ওর সাথে হাটতে খুব ভাল লাগছিল । আমি আসলে ভাবতেই পারি নি যে ও লেক পাড়ে আসতে চাইবে । আমার তো মনে হল গেল , আর বুঝি ওকে বলা হল না । অবশ্য এখনও যে ওকে বলতে পারবো তার কোন নিশ্চয়তা নাই ।
“ এ জায়গাটা সুন্দর না ?”
“ হু ।সুন্দর ।“
“ আসুন ঐ জায়গাটায় বসি ।“
গাছের নিচে একটা ফাঁকা বেঞ্চ দেখিয়ে বলল । নিজের মনের মধ্যে অদ্ভুদ এক অনুভূতি হচ্ছে । আমরা এখানে বসে কথা বলছি । আর পাশ দিয়ে যাওয়া লোকজন যাচ্ছে । আমাদের কে দেখে ভাবছে আমরা প্রেমিক প্রেমিকা । ঠিক যেমন টা আমি ভাবতাম যখন এখানে আসতাম । জোড়া দের কে দেখে ভাবতাম কত সুখেই না ওরা আছে ! আর আজ আমাদের কে একসাথে দেখে ওরা নিশ্চই এক কথাই ভাবছে ।
ইস্ ওদের ভাবনা টা যদি সত্যি হত !
“ কি এতো ভাবছেন ?”
“ কিছু না । এমনি ।“
“অপু সাহেব আপনি তো আজ অনেক কথা বললেন । যদিও আমার মনে হচ্ছে এখনও কিছু বলার বাকি আছে । এবার আমি কিছু কথা বলি ?”
“ হ্যা অবশ্যই ।“
“ কিন্তু আপনাকে কথা দিতে হবে যে আপনি রাগ করবেন না ।“
“ রাগ করবো কেন ?” আমি খানিকটা অবাক হলাম ।
“না কথাটা রাগ করার মতই । আমি খানিকটা অন্যায় করেছি । অনেক দিন আপনাকে বলার চেষ্টা করেছি আপনাকে বলার জন্য কিন্তু আপনার গম্ভীর্যের জন্য সাহস হয় নি । আজ বলার একটা সুযোগ এসেছে । বলবো ?”
“ বলুন ।“
“ কিন্তু কথা দিন রাগ করবেন না ।“
“ আচ্ছা কথা দিলাম ।“
“ তবে আমি একটা কথা দিতে পারি যে আমার কথা গুলো শোনার পর আপনি আপনার বাকী থাকা কথা গুলো মনে হয় বলতে পারবেন ।“
ঈশিতার কথা শুনে আমি খানিকটা ধাঁধায় পড়ে গেলাম । বাকী থাকা কথা ? ও কি তাহলে বুঝতে পেড়েছে । গড নোজস ! আমি বললাম “আপনি নির্ভয়ে বলুন ।“
ঈশিতা খানিকটা সময় নিলো । তারপর ওর কথা শুরু করলো ।
“আপনার কি মনে আছে প্রায় মাস দুয়েক আগে আপনি ছুটি নিয়ে ছিলেন ?”
“ হু । নিয়ে ছিলাম ।“
“তখন আপনার কাজ সামলানোর দায়িত্ব্য আমার উপর এসে পড়ে । আমি দরকার পড়লে মাঝে মাঝে আপনার ডেস্কে যেতাম । একদিন আমার পিসির নেট কানেকশনটা কেন চলে গেল । সবার টা ঠিক কেবল আমার টা নাই । তাই আমি আপনার পিসিতে বসে কাজ করছিলাম । এটা আমার আমার প্রথম অন্যায় ।“
ও খানিকটা চুপ করল ।
“আমি মেইল চেক করার জন্য ইয়াহু ওপেন করি কিন্তু আপনি আপনার একাউন্ট থেকে সাইন আউট করেছিলেন না তাই সরাসরি আপনার একাউন্টে ঢুকে পড়ি ।“
ঈশিতে আমার দিকে তাকায় । মনে হয় বোঝার চেষ্টা করে আমার মনের অবস্থা ।
“দেখুন এটা কিন্তু আপনার ভুল । আপনি সাইন আউট কেন করেন নি ?”
“ তারপর আপনি কি করলেন ?”
“ আমি সাইন আউট করতেই যাচ্ছি লাম তখন ....” ও চুপ করে যায় ।
“ তখন ?”
“ তখন আমার চোখ গেল ড্রাফট ফোল্ডারের দিকে ।“
OMG!!! ঈশিতা এসব কি বলছে ওখানে তো সব মেইল গুলো সেভ করা আছে যেগুলো আমি ওকে পাঠাতে চেয়ে ছিলাম । কিন্তু পাঠাই নি ।
“ তারপর ?” আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে ততক্ষনে ।
“ ও বলল “ড্রাফটে ১৭১ টা মেসটজ ছিল । খুব কৌতুহল হল দেখার জন্য জানেন । জানি এটা অন্যায় । তবুও না করে পারলাম না । ফোল্ডার ওপেন করে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম । ১৭১ মেসেজই আমার কাছে লেখা । আমি এতো অবাক হলাম । এতো গুলো মেসেজ । প্রায় বছর খানেক ধরে আপনি লিখেছেন কিন্তু একটাও সেন্ড করেন নি । সেদিন সারা দিন আমি ঐ মেসেজ গুলো পড়েছি । আর অবাক হয়ে । আমি কোন দিন কি পরে এসেছি কি খেয়েছি কার সাথে কথা বলেছি । সব আপনি ক্ষ্যাল করেছেন । সত্যি বলছি আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি । আপনি কিভাবে আমাকে দেখতেন বলেন তো ?”
আমি কি বলব ! আমার মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না । ওর দিকে তাকাতেই আমার লজ্জা লাগছে । মেইল গুলোতে এমন কোন কথা নেই যে আমি লিখি নি । তারমানে ও সব জানে ও বলল আমি জানার পরও আমি লক্ষ্য করতাম । কিন্তু আমি এখনও বুঝতে পারি নি ।
“এটা কি ঠিক করেছেন আপনি ?” কোন মতে বললাম কথাটা ।
“ ঠিক করিনি ঠিক , কিন্তু …..” ও কথাটা শেষ করল না । রহস্য ময় হাসি দিলো ।
আমার একটা কথা খুব জানতে ইচ্ছা করল ।
বললাম “একটা কথা জানতে চাইবো ?”
“ আমার এনগেইজমেন্ট ?” ও হেসে ফেলল ।
“হু ।“
“ ওটা সত্যি না আমি কেবল দেখতে চেয়ে ছিলাম যে কথাটা আপনার কানে গেলে কি হয় ? এবং ফলাফল দেখতেই পাচ্ছেন ।“
আমি অপ্রস্তুতের মত খানিকটা হাসি ।
ঈশিতা বলল “তবে……….. !”
আবার কি হল ? আমি বললাম “ তবে ?”
“ তবে কথাটা কিন্তু আপনাকে বলতে হবে মুখ ফুটে ।“
আমি আবার ঝামেলায় পড়ে গেলাম ।
“কিন্তু তুমি তো জানো ।“
ও হাসল খানিকটা । বলল “এইটা ভাল । কিন্তু ঐ লাইনটা বলতেই হবে । তোমাকেই বলতে হবে ।“
আমার চেহারা দেখে ও আবার বলল “এরকম চেহারা করে লাভ নাই । যদি বল ভাল । না বললেও ভাল , আমাদের মধ্যে কলিগের রিলেশনই থাকবে । তুমি মেইল লিখে লিখে ফোল্ডার ভরে ফেলবে । এভাবেই চলতে থাকবে ।“
আমি যে কিভাবে বলি কথাটা । তবে পরিস্থিতি এখন আমার অনুকুলে । কেবল একটা লাইনই আমাকে বলতে হবে । আমি কিছু বলছি না দেখে ও বলল
“ তুমি বলবে না ? সব কিছু তোমার ফেভারে । তবুও এই একটা লাইনটা বলা এতো সমস্যা ? ওকে ফাইন । অপু সাহেব আমি যাই । অফিসের কলিগের সাথে এতো সময় বাইরে থাকাটা ঠিক না । আর শুনো সারা জীবন বসে বসে আফসোসই করো । টাটা ।“
ও উঠে যেতে চাইল । তখন ঠিক কি হল আমি জানি না আমি ঠিক বলতেও পারবো না ফট করে ওর হাত ধরে ফেললাম । “ভালবাসি ।“
একটু মনে জোড়ে বলে হয়ে গেছে । দেখি যে কয়েকজন ঘুরে তাকিয়েছে আমার দিকে ।
“কি বললে ?”
ওর হাত তখনও ধরা । এবার আস্তে বললাম “ভালবাসি ।“ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে ।
ও বসল আমার পাশে । হাসি মুখে বলল “আবার বল ।“
“ ভালবাসি । তোমাকে । ভালবাসি ।“
(সমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



