অপ্রত্যাশিত নানা কারণেই। গ্রুপ পর্যায়ে ভারতকে হারিয়ে যে চমক, তা ভক্তদের মনে অনেকখানিই মিইয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া---নিউজিল্যান্ডের কাছে চরম নাস্তানাবুদ হওয়ার পর। দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্যই প্রবল প্রতিপক্ষ। আরেকটি নিশ্চিত হারের সম্ভাবনা নিয়েই অনেকেই টেলিভিশনের নব ঘুরিয়ে বসেছিলেন। ম্যাচের আগে চলছে বোদ্ধাদের নানা বিশ্লেষণ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে রান রেট বাড়িয়ে নিতে হলে এই ম্যাচটাই সহজ সুযোগ। বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিং দাও, যাই করে করতে দাও। তারপর টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলে জিতে নাও ম্যাচ। রান রেট দারুণ, সেমিফাইনালের দরজাতেও কড়া নড়বে আপনাতেই।
বিধিবামেই সব গড়বড় হয়ে গেল। চিত্রনাট্য ঠিকই ছিল। শুরুর অনেকখানিই তা প্রোটিয়া অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের চিউইংগাম মুখে মুচকি হাসি ঝুলিয়েছে। আত্মবিশ্বাসী হাসি। সব ঠিকঠাক চলছে। টসে জিতেছেন। ব্যাট করছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের মতোই জাভেদ ওমর বেলিম দৃষ্টি পীড়াদায়ক কিন্তু কার্যকর ব্যাটিং করছেন। তার প্রভাবেই কিনা নিস্তেজ তামিম ইকবাল। 10 ওভারে রান রেট চারের নিচে। স্মিথ হাসবেনই তো। হাসিটা ঝুলিয়ে দিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের স্পটলাইট মোটেও আশরাফুলের ওপর ঠিকরায়নি। সেসব তামিম ইকবাল, আফতাব, শাহরিয়ার নাফীসরা আগেই কেড়ে নিয়েছেন। ভারত বধের পর সাকিব আল হাসান ও ভাগ বসিয়েছেন। তাই গ্রুপের তিন ম্যাচেই অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করা আশরাফুল আড়ালেই থেকে যান।
আসলেই কি যান! এবারের বিশ্বকাপে অন্যএক প্রত্যয় যে আগাগোড়াই ফুটে উঠেছে তার ব্যাটে। প্রতিভাবান বলে বিশ্ব স্বীকৃত আগের থেকেই। দু'বছর আগে অস্ট্রেলিয়া--ইংল্যান্ডের অসহায় বোলাররা নাকের জল চোখের জল এক করেছেন তার মার খেয়ে। নিজের দিনে আশরাফুল কী হতে পারেন, সেটা দুনিয়া আবারও দেখল। সতর্ক শুরু। আফতাবকে নিয়ে ইনিংস মেরামত। সিঙ্গেলস নিয়ে প্রান্ত বদল। দেখে খেলা। বাজে বলের যোগ্য সংস্থান। আফতাব যাওয়ার পর খোলসে গোটাননি নিজেকে। মাশরাফি চড়াও হচ্ছেন, আশরাফুলও হয়েছেন। পঞ্চাশ পেরুনোর পর তার ব্যাটেও তাণ্ডব। ছক্কা নেই, চার আছে চৌদ্দটা। এর অনেকগুলো অফে সরে লেগসাইডে তুলে দেওয়া। ক্রিকেট অভিধানে যাকে বলে 'প্যাডল স্কুপ'। বিপুল প্রশংসিত ভাষ্যকারদের। আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররা ছাড়া ওই শটে শাপশাপান্ত করেনি আর কেউই।
8 উইকেটে 251। আশরাফুল তো সাজিয়ে দিলেন। সেটা রাখার দায় এবার বোলারদের। কি দারুণভাবেই না তাতে ঝাপালেন তিন বাঁহাতি স্পিনার। সৈয়দ রাসেল দু'দুটো গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু দিয়ে যখন চাপে ফেলেছেন, তা আরো অাঁটসাঁট করেছেন মোহাম্মদ রফিকের নেতৃত্বে আবদুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান। সঙ্গে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডারদের তুরুন্তাজ ফিল্ডিং। পাওয়ার প্লেতে দক্ষিণ আফ্রিকা কাঁপছে। 16 থেকে 20তম ওভার। 3 উইকেট, মাত্র 5 রান। এই ফাঁস থেকে আর বেরুনো হয়নি তাদের। তড়তড়িয়ে চড়েছে আস্কিং রান রেট। এবং এভাবেই এক সময় খেলাও শেষ।
ছোট দল জিতেছে বলেই এই জয় আপসেট। অঘটন বলে মানছেন বোদ্ধারা। হা--হুতাশ চলছে এ আসরের অন্যতম ফেবারিটদের পরাজয় নিয়ে। চলছে ময়নাতদন্ত। কিন্তু একচোখা এসব বিশ্লেষণ। চিত্রনাট্যটা আসলে লিখেছে বাংলাদেশ। আগাগোড়া সফল মঞ্চায়নও তাদের। প্রত্যাশার ভারে না ভাঙলে, আগামীতে এই দৃশ্য নিয়মিতই হবে। একই সঙ্গে অনেকগুলো পাশর্্বপ্রতিক্রিয়ারও জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের এই জয়। দক্ষিণ আফ্রিকা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের শীর্ষস্থান হারিয়েছে। রানরেটের অবস্থা আগের মতোই তথৈবচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড আশায় বুক বাঁধছে সেমিফাইনালটা একেবারে নাগালের বাইরে চলে যায়নি বলে।
বুক কি বাংলাদেশও বাঁধতে পারে না! এখনও কোনো ম্যাচ না জেতা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দুর্বল আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটা অঘটন। কেনিয়া গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারলে বাংলাদেশের জন্যই বা তা অসাধ্য হবে কেনো?
পাদটীকা : লেখাটি wewWwbDR থেকে কাটপেস্ট করা হয়েছে
ছবির মডেল : চৈতী
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৩:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


