somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ গল্প শুরু এখান থেকেই

২২ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-বল মা কবুল!

মাওলানা সাহেব আরও দুইবার কথাটা বললেন। আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী নীলুফারকে চোখের ইশারা করলেন। তিনি আগে থেকেই স্ত্রীকে খানিকটা বুঝিয়ে রেখেছিলেন। নীলু যদি মুখ দিয়ে কোন কথা বলতে না চায়, কবুল বলতে দেরি করে তাহলে যেন নীলুফার এই কথা উচু কন্ঠে বলে যে মেয়ে কবুল বলেছে।
তাদের সময় এই রকম ঘটনা প্রায়ই ঘটতো। বিয়ের কনেরা মুখ দিয়ে কোন কথাই বলতে পারতো না। তখন পাশে বসে থাকা মা খালারা উচু কন্ঠে বলে দিতো যে মেয়ে কবুল বলেছে। তারা শুনেছে৷
আলমগীর হোসেন তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন। সে খানিকটা মাথা নিচু করে আছে। যেন মেয়ের কথা শোনার চেষ্টা করছে। তিনি তৈরি হয়ে আছেন। নীলুফার যখনই বলবে মেয়ে কবুল বলেছে তখনই তিনি সাথে সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে ফেলবেন। বিয়ে হয়ে যাবে। আর একবার বিয়ে হয়ে গেলে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
এই তো তার স্ত্রী মাথা তুলেছে। তিনি মনে মনে প্রস্তুতি নিলেন। তার স্ত্রী মুখ দিয়ে আওয়াজ বের করতে যাবে তখনই তাকে অবাক করে দিয়ে তার মেয়ে নীতু কথা বলে উঠলো। মাথার ঘোমটাটা একটু উঠিয়ে মাওলানা সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি এই বিয়েতে রাজি না।

মাওলানা সাহেবের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে তিনি যেন নীতুর কথাটা ঠিক বুঝতে পারে নি। তার ৫০ বছরের বিয়ে পড়ানোর ইতিহাসে এমন ঘটনা এর আগে তিনি আর দেখেন নি। বিয়ে পড়ানোর এই সময়ে কোন কনে বলছে সে বিয়েতে রাজি না।
মাওলানা খানিকটা সময় পার করে বলল, মা তুমি বিয়েতে রাজি না?
নীতু শান্ত কন্ঠে বলল, জি না রাজি না৷ আমাকে এখানে জোর করে বসানো হয়েছে।

মাওলানা সাহেব কিছু বলতে যাবে তার আগেই আলমগীর হোসেন হুংকার দিয়ে বলল, বেয়াদব মেয়ে! এক চড় মেরে তোর দাত খুলে ফেলবো৷ কবুল বল।

নীতু এবার সরাসরি নিজের বাবার দিকে তাকালো। আলমগীর হোসেন এবার সত্যিই খানিকটা চমকে গেলেন। নীতু তার পুরো জীবনে কোন দিন তার অবাধ্য হয় নি। তিনি যা বলেছেন তাই শুনেছে। তার দিকে চোখ তুলে পর্যন্ত তাকায় নি৷ আর আজকে তার দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে রইলো। তার চোখে ভয়ের রেস মাত্র নেই।

তিনি নীতুকে চড় মারতে এগিয়ে এলেন। তবে থেমে গেলেন মাঝ পথেই। মাওলানা সাহেব সামনে এসে দাড়িয়েছেন। তার দিকে তাকিয়ে বললেন, এভাবে জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবে না। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের সম্মতি খুব জরুরি।

নীতুর মা নীলুফার মেয়ের দিকে খানিকটা কাতর কন্ঠে বলল, এমন করিস না মা। তোর বাবার মান সম্মানের প্রশ্ন!
মায়ের দিকে তাকিয়ে নীতু বলল, মান সম্মান! আমার জীবনের থেকে তোমার কাছে মান সম্মান বড় হল! কেন আমি বলি নি বিয়ের আগে যে এই ছেলে আমার পছন্দ হয় নি। তখন আমার কথা শোন নি, এখন মান সম্মান!
নীলুফার বলল, এমন করিস না, একবার বিয়ে হয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে!
-হ্যা বিয়ে হয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে!! কই তোমার জীবন কেমন কেটেছে! খুব ভাল? তুমি চাও তোমার মতোই আমার জীবন হোক! শোন মা তোমার মতো এতো কম্প্রোমাইজ আমি করতে পারবো না। বুঝেছো তুমি?
নীলুফার খানিকটা ধমকে গেল নীতুর কথা শুনে। যে সত্যটা তিনি তার সারা জীবন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে, সেই সত্যটা তার সামনে চলে আসবে তিনি ভাবতেও পারেন নি।

আলমগীর হোসেন বলল, ছেলে খারাপ কি শুনি? এতো ভাল ছেলে তোর জন্য ঠিক করেছি! ছেলের বাড়ি গাড়ি সব আছে!
নীতু বলল, তোমার স্ত্রীর কাছে জিজ্ঞেস কর বড় হিসেবে তুমি কেমন!
-বেয়াদব, এই জন্য তোকে জন্ম দিয়েছি, মানুষ করেছি যে এই ভাবে আমার অবাধ্য হবি?

নীতু এতো সময় শান্ত কন্ঠে কথা বলছিল। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলল, অবাধ্য! কোন কথাটা শুনি নি তোমার? জীবনে যা বলেছো তাই করেছি, যে স্কুলে পড়তে বলেছে তাই করেছি, চারুকলায় পড়ার শখ ছিল, তোমার জন্য ডাক্তারী পড়তেছি, এমন কাজ করছি যার জন্য কোন ইচ্ছে নেই। তবুও মেনে নিয়েছি যে একদিন শেষ হবে আর এখন যাকে পছন্দ করি নি তার সাথেই বিয়ে দিচ্ছো জোর করে!!

কথা গুলো এক সাথে বলে হাঁপাতে লাগলো। তারপর আবার বলল, তুমি জন্মদাতা পিতা তার মানে এই না যে তোমার এই অধিকার আছে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমার বিয়ে দেওয়ার। বুঝতে পেরেছো তুমি? এটা আমার পুরো জীবনের প্রশ্ন। এতে যদি আমি অবাধ্য সন্তান হই তাতে বিন্দুমাত্র সমস্যা নেই৷ আমার বিয়ে হবে আমার পছন্দ মত, আমার ইচ্ছেতে, তোমার ইচ্ছেতে না।

অনিক নিজের ঘড়ির দিকে আরেকবার তাকালো। দুপুর পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখনো খাবার দিচ্ছে না। কোন একটা সমস্যা হয়েছে সম্ভবত। বরযাত্রী বেশ আগেই চলে এসেছে। কিন্তু এখনো খাবার দেওয়া হয় নি।
অনিক মনে মনে আরেকবার গালি দিলো নিজেকে। এখানে এরকম বেহায়ার মত চলে আসাটা মোটেই উচিৎ হয় নি। দাওয়াত দিলেই চলে আসতে হবে কেন? তবে বলতে লজ্জা নেই যে বিয়ে বাড়ির খারার ওর কাছে সব সময়ই চমৎকার লাগে। যখন যেখানে বিয়ের দাওয়াত পেয়েছে, সেখানে গিয়েই হাজির হয়েছে সে। এমন সেটা প্রত্যন্ত অঞ্চলে হলেও। ছাত্র জীবনে ওর নাম ছিল বিয়ে খাদক হিসেবে৷ এই কথাটা সে নীতুকে বলেছিল যখন ওর সাথে নীতুর বিয়ের কথা বার্তা চলছিল।

চাকরি পাওয়ার পরপরই বাড়ি থেকে যখন বিয়ের কথা বার্তা শুরু হয় তখন প্রথম মেয়েটিই ছিল নীতু। মেডিক্যাল তৃতীয় বর্ষে পড়ছে। প্রথমে অনিক একটু অবাকই হয়েছিল। ডাক্তারেরা সাধারণত অন্য পেশার মানুষদের বিয়ে করে না। আর করলেও বেশ টাকা পয়সা দেখেই করে৷ সেই হিসাব করলে তো তার সাথে বিয়দ হওয়ার কথা না। প্রথম দেখাতেই অনিকের বেশ পছন্দ হয়েছিল নীতুকে। এবং এই অনুভূতি হয়েছিল যে নীতুও ওকে পছন্দ করেছে। কয়েকদিন কথা হয়েছিল। তারপর কথা বার্তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুনেছিল যে নীতুর জন্য নাকি অন্য ছেলে দেখেছে ওর বাবা৷ বড় বিজনেসম্যান। তারপর কথা বার্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷
তারপর হঠাৎ গত সপ্তাহে একটা বিয়ের কার্ড এসে হাজির হল ওর অফিসে। সাথে ছোট একটা চিরকুট। সেখানে লেখা যে অনিক যেন অবশ্যই আসে বিয়েতে।

অনিক আরও কিছু সময় অপেক্ষা করলো। তারপরই বর পক্ষ আর কনে পক্ষের মাঝে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে গেল। খোজ নিয়ে জানতে পারলো যে কনে নাকি বেঁকে বসেছে। বিয়ে করবে না। তারপর নানান কথা চাউর হতে লাগলো।
অনিক কি করবে ঠিক বুঝতে পারলো না। এখানে খাবার দিবে বলে মনে হচ্ছে না৷ এর থেকে বরং চলে যাওয়া যাক৷ অন্য কোথা থেকে দুপুরের খাবার খাওয়া যাবে।

বাইরের দিকে পা বাড়াতে যাবে তখনই একজন পেছন থেকে ওর কাধে হাত রাখলো।
ঘুরে দাঁড়িয়ে ছেলেটাকে চিনতে পারলো। নীতুর ছোট ভাই নিলয়।
-ভাইয়া আপু আপনাকে ডাকছে।
অনিক অবাক হয়ে বলল, আমাকে?
-হ্যা। আপনার বিয়ের বিরিয়ানি ব্যবস্থা করা হয়েছে। আসুন আমার সাথে।

অনিক খানিকটা দ্বিধান্বিত হয়েই নিলয়ের পেছন পেছন হাটতে লাগলো। যে কয়দিন নীতুর সাথে কথা হয়েছিল তার মাঝে একদিন এই কথাটাই বলেছিল ওকে। নীতু সেইদিন খুব হেসেছিল। সেটা যে নীতু মনে রাখবে অনিক এটা ভাবতেও পারে নি।
অবশ্য বিয়েটা হয় নি।

এখন বিয়ে গুলো সাধারণত কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নীতুর বিয়েটা ওদের বাসাতেই হচ্ছে। ওদের বাড়ির ঠিক সামনেই একটা খালি প্লট ছিল। সেখানেই বিয়ের প্যান্ডেল টাঙ্গানো হয়েছিল। নিলয়ের সাথে অনিক বাড়ির ভেতরে চলে এল। কয়েকটা ব্যস্ত ঘর পার করে একটা ফাঁকা রুমে চলে এল। নিলয় বলল, ভাইয়া আপনি এখানে বসুন।
অনিক কিছু বলতে গিয়েও বলল না। চুপ করে বসে পড়লো। রুমটা সম্ভবত নীতুর। দেওয়ালে ওর বেশ কয়েকটা ছবি দেখা যাচ্ছে৷ ও চারিদিকে দিকে দেখতে শুরু করলো৷ এমন সময় দরজা খুলে গেল। অনিক তাকিয়ে দেখলো বৌয়ের সাজে নীতু ঘরের ভেতরে ঢুকছে৷ অনিক কিছু সময় নীতুর দিকে তাকিয়ে রইলো! বুকের ভেতরে একটা আফসোস দেখা দিল। আজকে যদি ও বড ব্যবসায়ী কিংবা ডাক্তার হত তাহলে হয়তো বিয়ের কথা বার্তা মাঝ পথেই থেমে যেত না। নীতু ইদানিং কালের কনে সাজের মত মেকাপের বস্তা মুখে মাখে নি। খুবই সাধারণ ভাবে বিয়ের সাজ নিয়েছে। কিন্তু কি অসাধারণই লাগছে তাকে!
নীতু একটু হাসলো। তারপর বলল, বিয়ে খেতে চলেই আসলেন তাহলে?
অনিক একটু হাসলো। কিন্তু হাসিটা বিস্ময়ে পরিনত হল যখন নিলয় হাতে একটা বিশাল থালা ঘরে ঢুকলো।
অনিক বলল, এটা কি?
নীতু বলল, বরের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷ কিন্তু তাকে কেন খাওয়াবো যখন তাকে বিয়েই করবো না।
অনিক থালার দিকে তাকিয়ে দেখলো সেখানে একটা ছোটখাটো খাসি রোস্ট করা। বিরিয়ানির সুগন্ধটা নাকে আসছে খুবই চমৎকার!
অনিক বলল, এতো কে খাবে!
নীতু বলল, সমস্যা নেই। আমিও খাবো। কাল থেকে কিছু খাই নি৷ এখন একটু হালকা লাগছে। অনেকদিনের জমা করা ক্ষোভ বের করে দিতে পেরেছি।

তারপর দুজন মিলেই আস্ত খাসি টা খেতে শুরু করলো, একই সাথে একই প্লেট থেকে। খেতে খেতেই অনিক বলল, বিয়েতে রাজি না হলে আগেই না করলে পারতেন!
নীতু বলল, হ্যা পারতাম। তবে আমি বাবাকে চাইছিল কিছুটা ধাক্কা দিতে! সে বুঝুক স্বপ্ন গুলো যখন ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে তখন কি পরিমাণ কষ্ট লাগে!
সেই সময়ে অনিককে এই কথা গুলো শেয়ার করেছিলো।
নীতু বলল, তাও মেনে নিতে পারতাম যদি মনের মত মানুষ টার সাথে বাকি জীবন চলতে পারতাম। বাবার উপর কোন রাগ রাখতাম না যদি সে.....
অনিক বলল, যদি সে?
নীতু খাওয়া বন্ধ করে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো অনিকের দিকে। কিছু না বললেও অনিক যেন বুঝে গেল নীতু কি বলতে চায়। অনিকের তখনকার সেই অনুভূতি টা আবার ফিরে এল। নীতু সত্যিই অনিককে বেশ পছন্দ করেছিল। অনিক ছিল নীতুর জীবনের প্রথম পুরুষ যাকে ওর ভাল লেগেছিল। পুরো জীবন নীতু বাবার ভয়ে চুপ করে থেকেছে। প্রেম ভালবাসা করার সাহস পায় নি।

খাওয়া শেষ করতে না করতেই নিচ থেকে এবার জোরেশোরে চিৎকার ভেসে আসতে লাগলো। কিছু সময় পরে নিলয় দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো৷ বলল, আপু বর পক্ষ খুব ঝামেলা করছে। তোকে না বিয়ে করে যাবে না বলছে। ফ্লাটের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করছে।

মাওলানা ইদ্রিস মিয়ার তার পুরো জীবনে অনেক বিয়ে পড়িয়েছেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে এর আগে পড়েন নি। এমন অনেকবার হয়েছে যে তিনি বিয়ে পড়াতে গিয়েছেন আর মেয়ে পালিয়ে গেছে অথবা বর আসে নি। মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে যে বিয়ের হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে বিয়ে ভেঙ্গে গেছে।
কিন্তু এই পরিস্থিতি তার জন্য একেবারে নতুনব। বিয়ে পড়াতে গিয়ে মেয়ে একেবারে মুখের উপর বলে দিলো সে বিয়েতে রাজি না। কবুল বলবে না। তিনি চলেই যেতেন, কনের বাবা তাকে যেতে দিলেন না। এরপর ঝামেলা শুরু করলো বর পক্ষ। তারা মেয়ে না নিয়ে যাবে না। এখন তিনি সহ কয়েকজন বাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছে। মাঝে মাঝেই দরজায় আঘাত পড়ছে।

ইদ্রিস মিয়া চুপ করে ড্রয়িং রুমে বসে আছে। সে আসে পাশের মানুষদেরকে দেখছেন। তিনি নিজেকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন যে যদি দরজা ভেঙ্গেও ফেলে তার কোন সমস্যা হবে না।

এমন সময় তিনি কনেকে দেখতে পেলেন। কনের পেছনে আরেকটা ছেলেকে ঘরে ঢুকতে দেখলেন। কনে তার মায়ের কাছে এল।
-মা, পুলিশে খবর দাও নি?
-পুলিশ আসবে না।
-কেন?
-এই থানার ওসি নাকি ওদের পরিচিত।
-এখন?
-জানি না কি হবে!

নীতু হঠাৎ পেছন দিক দিয়ে ওর কাধে স্পর্শ পেল। ফিরে তাকিয়ে দেখলো অনিক ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

ইদ্রিস মিয়া দেখতে পেল নীতুর সাথে ছেলেটা পাশের ঘরে চলে গেল৷ ফিরে এল কিছু সময় পরেই। নীতু সরাসরি ইদ্রিস মিয়ার সামনে এসে বলল, কাজী সাহেব আপনি বিয়ে পড়াতে পারবেন?
ইদ্রিস মিয়া ঠিক যেন বুঝতে পারলো না কি বলবে। সে এখনো বুঝতে পারছে না।
কনের মা পেছন থেকে বলল, কি বলছিস? তুই না বিয়েতে রাজি না।
নীতু বলল, আমি ঐ লোকের সাথে বিয়েতে রাজি না কিন্তু আমি অনিককে বিয়ে করতে চাই।
-কিন্তু...
-মা প্লিজ প্রথমে তো অনিককেই পছন্দ করে নিয়ে এসেছিলে। তাই না?
নীতুর মা আর কিছু বলল না।

কাজী সাহেব দ্রুত কাজ শুরু করে দিলেন। বিয়ে পড়াতে খুব বেশি সময় লাগলো না। তারপর তিনি নিজেই দরজা খুলে দিলেন। বাইরের মানুষ যখনই শুনতে পেল যে ভেতরে কনে অন্য কাউকে বিয়ে করে ফেলেছে তখন সবাই কেমন যেন নির্জিব হয়ে গেক। বর পক্ষ চলে গেল আরও কিছু সময় গজগজ করতে করতে। যখন কনের বিয়ে একবার হয়েই গেছে তখন আর কি করবে!

আস্তে আস্তে নীতুদের বাড়ি থেকে লোকজন চলে যেতে শুরু করলো। একটা সময়ে একেবারে ফাঁকা হয়ে গেল। কেবল কয়েকজন মানুষ ছাড়া আর কেউ রইলো না। নীতু নিজের ঘরেই অপেক্ষা করছিল বউ বেশে। নিজের ঘরেই ওর বাসর সাজানো হয়েছে।

নীতুর এখনও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে কি থেকে কি হয়ে গেছে। তখন কাজী সাহেব কবুল বলতে বলল তখন হঠাৎ কি মনে হল ও নিজেও বলতে পারবে না। এতো দিনের জমানো ক্ষোভ যেন একবারে বেরিয়ে এল।

অনিককে ও দাওয়াত দিয়েছিলো কেন সেটা ও নিজেও বলতে পারবে না৷ কেবল মনের ভেতরে একটা অপরাধ বোধ কাজ করছিলো। অনিক ওকে খুব পছন্দ করেছিল৷ যখন কথা বলতো তখন অনিকের চোখে একটা আলাদা দ্যুতি দেখতে পেত। নীতু নিজেও কি কম পছন্দ করেছিল ওকে! কিন্তু ওর বাবা যখন বিয়ের প্রস্তাবটা মানা করে দিল তখন কি যে কষ্ট হয়েছিল! কিন্তু কিছু বলতে পারে নি। কিন্তু বিয়েতে অনিককে আসতে দেখে যেন সেই কষ্ট টা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো।

শেষে যখন বর পক্ষ দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করছিল তখন অনিকই ওকে বিয়ের প্রস্তান দিয়ে ফেলল৷ নীতু যেন আকাশ থেকে পড়লো কথাটা শুনে! জীবনে এতো তীব্র আনন্দ সে এর আগে অনুভব করে নি। মানুষ জন কি ভাববে আর তার বাবা বলবে, এসবের চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দিল। ওর কেবল মনে হল যে এই ছেলের সাথেই ওর বিয়ে করতে হবে! এর সাথেই বাকি জীবন কাটাতে হবে।

অনিক দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই নীতুর বুকের টা কেমন করে উঠলো। জীবনে প্রথমবারের মত সে নিজের মত করে সে কোন কাজ করেছে। সামনে গিয়ে এর ফল কেমন হবে নীতু জানে না। তবে যদি ওদের বিয়েটা ভাল ভাবে নাও যায়, নীতুর মনে কোন আফসোস থাকবে না। অন্তত নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত সে নিজে নিতে পেরেছে। অন্যের সিদ্ধান্তের দায় ওকে বহন করতে হচ্ছে না।


নীতু আর অনিকের নতুন জীবনের গল্প এখান থেকেই শুরু।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:২৫
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১১০

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০২



১। সারা পৃথিবী জুড়ে- সভা, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, অনশন, মানব বন্ধন অথবা কনফারেন্স করে কিছুই করা যাবে না। এগুলোতে অনেক আলোচনা হয়- কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে মানব হিতৌষি রমনী, শুভ জন্মদিন একজন জনকের কথা

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০৭



জানা আপু— আমাদের প্রিয়জন,
কোথায় আছো কেমন আছো?
তোমায় খোঁজে এ দু'নয়ন—এই কৌতুহলি মন।
হায়! দেখি—না ক তো দি ন!!!
আশা করি ভালোই আছো
অশ্বস্তি গেছে কেটে
... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলো আঁধার

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪২


দূর দিগন্তে চেয়ে দেখি
বাঁশ বাগানের ছায়
জলপরীরা খেলা করে
আলোর মায়ায় ।।

নারকেলের পাতার ফাঁকে
শুক্ল পক্ষের চাঁদ
আলো ঝলমল সৌন্দর্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

গন্ডগোলের বিপরিতে কিছুটা সামানুপাতিক গন্ডগল করা উচিত?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৮



এই ঘটনাটা ঘটেছিলো বেশ আগে, একটা দোকানী আমার সাথে গন্ডগোল করেছিলো, আমি সামান্য চেষ্টা করেছিলাম, সেই কাহিনী।

এক ছুটির দিনে এক বন্ধুমানুষ আমাকে ও আরো ৪ জনকে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা হিপোক্রেসি - নরকের কীটের সাথে সহবাস

লিখেছেন , ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:১৪



পর্ব- ১১
********
মানুষের মনের মাঝে চেপে থাকা কষ্টের মানসিক চাপ বিষের যন্ত্রণার চেয়েও ভয়াবহ। মনের ভেতর চাপা রাখা কথাগুলো প্রতিনিয়ত চাপাতির কোপ দেয়। কারো কারো জীবন জুড়ে এমন অসহনীয় কুপানোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×