টিভি খুললেই এ সংক্রান্ত ২/১টা গোলটেবিলের ফুটেজ, দৈনিকের পাতা জুড়ে দশাসই নিবন্ধ। জলবায়ুর পাছায় বড়সড় বাঁশদেয়া অনেক বহুজাতিক কোম্পানি বা তাদের সমিতির ওয়েবসাইটেও Climate Change নিয়ে বেশ উদ্বিন্ন 'আলোচনা' দেখতে পাওয়া যায়! বলা চলে এ নিয়ে খানিকটা কথা বলা একটা ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে। আর যথারীতি অহর্নিশি গলাবাজিরত সরকারি লোকজনও বুঝে না বুঝে একই বিষয়ে বিরামহীন ও অর্থহীন বক্তৃতা দিয়ে চলছে।
পরিণতি যাই হোক জিহ্বা লকলক করছে 'প্রবন্ধজীবি' গোত্রটির। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এনজিও কর্তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন কি কইরা এ খাতে কিছু ফান্ড ধরা যায়। ওনারা গবেষনা করবেন, তেনারা প্রজেক্ট করবেন। এ সুবাদে আর্থিক নগদায়ন ছাড়াও আল্লাহরওয়াস্তিয়া পয়সায় কোপেনহেগেন, বার্লিন বা অন্তত: দিল্লী ভ্রমনের সুযোগ সম্ভাব্য!
মৌলিক বিজ্ঞানে কস্টসাধ্য পি এইচ ডি তে ডাব্বা মারার চান্স নেয়ার চেয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, ইহার কারণ, প্রতিকার ইত্যাকার ফলিত বিষয়ে বপুসর্বস্ব রচনা লিখে দেয়াই শ্রেয়: নয় কি! কে না লিখতে পারে এসব কথার কথা। মূলের চেয়ে সাইটেশন বড়, এপেনডিক্স তারচেয়েও বড়। যত মোটা থিসিস পেপার তত বড় বিদ্যান!
আর নারীর ক্ষমতায়ন, এইডস, পায়খানা, দারিদ্র্যবিমোচন ব্যবসা এতই পুরনো হয়ে গেল যে, পিপি (প্রজেক্ট প্রপজাল) গুলো আর বিকোচ্চেনা! এখন চাই জলবায়ু।
তবে আরেকটি শ্রেনীর কথা বলা হয়নি। সিকি, আধা, পৌনে বা ফুল সচিব কুল। মন্ত্রনালয় যাই হোক যে কোন জলবায়ুতে নাকটা গলিয়ে দিতে পারলেই অন্তত খান দুয়েক সেমিনার (অবশ্যই বিদেশে) নিশ্চিৎ!
আর সর্বজান্তা বার্ধ্ক্য পীড়িত সুশীল শ্রেনী এ বিষয়টাতে থাকবেননা তা কি করে হয়! মশা, যানজট, বিনিয়োগ সব বিষয়ের মত এখানেও তারা..।
এ হল জলবায়ু ব্যবসার সামারি। তবে এখনো বোধগম্য নয় ঠিক কি গবেষনা বা প্রজেক্ট বা পদক্ষেপ ওনারা নেবেন। ব্যাপারটা ঝাপসা থাকাই ভালো! না হলে ব্যবসাটা হাতছাড়া হবে যে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



