ভেবে দেখি অন্যভাবে। কি কথা বলি মোবাইলে? বিরাট জটিল প্রশ্ন। লোকের প্রোফাইল ভেদে উত্তরে বিস্তর ফারাক থাকবে। শহর-গ্রাম; টিনেজ-তরুন-মধ্যবয়স্ক-বয়স্ক; পুরুষ-মহিলা; ছাত্র-বেকার-চাকুরে-অবসরপ্রাপ্ত; শ্রমিক-কৃষক-দোকানদার-বড় ব্যবসায়ী; হুজুর-রাজনীতিবিদ-চোর-পুলিশ এভাবে নানান ভিত্তিতে ভাগ করলে দেখাযাবে বিচিত্র লোকজন বিচিত্র সব কথা বলছে। আর বিল তুলছে। কথার জোয়ারে প্রকম্পিত ইথার!
তবে একটা সমীকরন পাওয়া গেছে- ব্যস্ততা যত কম ফালতু কথা তত বেশী; শিক্ষা যত কম ফালতু কথা তত বেশী; বয়স যত কম বাজে কথা তত বেশী! বাদবাকী যে কাজের কথাবার্তা হচ্ছে তার বেশীরভাগ ল্যান্ডফোন ও ইমেইলে সারার মত। খুবই ব্যস্তদের জন্য চলমান অবস্থায় ফোন করার সুবিধা হিসেবে মোবাইল এক্সট্রা হেলপ হতে পারে। সুতরাং টেলিফোন বিপ্লব দরকার ছিল তবে তা মোবাইল না হয়ে ফিক্সড ফোন হতে পারত, হলে সেটাই ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ-দেশের জন্য ভাল হত।
খতিয়ে দেখি ক্ষতিগুলো।
বেহুদা কথার বিস্তার। নাই কাজ তো খৈ ভাজর মত কথার খৈ ভাজা হচ্ছে। কি কর? ঘুমাই। কেমনে ঘুমাও? কাত হয়ে। রানের ফাঁকে বালিশ আছে? না। তাহলে কি আছে?......চলছে...চলবে।
মিথ্যা কথার মহামারী। রাজাবাজারের গলিতে আটকে থেকেই এইতো ফার্মগেট থেকে তুমি কৈ? কেন অফিসে (থুক্কু, ললিতার বাসায়) নরসিংদীর বেগুন ভাই নিশ্চিন্ত মনে যশোরের খিরা চাচা পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রামের শুঁটকি চাচীর সাথে আলাপ চালাতে থাকেন।
ধ্বংসের পথে তারুন্য এমনকি পরিবার। গভীর রাতে স্ত্রী ব্যতীত অন্য নারীর শোবার ঘরে গমন সহজ কাজ না। এমনকি নিজের আত্নীয়/ পরিবারেও এমনটি অগ্রহনযোগ্য। অথচ নিশ্চিন্তমনে এখন তা সম্ভব। মোটামুটি ১০ম শ্রেনীর পাঠ না চুকতেই হাতে মোবাইল উঠেছে। টিনএজের ঘোর লাগা আলাপে পথ হারিয়ে ফেলছে অনেকেই। নি:সঙ্গ গৃহবধুরাও একাকীত্বের যন্ত্রনা লাঘবে বেছে নিচ্ছে অভিনব এ যন্ত্র। পুরোপুরি অচেনা মানুষকে মিসকল দেয়া বা পাওয়া থেকে আলাপের গন্তব্যহীন দিবস, সাঁঝ ও রজনী। ক্ষেত্রবিশেষে ঘরভাংগার হুড়মুড়। ক্লাশমেট বা কলিগের সাথে যোগাযোগের সময়সীমা বেলা ৫টা ছাড়িয়ে রাত ১০, ১১, ১২ অবধি গড়াচ্ছে। মোবাইল পুর্ব যুগে মেহমান হিসেবে সামনের ঘরের সীমানা আর রইলনা, দুর থেকেই শয়নকক্ষে....।
নষ্ঠপ্রায় প্রাইভেসী ও ডেকোরাম। ফোন বেজে উঠছে বাথরুমে, মসজিদে, কবরস্থানে, জানাজায়, মিটিংয়ে। বোধহীন একজনের যৌন সুরের আশিক বানায়া....আপনে ঐদিন বেজে উঠল জনৈক চাচার জানাজায়! উল্লুক ফোন সাইলেন্ট/রিজেক্ট করতেও জানেনা।
জানবে কিভাবে অবকাঠামোর মধ্যে প্রথম স্থান পাওয়া উচিৎ ভাল ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের হল অজাগায় কুজায়গায় ব্রীজ বানানো ও অপ্রয়োজনীয় বিল্ডিং বানানো। হালে মোবাইল ও ইন্টারনেট। যে দেশের ৮০ ভাগ মানুষ ইংরেজী পড়তে পারেনা সেখানে ডিজিটাল, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার ধাঁচের প্রলাপ বকার কি মানে!
হুমকির মুখে নিরাপত্তা।এমনিতেই সেফটি হচ্ছে বাংলাদেশের লাস্ট বিষয়। মুখোমুখি সংঘর্ষে বা চাপা দিয়ে হত্যা প্রায় বৈধ কাজ। গোদের উপর বিষফোঁড়ার উপর ড্রাইভাররা ঘাড়ে ফোন গুঁজে স্টিয়ারিং হুইল ধরলে কলজেটা ছ্যাঁৎ করে উঠে।
অপচয় আর অপচয়। টেলিনরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী লাস্ট মাসের জিপির এভারেজ ইউজ ২৫ ক্রোনার বা ২৫০টাকা। এ হিসেবে ৪ কোটি লোক মাসে ১০০০কোটি টাকার কথা (বা কিছু কম) বলছে। কি অমন কথা? বাসে করে ১০০ কিমি জার্নি করলে ৫ বার তুমি কোথায়? টাঙ্গাইল। তুমি কোথায়? চন্দ্রা। এভাবেই বেশী দেখি। বড্ড দু:খ লাগে মধ্যপ্রাচ্যর ভাইরা যখন ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেন- তুমি ভাল আছ। হ্যাঁ। আসমা? ভাল। গাভীটা কি দুধ দিচ্ছে? ভাল আছ? ঔষধ খাবা। এমনকি ডেস্ক থেকে উঠার বা পিএবিএক্সে কলের পরিবর্তেও অনেকে মোবাইল ইউজ করছেন। টি&টিতে ডায়াল করাও বিলুপ্তির পথে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

