এক। সদ্য জেলে গমনকরা তথাকথিত রাজনীতিবিদ মোর্শেদ খান এ শুভ লুটপাট কার্যক্রমের সূচনা করেন। প্রায় মাগনার ১টি সিম ১ লক্ষ টাকা বেচেছেন। মাত্র ২টি শহরে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম)ঝাপসা নেটওয়ার্ক দিয়ে ২০-৪০ টাকা/মি কলচার্জ রেখেছেন। কেবলমাত্র মোর্শেদকে ১টি মাত্র লাইসেন্স দিয়ে বেগম জিয়া এ লুটপাটের ইজারা দেন ১৯৯১-৯৬ শাসনামলে। চতুর খান সিংটেল নামক ১টি ভোদাই চাইনিজ-সিংগাপুরি কোম্পানির কাছে যথাসময়ে পঁচা মালটা গছিয়ে দেন! বর্তমানে তারা গলার ফাঁসটা নিয়ে হাসফাসঁ করছেন।
দুই। রেলওয়ের ১টি ফাইবার অপটিক ছিল দেশব্যাপী। জানাগেছে মূলফাইবারের চারপাশে ও প্লাস্টিক আবরনের ভেতরে ১টি তামার তার ছিল গাঁথুনি হিসেবে। গর্ধভ রেল ঐটা (তামার তার!) দিয়ে নিজেদের টেলিযোগাযোগ রক্ষা করত। ফাইবার ক্যমনে ব্যবহার করতে হয় জানতনা। চতুর গ্রামীন 'ফেলনা' ফাইবারটা তাদের কাছ থেকে এমনি এমনি নিয়ে নেয়। বিনিময়ে কিছু বিল্ডিং রং টং করে দেয়!! রেলওয়ের এহেন বদান্যতায় বিলিয়ন ডলার মুল্যর ফাইবার গ্রামীন মাগনা পেয়ে যায়। আহ কি আনন্দ! তারপর তারাও ...
তিন। টেলিকম ব্যবসার লাভ কোকেনের সমতুল্য। মন্দা ফন্দা কিছুই একে টাচ করেনা। কারন লোকেরা মারা যাওয়ার সময়ও কথা বলে। আর বাংগালীর তো কথাই সম্বল। আমাদেরমত টেলিফোনহীন ১টি দেশে তা ছিল বিনা যুদ্ধে রাজ্য লাভের ন্যায়। নেটওয়ার্ক সচল আর রিচার্জ সাপ্লাই অক্ষুন্ন রাখতে পারলেই কেল্লাফতে। ঘুমান ও টাকা আয় করুন। বাকি যা দেখা যায় তা বুজরুকি। বিশেষ করে মার্কেটিং। বাহ্যদৃস্টিতে টেলিকম মার্কেটাররা জগত উল্টানোর ভাব ধরলেও বাস্তবে অন্তসারসারশুন্য ট্যরিফ কমানোর ভোঁতা প্রাইচ অফার ছাড়া কিছুই দেখাতে পারেনি। তবে হিসাব অন্য যায়গায় টিভি, পত্রিকা, রেডিও, বিলবোর্ড, দোকানপাট সাজানোর টেলিকম ডামাঢোল থেকে হিস্যা। সম্ভবত: মোবাইলই একমাত্র খাত যেখানে চাকুরী করে নব্য একটি ধনিক শ্রেনী সৃস্টি হয়েছে। এমনকি আলতু ফালতু প্রোফাইলের লোকজনকে চমক লাগানো বেতন দিচ্ছে কোম্পানী গুলো। খালাতো ভাই মামাতো ভাই, ক্লাশমেট, রুমমেট, পাড়ার বন্ধু, বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ বেসিসে যৎসামান্য বিএ সনদ (ফল প্রকাশ না হলেও চলবে) থাকলেই হল। বিড়ি, সিগারেট, আলু, পটল, সাবান, গ্রিজ, আটা কোম্পানির জুনিয়র থেকে মাঝারি পর্যায়ের স্টাফকে ধরে রাতারাতি ৫০, ৬০ হাজার, ১, ২, ৩ লাখ টাকা বেতনে বিরাট পদ পদবী বিতরন করছে। ভাবখানা এমন এরা দুধের নহর বইয়ে দেবে কোম্পানীর রেভিনিউ ইনফ্লোতে। গন্ডমুর্খ উর্ধতন কর্তাদের (বিশেষ করে অ-বাংলাদেশী) ধোন ফোন বুঝিয়ে মাঝারিদের এ লুটপাট চলমান। বলা হচ্ছে গ্রামীন ছাড়া আর কেহ গত বছর লাভের মুখ দেখেনি। কবে দেখবে তা ও জানে না। বলি, লজ্জা করেনা কথাটা বলতে? লাভ করতে না পারলে আপনাদের লক্ষ টাকা দামের ভাড়া করা ঘোড়া (নাকি গাধা?) এতক্ষন আস্তাবলে থাকে কি করে?
চার। আরেকটি লুটপাট সাপ্লাই খাতে। খাম্বা বানানো, তেল, গাড়ী, দারোয়ান, পিয়ন, ক্লিনার, এসি, স্টেশনারি, আইটি, ফুলের টব, ভেন্যু, বেলুন ইত্যাদি জাতবেজাতের অসংখ্য সাপ্লাইর কাজে কাচাঁ টাকা বানানোর মহান সুযোগ। বোকারা বেতন নিয়ে সন্তুস্ট থাকলেও সজাগ ও স্মার্ট লোকজন মামাতো ভাইয়ের নামে ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে এ খাতে যতটা পারা যায় লুটপাট করে নিতে বাত্যয় করেনি! শুধু কি তা, আশেপাশের দেশে এভেইলএবল হলেও সুইজারল্যান্ড থেকে পার্টস না কিনলেই নয়। এতে করে বছরে ২/৪ বার প্রশিক্ষন বাবদ সুইজারল্যান্ড ভ্রমন করার মহান সুযোগ।
পাচঁ। মোটাদাগে বলা যায় নানা ভাবে, নানান লোকজন, নানান ফিকিরে গত কয়েক বছর মোবাইল কেন্দ্রিক লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। আর এখন কাদোঁ কাদোঁ ভাবে তাদের সিইও রা সরকারের কাছে পলিসি সাপোর্ট চাইছেন। ৮০০ টাকা ট্যাক্সের কারনে নাকি ফকির মিসকিনরা সিম কিনতে পারছেনা। বলি, সিমের দাম ৩৫০০০ টাকা নেয়ার সময় তো ঐটা মনে ছিলনা। আরেকটা কথা নতুন গ্রাহকের সাথে মোবাইল ব্যবসার কি সম্পর্ক? যেখানে অলরেডী কোটি এককে গ্রাহক বিরাজমান। তাদের রিচার্জই তো এখন মূল ব্যবসা। মোবাইল কোম্পানি গুলোর সিম কি বাজারের সবজি যে লোকেরা প্রতি দিন কিনবে?
ছয়। সরকার তো নীতি দিয়ে লোকাল পিএসটিন গুলারে মাইরা ফালাইসে। হেরা অপারেট করবে ৫টা জেলায়, ঢাকার বাইরে মাওয়াঘাটের ওপারে আর মোবাইল গুলা সারাদেশে! আর কত পলিসি সাপোর্ট দরকার? পিএসটিন গুলারে কাফন দাফনের কিছু ফান্ড দরকার?
আর লুটপাট হয়েছে পাবলিকের পকেটের যথারীতি!
সাত। মোবাইল কোম্পানিগুলা হয় ট্যাক্স রিবেটের জন্য হয় মিথ্যাচারিতা করছে। তারা আসলে তলে তলে অনেক লাভজনক। নয় তারা সত্যই লসে আছে। আর যদি তারা লসে থাকে সেটা ব্যবস্থাপনা জনিত অসততা, অযোগ্যতা। দুই ক্ষেত্রেই তাদের প্রতি কোন সরকারী অনুকম্পা দেখানো যেতে পারেনা। বরং আরো শক্ত নীতিমালা কাম্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

