পত্রিকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে অনেকেই চাকরি খোজার মূল উৎস বিবেচনা করলেও 'আমেরিকান জব মার্কেটের একটা সার্ভে রিপোর্ট বলেছে ৮০% রিক্রুটমেন্টই হয় অন্যান্য সুত্রে'। বাংলাদেশেও কথাটা প্রায় খাটে। অর্থাৎ বেসরকারী ভালো চাকরির খবর আপনার কানেই পৌছাবেনা, যদি না আপনি জায়গামত নিজে পৌছাতে পারেন! পত্রিকার পাতার চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে খুব বেশী আশান্বিত না হওয়াই বেটার। এক জাতের (এন জি ও, ইউ এন, বিশ্বব্যাংক....) বিজ্ঞপ্তি পুরাই ধাপ্পাবাজি (কমপ্লায়েন্স মাত্র) আরেক জাতের গুলা চাকরি হিসেবে জঘন্য (মেডিক্যাল রেপ, গার্মেন্টস...)- ঠেকায় পড়ে করছে সবাই এমন। তবে আশার কিছুও থাকে (ব্যাংক)।
শুরুতে 'যেকোনো একটা' কাজ পেলেই ঢুকে যাব নিয়তে সবাই এগুলেও কিছুদিন পরই গাঁই গুঁই করতে শুরু করে- বসের ব্যবহার ভালনা, বেতন কম, লোকাল ও আত্নীয় ভর্তি কোম্পানী, বেশী খাটায়, ক্যারিয়ার অনিশ্চিৎ ইত্যাদি ইত্যাদি! স্কয়ার, এসিআইয়ের মত বৃহত্তম দেশী কোম্পানিও অদ্যাবধি চৌধুরী ও দৌলাদের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। সুতরাং লোকাল কোম্পানিগুলোতে এটা মেনে নিয়েই আসতে হবে। ব্যতিক্রম- ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিস্ঠান তাও বাংলাদেশ ব্যাংকের 'স্বৈরশাসন' চলছে বলে! নচেৎ এখানেও তাই হত। পেশাদার কর্মীদ্বারা বহুজাতিক ও বিদেশী অনেক কোম্পানি চলছে। সেখানে ভিন্নরকম অনেক পেইন আছে যা প্রসংগ এলে বলব। তবে দুশ্চিন্তায় ঝিম মেরে বালিশে মুখ গুঁজে না থেকে চলুন ব্যাপারটা অর্গানাইজ ম্যানারে চিন্তা করি ও সাজাই। জীবনভর কেউ বেকার থাকেনি, আমরাও থাকব না।
যে কদিন বেকার আছেন হাসিমুখে টিউশনি করতে থাকুন। খুচরা কোন কাজে যোগ দিয়ে কনসেন্ট্রেশন লুজ করার মানে নাই। পাছে লোকে অনেক কিছুই বলবে, প্রেমিকা চাপ দিবে, বন্ধুরা টাই পড়বে, ফিরেও তাকাবেননা। মেডিক্যাল প্রমোশনের চাকরিতে যোগ দিয়ে ভাল কিছু পেলে অন্যত্র চৈলা যাবেন ভাবা বোকামী! সকাল ৭ টায় বাইক চালু করে রাত ১১টায় ফিরবেন বাসায়। অন্যত্র যাবার টাইম কৈ! সেটাকে পেশা হিসেবে নিলে আলাদা কথা। স্ট্রেইট গো ফর ফরেইন ওয়ান, না পেলে বিগ লোকালস। নচেৎ টিউশনি চালু থাকুক। ক্লাস সিক্স-ক্লাস এইটের বাচ্চা প্রেপারেবল। ইংলিশ মিডিয়াম হলে আরো ভাল। চাকরির রিটেনের প্রস্তুতি ও কিছু পয়সা দুটোই হল। আর এ ফাঁকে কৌশল প্রণয়ন ও প্রয়োগ অব্যাহত থাকুক।
মালিকানাওয়ারী ভাগ করলে- মাল্টিন্যাশনাল, বিদেশী বা জয়েন্ট ভেন্চার, বড় লোকাল, ছোট লোকাল ইত্যাদি;
খাতওয়ারী ভাগ করলে- আর্থিক, টেলিকম, আইটি, প্রসাধনী, ভোগ্যপন্য, ইলেকট্রনিক্স, নির্মান ও উপকরন, নানাবিধ সেবা, ঔষধ ইত্যাদি;
ফাংশন অনুযায়ী ভাগ করলে- সেলস, মার্কেটিং, ফাইন্যান্স, আই টি, উৎপাদন, সরবরাহ, মানবসম্পদ ইত্যাদি;
স্থান অনুযায়ী- ঢাকা, ঢাকার আশেপাশে, বড় শহরে, ছোট শহর, গ্রাম, ইপিজেড ইত্যাদি;
বেতনঅনুযায়ী- কমপক্ষে ১০, ১৫, ২০, ২৫, ৩০, ৪০ হাজার ইত্যাদি নানান আংগিকে আপনার কাংখিত চাকরিগুলোকে সাজাতে পারেন।
এবার সাজান নিজের যোগ্যতাকে, প্রতিস্ঠাননুযায়ী- ঢাবি-আইবিএ, ঢাবি-অ আইবিএ, বুয়েট, ঢামেক, জাবি, বাকৃবি, তিতুমীর কলেজ, স্টামফোর্ড, নর্থ-সাউথ, চবি ইত্যাদি;
সাবজেক্টনুযায়ী- বাংলা, ইতিহাস, ফিনান্স;
রেজাল্ট- ৩.৫+, ৩+, ৩-;
চাপাবাজী- ভাল লিখতে ও বলতে পারেন, মোটামুটি, বোমা মারলেও কিছু বেরুয়না;
দুনিয়াবী চাতুর্যতা- চালাক ও সৎ, মাঝারি ও ভদ্র, অতি সৎ বাট গবেট কিছিমের, চোর ও মিথ্যুক!
এবার সাজান চাকরির সুড়ঙ্গগুলো- পত্রিকা, ডিপার্টমেন্টের নোটিশবোর্ড, অন্যান্য নোটিশবোর্ড, জব সাইট, কোম্পানি-সাইট, ভার্সিটির বড়ভাই, পাড়াতো বড় ভাই, পলিটিক্যাল, বিড়ি, গাঁজা, চিল্লা বা অন্যান্য তান্ত্রিক বড় ভাইরা, মেলা, আত্নীয় স্বজন, কাংখিত কোম্পানিতে পরিচিত কেউ (পিয়ন বা এমডি যে কেউ), ব্যবসায়ি সমিতি, এলামনাই, ডিরেক্টরী, ব্লাইন্ড কার্পেট বোম্বিং ইত্যাদি।
কায়দামত হিট করতে থাকুন।
গুড লাক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



