বরিশাল যাবার পথে লঞ্চের মাষ্টার ব্রীজ এ আলী
গোলাম হোসেন মোহাম্মদ্ আলী ইবরাহিম খান। বিশাল লম্বা নাম তার, শরীরটাও নামটার মত বিশাল। তবে এসব কিছুই ছাপিয়ে বিশাল থেকে বিশালর তার মনটা।
বলছিলাম মরিশাস এর নাগরিক মোহাম্মদ্ আলীর কথা। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর এর কোরবনীর ছুটিতে আলী এসেছিলো বাংলাদেশে বেড়াতে। কোরবনীর দিন থাকলো আমার গ্রামের বাড়ী বরিশালের এক গ্রামে। দেখলো এলাকার প্রায় কেউই কোরবানী দেয়নি, অনেকেই এক টুকরো মাংশের জন্য সারাদিন বসে আছে।
এটা দেখে বিশাল আলীর বিশাল মনট কেদে ওঠে। আমাকে সাথে নিয়ে চলে যায় গরু হাটে ২২,০০০ টাকা দিয়ে কিনে আনে একটি গরূ। পরদিন বিলিয়ে দেই তা বেশ কিছু পরিবার এর মাঝে। তাদের আনন্দের চেয়েও ভালো লাগলো আলীর তৃপ্ত মুখের ছবি। কথা দেয় আগামীতে আরো কিছু করবে এ এলাকার মানুষদের জন্য।
এতিমখানার সামনে আলী এবং ছাত্র শিক্ষকরা
কথা রাখতেই বুঝি আলী মরিশাস গিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। পরের বছর ২০১০ সালে আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে এবং নিজে মিলে জোগাড় করে প্রায় ৪ লাখ টাকা। সে টাকা নিয়ে সে ছুটে আসে বাংলাদেশে। সেই ৪ লাখ টাকা দিয়ে মোট ১৮ টি গরু কিনি। আলি সেগুলো আল্লাহর নামে কোরবানী করে নিজে সামনে থেকে সেগুলো প্যাকেট করে পলি প্যাকে, প্রতি প্যাকেটে ২ কেজি পরিমান মাংশ। তারপর তা পৌছে দেয় আমার এবং আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রতি বাড়িতে। এদের মধ্যে এমন কিছু পরিবার আছে যারা বছরে এই একদিনই গরুর মাংশ খেতে পারে।
কোরবানীর কয়েকটি গরু
২০১১ সালে এ সংখ্যাটা ছিলো আরো বেশী। গত বছর সে ৩৮ টি গরু কোরবানী দেয় এর মধ্যে কয়েকটি ছিলো গরীব কিছু এতিমখানায়। আমি আগেই গরুগুলো কিনে রাখি, কোরবানীর আগের দিন আলী আসে এবং কোরবানীর ৩ দিন আমরা গ্রামে ঘুরে গরুগুলো কোরবানী দেই এবং বিলিয়ে দেই গরীব মানুষ এবং এতিমদের মাঝে ঠিক আগের নিয়মে। স্থানীয় এতিমখানাতে এ উপলক্ষে একটা ভোজেরও আয়োজন করি আমরা। সব এতিমদের সাথে নিয়ে আলী দুপুরে মাটিতে ফরাস পেতে খাবার খায়।
খাবার খাচ্ছে এতিমরা
আপনারা সবাই দোয়া করবেন এ মহৎপ্রাণ ভীন দেশী মানুষটির জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

