somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ। শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি। নির্লজ্জতার পাঠচক্র।

১৫ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ডক্টর আকবর আলী খানের 'পরার্থপরাতার অর্থনীতি'র কোন এক অধ্যায়ে কোটেশন পড়েছি 'তিন প্রকারের অর্থনীতি' নিয়ে। ভাল অর্থনীতি (নো ঘুষ, বাট ওয়ার্ক), মন্দ অর্থনীতি (নো ঘুষ, নো ওয়ার্ক) এবং শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি (ঘুষ বাট নো ওয়ার্ক!)। হাড়ে হাড়ে আমার এ অভিজ্ঞতা হয়েছেও বটে! গত বছর। স্থানীয় কর অফিসে। যথারীতি ট্যাক্স দিয়েছি, রিটার্নও। ডিসেম্বর নাগাদ একটা ট্যাক্স সার্টিফিকেট দরকার হল। ভালর ভাল হল চাহিবা মাত্র এটা পাব। চেয়েছি- নয় ছয় শুরু হল তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী মহোদয়ের! কালকে আসেন। এসব। অর্থাৎ, পাবনা। ভাই এটা আমার দরকার। একটু আর্জেন্ট দেন। ফি টি লাগলে নিয়েন সমস্যা নাই। স্পস্টত: ঘুষের প্রস্তাব দিলাম। কিঞ্চিত আভা ছড়ানো বদনে বলল- আসেন কালকে। পরদিন গেলাম। ৩ ঘন্টা ঘুরিয়ে, লাঞ্চের পর ছাড়া স্যারের সাইন হবেনা এসবের ঝক্কি গিলিয়ে কাজটা করল সে বটে! শুয়োরের বাচ্চা বলতে বলতে বিদায় নিলাম।
নগন্য ৩য় শ্রেনী এবং উপরে নীচের লক্ষ লক্ষ অন্যান্য এসব শ্রেনীর জঘন্য উৎপাতে নাগরিক প্রাণ ওষ্ঠাগত। কর, বিচারালয়, ভূমি, সাধারন প্রশাসন, পুলিশ, শুল্ক, রেল, স্থল, জল ও বিমানবন্দর, সড়ক, হাসপাতাল সহ প্রায় সকল সরকারী সেবা বা ব্যবস্থাপনাখাতে এ দস্যুতা প্রায় জায়েজ ও রুটিন কাজে পরিনত হয়েছে। নাগরিককে কিছু ফির বিনিময়ে বা ফ্রি সেবাদানের মৌলিক অক্ষরেখাচ্যুত হয়ে এসব স্থান জনদুর্ভোগের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। হাতের কাছে কাউকে পেলেই হল। ঘুষ দেয়াই যথেস্ট না! বাড়তি রাজনৈতিক যোগ বা সচিবের ভাগ্নের ফুফাতো শ্যালক গোছের কিছু না হলে আপনার চেয়ে অসহায় ভূমন্ডলে কেউই নাই।
এ ধরনের শুয়োরদেরকে পালার জন্য, তাদের প্রনীত, লালিত, পালিত একটি অর্থনীতির মধ্যে আমরা বসবাস করছি। এটাই শুয়োর ও তাদের বাচ্চাদের অর্থনীতি। বড্ড নির্লজ্জ। বেহায়া। বে-শরম অর্থনীতি।
এ অর্থনীতি কতগুলি গালভরা শব্দ প্রচার করে। প্রবৃদ্ধি তার মধ্যে প্রধান। মোট দেশজ আয় ৬% বেড়েছে বলে তারা তাকধিন তাকধিন করে নাচতে থাকে। আপন পশ্চাতদেশে থাপ্পড় মাড়তে থাকে। বলি, ১০ জন চোর ফুলে ফেঁপে মোট দেশজ আয় ২গুন হলেই বা আইজুদ্দিনদের লাভ কি?
এরা বাজেট করে। কিসের বাজেট? চুরির বাজেট। বার্ষিক উন্ণয়ন কর্মসূচীর টাকার যে ৭৫% মিলেমিশে চুরি হয় তা তারাই গবেষনা করে দেখিয়েছে। পাউবো, এলজিইডি, সওজ, সামরিক বেসামরিক ক্রয়ের নল দিয়ে এ টাকা কর্মচারী, আমলা, ঠিকাদার, মন্ত্রী, এমপি, স্থানীয় রাজনৈতিক (তথাকথিত) কর্মী, কনসালট্যন্টদের পেটে যায়, যাচ্ছে, যাবে। তারপর ঘোষনা দিয়ে কালো চোরকে সাদা করা হবে। কালোটাকা সাদাকরন!
ছি! ছি!! ছি!!! রাস্ট্র কি করে এমন কুপ্রস্তাব দেয়। কালোটাকা জব্দ করে তা কোষাগারে প্রেরন করাই তো রাস্ট্রের কাজ জানতাম। শুধু তা না। হক হালালি ট্যাক্স ২৫% (ব্যক্তি) থেকে ৪৫% (সংস্থা)। আর চোরদের মাত্র ১০%। তাহলে সবাই মিলে চুরি করাই তো বেহ্‌তর!
বৈদিশিক বিনিয়োগ এ অ-অর্থনীতির আরেক বিরাট মুলা। জাতীর সামনে রুটিন করে যা ঝুলানো হয়। গাধার বাচ্চাদের কে বুঝাবে যে দেশেই অলস টাকার পাহাড় জমেছে? ৫০শেয়ারের ১টা লটের জন্য ১০০টা পর্যন্ত এপ্লাই করছে মানুষ। স্থানীয় বিনিয়োগ ঠিকঠাকমত হলেই ৫ বছরে চেহারা পাল্টাবে আমাদের। আর উল্লুকের মত চায়না থেকে জুতারব্রাশ আনার নীতি কায়েম রেখে তা হবেনা। শতভাগ ট্যারিফ উঠায়ে দেওয়ার উলঙ্গ অর্থনীতি আমাদের জন্য নয় এটাও বুঝতে হবে। বিশ্বসভা যদি চোখরাঙ্গায় 'দরজা মুক্ত কর' বলতে হবে, তাহলে বল যে মানুষও মুক্তভাবে চলাচলকরতে পারবে। তোমার গাড়ী বিনাবাধায় আমার দেশে আসছে, আমার মানুষ (যা আমার কাছে বেশী আছে, বা যা উৎপাদনে আমি দক্ষ) কেন তোমার দেশে বিকোতে পারবেনা?
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০৮
৩০টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×