লাস শেষ করে যেতে প্রায়ই সাড়ে পাঁচটা ছয়টা বাজে। আর মহল্লার স্থানীয় টিজাররা ওকে এতবেশী উত্তক্ত করছে যে পড়াশুনা ছেড়ে দেয়ার চিন্তা করছে। অবশেষে সমাধান হিসাবে আমার সীটে ওকে ডাবলিং করার জন্য বললাম। এবং পরদিনই আমার সীটে এলো নতুন অতিথী।
এভাবে বেশ ভালোই কাটছিল আমার নতুন জীবন। আমার ডাবলিং করার খবর দূর্ভাষী জানত না। শেষে একদিন জানল এবং প্রশংসাই করল। ইতিমধ্যে দূর্ভাষীর বন্ধু আপুটার পরীক্ষা শেষ, শুধু রেজাল্ট বাকী, আপু চলে যাবেন, কাজেই সীটটা খালি হবে এবং যথারীতি প্রভোস্ট স্যার নতুন কারো নামে এলটমেন্ট দিবেন। কিন্তু সমস্যা এক জায়গাতে ঐ সীটে নতুন যিনি আসবেন তিনি ডাবলিং না ও করতে পারে, সেক্ষেত্রে আপুর সাথে আমার যে বান্ধবী ডাবলিং করছে সে কোথায় যাবে। আবার ও দূর্ভাষীর সাহায্য প্রয়োজন পড়ল। প্রভোস্ট স্যারকে বুঝিয়ে বলল সব কিছু এবং আমার ঐ বান্ধবীর নামেই সীটটি এলটমেন্টের ব্যবস্থা করল।
এভাবেই এলো রমজান মাস। আর রমজান মাসে ইফতার পার্টি একটা সাধারন ব্যাপার। প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্ট আলাদা আলাদা ভাবে ইফতার পার্টির আয়োজন করছে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন তো আছেই। আমি এবং দূর্ভাষী দু'জনেই বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য তখন। প্রতিটা ডিপার্টমেন্টের সাথেই রয়েছে দূর্ভাষীর সুসম্পর্ক আর সে সুবাধে প্রতিদিন ইফতার পার্টিতে হাজিরা দিতে দিতে এক হিসাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম আমি। আর এ ক্লান্তি থেকে মুক্তি দিল ঈদের ছুটি।
(ক্রমশ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

