খোয়াবনামা : জাবির
০৭ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:১৭
মৃত্যু এসেছিল ছদ্মবেশে
সুরম্য সে ভবনের সিড়িতে দাঁড়িয়ে
তাকে বলেছি- বাড়ি যাব
.......................
হাফলেডিস কিছু পোলাপাইন আছে, স্মার্ট হইতে চাংকু-পাংকু করে। ধরা খায়। আমগো মতো কাউয়া চালাকরা ঠিকই এক সময় বুঝে- অনেক হইল, এইবার থামি। কিংবা থামা যায়, উচিত। তারা বুঝে না। না বুইঝা সেই বৃত্তে ঘুরপাক খায়, বের হইতে পারে না। মাঝখান দিয়া চিরদিনের জন্য অনুতাপে পোড়ায় তার ম্যান্টরগো। জাবির আছিলো সেইরকম।
পোলাডার বাসায় প্রথম যেইদিন গ্যালাম, সে তার পেপার কাটিংয়ের কালেকশন দ্যাখাইল। সেন্ট গ্রেগরিজ, নটরডেম থাইক্যা পাশ করা একটা পোলা শাবানা-ওয়াসিম-ফারুক-রোজিনার পেপার কাটিং জমায়, এইটা দেইখ্যা আমি অবিশ্বাসে তব্দা খাইছিলাম। তার সেই প্রেম খাটি ছিল। পরে তা ফিল্মফেয়ার, স্টারডাস্টে কনভার্ট হইছে। লেডিত্ব ঘুচাইতে আরিফ ওরে ডাইল খাওয়া শিখাইছিল। জাবির-জেমস-আরিফ-টুটুল-মিলটন; সিএমসির সেইরকম ডাইলিস্টগ্রুপ।
জাবির পাশ করতে পারে নাই। জাবির ডাইল ছাড়তে পারে নাই। জাবির মারা গেছে। আরিফ যখন গত বছর দেশে ফিরল, বলছিল আমার জীবনে একটাই বড় পাপ, আমি জাবিররে ডাইল খাওয়া শিখাইছিলাম। তার পরপর চারটা সন্তান গর্ভেই নষ্ট হওয়ার জন্য এই পাপরেই কারণ মানে। আমি বুঝ দিই। কেউ কারো নিয়তি বদলাইতে পারেনা, সবাই নিজেই তার নিয়ামক, বাকিরা অনুঘটক হয়ত। কিউ সেরা সেরা- যা হবার তা হবেই।
জাবির কাল স্বপ্নে আইছিল। দুইজনে সুন্দর একটা বিল্ডিংয়ের সিড়ি বাইয়া উঠতাছি। ঢোকার সময় আমার একটু সংশয় কাজ করছে, অচিন বাড়িতে ঢুকতাছি, গেটে মানুষ ছিল। কিন্তু জাবির খুব কনফিডেন্টলি ঢুকল আমারে নিয়া। ওর হাতে টকটকে লাল একটা জনি ওয়াকার রেড লেভেল। ক্যাপ খুইলা কয়, খাও। আমি কই, এইখানে! দরকার হইলে বাসায় গিয়া খামু, কিন্তু এইরকম পাবলিকের বাসায়, সিড়িতে দাড়াইয়া খাইতে পারুম না। স্যরি দোস্ত তুমি খাও, আমি বাসায় গেলাম।
এইটা একটা স্বপ্ন। উপজাত কিছু স্মৃতি। আমি স্মৃতিকাতর। জাবির আর আমার একটা ভিডিও আছে আমাদের ফাইনাল ইয়ার এন্ডে গান গাইতেছি। গানটার কথাগুলা ছিল:
নিশিরাতে যদি দ্যাখো আমাকে
চাঁদ হয়ে ভেসে ওই দূর আকাশে
একটি বার শুধু ডেকো গো আমায়
না হয় জানিও বিদায়, মিষ্টি হাসি হেসে...
জাবিররে বিদায় জানাইছি স্বপ্নে, কঠোরভাবে। কাজটা খারাপ হইছে। মনটা খারাপ হইছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
দারুণ।
প্রমিত প্রবাল বলেছেন:
হ, ঠিক।
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন:
মন খারাপ ভাইরাস আমায়ও ধরছে।
কালপুরুষ বলেছেন:
খুব ভাল লাগলো। কষ্ট পেলাম জাবির জন্য আর তার সেই বন্ধুর জন্য।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
খারাপ লাগল জাবিরের জন্য। লেখাটা অদ্ভুত হইছে।
সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন বলেছেন:
চমৎকার
অমনিবাস বলেছেন:
ল্যাখাটি একইসঙ্গে ভিন্ন ব্লগে প্রকাশিত
অবরজ বলেছেন:
হু। আসলেই মনটা তেমন কোন খারাপ হয়নাই। ৫ দিলাম
মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেছেন:
ভালো পোষ্ট। কান্না পাইতেছে। অঃরঃপিঃ আপনি অনেক শক্ত। বন্ধু হারানোর বেদনাকে বুকে নিয়ে এগিয়ে চলা অনেক কষ্টের মনে হয় ...
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
ভালো লাগলো না বড়ভাই।
এস্কিমো বলেছেন:
কষ্ট পেলাম....
স্পাইডার বলেছেন:
এস্কিমো বলেছেন: কষ্ট পেলাম....
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন:
অনেকদিন পর আপনার পোষ্টটা পড়লাম। জানিনা আপনি এটা আর চেক করবেন কিনা।আমাদের সাথে এক ছেলে সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুলে পড়তো। নাম খান মুহাম্মাদ জাবীর, ডাক নাম টুটুল। ওর বড় বোন ছিলেন মিতালি আপা। ২৪নং হাটখোলা রোডে থাকতো। পরে নটরডেম থেকে ইন্টারমিডিয়েট দিয়ে চিটাগাং মেডিকেলে ভর্তি হয়। ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় আমি একবার ঐ ক্যাম্পাসে বেড়াতে গিয়েছিলাম। শুনেছিলাম রিটু নামের এক স্থানীয় মেয়ের সাথে তার প্রেম হয়েছে।
এরপর আর যোগাযোগ ছিলোনা। শুনেছিলাম সে চরম মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলো। বহুদিন পর একবার এক ঈদে ওর বাড়ি গিয়েছিলাম। ওর বাবা অনেকক্ষণ আমার সাথে কথা বললেন, কিন্তু জাবীর পুরো সময়টাই ঘুমিয়েছিলো। অনেক ডেকেও তাকে ওঠানো যায়নি। ওর বাবা অপরাধী মুখ করে বলেছিলেন "অনেক রাত করে ঘুমিয়েছেতো..."
পরে একসময় শুনেছিলাম সে আর নেই।
আপনি সেই জাবীরের কথাই বলছেন মনে হয়। জাবীরের সাথে আমার স্কুল লাইফের অনেক স্মৃতি আছে। যে ছেলে কলেজ লাইফ পর্যন্ত একটা সিগারেটেও টান দেয়নি সে মাদকাসক্ত হয়ে মরেছে!
স্কুলফ্রেন্ডরা সবাই খুব বিমর্ষ হয়েছিলো। ব্লগে ঘুরতে ঘুরতে আপনার এই পোস্ট পড়ে বহুদিন আগের সেই অস্পষ্ট স্মৃতিতে ফিরে গিয়েছিলাম।
মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















