somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দার্জিলিং (Land of the Celestial Thunderbolt) ফটো স্টোরি – part 2

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
প্রথম পর্ব


রাস্তার পাশের হোটেলের খোলা জানালা থেকে দেখা অদ্ভুত সুন্দর এই দৃশ্য যেনো শিল্পীর কল্পনাকেও হার মানায়. কয়েক হাজার ফুট উপরে একটা ছোট টিনের ঘরে বসে বৃষ্টির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার মজা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না.


আমাদের গাড়ির টায়ার পানচার হয়ে গেছিলো এক জায়গায়. driver আমাদের নামিয়ে চাকা বদলাতে লাগলো, আমরা পাশের এক হোটেলে যেয়ে বসলাম. তখনো একটু একটু বৃষ্টি হচ্ছিলো. পাহাড় থেকে বৃষ্টির পানিতে চমত্কার ঝরনা তৈরী হয়েছিল. সবাই ব্যস্ত হয়ে গেলো সেই ঝর্নার ছবি তোলার জন্য খোলা জানালা দিয়ে.

এখানে একটা কথা না বললেই না. শিলিগুরি থেকে দার্জিলিং যেতে সময় কোনভাবেই ৪ ঘন্টার কমে হয় না. কিন্তু ওরা কখনই এটা শিকার করে না. ওরা বলে যে ২.৫ ঘন্টায় যাওয়া যায়. কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা অন্যরকম. এই দেরি হওয়ার একটা অন্যতম কারণ হলো গাড়ির চাকা পানচার হয়ে যাওয়া. এটা হবেই. আমরা যখন দার্জিলিং থেকে শিলিগুরি আসি তখনো এমন হয়েছে. আমাদের যাওয়ার সময় পানচার হয়েছে ৩ বার আর আসার সময় হয়েছে একবার. যাওয়ার সময় শেষবার যখন পানচার হলো তখন driver এর কাছে spare চাকা ছিলো না, অন্য গারি থামিয়ে তারপর সেই গাড়ির চাকা নিয়েছে আমাদের driver.


একটু আগে বৃষ্টি শেষ হয়েছে. পুরা প্রকৃতি একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে. যতদুর তাকাই শুধুই পাহাড় আর পাহাড়, এর ফাকে ফাকে মেঘের খেলা. সত্যি মাথা খারাপ হওয়ার মতো দৃশ্য. না দেখলে শুধু ছবিতে তা বুঝানো যাবে না.


এটা ঘুম এর পরেই আরেকটা station. ৪৮৬৪ ফুট উপরে. বৃষ্টি শেষের পরিষ্কার রাস্তা. ঘুম ৭০০৪ ফিট উপরে।


দার্জিলিং এ সবসময়ই মেঘের খেলা দেখা যায়. এই খেলা এত সুন্দর যে সারাদিন দেখলেও কোনো ক্লান্তি আসে না. এই মেখের খেলা দেখে আমার প্রায়ই মনে হয়েছে কেন আমাদের দেশে এমন একটা জায়গা নাই? এই দার্জেলিংটা যদি বাংলাদেশের সাথে থাকত তাহলে কি মজাই না হতো!


আমার একটা personal observation এর কথা বলি. দার্জিলিং এর মেয়েরা খুবই পরিশ্রমী. কিন্তু যাদের বয়স একটু বেশি, তারা মোটামুটি সবাই একটু মোটা. এটা কেন আমি বুঝি না. পাহাড়ি এলাকা, পরিশ্রম করে বেচে থাকতে হয় কিন্তু তারপরও বয়স হয়ে গেলে সব মেয়েরা একটু মোটা হয়ে যায়. হয়তো কোনো scientific কারণ আছে. আমি এক বয়স্ক মহিলাকে দেখছিলাম পা ভেঙ্গে গেছে, ক্রাচে ভর করে হাটছিলো, অসম্ভব মনের জোর আর পরিশ্রমী না হলে আমরা এমন চিন্তাও করতে পারবো না.


এই মেঘ একটু পরেই রাস্তার উপর উঠে এসেছিলো.


মেঘ মামারা রাস্তার উপর উঠার পায়তাড়া করতেছিলো.


শেষ পর্যন্ত মেঘ মামারা রাস্তায় উঠে গেলো, সব গারি হেড light জালিয়ে দিলো আর একটু পর পর হর্ন দিতে লাগলো.

যাই হোক, ৪ ঘন্টার জার্নি শেষ করে আমরা পৌছে গেলাম দার্জিলিং এর একদম হার্ট গান্ধী রোডে. আমাদের হোটেল ছিলো sweet home. এক কথায় বলতে গেলে পুরাই faul একটা হোটেল. কিন্তু কিছু করার নাই. এই হোটেলের সাথেই আমাদের travel agent prime tourism এর চুক্তি. তাই আমাদের সবাইকে এখানেই থাকতে হলো. অনেক ঝগরা ঝাটি হলো রুম নিয়া. কারো রুম ভালো কারো খারাপ. যাদের খারাপ তারা খালি মারা বাকি রাখসিলো আমাদের গাইড ইমনকে. যাই হোক, সৌভাগ্য বশত আমি পেলাম সবচে ভালো রুমটা. রাতের খাওয়া খেয়েই দিলাম ঘুম, প্রচন্ড tired ছিলাম। গতকাল রাত ৯ টায় রওনা দিছিলাম আর আজকে রাত ৮ টায় পৌছাইছি দার্জিলিং।

সকালে উঠে কি দৃশ্য অপেক্ষা করছিলো আমার জন্য তখনো জানতাম না. পরের পর্বে সেই ছবি দিবো.

চলবে…………

প্রথম পর্ব

ভাল resolution এর ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৩
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×